১১:৫৬ পি.এম
মোংলায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন কার্যালয়ের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেছেন, দেশে অবৈধ পুশইন ঠেকাতে স্থলের পাশাপাশি জলসীমাতেও কঠোর নজরদারি অব্যহত থাকায় পুশইন অপচেষ্টা সফল হচ্ছে না। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার লক্ষ্যে কোস্টগার্ড জলসীমার নজরদারিতে অত্যাধুনিক ড্রোন ও সার্ভিলেন্স প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
শুক্রবার (১২ জুন) বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব তথ্য জানান।
তিনি আরও বলেন, দেশের সমুদ্রসীমা, উপকূলীয় অঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধ দমনে কোস্টগার্ড সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সাতক্ষীরার মান্দারবাড়ি দিয়ে আগে পুশইনের ঘটনা ঘটে, তাই সেখানে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, আধুনিক ড্রোন ও সার্ভেলেন্স প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিশেষ ও যৌথ অভিযান পরিচালনা করছেন।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে বিএমইউজের মানববন্ধন
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্তে ভারতের পুশইন চেষ্টায় অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দৃঢ়তার সঙ্গে পুশইন চেষ্টা প্রতিহত করছে। এরই মধ্যে কোস্টগার্ড জলসীমায় সক্রিয়তার কথা জানিয়েছে।
জোনাল কমান্ডার মেসবাউল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করার সময় আরও বলেন, সুন্দরবনে ইলিশ-মাছ ধরার মৌসুম এবং মধু সংগ্রহের সময়ে দস্যুদের তৎপরতা বেড়ে যায়। এ সময় বিপুলসংখ্যক জেলে, মৌয়াল এবং বনজীবী সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। তাদের লক্ষ্য করে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও চাঁদাবাজির পরিকল্পনা করেন দস্যুরা। তবে বর্তমানে সরকার ঘোষিত তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে বনজীবীদের প্রবেশ সীমিত হয়েছে। ফলে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও কমে গেছে। কিন্তু মৌসুম শুরু হলে দস্যুরা আবার সক্রিয় হতে চেষ্টা চালায়। তবে কোস্টগার্ডের কার্যক্রমের জন্য দস্যুরা এখন আগের মতো কার্যক্রম চালাতে পারছে না। তাদের চলাচল, অস্ত্র সরবরাহ, অর্থ সংগ্রহ এবং সংগঠন পরিচালনার সক্ষমতা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ চাপের মুখে সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘ছোট সুমন বাহিনীর’ প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীরা গত ১৭ মে কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় তিনি বলেন, আত্মসমর্পণের পর অনেকেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পান না। সমাজও তাদের সহজভাবে গ্রহণ করে না। সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার অভাব, আর্থিক অনিশ্চিয়তা এবং ব্যক্তিগত মানসিক সমস্যা কারণে কিছু মানুষ আবার অপরাধের পথে ফিরে যায়।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, বর্তমানে সুন্দরবনে ছয় থেকে আটটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। প্রতিটি বাহিনীতে সাধারণত ৮ থেকে ১০ নাগরিক কিংবা ১২ জন সদস্য থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই বড় বাহিনীগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে ছোট ছোট উপদল বা ‘ক্লোন’ বাহিনী তৈরি হয়। এসব বাহিনী মূলত জেলে ও মৌয়ালদের লক্ষ্য করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।
আরও পড়ুন: ধর্মীয় উৎসবে কেউ যেন অশান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সজাগ: খোকন তালুকদার
ক্যাপ্টেন মেসবাউল আরও বলেন, বনজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য সরু খাল ও ন্যারো চ্যানেলকে আত্মগোপনের স্থান হিসেবে ব্যবহার করে দস্যুরা। জোয়ারের সময় যেসব পথে নৌকা চলাচল করে, ভাটার সময় সেগুলোর অনেক অংশ শুকিয়ে যায়। এ কারণে বড় বোট বা জাহাজ নিয়ে সেখানে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বর্তমানে ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্যে এসব দুর্গম এলাকাও নজরদারি করা হচ্ছে।
এছাড়া, অপহরণের ঘটনা বনের ভেতরে ঘটলেও মুক্তিপণের টাকা অনেকসময় মংলা, বরগুনা, পাথরঘাটা অথবা খুলনা শহরের বিভিন্ন এলাকায় হাতবদল হয়। এই কোস্টগার্ড কর্মকর্তা বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে পাঠানো মুক্তিপণের অর্থের গতিপথ অনুসরণ করে একাধিক সহযোগীকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়েছে। বনের ভেতরের দস্যুদের পাশাপাশি স্থলভাগে থাকা সহযোগী চক্রের বিরুদ্ধেও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এ সহযোগী চক্রের ইন্ধনেই মোংলায় জয়মনিঘোল এলাকায় কোস্টগার্ডের হারবারিয়া স্টেশনে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সুন্দরবনে পরিচালিত অভিযানে ৪২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড গুলি, ২৫০ রাউন্ড কার্তুজ, ৯৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, ককটেল, টেলিস্কোপ এবং দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৩৯ জন বনদস্যু ও জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে। তাদের কবল থেকে ৪১ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো বলেন, দেশের সমুদ্রসীমা, উপকূলীয় অঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধ দমনে কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সচেতন অবস্থানে রয়েছে। সাতক্ষীরার মান্দারবাড়ি দিয়ে আগে পুশইনের ঘটনা ঘটায় সেখানেও সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এবং এই লক্ষ্যে বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, আধুনিক ড্রোন ও সার্ভেলেন্স প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিশেষ ও যৌথ অভিযান পরিচালনা করছেন।
আরও পড়ুন: কোনো সেক্টর থেকেই চাঁদাবাজির সুযোগ দেওয়া হবে না: এমপি জসিম উদ্দিন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন