ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেতে পারে ইরান: জেডি ভ্যান্স


৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেতে পারে ইরান: জেডি ভ্যান্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (বামে)। 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচিত শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হলে ইরান পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন তথা ৩০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল পেতে পারে।

এ সম্পর্কে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে, অংশ নেবেন সরকারি কর্মসূচিতে

তিনি বলেছেন, যদি চুক্তির শর্ত মেনে চলে ইরান, তবে দেশটি আবারও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ পাবে। তবে এর বিনিময়ে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে তাদের সরে আসতে হবে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি ইরানের নেতারা শান্তিচুক্তির শর্ত মেনে চলেন, তাহলে দেশটি ৩০ হাজার কোটি ডলারের পুনর্গঠন তহবিলে প্রবেশাধিকার পাবে।

তিনি বলেন, “চুক্তির আওতায় নিজেদের দায়িত্ব পালন করলে ইরান এমন সুবিধা পেতে পারে। এই তহবিল গালফ কোাস্ট কোয়ালিশনের অর্থায়নে গঠিত হবে।”

ভ্যান্সের দাবি, ইরানের কট্টরপন্থিরা চুক্তি থেকে দেশের পাওয়া সুবিধাগুলো বড় করে তুলে ধরবে। কিন্তু এর বিনিময়ে দেশটিকে যে শর্ত মেনে নিতে হয়েছে বা যে ছাড় দিতে হয়েছে, সেগুলোর কথা তুলনামূলকভাবে আড়াল করবে।

আরও পড়ুন: ইশরাক ‘পোষ্য কোটায়’ রাজনীতিতে এসেছেন, অভিজ্ঞতা কম: নিলোফার মনি

তিনি আরও জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর ইরানে বিনিয়োগের বিষয়েও তিনি ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন।

এদিকে, সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্সকে প্রশ্ন করা হয়, ইরানের দাবি অনুযায়ী তারা ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা সম্পদ ফেরত পাবে কি না। জবাবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “২৪ বিলিয়ন ডলারের বিষয়টি চুক্তির কোথাও উল্লেখ নেই। তবে আমরা জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত আছি।”

তিনি দাবি করেন, কট্টরপন্থীরা নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমর্থকদের কাছে চুক্তিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করবে।

উল্লেখ্য, ইরানের দাবি অনুযায়ী তারা ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা সম্পদ তথা এই অর্থের পরিমাণ ২০১৬ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের জন্য মুক্ত করা ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের চেয়েও অনেক বেশি।

আরও পড়ুন: গ্রীষ্মের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

এদিকে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে হওয়া চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের অসন্তোষ প্রকাশিত হলেও ভ্যান্স দাবি করেছেন, চুক্তির কিছু অংশ ইসরায়েলেরও পছন্দ হয়েছে। সিএনবিসিকে তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি এই সপ্তাহেই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হবে। তখন মানুষ বুঝতে পারবে এটি পুরো অঞ্চলকে আরও নিরাপদ করবে।”

ভ্যান্স বলেন, “গালফ কোস্ট কোয়ালিশন এই চুক্তিকে সমর্থন করছে। তারা এটিকে শুধু কয়েক বছরের জন্য নয়, আগামী প্রজন্মের জন্যও একটি নতুন মধ্যপ্রাচ্য গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখছে।”

ভ্যান্স আরও বলেন, “সেই নতুন মধ্যপ্রাচ্যে অবশ্যই ইসরায়েলেরও একটি জায়গা থাকবে।”

ভ্যান্স জানান, ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি মূলত ‘দুই ধাপের যাচাই প্রক্রিয়ার’ ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: মোজতবা খামেনি বাবার পথ বেছে নিয়েছেন, সরকার উৎখাতই একমাত্র উপায়: নেতানিয়াহু

তাঁর ভাষ্যে, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা থেকে বিরত থাকে, তাহলে তারা নিষেধাজ্ঞামুক্ত অর্থনীতিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। আর যদি দেশটি আবার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটে, তাহলে তারা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, “এটি আমেরিকান জনগণের জন্য অনেক বড় একটি দিন। এর (ইরানের সঙ্গে সমঝোতার) ফলে হরমুজ প্রণালী সঙ্গে সঙ্গেই খুলে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আমরা সেখানে জাহাজ চলাচল বাড়তে দেখেছি, তেলের দামও কমছে।”

ভ্যান্স আরও বলেন, “দীর্ঘমেয়াদে ইরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করতে না পারে, সেই প্রতিশ্রুতিও এই চুক্তিতে রয়েছে।”

ভ্যান্সের ভাষ্য, “আমরা ইরানকে বলছি- তোমরা নিষেধাজ্ঞামুক্ত অর্থনীতিতে প্রবেশ করতে পারবে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফিরে আসতে পারবে; তবে সেটি তখনই সম্ভব হবে, যখন তোমরা এই চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।”

আরও পড়ুন: নজিরবিহীন নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি

ভ্যান্স দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, “ইরানের সামনে এখন একটি ভালো সুযোগ রয়েছে। তারা চাইলে একটি স্বাভাবিক রাষ্ট্র হিসেবে এগোতে পারে, অথবা পারমাণবিক অস্ত্রের পেছনে ছুটতে পারে। তবে এখন তাদের সেই সক্ষমতা আর নেই।”

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

আরও পড়ুন: সিজেপির দুই মুখপাত্র এক সপ্তাহ পর মুক্তি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘গভীর অবিশ্বাস’ রয়ে গেছে : ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩২ পি.এম


যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘গভীর অবিশ্বাস’ রয়ে গেছে : ইরান

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। এর পাল্টা জবাবে তেহরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর উপরে হামলা চালায়।

দীর্ঘ আলোচনা ও মধ্যস্থতার পর উভয় দেশ অবশেষে ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘গভীর অবিশ্বাস’ রয়ে গেছে বলে জানায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।

সোমবার (১৫ জুন) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, এটা স্বীকার করতেই হবে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের গভীর অবিশ্বাসের মূলে রয়েছে, মার্কিন নেতাদের দীর্ঘদিনের অন্যায় কর্মকাণ্ড।’

ইরানি জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘শুধু উত্তেজনা হ্রাস এবং ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া একটি যুদ্ধের অবসান ঘটানোর একটি পদক্ষেপ হচ্ছে এই চুক্তি।’

উল্লেখ্য, ইসরায়েল এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক অংশ নয় এবং তারা এতে স্বাক্ষরও করছে না। যদিও এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কয়েক দফা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

এদিকে রবিবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ইসরায়েলের নতুন হামলার ঘটনায় চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অঞ্চলটি হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে অনেকের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সদ্য হওয়া এই সমঝোতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে টোল আরোপ নিয়ে ইরানকে সতর্ক করলেন ম্যাখোঁ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩৩ পি.এম


হরমুজে টোল আরোপ নিয়ে ইরানকে সতর্ক করলেন ম্যাখোঁ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে, অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছে। এই চুক্তির আওতায় দুই দেশের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো ৬০ দিন বাড়ানো হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি চুক্তির মধ্যে একটি ফাঁক রয়ে যাওয়ার কারণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ চটেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর ফি আরোপের বিরুদ্ধে ইরানকে তিনি সতর্ক করেছেন।

সোমবার (১৫ জুন) জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে এই বার্তা তিনি দিয়েছেন। ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটটিতে জাহাজ চলাচলে কোনো ফি ধার্য না করার জন্য সবকিছু করা উচিত।

এর আগে, ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স জানায়, ঘোষণার ঠিক আগে তেহরান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শেষ করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি কাঠামো চুক্তিতে সামুদ্রিক পরিষেবা ফি আরোপের একটি ধারা যোগ করেছে।

সোমবার, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির অধীনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর উপর টোল আরোপের পরিবর্তে ইরান সামুদ্রিক পরিষেবা ফি ধার্য করবে।

উল্লেখ্য, ইসরায়েল এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক অংশ নয় এবং তারা এতে স্বাক্ষরও করছে না। তবে এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কয়েক দফা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

অন্যদিকে রবিবার, লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ইসরায়েলের নতুন হামলায় চুক্তির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অঞ্চলটি হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, ফলে অনেকের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সদ্য হওয়া এই সমঝোতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগে খরচ, পরে অনুমোদন নিয়ে সংসদে প্রশ্ন বিরোধীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩৮ পি.এম


আগে খরচ, পরে অনুমোদন নিয়ে সংসদে প্রশ্ন বিরোধীদের

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ সময়ে সম্পূরক বাজেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যয়ের অনুমোদন নেওয়ার প্রচলিত প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, সরকার আগে ব্যয় সম্পন্ন করে পরে সংসদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন চাইছে।

এর ফলে সংসদের আর্থিক নজরদারি ও অনুমোদনের সাংবিধানিক ক্ষমতা কার্যত ‘লোক দেখানো’ বা আনুষ্ঠানিকতায় সীমিত হয়ে যাচ্ছে।

সোমবার (১৫ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট ও ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন, ‘দেশের জিডিপির আকার প্রায় ৬৮ লাখ কোটি টাকা হলেও প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে।

মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ দশমিক ৫ শতাংশের ঘরে আটকে আছে।’

আর্থিক খাতের সংকট তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, ‘খেলাপি ঋণ মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২২ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ৫ শতাংশে নেমে এসেছে এবং ব্যাংকিং খাতে মূলধন পর্যাপ্ততাও ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে।’ ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে প্রকৃত সক্ষমতাহীনদের ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সুদের ও ডলারের হার নির্ধারণ করায় এই বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।

অর্থপাচারের প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘শ্বেতপত্র অনুযায়ী গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। আর গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির তথ্য অনুযায়ী, ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে।’

নতুন সরকারের বৈদেশিক অর্থায়ন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আইএমএফ আগের ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি নতুন সরকারের জন্য বহাল থাকবে না বলে জানিয়েছে। ফলে নতুন করে চুক্তি করতে হবে। এ অবস্থায় সরকারকে চীন বা অন্য কোনো দেশের ঋণের দিকে ঝুঁকতে হতে পারে, যেখানে সুদের হার ও পরিশোধের চাপ—দুই-ই বেশি।

'

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘অর্থপাচার এবং রপ্তানি খাতের দুর্বলতা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দেশ ক্রমেই আমদানিনির্ভর হয়ে পড়লেও রপ্তানি সেই হারে বাড়ছে না, যা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বরাদ্দ বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে দেওয়ায় প্রকৃত উপকারভোগীরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছেন না।’

একই দলের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর সম্পূরক বাজেটের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়ার ঘটনা সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলার ঘাটতি এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারই প্রতিফলন।’

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের হিমশিম খাওয়ার চিত্র তুলে ধরে আব্দুল গফুর বলেন, ‘সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল বাজার নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু কার্যকর বাজার তদারকির পরিবর্তে সরকার অতিরিক্ত বরাদ্দ চাইছে। অতিরিক্ত অর্থের কতটুকু বাজার মনিটরিংয়ে ব্যয় হবে?’ তিনি সম্পূরক বাজেটের একটি অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ ও ভর্তুকি খাতে স্থানান্তরের প্রস্তাব দেন।

সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনার শুরুতেই বিরোধী দলের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন খরচের পর অনুমোদন নেওয়ার প্রচলিত রীতির সমালোচনা করে এই ‘প্র্যাকটিস’ বন্ধের দাবি জানান।

জামায়াতের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, ‘সংবিধানের ৯১ অনুচ্ছেদের আওতায় সরকার অতিরিক্ত ব্যয় করে পরে তা সম্পূরক বাজেট হিসেবে সংসদে আনে। খরচ হয়ে যাওয়ার পর তা সংসদে আসায় অনুমোদন দেওয়া ছাড়া সংসদের সামনে আর কোনো বাস্তব বিকল্প থাকে না। সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯ অনুযায়ী সংশোধিত বাজেট যথাসম্ভব মার্চ মাসের মধ্যে সংসদে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতার কথা মনে করিয়ে দেন তিনি।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দাবির আলোচনায় বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মো. আবদুল আলিম বলেন, ‘আগে খরচ, পরে অনুমোদন নয়; ‘আগে অনুমোদন, পরে খরচ’—এই নীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে ব্যয় করার প্রবণতা অপচয় ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ায়।’

সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্বীকার করেন, রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আগে সংসদের অনুমোদন নেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে সংসদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হত।

স্পিকার বলেন, ‘আমিও বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রীয় খরচ যা কিছু, সেটা আগেই সংসদে অনুমোদন নেওয়া উচিত। তবে নানা কারণে এটা হয়তো সম্ভব হয় না। দীর্ঘদিন ধরে সম্পূরক বাজেট একই পদ্ধতিতে পাস হয়ে আসায় এটি এক ধরনের সংসদীয় রেওয়াজে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে সংসদের সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী করার জন্য বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনার সুযোগ রয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছেলেদের নামে ইউনিয়নের নাম, সংসদে ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৪১ পি.এম


ছেলেদের নামে ইউনিয়নের নাম, সংসদে ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী

নিজের দুই ছেলের নামে নতুন দুটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে, এমন অভিযোগ নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা-সমালোচনার পরে ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি অলৌকিকভাবে মিলে গেছে। যার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। এ রকম সীমান্ত ও দিগন্ত নামকরণ বহু নাম বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। তিনি (সংসদ সদস্য মাসুদ) কেন এর সঙ্গে আমার সন্তানদের নাম জড়ালেন?’ আজ সোমবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক বাজেট পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার দুটি উপজেলায় নতুন কয়েকটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে তার পরিবার বা মীর বংশের নামে এবং দুটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে, তার দুই সন্তানের নামে।’ পরে কার্যপ্রণালি বিধির ২৭৪ বিধিতে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দিয়ে অভিযোগের জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তার নির্বাচনী এলাকা মোকামতলার সৈয়দপুর ও দেউলী ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই আয়তনে বড় এবং প্রশাসনিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন ছিল। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসনের সুপারিশ এবং গণশুনানির ভিত্তিতে ইউনিয়ন দুটি বিভক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক যাচাই-বাছাই ও গণশুনানি করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ সৈয়দপুর ইউনিয়নের একটি অংশ গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় নতুন ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’। অন্যদিকে দেউলী ইউনিয়নের একটি অংশ গাইবান্ধার সীমানার কাছাকাছি এবং ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে নতুন ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ বলেও জানান তিনি। বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নাম ব্যবহারের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, “এ ধরনের নাম বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় আগে থেকেই প্রচলিত রয়েছে। মিরাক্যালি আমার সন্তানদের নামের সঙ্গে মিলে গেছে ঠিকই। আমার সন্তানের নাম হচ্ছে মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত। তবে ইউনিয়নের নামকরণে তার কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য ছিল না। আমার যদি ইনটেনশন থাকত সন্তানের নামে ইউনিয়নের নামকরণ করার, তাহলে তো আমি প্রশাসনকে বলতাম ‘মীর সীমান্ত’ এবং ‘মীর দিগন্ত’ রাখার। কিন্তু ইউনিয়নের নামের আগে তো ‘মীর’ নাই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%