০৮:৩০ পি.এম
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী ইরানি একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে ‘অনিচ্ছাকৃত’ বলা যাবে না। তিনি বলেন, এই ঘটনায় কিয়েভকে অবশ্যই স্পষ্টভাবে দায় স্বীকার করতে হবে।
বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাসের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে তিনি এ কথা বলেন। আলাপের সময় উভয় পক্ষ আলোচনায় লিপ্ত ছিলেন হরমুজ প্রণালীর সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে।
আরাগচি আঞ্চলিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়ে ইরানের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।
আরও পড়ুন: কংগ্রেসকে পরজীবী ও রাহুলকে ব্যর্থ পণ্য আখ্যা দিলেন নরেন্দ্র মোদি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরানে আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ফরাসি কর্মকর্তাদের বিষয়ে ইইউর ‘হস্তক্ষেপমূলক’ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, তেহরানে ফরাসি দূতাবাসে কর্মরত দেশটির কর্মকর্তাদের অসদাচরণে ইইউর সমর্থন ১৯৬১ সালের কূটনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের বিধানের পরিপন্থী।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাম্প্রতিক টেলিফোন আলাপের প্রসঙ্গ তুলে আরাগচি উল্লেখ করেন, কিয়েভ ওই হামলাকে অনিচ্ছাকৃত বলে দাবি করেছিল। তবে তিনি বলেন, ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার বিষয়টি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে, তাই এ ধরনের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
আরাগচি আরো বলেন, ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ইউক্রেন সরকারকে অবশ্যই স্পষ্টভাবে দায় স্বীকার করতে হবে। তিনি জানান, ওই হামলায় ইরানের নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন এবং বাণিজ্যিক জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে, কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে সামরিক হামলার প্রতিবাদে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছিল ইরান। ওই হামলায় একজন ইরানি নাবিক নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের গোয়াদরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৩ সন্ত্রাসী
বৈঠকে ইরানি কর্মকর্তারা বলেন, হামলাটি জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন এবং এটি আগ্রাসনের শামিল। একই সঙ্গে এটি কাস্পিয়ান সাগরের উপকূলবর্তী সব দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলেও উল্লেখ করেন তারা। হামলার জন্য কিয়েভকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এ হামলা জাতিসংঘ সনদের ২(৪) ধারা লঙ্ঘন করেছে। এছাড়া, ইউক্রেনীয় নেতৃত্বের হামলা স্বীকারের বিষয়টি ইরানের প্রতি কিয়েভের বৈরী মনোভাবের ধারাবাহিকতার প্রমাণ বলেও মন্তব্য করেছে তেহরান। তথ্যসূত্র: তাসনিমনিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন