বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১১:৩৭ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো (পে স্কেল) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, নতুন পে-স্কেলের অর্থের জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানো হবে এবং প্রয়োজন হলে ঋণ নিতে হবে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরো জানান, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণত পে স্কেল প্রণয়নে তিনটি পর্যায়ে কাজ সম্পন্ন হয়। রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, প্রথম পর্যায়ে পে সার্ভিস কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পে কমিটি এবং বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল পে কমিশন প্রতিবেদন প্রদান করে। এ প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে প্রথম দুটির বিষয় নিয়ে সচিব কমিটি পর্যালোচনা করেছে এবং সুপারিশ দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিচার বিভাগের পে স্কেলের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদে। ওই কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতা, বিষয়টির সংবেদনশীলতা এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় রেখে কমিটি প্রতিবেদন দেবে। এর মাধ্যমে পে স্কেল প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় পর্যায় শেষ হবে। পরে তৃতীয় পর্যায়ে মন্ত্রিসভা সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করবে। কোন বিষয় কবে থেকে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান কোথা থেকে আসবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়জনে ঋণ নেওয়া হবে। তবে পে স্কেল বাস্তবায়নে ঋণ নেওয়াকে তিনি কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছেন না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় চলমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফুটবল টুর্নামেন্ট সিজন-১ ঘিরে উপজেলা ও পৌর কলেজ ছাত্রদল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলের সময়ে কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ক্যাম্পাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলা শেষ হওয়ার পর এ কর্মসূচি সম্পন্ন করা হয়। এর আগে, গত রোববার বিকেলে কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। এর পর থেকে কয়েকদিন ধরে জমজমাটভাবে টুর্নামেন্টের বিভিন্ন খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে খেলা শেষ হওয়ার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তাদের বক্তব্য ছিল যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কালকিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ক্যাম্পাসেও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। তারা আরো জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় এমন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নজরুল হাওলাদার, সদস্য সচিব সাইফুল মুন্সী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সজল আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শরাফাত বেপারী, কালকিনি পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাসান হাওলাদার, কালকিনি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শাহিন বেপারী এবং কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মাজারুল শিকদারসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, ফুটবল টুর্নামেন্টের পাশাপাশি সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ক্যাম্পাসে উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময়, কলেজ চত্বরে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ এবং বনজ গাছের চারা রোপণের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন নেতাকর্মীরা।
কালকিনি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন বলেন, ‘দেশব্যাপী স্বেচ্ছাসেবক দল এবং তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করছি। ফলদ গাছ রোপণের মাধ্যমে একদিকে যেমন মানুষ ফল পাবে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও বজায় থাকবে। তাই আমাদের এই কর্মসূচি শুধু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।’
কালকিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলাম বেপারী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজকের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্যেই আমাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নয়। আমরা পুরো উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি। মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের নির্দেশনায় পরিবেশ সুরক্ষায় এই ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’
বৃক্ষরোপণ এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে নাজমুল হোসেন, মো. শহিদুল ইসলাম বেপারীসহ উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বলেন, পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে ভবিষ্যতেও কালকিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা নিউমার্কেটের মীর্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া আলিমুজ্জামান সাজু এবং রেবতী সরকারের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় তাদের বাড়িতে এ খবর পৌঁছানোর পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের মরদেহ অতিদ্রুত বাড়িতে ফিরিয়ে আনার দাবি দুই পরিবারের স্বজনদের।
নিহত আলিমুজ্জামান সাজু উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের ইউনুস সরদারের ছেলে এবং রেবতী সরকার পার্শ্ববর্তী তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী।
আলিমুজ্জামান সাজু একজন মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী এবং তিনি কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। অন্যদিকে, রেবতী সরকার একজন গৃহিণী ছিলেন।
বরেয়া গ্রামের সাহেব আলী সরদার জানান, তাদের চার ভাইয়ের মধ্যে ঘের ব্যবসায়ী আলিমুজ্জামান সাজু (৪৮) সকলের ছোট। সেজো ভাই মাহামুদুন্নবী দীপু সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোলে বসবাস করেন। মেঝ ভাই রাজু সরদার তিন বছর আগে মারা গেছেন, বাবা ইউনুস আলী সরদার আট বছর আগে মারা গেছেন এবং মা আম্বিয়া খাতুন দুই বছর আগে মারা গেছেন।
আলিমুজ্জামান সাজু বিয়ে করেননি। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের পাশে একটি বাড়ি বানিয়ে একাই থাকতেন।
বাড়িটির নাম সরদার ভিলা। এক সপ্তাহ আগে সাজু কোমরের চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার তিনি ব্যাঙ্গালোর থেকে কলকাতায় এসে একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ফলে সাজু মারা যান।
তিনি আরও জানান, সাজুর মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রথমে তিনি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছেন। এরপর কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনারের সঙ্গে হট লাইনে কথা বলেছেন।
সাজুর বন্ধু হাফিজুর রহমান জানান, সাজু এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এলাকায় তার অনেক অবদান ছিল। মঙ্গলবার রাতে তার সাথে আমার কথা হয়েছিল। পরের দিন তার বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল।
তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকার জানান, তাদের ছেলে অনিক সরকার ও মেয়ে তৃষা সরকারকে সাথে নিয়ে দুই মাস আগে তার স্ত্রী রেবতী সরকার (৩৮) ভারতে শ্বশুর ও শ্বাশুড়ির কাছে চলে যান। কয়েকদিন পর দেশে ফিরে এসে রেবতী গত ১২ আগস্ট আবারও ভারতে যান। সেখানে ডাক্তার দেখানোর পর মঙ্গলবার কলকাতার একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার ওই হোটেলের চার তলায় আগুন লাগে। এতে তার স্ত্রী রেবতী মারা যান।
কলকাতার মুকুন্দপুর টেগর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া সাজুর ভাগনে জামাই বেল্লাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে ওই হোটেলের তৃতীয় থেকে ৫ম তলায় আগুন লাগে।
গতকাল বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কলকাতার একটি হাসপাতালে মর্গে সাজু ও রেবতীসহ নিহত সকলের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং তিনি এ বিষয়ে জানান।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার দুই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এছাড়া কলকাতায় বাংলাদেশ যে হাইকমিশন আছে তারা মরদেহগুলোর ব্যাপারে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তারা মরদেহগুলো বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুর শহরের শেখেরভিটা এলাকায় ২০ গ্রাম গাঁজাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, নাম তার ছানুয়ার। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। এরসঙ্গে, তাকে ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মাদকবিরোধী অভিযানে দেশটিকে মাদকমুক্ত রাখতে এ অভিযান পরিচালনা করে জামালপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হায়দার।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি আভিযানিক দলের সহযোগিতায় শেখেরভিটা এলাকায় এ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। তল্লাশির সময় ছানুয়ারের কাছ থেকে ২০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসান এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাকে দু’মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদকের বিস্তার ও অপব্যবহার রোধে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জামালপুরকে মাদকমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ