১০:১৪ এম
হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ আবারও কমতে শুরু করেছে। সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত শুক্রবার, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের অক্টোবরের সরবরাহ চুক্তির দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারের ওপরে উঠে যায়। ২৪ জুলাইয়ের পর এটি ছিল ব্রেন্টের সর্বোচ্চ দাম। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও প্রায় এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বর্তমানে তেলের বাজারে বৈশ্বিক মজুদের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কারণ, সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা এলে মজুদ থেকে তেল সরবরাহ করে বাজারে কিছুটা ভারসাম্য রাখা সম্ভব হয়।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে বায়ুদূষণে মানুষের গড় আয়ু কমছে ৪ বছর
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মোট মজুদ ছিল ৩৪৫ কোটি ব্যারেল। বাণিজ্যিক ও কৌশলগত উভয় মজুদ মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির শেষের তুলনায় এ মজুদ ৬ শতাংশ কমেছে। দেশভিত্তিক হিসেবে, জাপানে জ্বালানি তেলের মজুদ ১৮ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ শতাংশ এবং চীনে ৫ শতাংশ কমেছে। ধারণা করা হচ্ছে, চীন তেলজাত পণ্যের রফতানি ও ব্যবহার কমিয়েছে।
জুলাইয়ের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মজুদ কিছুটা বাড়ছিল। তখন হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজের চলাচলও কিছুটা বেড়েছিল। তবে সংঘাত আবার শুরু হলে ইরান প্রণালিটি বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রফতানি ধীর হয়ে যায়।
এ বিষয়ে, জাপানের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কেন কোয়ামা বলেন, "ফেব্রুয়ারির শেষে সরবরাহে তৈরি হওয়া সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ মজুদ থেকে তেল ব্যবহার করছে।" ফলে বৈশ্বিক মজুদ দ্রুত কমছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, "হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে তেলের দাম আরো বাড়তে পারে।"
এদিকে, বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ৭ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি দৈনিক ৩০৫ লাখ ব্যারেলে নেমে আসে, যা নয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে আসা বেশিরভাগ ওষুধই পাকিস্তান থেকে পাচার হওয়া: তালেবান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন