০৬:৩৩ এম
ওজন কমাতে হাঁটা হলো শরীরের ফিটনেস বজায় রাখার জন্য একটি কার্যকর এবং সহজ উপায়। এটি যেকোনো বয়সের এবং যেকোনো ফিটনেস লেভেলের মানুষের জন্য নিরাপদ ব্যায়াম। হাঁটার মূল সুবিধা হলো এটি জয়েন্টের ওপর কোনো চাপ ফেলে না, ফলে দীর্ঘসময় স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটা সম্ভব হয়।
নিয়মিত হাঁটলে শরীরের মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায়, ফলে চর্বি ঝরে যায় এবং পেশির টোন উন্নত হয়। এই বিষয়গুলো ওজন কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একজনের ওজন এবং হাঁটার গতির ওপর ভিত্তি করে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ ক্যালরি বার্ন করা সম্ভব।
স্বাস্থ্য সচেতনদের মধ্যে দিনে ১০,০০০ কদম হাঁটার লক্ষ্য খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু, ১ কেজি ওজন কমাতে ঠিক কত কদম হাঁটা প্রয়োজন, সে সম্পর্কে অনেকের ধারণা নেই।
আরও পড়ুন: রাতে ঘুম না এলে এড়িয়ে চলুন যেসব কাজ
চিকিৎসা ও পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, ১ কেজি মেদ বা ওজন কমাতে প্রায় ৭,৭০০ ক্যালরির ঘাটতি তৈরি করতে হয়। এর ভিত্তিতে, যদি কেউ ১ সপ্তাহে ১ কেজি ওজন কমাতে চান, তবে তাকে প্রতিদিন গড়ে ১,১০০ ক্যালরির ঘাটতি তৈরি করতে হবে।
এছাড়া, একজন সাধারণ মানুষ প্রতি ১,০০০ কদম হাঁটার মাধ্যমে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ক্যালরি বার্ন করেন। এই হিসাবে কেবল হেঁটে ১ সপ্তাহে ১ কেজি ওজন কমাতে হলে প্রতিদিন প্রায় ২২,০০০ থেকে ২৭,৫০০ কদম হাঁটা প্রয়োজন, যা সপ্তাহে মোট ১,৫৪,০০০ থেকে ১,৯২,৫০০ কদম হবে।
এটি একটি বিশাল শারীরিক লক্ষ্য এবং কেবল হাঁটার মাধ্যমে পূরণ করা কঠিন। তাছাড়া যাদের ওজন বেশি, তাদের ক্ষেত্রে প্রতি কদমে ক্যালরি ক্ষয়ের পরিমাণ বাড়বে।
এক দিনে ২২,০০০ থেকে ২৭,০০০ কদম হাঁটার কারণে হাড়ের জোড়ায় চাপ পড়তে পারে এবং পেশিতে ব্যথা হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:
আরও পড়ুন: প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুসের আলোয় সজ্জিত চট্টগ্রামের আকাশ
১. ক্যালরি গ্রহণ কমানো: খাদ্যতালিকা পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিদিনের খাবার থেকে আনুমানিক ৫০০ ক্যালরি কমিয়ে দিন। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন করলে প্রতিদিনের হাঁটার লক্ষ্যমাত্রা ১২,০০০ থেকে ১৫,০০০ কদমে নেমে আসবে।
২. ধীরস্থির লক্ষ্য নির্ধারণ: ১ সপ্তাহে ১ কেজি কমানোর দ্রুত লক্ষ্য না নিয়ে প্রতিদিন ১০,০০০ থেকে ১২,০০০ কদম হেঁটে ১০ থেকে ১৫ দিনে ১ কেজি ওজন কমানোর লক্ষ্য করুন।
দ্রুত ও সঠিক ফলাফলের জন্য কিছু দরকারি টিপস:
- দ্রুত গতিতে হাঁটা: দ্রুত হাঁটলে প্রতি কদমে বেশি ক্যালরি বার্ন হবে।
আরও পড়ুন: ইংল্যান্ডের ল্যান্ডুডনো: পাহাড়, সমুদ্র ও সবুজ প্রকৃতির মিলনস্থল
- উঁচুস্থানে হাঁটা: সমতলের চেয়ে ঢালু পথ বা উঁচুতে হাঁটার ফলে ক্যালরি ক্ষয়ের পরিমাণ বাড়ে।
- ধীরে ধীরে কদম বাড়ানো: প্রথম দিন থেকেই ১০,০০০ কদম হাঁটার চেষ্টা না করে প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ করে লক্ষ্যমাত্রা বাড়ান।
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম: সপ্তাহে ১ বা ২ দিন কম হাঁটলে শরীরকে বিশ্রাম দিন এবং পেশি পুনর্গঠনের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমান।
- ভাগ করে হাঁটা: টানা ৬০ মিনিট না হেঁটে দিনে ২০ মিনিট করে ৩ বার হাঁটুন।
আরও পড়ুন: গন্ডামারায় মনোমুগ্ধকর কাশবন দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়
- হাইড্রেটেড থাকা: হাঁটাহাঁটির আগে, মাঝে ও পরে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
সামগ্রিকভাবে, ওজন কমানো এবং শারীরিক সুস্থতার জন্য হাঁটা একটি খুবই সহজ ও টেকসই ব্যায়াম। এর জন্য বিশেষ কোনো সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই। বাসার উঠান, পার্ক অথবা ট্রেডমিল—যেকোনো স্থানেই এটি শুরু করা সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন