০৭:৩৯ পি.এম
খেলাধুলার বিভিন্ন ধরনের জন্য শরীরের ওপর চাপের প্রকারভেদ ভিন্ন। কিছু খেলায় গতি ও শক্তির প্রয়োজন হয়, আবার কিছুতে সহনশীলতা, নমনীয়তা অথবা দ্রুত দিক পরিবর্তনের দক্ষতা প্রয়োজন। তবে, সব ধরনের শারীরিক দক্ষতা একত্রে বিবেচনা করলে, কোন খেলায় একজন খেলোয়াড়কে সবচেয়ে বেশি সক্ষম হতে হয় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রশ্নের উত্তরে ফুটবলকে এগিয়ে রাখা যেতে পারে। কারণ, ফুটবলে একজন খেলোয়াড়কে প্রায় ৯০ মিনিট মাঠে অবস্থান করতে হয় এবং ম্যাচের মধ্যে গড়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার দৌড়াতে হয়। এর সাথে সাথে প্রয়োজন দ্রুত দৌড়ানো, হঠাৎ গতির পরিবর্তন, লাফানো, দিক পরিবর্তন, শক্তি, ভারসাম্য, ক্ষিপ্রতা এবং নমনীয়তা।
ফুটবলে দীর্ঘসময় ধরে দৌড়ানোর সক্ষমতা থাকা যথেষ্ট নয়। ম্যাচ চলাকালীন বারবার দ্রুত গতির দৌড় বা স্প্রিন্ট দেওয়ার প্রয়োজন হয়। এছাড়া, এটি একটি শারীরিক সংস্পর্শের খেলা হওয়ায় শক্তি ও শরীরের নিয়ন্ত্রণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: ‘ভিনিসিয়ুসের জায়গায় থাকলে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে দিতাম’ মরিনহো
হকি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও প্রায় একই ধরনের শারীরিক সক্ষমতা প্রয়োজন। তবে ফুটবলের তুলনায় হকির মাঠ ছোট এবং লাফানোর প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় সামগ্রিক শারীরিক দক্ষতার দিক থেকে ফুটবল এগিয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে, বক্সিং ও কুস্তির মতো কমব্যাট স্পোর্টসে অসাধারণ সহনশীলতা, শক্তি এবং ক্ষমতার প্রয়োজন হয়। তিন মিনিটের একটি রাউন্ডে টিকে থাকতে একজন বক্সার বা কুস্তিগিরকে দীর্ঘ সময় কাজ করার সক্ষমতার পাশাপাশি খুব অল্প সময়ে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা তৈরি করতে হয়। কুস্তিগিরদের জন্য ক্ষিপ্রতা, নমনীয়তা এবং শরীরের গতিশীলতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জিমন্যাস্টিকসে শক্তি, নমনীয়তা এবং ক্ষিপ্রতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রার দৌড় বা সহনশীলতার প্রয়োজন এখানে তুলনামূলকভাবে কম। ম্যারাথন দৌড়বিদদের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন—এখানে দীর্ঘ সময় ধরে শরীরের কর্মক্ষমতা বজায় রাখা মূল বিষয়।
জ্যাভেলিন থ্রো বা বর্শা নিক্ষেপের ক্ষেত্রেও শুধুমাত্র শক্তিশালী হওয়া যথেষ্ট নয়। শরীরকে সঠিক অবস্থানে এনে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে নমনীয়তা ও গতিশীলতার প্রয়োজন হয়। তবে, এই খেলায় দীর্ঘ সময় দৌড়ানোর সক্ষমতার ভূমিকা তুলনামূলকভাবে কম।
আরও পড়ুন: টানা আট ম্যাচ বেঞ্চে সূর্যবংশী, বললেন ভারতীয় অধিনায়ক
ওয়েটলিফটিংকে অনেকে শুধু শক্তি ও ক্ষমতার খেলা মনে করেন। কিন্তু স্ন্যাচ এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কের মতো অলিম্পিক লিফটে শক্তির পাশাপাশি অসাধারণ ক্ষিপ্রতা, নমনীয়তা এবং শরীরের বিভিন্ন পেশির সমন্বয় প্রয়োজন হয়।
সব দিক বিবেচনায়, তাই একক কোনো খেলাকে ‘সবচেয়ে কঠিন’ বলা সহজ নয়। তবে, গতি, শক্তি, সহনশীলতা, ক্ষিপ্রতা, নমনীয়তা এবং শরীরের নিয়ন্ত্রণ—এই সবগুলো সক্ষমতা একসঙ্গে প্রয়োজন হওয়ায় ফুটবলকে সবচেয়ে পরিপূর্ণ শারীরিক দক্ষতার খেলা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন