বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:২৯ এম
রাজবাড়ী প্রতিনিধির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঐতিহাসিক ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে রাজবাড়ীতে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার শ্রীপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন। এর পর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ জেলা পুলিশের সদস্যরা মিলিতভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পুলিশ বিভাগের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জেলার জুলাই যোদ্ধাবৃন্দ এবং বিভিন্ন দফতরের প্রধানগণ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
পরে জেলার প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবৈধভাবে ভরাটের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সদস্য এবং সাবেক আহ্বায়ক আজিজুর রহমান লিটনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
নদীর তীর অবৈধভাবে ভরাট করার অভিযোগে বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে জেলা শহরের মেড্ডা শ্মশানঘাট সংলগ্ন তিতাস নদীর পূর্বপাড়ের ঘাটুরা মৌজায় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসরিন অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানের সময় ভরাট কাজের জন্য ব্যবহৃত প্রায় তিন হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয় এবং দুটি ড্রেজার মেশিন অকেজো করে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, এনসিপি নেতা আজিজুর রহমান লিটন অবৈধভাবে তিতাস নদীর তীরবর্তী জমি ভরাট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন। অভিযানের সময় যদিও অভিযুক্ত আজিজুর রহমান লিটন উপস্থিত ছিলেন না, কিন্তু তার পক্ষে প্রতিনিধি মো. জাফর ইমাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আদালতে জরিমানা আদায় করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার সুজানগরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলার একটি অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন সুজানগর থানার ওসি ও এক কনস্টেবল, যা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার মথুরাপুরের দোপপাড়া এলাকায় এ মারাত্মক ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ। আহতদের মধ্যে রয়েছেন সুজানগর থানার ওসি মোজাফফর হোসেন এবং কনস্টেবল সবুজ। বর্তমানে আহতরা স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। আরো পড়ুন পে স্কেল বাস্তবায়নে ফের অপেক্ষা, জটিলতা কোথায়? পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার একটি বিশেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে ভোর রাত অবধি অন্যান্য এলাকার মতো সুজানগরের মথুরাপুরেও বিশ্বকাপের উন্মাদনা জারি ছিল। এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখা এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল বা নাশকতার একটি পরিকল্পনা ছিল বলে পুলিশ তথ্য পায়। পরবর্তীতে, দুটি গাড়িতে পুলিশের একটি টহল টিম মথুরাপুরের দোপপাড়া এলাকায় গেলে, মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ওই দলের কয়েক শ কর্মী সমর্থক পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এই ঘটনায় পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং দুজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় হামলাটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল ওহাবের উপস্থিতিতে ঘটে বলে পুলিশের দাবী। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, দুটি গাড়িতে ১০-১৫ জন পুলিশ সদস্যের একটি টহল টিম ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা শতাধিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দেখেন। পুলিশকে দেখামাত্রই, স্থানীয় মসজিদে ঘোষণা দেওয়া হয়। তখন ওই কর্মী সমর্থকরা আরো কয়েক শ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল ওহাব মন্তব্য করেছেন, ‘আমি জেলার বাইরে থাকি। পুলিশের তাণ্ডবের কারণে এলাকায় যেতে পারি না। সেখানে আমি কিভাবে থাকতে পারি! যতটুকু আমি শুনেছি, রাতে খেলা দেখার পর ওই এলাকায় যুবকরা খিচুরি খাওয়া-দাওয়া করছিল। এ সময় পুলিশ গিয়ে ১০/১৫ জনকে আটক করে। তখন এলাকার মানুষ, এমনকি মহিলারাও এগিয়ে এসে আটকদের ছাড়িয়ে নেন। এ সময় পুলিশ গাড়িতে আক্রমণ করে এবং দুজন আহত হয়েছেন, এমন শুনলাম।’ পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেছেন, ‘হামলা চালিয়ে ওসিসহ দুজনকে আহত করা হয়েছে। তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল শিল্প ও বাণিজ্য মেলার শেষ হওয়ার প্রায় ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও আয়োজকদের বিরুদ্ধে দুই শতাধিক উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর মালামাল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বলা হচ্ছে, মেলার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের দোসর সবুজ অতিরিক্ত টাকা দাবি করছেন এবং টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না। এ ধরনের অনিয়ম ও জুলুমের ফলে দুর্দশায় রয়েছেন প্রায় ২০০ স্টলের পাঁচ শতাধিক উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও কর্মচারী।
এছাড়া, প্রতিবাদ করায় কয়েকজন উদ্যোক্তার ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে, আঘাতপ্রাপ্তরা বুধবার (১৫ জুলাই) বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মামুন খন্দকারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, মেলার শুরু থেকেই বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও বিতর্ক চর্চিত হয়েছে। ব্যবসার জন্য নানা প্রলোভন ও মিথ্যা আশ্বাসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এখানে আনা হয়েছিল। উদ্যোক্তারা উল্লেখ করেছেন, গত ২৬ মে নগরীর পরেশসাগর মাঠে 'বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড'-এর উদ্যোগে এই শিল্প ও বাণিজ্য মেলা শুরু হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেলার অনুমোদনের মেয়াদ ছিল ২৬ জুন পর্যন্ত। পরে ব্যবসায়ীরা বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু সময় বৃদ্ধি না হলে তাদের মালামাল নিয়ে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়।
স্টল মালিক মো. সাগরসহ অনেকের অভিযোগ, মেলা শেষে মালামাল নিয়ে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র চাইলে আওয়ামী লীগের দোসর সবুজ অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন। টাকা না দেওয়ার কারণে তাদের মালামাল বের করা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের জানানো হয়েছে, টানা বৃষ্টির কারণে এবারের মেলায় আশানুরূপ বিক্রি হয়নি। তারা লোকসানে পড়েছেন, এরপরও চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত স্টল ভাড়া পরিশোধ করেছেন। অতিরিক্ত টাকা দাবি করা তাদের মতে অন্যায় ও অমানবিক।
ভুক্তভোগী উদ্যোক্তারা বুধবার সকালে এই টাকা দাবির প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত সবুজের নির্দেশে বহিরাগত লোকজন নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন উদ্যোক্তা আহত হন। পরে তারা বাধ্য হয়ে মেলা প্রাঙ্গণের বেড়া ভেঙে বেরিয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। তাদের দ্রুত মালামাল উদ্ধার ও বাড়ি ফেরার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযুক্ত সবুজ, যিনি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দিন ইসলাম, মেলা কমিটির সদস্য, মালামাল আটকে রাখার বিষয় অস্বীকার করে বলেন, “ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেই ১৫ জুলাই থেকে চার দিনের জন্য মেলার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কাউকে জোর করে আটকে রাখা হয়নি।” মারধরের ঘটনা ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে এবং তা স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হয়েছে।
এবায়দুল হক চাঁন, বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি, জানান, “মেলার সময় বৃদ্ধি করা হয়নি, কয়েকদিন আগে মেলা সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। স্টল সংক্রান্ত অর্থনৈতিক বিষয় উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চুক্তিভিত্তিক হওয়ায় বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভুক্তভোগী ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তারা এই অনিয়ম ও হয়রানির দ্রুত অবসান ঘটিয়ে নিরাপদে তাদের মালামাল নিয়ে বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা চান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার বিখ্যাত ‘পাখি পল্লী’ খ্যাত গোপালপুর এলাকার প্রধান রাস্তাটি দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারের অভাবে সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পুরো রাস্তার জুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ এবং কাদার কারণে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, চাষী এবং এখানে আসা দর্শনার্থীরা।
ভুক্তভোগী এলাকার বাসিন্দাদের মতে, এই রাস্তাটির সংস্কার কোনো বিলাসিতা নয়, বরং তাদের প্রকৃত এবং ন্যায্য অধিকার। একটি উন্নত এবং টেকসই রাস্তা শুধু যাতায়াতই সহজ করে না, বরং পুরো এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক এবং সামাজিক চিত্রকেও পরিবর্তন করে। রাস্তাটির করুণ অবস্থার কারণে এলাকার শিশু এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি জরুরি চিকিৎসার জন্য কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।
কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বাজারে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছেন না। ফলে তারা অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাখি পল্লী দেখতে আসা পর্যটকেরা যাতায়াত সমস্যার কারণে বিমুখ হচ্ছেন।
এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত এবং জোর দাবি জানানো হয়েছে, যেন আর কোনো কালক্ষেপণ ছাড়া দ্রুত এই রাস্তাটি সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের চাকা সচল রাখতে এই সড়কটির দ্রুত মেরামত এখন সময়ের দাবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ