১১:২৯ এম
মিরপুরে একা বসবাসকারী বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় তার ছেলে হিসেবে আলোচিত যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তিনি বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রচলিত আইন ও বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুধবার (৩ জুন) সকালে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। যুগ্ম-সচিব আনিসুর রহমান বর্তমানে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ কে এম আনিসুর রহমানের মায়ের মৃত্যু সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাকে তো ফোনে কাল রাতে পাইনি। এখন তার সঙ্গে কথা বলে আগে নিশ্চিত হতে হবে যে বিষয়টি তার মাকে কেন্দ্র করে কি না। আমরা সেটি দেখছি। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বিষয়টি দেখবো। একটি আইন আছে, যেখানে বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। সেটি কার্যকর থাকলে আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেবো। একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, সেটা তো অবশ্যই আসবে। আপনি যে বিষয়গুলো বলছেন, সেগুলোও বিবেচনায় রয়েছে। ওই বিষয়গুলো দিয়েই আমরা এটাকে ঠিক করবো। আমি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি দেখতে বলেছি। প্রয়োজনীয় তথ্য বের করে আমরা দেখছি। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি অবশ্যই আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। আইন অনুযায়ী যা করণীয়, সেটাই করা হবে। আনিসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার ফোনে গত রাত থেকে অসংখ্যবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় নিজ ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। রোববার (৩১ মে) জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন পেয়ে বৃদ্ধা ওই মায়ের পচা-গলা-পোকা ধরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু মায়ের সঙ্গে একই বাড়িতে পাশাপাশি রুমে বসবাস করলেও মৃত্যুর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করেননি মেয়ে। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন একা বসবাস করতেন। নুরজাহান বেগমের অন্য একটি সন্তান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং মেয়ে স্কুল শিক্ষিকা। নুরজাহান বেগমের দুই ছেলে আলাদা থাকতেন। মায়ের সঙ্গে তাদের কোন যোগাযোগ ছিল না। এ ঘটনায় তার ছেলে হিসেবে যুগ্ম-সচিব এ কে এম আনিসুর রহমান ও অপর ছেলে এ কে এম আশিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের একজন অধ্যাপক। তাদের নাম সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির বলেন, নুরজাহান বেগম যে বাড়িতে ছিলেন, সেটি তার মেয়ের বাসা। সেখানে তিনি মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। বাসাটি খুব নোংরা ছিল। ওসি আরও বলেন, নুরজাহানের এক ছেলে যুগ্ম সচিব এবং অন্য ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। মেয়েজামাতাও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন