বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১৭ পি.এম
যুক্তরাজ্যে নতুন সরকারের অধীনে মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে ফরেন অফিসের মিনিস্টার উমা কুমারান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বিগত বছরগুলোতে ব্রিটিশ মুসলিমদের আওয়াজ এবং মতামত যথাযথভাবে শোনা হয়নি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বর্তমান সরকার এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
লিভারপুলের হিলটন হোটেলে ব্রিটিশ মুসলিমভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক সংস্থা ‘ইকুই’ (Equi)-এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য এবং মুসলিম নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী উমা কুমারান বলেন, “আমি জানি, গত দুই বছরে ব্রিটিশ মুসলিম সম্প্রদায় এবং তাঁদের নেতৃত্ব বহুবার মনে করেছেন যে তাঁদের কথা শোনা হচ্ছে না। কথাটি সত্য এবং আমি এখানে এসে তা অস্বীকার করতে চাই না। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও মনে করেন এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়া জরুরি।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো দেশকে বিভক্ত করার যে চেষ্টা করছে, তা প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৎকালীন কনজারভেটিভ (কনজারভেটিভ/টোরি) সরকারের আমলে মুসলিম নাগরিক সমাজের সাথে সরকারের যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে গাজা পরিস্থিতির কারণে লেবার পার্টির সাথেও মুসলিম ভোটারদের সম্পর্কে ফাটল ধরেছিল। তবে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সম্পর্কে নতুন আশা বা “A New Hope” সঞ্চারিত হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর মুসলিম সমাজের পক্ষ থেকেও সরকারের এমন পদক্ষেপের প্রশংসা করা হয়েছে। ইকুই-এর ডিরেক্টর প্রফেসর জাভেদ খান জানান, পররাষ্ট্র নীতি ও তার অভ্যন্তরীণ প্রভাব নিয়ে সরকার যেভাবে মুসলিম প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করছে, তা অতীতে দেখা যায়নি।
তবে সম্পূর্ণ পরিবর্তন হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কারণ যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় মুসলিম প্রতিনিধিত্বকারী ছাতা সংগঠন ‘মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন’ (MCB)-এর সঙ্গে সরকারের আনুষ্ঠানিক দূরত্ব এখনও পুরোপুরি মেটেনি। তবুও, বার্নহাম সরকারের অধীনে ব্রিটেনে বসবাসরত মুসলিমদের অধিকার ও মর্যাদা সুসংহত করতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুর, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে মাদকমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে।
আজ সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের হলরুম কাঞ্চনে অনুষ্ঠিত বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আসাদুল হাবিব দুলু উল্লেখ করেন, দিনাজপুর দেশের অন্যতম বড় জেলা। এই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে সীমান্ত এলাকা বিদ্যমান। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে সীমান্তের মাধ্যমে মাদক প্রবাহের ফলে দেশের যুবসমাজের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। সরকার মাদক প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। মাদক কারবারি, গডফাদার, বিক্রেতা এবং মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদক নির্মূলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব।
আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, irrespective of their affiliations.
জেলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এজেডএম রেজওয়ানুল হক, পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসূল রাখি, দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ মো. আনিসুর রহমান।
সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলার সকল সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি এবং আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুই মামলায় জামিন পাওয়ার পর সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ভগ্নিপতি লতিফ ভূঁইয়া কামাল ওরফে হামিদ লতিফ ভূঁইয়া কামালকে জুলাই আন্দোলনের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন।
লতিফ ভূঁইয়া কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। শুনানির এক পর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি ‘ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন’।
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর ভাটারা এলাকায় শামিম মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর লতিফ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান আবেদন করেন। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
লতিফ ভূঁইয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সোহাগ। তিনি আদালতে জানান, এক বছরের বেশি সময় ধরে লতিফ ভূঁইয়া কারাগারে রয়েছেন। দুই মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় নতুন করে এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
আইনজীবী আরও বলেন, মামলার ঘটনা ২০২৪ সালের হলেও মামলা হয়েছে ২০২৫ সালে এবং ২০২৬ সালে এসে তাকে গ্রেফতার দেখানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। জামিন ঠেকানোর উদ্দেশ্যে এমনটি করা হয়েছে দাবি করে তিনি লতিফ ভূঁইয়াকে এ মামলায় গ্রেফতার না দেখানোর আবেদন করেন।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ জানান, লতিফ ভূঁইয়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পিএস ছিলেন এবং জুলাই আন্দোলন দমনে অর্থায়ন করেছেন। মামলায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শুনানির এক পর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের বক্তব্য দেন লতিফ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘আসাদুজ্জামান খান কামাল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আর আমি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। বরুড়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আমি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার যখন প্রথমবার ক্ষমতায় আসে, তখন তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করি। তার সঙ্গে যদি আমার ভালো সম্পর্ক থাকত, তাহলে কেন তার বাসায় যেতাম না।’
শুনানি শেষে আদালত প্রথমে আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে লতিফ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেওয়া হয়। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগ
মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জুলাই আন্দোলনের সময় ভাটারা থানার একশ ফুট এলাকা থেকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগের দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। এ সময় তাদের ওপর হামলা ও গুলি চালানো হয়।
এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধার করতে গেলে শামিম মিয়ার বুক, ঠোঁট, গাল ও মাথায় গুলি লাগে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তিনি ভাটারা থানায় মামলা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর মহিপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ফারুককে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে আছেন কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও মাসুদ রানাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারুক অভিযোগ করেন যে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে মহিপুর বাজার থেকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যান। পরে কলাপাড়ায় নিয়ে রাতভর তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
ফারুকের অভিযোগ, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়ার কারণে তাকে তুলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম, রাশেদসহ ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফারুক আরও দাবি করেন যে, তাকে তুলে নেওয়ার সময় অভিযুক্তদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। পরে কলাপাড়ার একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। রাত ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নির্যাতনের সময় নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে ফারুক বলেন, "আমি তাদের পা ধরে আব্বা বলে ডেকেছি। বলেছি, আমার বাবা নেই, আপনারাই আমার বাবা। আমার মা অসুস্থ- এ ঘটনা জানলে তিনি মারা যেতে পারেন। তারপরও তারা আমাকে ছাড়েনি।"
তবে ফারুকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বহিষ্কৃত দুই নেতা। আমিরুল ইসলাম ফাহিম বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মাসুদ রানাও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওয়াকিটকি হাতে এক ব্যক্তির সঙ্গে মাসুদ রানাকে দেখা গেছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে ভিডিওটির সত্যতা এবং এতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ওসি শামীম হাওলাদার। তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামিক স্কলার মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী তার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে সমাজের বিভিন্ন সংঘাত নিরসন এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্বের উপর একটি সুন্দর বার্তা শেয়ার করেছেন। তার শিক্ষণীয় পোস্টটি নিচে তুলে ধরা হলো—
সব বিরোধের সমাধান শক্তির মাধ্যমে হয় না। কখনো কখনো প্রজ্ঞা, ন্যায়বোধ এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলার মানসিকতা সংঘাতকে ঐক্যে পরিণত করার সক্ষমতা রাখে। আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.) এর একটি অনন্য দৃষ্টান্ত রয়েছে।
বাইতুল্লাহ সংস্কারকাজের সময় হাজরে আসওয়াদকে যথাস্থানে স্থাপন করার প্রয়োজন দেখা দিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠল— কে এই পবিত্র পাথরটি যথাস্থানে স্থাপনের সম্মানের অধিকারী হবে?
সম্মান পাওয়ার এই আকাঙ্ক্ষা দ্রুতই গোত্রগুলোর মধ্যে তীব্র বিরোধে পরিণত হলো। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাল যে, যেকোনো মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হতে পারত। ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে নবীজি (সা.) একটি প্রজ্ঞাপূর্ণ সমাধান দিলেন।
তিনি একটি চাদর আনিয়ে তার ওপর হাজরে আসওয়াদ রাখলেন। এরপর প্রতিটি গোত্রের নেতাকে চাদরের একেকটি প্রান্ত ধরতে বললেন। সবাই মিলে পাথরটি নির্ধারিত স্থানের কাছে তুলে আনল। পরে নবীজি (সা.) নিজ হাতে তা যথাস্থানে স্থাপন করলেন।
এভাবে সম্মানের অধিকারী হলো সবাই এবং একটি সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘাত থেমে গেল। কত সহজেই একটি বিরোধ রক্তপাতের কারণ হতে পারত! অথচ প্রজ্ঞাপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত সবাইকে প্রতিপক্ষের বদলে অংশীদারে পরিণত করল।
সত্যিকারের বিজয় সব সময় অন্যকে পরাজিত করার মধ্যে নেই; কখনো বিজয় হলো এমন একটি সমাধান খুঁজে পাওয়া, যেখানে কেউ পরাজিত হয় না। বরং সবাই শান্তি, সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে সহাবস্থান করে।
হাজরে আসওয়াদের সেই ঘটনা আজও শেখায়— ভাঙনের মুহূর্তে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজে নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে বড় অর্জন।
মহানবী (সা.)-এর জীবনের এই সুমহান ঘটনা আমাদের শেখায় যে, যেকোনো জটিলতা, বিভেদ কিংবা সংকটে শক্তি বা জেদ না দেখিয়ে প্রজ্ঞা, ন্যায়পরায়ণতা এবং দূরদর্শিতার পরিচয় দেওয়া উচিত। যদি সবাইকে আস্থায় নিয়ে এবং অংশীদারত্ব নিশ্চিত করে সংকট মোকাবিলা করা যায়, তবে কেবল রক্তক্ষয়ী সংঘাতই এড়ানো যায় না, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রে স্থায়ী শান্তি, ঐক্য এবং সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ