০৯:০৮ পি.এম
জাতিগত যুদ্ধ ইউক্রেনকে ঘিরে যে বৈশ্বিক সামরিক সক্ষমতার নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাটো ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছে, অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। ২০২৪ সালে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ন্যাটো স্টাইলের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা সরাসরি রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। এই ঘটনাটি বৈশ্বিক সামরিক হিসাব-নিকাশের চেহারা বদলে দিয়েছে এবং ইউক্রেনকে বিপাকে ফেলেছে।
ইউক্রেনীয় ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্সের ডেপুটি হেড মেজর জেনারেল ভাদিম স্কিবিটস্কি জানিয়েছেন যে ইতিমধ্যে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে সাড়ে ৮ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার প্রকৌশলী এবং ৪০০ ড্রোন অপারেটর রয়েছেন। তারা ইউক্রেনের ভেতরে নজরদারি ও আক্রমণে ব্যবহৃত হবে। ধারণা করা হচ্ছে, সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকে আরও ৫০ হাজার সৈন্য চাইতে পারেন।
স্কিবিটস্কি জানিয়েছেন, গত বছরের আগস্টের আগে পিয়ংইয়ং কমপক্ষে ১৫০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল সরবরাহ করেছিল। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের মতে, এই সেনারা সরাসরি ফ্রন্টলাইনে না লড়ে রাশিয়ার পেছনের অবস্থান শক্তিশালী করছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তা দিয়েও কিছু পায়নি যুক্তরাষ্ট্র
রাশিয়ার পাশে দাঁড়ানোর পেছনে পিয়ংইয়ংয়ের কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। অস্ত্রের বিনিময়ে তারা রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জ্বালানি ও খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে। পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন দেশটির সেনারা ড্রোন যুদ্ধ ও নজরদারির বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে।
সামরিক রসদ সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে তুমেন নদীর ওপর একটি নতুন সেতুর কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। রাশিয়ার সাথে এই সম্পর্কের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, তারা যৌথভাবে পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি ‘নতুন ও ন্যায়সঙ্গত বিশ্বব্যবস্থা’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।
সম্প্রতি পুতিনকে লেখা এক চিঠিতে কিম বলেছেন, আপনার সঙ্গে একযোগে উত্তর কোরিয়া-রাশিয়া সম্পর্কের নেতৃত্ব দিয়ে অভিন্ন সংগ্রামের ইতিহাস এগিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা করতে পারায় আমি সব সময় গর্বিত।
কিম আরও বলেন, পুতিনের দূরদর্শী নেতৃত্বে রাশিয়া সমৃদ্ধ হবে এবং তার ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করবে। এ বিষয়ে তার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী
জবাবে পুতিন চিঠিতে বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং এটি এখন সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন