১১:৫৬ পি.এম
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ভালোবেসে ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার। এরপর নানা ঘাত-প্রতিঘাত এলেও দলের আদর্শ থেকে একচুল পরিমাণও বিচ্যুত হননি তিনি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মামলা, হুমকি ও নানা প্রতিকূলতার মুখেও তিনি তাঁর অবস্থান থেকে পিছিয়ে যাননি।
র্যাব বিলুপ্তির দাবির পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। তাঁকে দমিয়ে রাখতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হলেও তাতেও থেমে যাননি তিনি। তিনি আর কেউ নন, ঝালকাঠির জনপ্রিয় সাংবাদিক নেতা ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার।
বর্তমান সরকার তাঁকে যোগ্য মূল্যায়ন করেছে। দুই বছর অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর এবার তাঁকে ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য
আক্কাস সিকদার বর্তমানে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বিএনপির প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাঁকে বারবার বিপদের মুখে পড়তে হয়েছে বলে তাঁর সহকর্মীরা জানান। রাজাপুরের কলেজছাত্র লিমন হোসেনের পায়ে গুলি করার ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি র্যাবের রোষানলে পড়েন। পরবর্তীতে লিমন হোসেনের পক্ষে আইনজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন মহল ও র্যাবের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবুও র্যাব বিলুপ্তির দাবির পক্ষে নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেননি আক্কাস সিকদার। এ কারণে তৎকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী সাংবাদিক আক্কাস সিকদারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, নিজের পরিবার, স্ত্রী ও সন্তানদের ঝুঁকির মধ্যে রেখে ঝালকাঠি থেকে রাতের পর রাত, দিনের পর দিন আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে তাঁকে। এরপরও অসহায় লিমন হোসেনের পক্ষে সুবিচারের আশায় তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা যায়।
আরও পড়ুন: সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিদেশি সফর শেষে দেশে ফিরলেন
এ ছাড়া তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর বিরুদ্ধে সোনার নৌকা উপঢৌকন গ্রহণসহ বিভিন্ন স্থানে জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ ও র্যাব দিয়ে তাঁকে একাধিকবার গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা দাবি করেন।
তবে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজও নিজের অবস্থানে অটল রয়েছেন অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার। সাংবাদিকতা ও আইন পেশার পাশাপাশি সহকর্মীদের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর জন্যও তিনি পরিচিত। তাঁর সহকর্মীদের ভালোবাসা ও সমর্থনে তিনি ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
দীর্ঘ সংগ্রামী পথচলার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার। তাঁর এই নতুন দায়িত্ব ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা তাঁর সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।
আমরা তাঁর সফলতা কামনা করি। সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে তিনি আরও এগিয়ে যাবেন—এটাই প্রত্যাশা।
আরও পড়ুন: কৃষিমন্ত্রী: নিয়মবহির্ভূত সবকিছুই পরিচ্ছন্নতার আওতায় আসবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন