মো : সুমন হাসান বাপ্পি, স্টাফ রিপোর্টার
০৭:২৬ পি.এম
সীমান্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত কিশোরীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে ‘মা ছাগল বিতরণ’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বর্ডার ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (BVDO)।
সংস্থাটির উদ্যোগে নির্বাচিত উপকারভোগী কিশোরীদের মধ্যে মা ছাগল বিতরণ করা হবে। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো কিশোরীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, পারিবারিক আয় বৃদ্ধি করা এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা।
সংস্থাটি জানিয়েছে, যেসব এলাকায় এমন হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত কিশোরী রয়েছে, সেসব এলাকার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উপযুক্ত তথ্য দিয়ে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর যোগ্য উপকারভোগীদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
যারা আগ্রহী, তারা সরাসরি সাংবাদিক আহমেদ এসমাম এর সাথে যোগাযোগ করবেন অথবা ১ নম্বর ধর্মগড় কাউন্সিল বাজার, রানীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও-এ অবস্থিত সংস্থার কার্যালয়ে ০১৭৯৪৮৫৯১৯৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।
বর্ডার ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের এই মানবিক উদ্যোগ সীমান্ত অঞ্চলের কিশোরীদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) নতুন মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে ড. মো. লতিফুল ইসলাম নিয়োগ পেয়েছেন। এর আগে, তিনি একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) হিসেবে চলতি দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য-৫ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নাসরিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ আদেশে বদলি ও পদায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, ময়মনসিংহের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ড. মো. লতিফুল ইসলামকে মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
প্রেরিত আদেশে আরও বলা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে জারিকৃত আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও কর্মকর্তাদের কাছে আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভায়, গত কয়েকদিন ধরে টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়া বহু মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন পৌর প্রশাসক এ.এইচ.এম ফখরুল হোসাইন।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে, পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজনের মাঝে খাদ্যসামগ্রীসহ জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি।
পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কালিয়াকৈর পৌরসভাটি ২০০১ সালে গঠিত হয়েছে। পৌরসভাটিতে প্রায় দুই শতাধিক শিল্প কলকারখানা রয়েছে। এই এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে গেছে, যার কারণে অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সোমবার বিকেলে পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বিশ্বাসপাড়া, আল্লাহ দান কলোনি, এজিজ রোড, ভাঙ্গা মসজিদ, অ্যাকাডেমির তিন নাম্বার গেট, চান্দরাসহ জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও বিভিন্ন এলাকার পানিবন্দি ৫০০ পরিবারের মাঝে পৌর প্রশাসনের উদ্যোগে চিড়া, গুড়, মুড়ি, চানাচুর, বিশুদ্ধ খাবার পানি, সাবানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল আলম তালুকদার, তোফাজ্জল হোসাইনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
পৌর প্রশাসক এ.এইচ.এম ফখরুল হোসাইন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর রাস্তায় ক্ষুব্ধ তরুণসমাজ আবারও নেমেছে। দেশের ‘জেন-জি’ বা নতুন প্রজন্ম, যাদের ভোটে মাত্র কয়েক মাস আগে একটি সরকার নির্বাচিত হয়েছিল, আজ তারা সেই সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র জনরোষে রয়েছে। কাঠমান্ডুর সিংদরবার সচিবালয়ের বাইরেও শত শত মানুষ ‘গরিবের ওপর অত্যাচার বন্ধ করো’ এবং ‘মানবাধিকার রক্ষা করো’ স্লোগান দিয়ে রাজপথকে উত্তাল করে তুলেছে।
সাম্প্রতিক এই গণবিক্ষোভের মূলে রয়েছে ২৫ বছর বয়সী রাইড-শেয়ারিং চালক গণেশ নেপালি নামের এক যুবকের মর্মান্তিক আত্মাহুতি। তিনি গত সপ্তাহে কাঠমান্ডুর রাস্তায় এক মক্কেলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময় পৌর পুলিশ আকস্মিকভাবে তার মোটরসাইকেলের চাকায় লক লাগিয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই হয়রানির প্রতিবাদে ও হতাশায় গণেশ নিজের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরও পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনার কারণে মেয়রের প্রশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা শুধু এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাননি, বরং দরিদ্র ও বস্তিবাসীদের ওপর চলমান রাষ্ট্রীয় জুলум বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। তারা বিশেষ করে নদীতীরের সুকুমবাসী বা ভূমিহীনদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং ফুটপাতের হকারদের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
২০১৯ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে বালেন্দ্র (বালেন) শাহ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নগর পুলিশের অত্যাচারী মনোভাব লক্ষ্য করা যায়। ফুটপাত পরিষ্কার ও অনানুষ্ঠানিক বাজার উচ্ছেদের জন্য মেয়রের কঠোর নীতি প্রায়ই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহিংস সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, শহরের দরিদ্রতম মানুষদের প্রতি প্রশাসনের কোনো সহানুভূতি অবশিষ্ট নেই।
আইনি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন বেআইনিভাবে তাদের সাংবিধানিক সীমার বাইরে গিয়ে কাজ করছে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মতে, আইন অনুযায়ী পৌর পুলিশ শারীরিক বলপ্রয়োগ বা দাঙ্গা দমনের ক্ষমতা রাখে না। তাদের কাজ নাগরিক সহযোগিতা, পরিচ্ছন্নতা তদারকি এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা। ট্রাফিক বা রাস্তা অবরোধের মতো বিষয়গুলো সরাসরি ট্রাফিক পুলিশের কাছে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে, কিন্তু পৌর পুলিশ নিজেরা গিয়ে হকারদের ধাওয়া করছে, ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করছে এবং সাধারণ মানুষকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছে।
অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারাও বলার চেষ্টা করেছেন যে, যদি পরিস্থিতি জনশৃঙ্খলার পরিপন্থী হয়, তবে পৌর পুলিশ আইনগতভাবে নেপাল পুলিশের সাহায্য নিতে বাধ্য, তারা নিজেরা বলপ্রয়োগ করতে পারে না। তবুও, দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল মানুষের ওপর জুলুম চালানো হচ্ছে, যার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে কয়েক মাসের মাথায়, যারা বুক ভরা আশা নিয়ে এই সরকারকে ক্ষমতায় এনেছিল, তারা এখন জবাবদিহিতা ও অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে আবারও রাজপথে নেমে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আইএমএফকে জানান, রাতারাতি বা ওভারনাইট কোনো বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, যে কোন বড় সংস্কার বা পরিবর্তনের জন্য সময়ের প্রয়োজন। অর্থমন্ত্রী জানান, আইএমএফ প্রতিনিধির দল এতে একমত পোষণ করেছে।
সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ঢাকা সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) বাংলাদেশ ও হংকং বিষয়ক মিশন প্রধান Ivo Krznar এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এর প্রতিনিধি সম্মান জানিয়েছে। এই বৈঠকে আইএমএফ-এর সঙ্গে বাংলাদেশের আগামী দিনের নতুন কর্মসূচির ভিত্তি ও সিকোয়েন্সিং নিয়ে এবং নীতিমালার সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফ-এর সঙ্গে নতুন কর্মসূচি কোন ভিত্তির ওপর পরিচালিত হবে, তা পরিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রস্তাবিত ভিত্তিসমূহের ওপর তারা সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন। সংস্কার কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ধাপে ধাপে (Sequencing) পরিবর্তনগুলো আনা হবে।
তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোন সংস্কার কখন করা প্রয়োজন সেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। আইএমএফ এই সিকোয়েন্সিংয়ের নীতিতে সায় দিয়েছে। এছাড়া, একটি রাজনৈতিক সরকারের জনকল্যাণমূলক দায়বদ্ধতা এবং রেসপন্সিবিলিটিকে আইএমএফ বিশেষভাবে সম্মান (Respect) জানিয়েছে। দেশের মানুষের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখেই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হবে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের চার মাসের মেয়াদে আর্থিক খাতের সংস্কার, শেয়ার বাজার ও ক্যাপিটাল মার্কেটের উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে আইএমএফ প্রতিনিধি দল সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাত্র চার মাসে ট্যাক্স আদায়কে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত আরও বাড়াতে সরকারের প্রস্তাবনাসমূহ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
ভুর্তুকি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এখনই সুনির্দিষ্ট ডিটেইলস বা শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়নি। মূলত নতুন কর্মসূচির মূল ভিত্তি তৈরি নিয়ে কথা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত আলোচনার টেবিলে সকল বিষয়গুলো আসবে। এই আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বার্ষিক সভায় এ বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা হবে। বর্তমান সরকারের সংস্কারমুখী পারফরম্যান্সে আইএমএফ সন্তুষ্ট এবং এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আগামী দিনের নতুন প্রোগ্রাম চূড়ান্ত করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ