বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:১৮ পি.এম
যশোর, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : যশোরে জনপ্রিয় চেইন রেস্টুরেন্ট ‘কাচ্চি ভাই’-এর একটি আউটলেটকে ফায়ার লাইসেন্স না থাকার কারণে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ কুমার দাসের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করা টাকার আদায়ও করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের যশোর কার্যালয়ের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর-১ লুৎফর রহমান খান জানান, প্রতিষ্ঠানটি চালুর পর থেকে তাদের তিন দফা নোটিশ দিয়ে ফায়ার লাইসেন্স সংগ্রহ করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ নোটিশগুলোকে উপেক্ষা করেছেন। এ কারণে বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়।
তিনি আরও বলেন, যশোরের অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানকে ফায়ার লাইসেন্সের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকে এখন পর্যন্ত সাড়া দেয়নি।
এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হবে বলে তিনি সতর্ক করে জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্বৃত্তরা পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফকে কুপিয়ে আহত করেছে। এই ঘটনার আগে তার প্রাইভেটকারে গুলি চালিয়ে পথ রোধ করা হয়।
বুধবার রাত পৌনে বারোটার দিকে উপজেলার জয়নগর কিন্ডার গার্ডেনের সামনে সড়কে এই ঘটনার অবতারণা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় শরিফকে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, শরিফুল ইসলাম শরিফ নিজের প্রাইভেটকার চালিয়ে জয়নগরে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। জয়নগর কিন্ডার গার্ডেনের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত প্রাইভেটকারের সামনে থেকে গুলি চালায়। এতে প্রাইভেটকার থেমে গেলে দুর্বৃত্তরা শরিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে এসে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থা অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আশাদুর রহমান জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত শরিফকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং হামলাকারীদের সনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার ঈশ্বরদীতে সাঁড়া ইউনিয়নের ঘোষপাড়া এলাকায় রাতের আঁধারে চলছে অবৈধভাবে পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী ব্যবসায়ী অংশীদার হয়ে পদ্মা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি বিশাল বালুর খোলা গড়ে তুলেছেন। সেখানে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু মজুদ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর খানের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে পদ্মা এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্তাধিকারী মোঃ মঞ্জু খান বালুর খোলাটি তৈরি করেন। জমির মালিক আবু বক্কর খান নিশ্চিত করেছেন, তিনি নিজে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন। কেবল তিন বছরের জন্য তিনি মঞ্জু খানের কাছে জায়গাটি ভাড়া দিয়েছেন। অন্যদিকে, বালুর খোলায় মঞ্জু খানের সাথে প্রধান ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের এক ঝাঁক নেতা কর্মী।
ব্যবসায়িক অংশীদারদের বিষয়ে জানতে চাইলে মঞ্জু খান বেশ কয়েক জন অংশীদারের কথা স্বীকার করলেও তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। রাতের আঁধারে বালু কাটার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানালেন, নদীতে যারা দায়িত্বে রয়েছে তাদের কাছ থেকে বালু কেনা হয়। নৌকার মাঝিদের কাছে টাকা দিলে তারা বালু এনে দেন। রাতের বেলা বালু উত্তোলন যে আইনত নিষিদ্ধ, এ বিষয়ে তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে তিনি দায় এড়িয়ে যান।
সাঁড়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর রুকন মোঃ ইলিয়াস খান উক্ত ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা সরাসরি স্বীকার করেছেন। তবে তার বক্তব্য, তিনি নিজে সরাসরি তা পরিচালনা করেন না। রাতের বেলা অবৈধ বালু তোলার বিষয়টি তোলা হলে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে রাতের আঁধারে পদ্মা নদীর তলদেশ ক্ষতবিক্ষত করে ড্রেজার দিয়ে বালু কাটা হচ্ছে। এর ফলে পাকশী হার্ডিং ব্রিজ, লালনশাহ সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ভেড়ামারা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সাঁড়া নদী রক্ষা বাঁধসহ সাঁড়া ইউনিয়নে ভয়াবহ নদী ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে এই অবৈধ বালু সিন্ডিকেট।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এই তথ্য আমাদের কাছে ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। ঘটনা সত্য হলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় স্থায়ী সাব রেজিস্ট্রার নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন ও কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করেছেন দলিল লেখকেরা। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে শেরপুর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি শেরপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে দলের লেখক সমিতির নেতারা বলেন, শেরপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়মিত সাব রেজিস্ট্রার না থাকার কারণে দলিল নিবন্ধন কার্যক্রমে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র দুইদিন সাব রেজিস্ট্রার অফিসে বসেন। ফলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮০টি দলিল নিবন্ধন হলেও বিপুল পরিমাণ দলিল অপেক্ষমাণ থেকে যাচ্ছে। এতে করে দলিলের জট তৈরি হচ্ছে এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
তারা আরো বলেন, শেরপুর উপজেলার আয়তন ও জনসংখ্যার তুলনায় সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম অনেক বড়। প্রতিদিন প্রায় ১৫০জন সেবাগ্রহীতা দলিল নিবন্ধনের জন্য অফিসে আসছেন। তবে নিয়মিত সাব রেজিস্ট্রার না থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ে সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি জানান, দ্রুত শেরপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে একজন স্থায়ী সাব রেজিস্ট্রার নিয়োগ দিতে হবে। তাদের দাবি, নিয়মিত সাব রেজিস্ট্রার নিয়োগ করা হলে দলিলের জট কমে যাবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত এবং নির্বিঘ্নে সেবা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে। কর্মসূচিতে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি শেরপুর উপজেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও দলিল লেখকেরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচিত সদস্যরা চার বছরের বেশি সময় ধরে সম্মানীভাতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে প্রত্যেক সদস্যের সম্মানীভাতা বকেয়া পড়েছে দুই লাখ টাকার বেশি বলে তাঁরা দাবি করেছেন। একইসঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সদস্যদের সম্পৃক্ত না করে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পরিচালনা করছেন ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বাবু।
এই অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আল মাসুদ রানা অভিযোগগুলোর তদন্ত করেন। তিনি ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেছেন। এর সঙ্গে পরিষদের বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের তথ্যও চেয়ারম্যানের কাছে চাওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আল মাসুদ রানা মন্তব্য করেছেন, ‘সবে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানের কাছেও পরিষদের বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে ইউএনওর কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’
জানা যায়, কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের নয়জন সদস্য গত বছরের ২৪ নভেম্বর মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তাঁরা সম্মানীভাতা না পাওয়া এবং বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে তাঁদের সম্পৃক্ত না করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। অভিযোগ দাখিলের প্রায় নয় মাস পরে আজ বৃহস্পতিবার এ তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন মোল্লা জানিয়েছেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি সম্মানীভাতা হিসেবে মাত্র ৩০ হাজার টাকা পেয়েছেন। তাঁর ওয়ার্ডে কোনো প্রকল্পের কাজ দেওয়া হয়নি, অভিযোগ করেন তিনি। অন্য সদস্যদের দিয়ে তাঁর ওয়ার্ডে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলেও দাবি করছেন তিনি। শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য কোনো কম্বলও তাঁর ভাগ্যে জোটেনি বলে জানান।
আরেক সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত সম্মানীভাতা হিসেবে ৪০ হাজার টাকা পেয়েছি। এই বিষয়ে প্রতিবাদ করায় আমার ভাগ্যে কোনো প্রকল্প জোটেনি।’
ইউপি সদস্য ইউনুস আলী সরদার দাবি করেন, বিভিন্ন প্রকল্পে সদস্যদের সভাপতি করা হলেও প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে তাঁদের কিছুই জানানো হয় না। শুধুই কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর চেয়ারম্যান নিজেই বিল উত্তোলন করেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁদের সম্মানীভাতা বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে ইউপি সদস্যদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বাবু। তিনি বলেছেন, হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স থেকে পাওয়া অর্থ ছাড়া পরিষদের তেমন কোনো আয় নেই। প্রতিবছর পরিষদের আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় সদস্যদের সম্মানীভাতা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেছেন, ইউপি সদস্যদের দেওয়া অভিযোগ তদন্তের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ