ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৯০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেফতার ১


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৯০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে পৃথক অভিযানের মাধ্যমে ১৯০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের হাতে একজন গ্রেফতার হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত রবিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার সময় বিজয়নগর থানা পুলিশ উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানের ফলে নৈদার চান দাশের বসতবাড়িতে ১১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে নৈদার চান দাশ (৬২) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া নৈদার চান দাশ কাশিনগর এলাকার মৃত নীল কান্ত দাশ ও মৃত কাদু বালা দাশের পুত্র।

উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের কামালপুর এলাকায় পুলিশ আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে। বিজয়নগর-আউলিয়া বাজারগামী পাকা সড়কের পাশে শান্তামুড়া গ্রামগামী কাঁচা রাস্তার মাথা থেকে ৮০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে ছাত্রদলের দুই পক্ষের বিরোধে ৫ জনকে কুপিয়ে জখম, আটক ১

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আহসান উল্লাহ জানান, পৃথক ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরাইলে এনজিও অফিসে ডাকাতি মামলার প্রধান আসামি ডাকাত গাফ্ফার পুলিশের কব্জায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৫৮ পি.এম


সরাইলে এনজিও অফিসে ডাকাতি মামলার প্রধান আসামি ডাকাত গাফ্ফার পুলিশের কব্জায়

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের উত্তর কুট্রাপাড়া (খুরশেদ ভবনের) ৩ এনজিও অফিসে ঘটে যাওয়া ডাকাতির মামলার প্রধান আসামী পেশাদার ডাকাত গাফ্ফার (৩৫) বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। গত ২৪ আগস্ট সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় সরাইল থানার এস আই রাজিব বড়ুয়ার নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল গাফ্ফারকে গ্রেপ্তার করে। গাফ্ফার সদর উপজেলার খাঁটিহাতা গ্রামের কাদির মিয়ার পুত্র। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ ডাকাতির ঘটনায় তার জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে। পুলিশ ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে। গাফ্ফারের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, সরাইল, ঢাকাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও দস্যুতার একাধিক মামলা রয়েছে। তবে তার একাধিক আত্মীয় এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলছেন, প্রকৃত অপরাধীরা যেন পার পেয়ে না যায়।

পুলিশ, মামলা ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত ২১ আগস্ট শুক্রবার গভীর রাতে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন সরাইল সদরের কুট্রাপাড়া এলাকায় সামছুদ্দিন মিয়ার বহুতল ভবনের (খুরশেদ ভবন) প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলায় ৩টি এনজিও অফিসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মুখোশ পরা সংঘবদ্ধ ডাকাতদল দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে ওই অফিস থেকে নগদ ৫ লক্ষাধিক টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন কর্মকর্তারা। বাঁধা দেওয়ায় রাব্বি মিয়া নামের এক হিসাব রক্ষককে মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে ডাকাতরা। ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে রাব্বি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। গার্কের ফিল্ড অফিসার স্বপন রাজবংশী, সারোয়ার ও এরিয়া ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা বলেন, "তালা কাটার শব্দে ঘুম থেকে উঠেছি। ডাকাতরা প্রথমেই বাহিরের দিকে আমাদের দরজার চিটকারি লাগিয়ে দিয়েছে। চিৎকার করছি কেউ খুলেনি। ভোর বেলা কাজের বোয়া এসে খুলে দিয়েছেন।" ডাকাতরা সিসি টিভির রেকর্ড বক্সটি নিয়ে গেছে। তবে আমাদের দক্ষিণ পাশের ভবনে সিসি টিভি আছে। এত বড় ভবনে কোন সিকিউরিটি গার্ডও নেই। পরের দিন সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সরাইল থানার পুলিশ। উপজেলা সদরে হাইওয়ে থানা ও সরাইল থানার নিকটবর্তী স্থানে মহাসড়ক ঘেঁষা ভবনে এমন দূর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ লোকজন ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। এমন জঘন্য ও ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত, গ্রেপ্তার এবং বিচার দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী। আহত রাব্বি মিয়া পুলিশকে জানায়, মুখোশ পরা ডাকাতরা ডাকাতি ও তাকে মারধর করার সময় হঠাৎ একজনের মুখোশ খুলে যায়। এ সময় দেখা ওই ডাকাতের শরীরের গঠন, রং, মুখের অবয়ব, মাথা ও চুলের অবস্থাসহ অন্যান্য সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা দেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদেরের নেতৃত্বে পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের তদন্ত শুরু করেন। তদন্তে পুলিশের সন্দেহের তালিকায় আসে দুই ব্যক্তি। তাদের একজন খাঁটিহাতা গ্রামের প্রয়াত কাদির মিয়ার ছেলে গাফ্ফার। গত ২৩ আগস্ট রোববার রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার খাঁটিহাতা গ্রামে অভিযান চালান সরাইল থানার এস আই রাজিব বড়ুয়া। অভিযানকালে তিনি ডাকাত গাফ্ফারকে আটক করার সময় তার স্বজন ও এলাকাবাসী পুলিশের উপর চড়াও হয়। তারা ধস্তাধস্তি করে পুলিশের কাছ থেকে গাফ্ফারকে ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করে। পরে স্থানীয় ও জেলার রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় সমঝোতা ঘটনার নিস্পত্তি হয়। পরের দিন জেলা শহর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর মডেল থানার সহায়তায় সরাইল থানার পুলিশ ডাকাত গাফ্ফারকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, গাফ্ফারের অপকর্মের শিকর অনেক গভীরে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি ও দস্যুতার অভিযোগে ঢাকায় ১টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় ৩টি ও সরাইল থানায় ১টি সহ মোট ৫টি মামলা রয়েছে। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের বলেন, "প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এনজিও অফিসে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা শিকার করেছে। বিস্তারিত জানতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তাই আমরা আদালতের কাছে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছি। আগামী রোববার ওই আবেদনের শুনানি হতে পারে।"

যেভাবে দূর্ধর্ষ ডাকাত গাফ্ফার:

বিশ্বরোড মোড়ের পাশের খাঁটিহাতা গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করা গাফ্ফার বেড়ে উঠেছে নানা অপকর্ম ও অপরাধীদের মাঝে। জীবনের প্রয়োজনে গাফ্ফার এক সময় চলে যায় প্রবাসে। কিছুদিন পরই আবার ফিরে আসে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও সরাইলের সীমানায় বিশ্বরোড মোড় ঘেঁষেই তাদের বসবাস। এ মোড়টি রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলার ট্রানজিট পয়েন্ট। ব্যস্ততম এই মোড়ে মাদকসেবন ও ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই, ফুটপাতের দোকানে চাঁদাবাজি, সড়কে যানবাহনে চাঁদাবাজি ডাকাতির ঘটনা ঘটছে অহরহ। দেখতে দেখতে এক সময় গাফ্ফারের বন্ধু মহলের আকার বৃদ্ধি পায়। মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে গাফ্ফার। সকাল দুপুর রাত শুধু টাকার সন্ধান করতে থাকে। মা বাবা শেষ করে সড়কের পাশের ফুটপাতের ব্যবসায়িদের কাছ থেকে দৈনিক চাঁদার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। মাদক ও জুয়ার ছোবলে গাফ্ফারের জীবন এলোমেলো হয়ে যায়। টাকার জন্য উশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। জড়িয়ে পড়ে চুরি ছিনতাই আর ডাকাতির মত ঘটনায়। পরবর্তীতে তার অপরাধের শিকর শাখা প্রশাখা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তার রয়েছে বিশাল এক সিন্ডিকেট। গাফ্ফারের নাম শুনলেই চমকে উঠেন বিশ্বরোড মোড়ের ব্যবসায়ি ও যান চালকরা। পুলিশের দেয়া তথ্য মতে গাফ্ফারের ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরাই এনজিও অফিসে দূর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিব্বতে বন্যার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি আড়ালে, তথ্য নিয়ন্ত্রণে চীন: রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ পি.এম


তিব্বতে বন্যার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি আড়ালে, তথ্য নিয়ন্ত্রণে চীন: রিপোর্ট

হিমালয়ের কোলঘেঁষা তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা ও কাদাধসে ব্যাপক প্রাণহানি হলেও দুর্যোগের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ্যে আসছে না। চীন প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

সীমান্তবর্তী গিরং বন্দরে বন্যার ভয়াবহ স্রোতের ভিডিও আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও চীনের সংবাদ মাধ্যমে এর খুব সামান্য অংশই প্রকাশিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নেপালের তুলনায় চীনের তিব্বত অংশে পরিস্থিতির তথ্য অনেক ধীরে সামনে আসছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে অঞ্চলটিতে তথ্যপ্রবাহের ওপর চীনা সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণকে উল্লেখ করা হচ্ছে।

হিমালয়ের সীমান্তবর্তী অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বতের বহু গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালে ইতোমধ্যে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ শতাধিক বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া আরও চার হাজার আড়াই শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। 

অন্যদিকে, একই সময় চীনের পক্ষ থেকে তিব্বতে মৃতের সংখ্যা মাত্র ১৬ জন এবং নিখোঁজ ৫৪৬ জন বলে জানানো হয়েছে। অথচ গিরং সীমান্ত ক্রসিংয়ের আশপাশের গ্রামগুলোতে কয়েক হাজার মানুষ বসবাস করে।

নেপালে সাংবাদিকদের সরেজমিন অনুসন্ধান
নেপালে দুর্যোগের পরপরই সাংবাদিকেরা যতটা সম্ভব বিপর্যস্ত এলাকার কাছাকাছি পৌঁছে বেঁচে যাওয়া মানুষ, উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন।

বন্যার পানির তোড়ে ঘরবাড়ি ও জনপদ ভেসে যাওয়ার প্রত্যক্ষ বিবরণও দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিজ্ঞানীরা এখনও এই আকস্মিক বন্যার সঠিক কারণ নিয়ে গবেষণা করছেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় দুর্যোগটির ভয়াবহতার বিস্তারিত চিত্র দ্রুতই সামনে এসেছে।

অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বন্যা নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন ও সরাসরি সম্প্রচার করেছে এবং নিজেদের সাংবাদিকদেরও দুর্গত এলাকায় পাঠিয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিবেদনের মূল জোর ছিল উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের ওপর; বন্যায় কতটা ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলনামূলকভাবে কম প্রকাশ করা হয়েছে।

তিব্বতের একটি ত্রাণকেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে সাংবাদিককে দেখা যায়, তার পেছনে বেশ কয়েকজন মানুষ বসে আছেন। কিন্তু তাদের কারও সঙ্গে কথা বলা হয়নি।

তিব্বতে তথ্যপ্রবাহের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ
১৯৫০-এর দশকে চীনের নিয়ন্ত্রণে আসা তিব্বত দেশটির সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর একটি।

তিব্বতে অধিকতর স্বায়ত্তশাসন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবিতে অতীতে বিক্ষোভ হয়েছে। কিছু ঘটনায় তিব্বতিদের আত্মাহুতির ঘটনাও ঘটেছে। এসব আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদেরও তিব্বতে স্বাধীনভাবে যাওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। সাধারণত সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত সফরের মাধ্যমেই বিদেশি সাংবাদিকদের সেখানে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, অনেক তিব্বতি পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত এবং বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ অত্যন্ত সীমিত। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার কারণেও তিব্বতিদের শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে বলে মানবাধিকারকর্মীরা দাবি করেন।

তিব্বতি ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর চীনা সরকারের নীতিরও দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও তিব্বতি অধিকারকর্মীরা।

এমন পরিস্থিতিতে তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

সবকিছু জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিতে দেখা হয়
লন্ডনের সোয়াস ইউনিভার্সিটির চায়না ইনস্টিটিউটের পরিচালক স্টিভ স্যাংয়ের মতে, তিব্বতকে ঘিরে সবকিছুই চীনে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয়।

তিনি বলেন, তিব্বত নিয়ে এমন কোনও তথ্য প্রকাশ বা প্রতিবেদন করার সুযোগ নেই, যা শীর্ষ পর্যায় থেকে অনুমোদিত নয়।

তার মতে, ঘটনাস্থলে কেউ নিজের চোখে আরও বেশি মরদেহ দেখলেও সরকারি হিসাবে সংখ্যা না বাড়ানো পর্যন্ত বেশি মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

এর ফলে দুর্গত তিব্বতি অঞ্চলে প্রকৃত হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

উদ্ধার তৎপরতার তথ্যও সীমিত
তথ্য নিয়ন্ত্রণের কারণে তিব্বতে চীনের উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা সম্পর্কেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ চীনের জরুরি সেবা ব্যবস্থাপনা, যার মধ্যে পিপলস লিবারেশন আর্মিও রয়েছে, নেপালের তুলনায় অনেক বেশি সম্পদ ও সক্ষমতাসম্পন্ন।

বিপর্যস্ত সীমান্তবর্তী অঞ্চলটি অত্যন্ত দুর্গম ও পাহাড়ি। অনেক জায়গায় পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে উদ্ধারকাজ চালাতে বিশেষায়িত দক্ষতা ও সরঞ্জাম প্রয়োজন।

চীন ইতোমধ্যে শত শত জরুরি সেবাকর্মীকে দুর্গত এলাকায় পাঠিয়েছে। কিন্তু তারা ঠিক কীভাবে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছেন এবং কত মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য খুব কমই প্রকাশ করা হচ্ছে।

স্টিভ স্যাংয়ের মতে, নিজেদের উদ্ধার সক্ষমতা ও তৎপরতার ইতিবাচক দিক তুলে ধরার একটি সুযোগ চীন হারাচ্ছে।
তার ভাষায়, চীনের সমস্যাটি সক্ষমতার অভাব নয়; বরং তথ্য নিয়ন্ত্রণের প্রতি তাদের প্রবল প্রবণতা। তাদের স্বাভাবিক প্রবণতাই হলো সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখা।

বিপর্যয়কে জাতীয় অগ্রাধিকার দিচ্ছে বেইজিং
তবে বন্যা মোকাবিলাকে চীন যে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে, তা স্পষ্ট করতে দেশটির সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করে উদ্ধারকাজের নির্দেশনা দেন। তিনি চীন ও বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে যারা নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের সন্ধানে ‘সর্বাত্মক প্রচেষ্টা’ চালানোর আহ্বান জানান।

শি জিনপিং দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের জন্য দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংকেও সেখানে পাঠিয়েছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লি কিয়াং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে জোর দিয়ে বলেছেন, সাধারণ সম্পাদক শি জিনপিং দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষের পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন
চীনের পক্ষ থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হলেও হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষ করে একই সীমান্ত অঞ্চলের নেপাল অংশে যখন সাংবাদিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের বর্ণনার মাধ্যমে বিপর্যয়ের ব্যাপকতা দ্রুত সামনে আসছে, তখন তিব্বতের দিকের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে অস্পষ্ট।

ফলে তিব্বতে প্রকৃত কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, কতজন নিখোঁজ এবং কতটা অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে—এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুললেও তথ্যপ্রবাহের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতির স্বাধীন মূল্যায়নকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে বন্যার প্রকৃত মানবিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র জানতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেনবাগে গোরকাটা বহুমুখী সমবায় সমিতির মার্কেট ভবন উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০১ পি.এম


সেনবাগে গোরকাটা বহুমুখী সমবায় সমিতির মার্কেট ভবন উদ্বোধন

 

সেনবাগ উপজেলার গোরকাটা-বটতলী বাজারে গোরকাটা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নতুন মার্কেট ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রবিবার বিকেল ৫টায় গোরকাটা-বটতলী বাজারে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল আবদিন ফারুক।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টপস্টার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন সৈয়দ হারুন এমজেএফ, টপস্টার গ্রুপের পরিচালক লায়ন এবিএম শাহাদাত হোসেন, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন, সেনবাগ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোক্তার হোসেন পাটোয়ারী, এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. শেখ ফরিদ।

এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৫নং অর্জুনতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন খান (সাধন মেম্বার) এবং সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ।

গোরকাটা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. শাহাজালালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুল ওহাবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

সমিতির সহ-সভাপতি মো. আব্বাস উদ্দিন মামুন অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গোরকাটা বহুমুখী সমবায় সমিতির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

নবনির্মিত মার্কেট ভবনটির উদ্বোধনের ফলে গোরকাটা-বটতলী বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে ১৩৬ শিক্ষার্থীর অনশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০২ পি.এম


চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে ১৩৬ শিক্ষার্থীর অনশন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কোস্টাল স্টাডিজ ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগ দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। 

সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অনশন চলছিল।

এর আগে রবিবার সেশনজটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং বিভাগের চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হকের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা তার অফিস ও কক্ষে তালা দিয়ে উপাচার্যের দপ্তরের সামনে অবস্থান নেন। পরে উপাচার্যের আশ্বাসে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে তারা সেখান থেকে চলে যান।

আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার কাছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জিম্মি হতে পারে না। ক্লাস না হওয়া, পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ফল প্রকাশে বিলম্ব তাঁদের শিক্ষাজীবনকে সংকটে ফেলছে। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ কারণে তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁদের একমাত্র দাবি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ। এ দাবিতে ১৩৬ শিক্ষার্থী অনশনে বসেছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী তামিম রহমান আশিক বলেন, সকাল ৯টা থেকে তারা অবস্থান করছেন। দুপুর ১২টা থেকে অনশন শুরু করেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। অনশনের কারণে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে এর দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিই তাঁদের দাবি। অন্য বিভাগগুলো সেশনজট নিরসন করতে পারলে কোস্টাল স্টাডিজ বিভাগ কেন পারবে না—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর মতে, আন্দোলন শুরু হওয়ার আগেই চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত ছিল।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, মূলত শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকটের কারণেই এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের এমন চরম কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদি হাসান বলেন, শিক্ষার্থীরা অনশনে রয়েছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি সমাধান আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%