১১:২৬ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (বামে)।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচিত শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হলে ইরান পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন তথা ৩০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল পেতে পারে।
এ সম্পর্কে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া গাড়ির চালককে উদ্ধার করলেন সাংবাদিক উইল মারে
তিনি বলেছেন, যদি চুক্তির শর্ত মেনে চলে ইরান, তবে দেশটি আবারও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ পাবে। তবে এর বিনিময়ে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে তাদের সরে আসতে হবে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি ইরানের নেতারা শান্তিচুক্তির শর্ত মেনে চলেন, তাহলে দেশটি ৩০ হাজার কোটি ডলারের পুনর্গঠন তহবিলে প্রবেশাধিকার পাবে।
তিনি বলেন, “চুক্তির আওতায় নিজেদের দায়িত্ব পালন করলে ইরান এমন সুবিধা পেতে পারে। এই তহবিল গালফ কোাস্ট কোয়ালিশনের অর্থায়নে গঠিত হবে।”
ভ্যান্সের দাবি, ইরানের কট্টরপন্থিরা চুক্তি থেকে দেশের পাওয়া সুবিধাগুলো বড় করে তুলে ধরবে। কিন্তু এর বিনিময়ে দেশটিকে যে শর্ত মেনে নিতে হয়েছে বা যে ছাড় দিতে হয়েছে, সেগুলোর কথা তুলনামূলকভাবে আড়াল করবে।
আরও পড়ুন: মায়ের জন্মদিনের উপহার বন্দুক দিয়ে ৪ জনকে হত্যা কিশোরের
তিনি আরও জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর ইরানে বিনিয়োগের বিষয়েও তিনি ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন।
এদিকে, সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্সকে প্রশ্ন করা হয়, ইরানের দাবি অনুযায়ী তারা ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা সম্পদ ফেরত পাবে কি না। জবাবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “২৪ বিলিয়ন ডলারের বিষয়টি চুক্তির কোথাও উল্লেখ নেই। তবে আমরা জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত আছি।”
তিনি দাবি করেন, কট্টরপন্থীরা নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমর্থকদের কাছে চুক্তিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করবে।
উল্লেখ্য, ইরানের দাবি অনুযায়ী তারা ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা সম্পদ তথা এই অর্থের পরিমাণ ২০১৬ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের জন্য মুক্ত করা ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের চেয়েও অনেক বেশি।
আরও পড়ুন: সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের নতুন আন্দোলনের ঘোষণা
এদিকে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে হওয়া চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের অসন্তোষ প্রকাশিত হলেও ভ্যান্স দাবি করেছেন, চুক্তির কিছু অংশ ইসরায়েলেরও পছন্দ হয়েছে। সিএনবিসিকে তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি এই সপ্তাহেই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হবে। তখন মানুষ বুঝতে পারবে এটি পুরো অঞ্চলকে আরও নিরাপদ করবে।”
ভ্যান্স বলেন, “গালফ কোস্ট কোয়ালিশন এই চুক্তিকে সমর্থন করছে। তারা এটিকে শুধু কয়েক বছরের জন্য নয়, আগামী প্রজন্মের জন্যও একটি নতুন মধ্যপ্রাচ্য গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখছে।”
ভ্যান্স আরও বলেন, “সেই নতুন মধ্যপ্রাচ্যে অবশ্যই ইসরায়েলেরও একটি জায়গা থাকবে।”
ভ্যান্স জানান, ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি মূলত ‘দুই ধাপের যাচাই প্রক্রিয়ার’ ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে পৌঁছেছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টন গম
তাঁর ভাষ্যে, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা থেকে বিরত থাকে, তাহলে তারা নিষেধাজ্ঞামুক্ত অর্থনীতিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। আর যদি দেশটি আবার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটে, তাহলে তারা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, “এটি আমেরিকান জনগণের জন্য অনেক বড় একটি দিন। এর (ইরানের সঙ্গে সমঝোতার) ফলে হরমুজ প্রণালী সঙ্গে সঙ্গেই খুলে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আমরা সেখানে জাহাজ চলাচল বাড়তে দেখেছি, তেলের দামও কমছে।”
ভ্যান্স আরও বলেন, “দীর্ঘমেয়াদে ইরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করতে না পারে, সেই প্রতিশ্রুতিও এই চুক্তিতে রয়েছে।”
ভ্যান্সের ভাষ্য, “আমরা ইরানকে বলছি- তোমরা নিষেধাজ্ঞামুক্ত অর্থনীতিতে প্রবেশ করতে পারবে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফিরে আসতে পারবে; তবে সেটি তখনই সম্ভব হবে, যখন তোমরা এই চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।”
আরও পড়ুন: সিরিয়ার জামলা গ্রামে ইসরাইলি গুলিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিহত
ভ্যান্স দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, “ইরানের সামনে এখন একটি ভালো সুযোগ রয়েছে। তারা চাইলে একটি স্বাভাবিক রাষ্ট্র হিসেবে এগোতে পারে, অথবা পারমাণবিক অস্ত্রের পেছনে ছুটতে পারে। তবে এখন তাদের সেই সক্ষমতা আর নেই।”
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
আরও পড়ুন: গাজায় দখলদার ইসরাইলের হামলায় যুদ্ধবিরতির পরেও নিহত ১৫৩৪
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন