০২:১৯ পি.এম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে একটি মেডিকেল কলেজের হোস্টেল থেকে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি কলেজটির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত শিক্ষার্থীর নাম অভিষেক কুমার (২০)। তিনি বিহারের সীতামারি এলাকার বাসিন্দা। দুর্গাপুরের কাঁকসার রাজবাঁধের মেডিকেল কলেজে প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করতেন এবং কলেজের হোস্টেলেই থাকতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিষেকের সঙ্গে একই কক্ষে এক সহপাঠীও থাকতেন। ঘটনার সময় ওই সহপাঠী নমাজ পড়তে বাইরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, ঘরের দরজা বন্ধ। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি কলেজ ও হোস্টেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।
আরও পড়ুন: ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় বিএজের প্রতিবাদ
পরে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে অভিষেককে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর অভিষেকের পরিবারের কাছে জানানো হয়েছে। পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো চিরকুট পাওয়া যায়নি।
পুলিশ হোস্টেলের ওই কক্ষে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি অভিষেকের সহপাঠীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তিনি কোনো কারণে মানসিক চাপে ছিলেন কি না, কিংবা তার ওপর কোনো ধরনের চাপ ছিল কি না, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্গাপুরের মেডিকেল কলেজের সহকারী সাধারণ ব্যবস্থাপক শুভঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, হোস্টেলের একটি কক্ষে অভিষেক ও তার এক সহপাঠী থাকতেন। ঘটনার সময় ওই সহপাঠী নমাজ পড়তে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি।
আরও পড়ুন: ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হলে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা: সালাহউদ্দিন আম্মার
তিনি আরও বলেন, সামনে পরীক্ষা থাকায় অভিষেক কোনো মানসিক চাপে ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।
ঘটনাটি ঘিরে কলেজ ও হোস্টেলজুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন