০৮:১২ পি.এম
জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে, মুসলমান মানুষকে বিশ্বের নানা স্থানে যেতে হয় এবং সেখানে বসবাস করতে হয়। কখনো কখনো তাদের মাতৃভূমি ছেড়ে মত ও আদর্শের বিপরীত একটি ভূমিকাও আবাসস্থল হিসেবে বেছে নিতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে একটি প্রশ্ন সৃষ্টি হয়; যদি কোনো মুসলমান এমন দেশকে আবাসস্থল হিসেবে বেছে নেয় বা তার জন্মস্থানই হয় এমন দেশ—যেখানে ইসলামি আদর্শ এবং স্থানীয় সমাজনীতির মধ্যে সম্পূর্ণ ভিন্নতা রয়েছে! তাই, একজন মুসলিম হিসেবে তার করণীয় কী হবে? সে কি পারবে এমন দেশে বসবাস করতে?
সম্প্রতি, ইসলামি স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও বার্তায় এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
নিচে তার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
আরও পড়ুন: বাহরাইনের বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উদযাপন
ড. মিজানুর রহমান আজহারী উল্লেখ করেন, কোনো মুসলিম যদি অমুসলিম দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চায়, তাহলে তাকে অবশ্যই দাওয়াতের (ইসলামের দিকে আহ্বান) নিয়তে থাকতে হবে। তবে অস্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে যেমন—চিকিৎসা, পড়াশোনা, ভ্রমণ ইত্যাদির ক্ষেত্রে ভিন্ন কথা বলার দাবী ওঠে। তখন দাওয়াতের নিয়ত থাকা আবশ্যক নয়।
তিনি আরও বলেন, অমুসলিম দেশে বসবাসের ব্যাপারে রাসুল সা. কঠিন ভাষায় সতর্কতা নির্দেশ করে বলেছেন—‘তার ব্যাপারে আমার কোনো দায়-ভার নেই, যে মুশরিকদের সাথে অমুসলিম দেশে বসবাস করে।’ রাসুলের এই স্পষ্ট হুঁশিয়ারি থেকে একজন মুসলিম মুক্তির পথ পাবে, যখন তার নিয়ত থাকবে, অমুসলিমদের মাঝে ইসলামের আদর্শ, চেতনা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়া।
মিজানুর রহমান আজহারী বলছেন, যথাযথ উপস্থাপনার যোগ্যতা না থাকায় আমরা অমুসলিম দেশগুলোতে ইসলামের বাণী ছড়িয়ে দিতে ব্যর্থ হচ্ছি। বিপরীতভাবে, অমুসলিমরা তাদের ‘বস্তাপঁচা’ মতবাদ, চিন্তা-চেতনা বা আইডিয়লজি বিশ্বমঞ্চে চোখ ধাঁধানো উপস্থাপন করে। এর ফলে, মানুষ সেটাকেই শ্রেষ্ঠ ভাবতে বাধ্য হচ্ছে। সুতরাং আমাদের দাওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে।
অমুসলিম দেশে বসবাসরত মুসলিমদের ধর্মীয় দায়িত্ব সম্পর্কে বিশ্বনন্দিত এই তরুণ স্কলার বলেন, যারা অমুসলিম দেশে বসবাস করছি, তাদের প্রত্যেকের জানা থাকা উচিত যে আমরা প্রত্যেকেই ইসলামের প্রতিনিধি। অমুসলিমরা আমাদের দেখে ইসলামের মূল্যায়ন করবে। আর যদি আমরা মিথ্যা বলি, লেনদেনে প্রতারণা করি, তখন তারা আমাদের গালিসূচক ভাববেন না; বরং তারা বলবে মুসলমানরা এমনই। এজন্য আমাদের উচিত সতর্ক থাকা এবং একজন মুসলিম হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা। আর এই ভূমিকা পালন করতে পারবো তখনই, যখন আমরা নিজে ইসলামকে জানবো এবং বুঝবো, ইসলামের চেতনা ও আদর্শ নিজেদের মধ্যে ধারণ করতে সক্ষম হবো। তাই আসুন, ইসলামের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। না জানলে, আমল করব কীভাবে?
আরও পড়ুন: সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিতদের ক্ষতি করতে পারবে না: খতিব আব্দুল মালেক
ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব আলোচনা করতে গিয়ে ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, আসলে আমাদের সম্মান হলো ইসলামে। হজরত ওমর ফারুক রা. বলতেন, আমরা এমন একটি জাতি যারা আল্লাহ তাআলা ইসলাম দ্বারা সম্মানিত করেছেন। যদি আমরা ইসলাম ছাড়া অন্য কোথাও সম্মান খুঁজে নিয়ে যায়, তাহলে আল্লাহ আমাদের অপদস্ত করবেন। মনে রাখতে হবে ভাইয়েরা, আল্লাহর কাছে মনোনীত ধর্ম হলো একমাত্র ইসলাম। আল্লাহ বলেছেন, ইসলাম ছাড়া যদি কেউ অন্য ধর্ম খুঁজে বের করতে চায়, তাহলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সুরা আল-ইমরান: ৮৫)
ভিডিওবার্তায় তিনি শরিয়ত মেনে চলার জন্য আল্লাহর তাওফিক কামনা করেন এবং ইসলাম ধর্মালম্বী সর্বসাধারণকে শরিয়ত মেনে চলার ও তাদের সন্তানদের শরিয়ত শিক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন