কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২৭ পি.এম
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বড় ভাই মো. ওসমান মোল্যাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাই মো. নুরুল হকের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ওসমান মোল্যার স্ত্রী মোসা. রূপবান বেগম বাদী হয়ে নুরুল হকসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় এজাহার দিয়েছেন।
সরেজমিনে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে এসব তথ্য জানা যায়।
জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাপাশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জমিজমা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে ঘটনার দিন দুপুর ১টার দিকে নুরুল হকের নেতৃত্বে তার পরিবারের সদস্যসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন রূপবান বেগমের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তারা ওসমান মোল্যাকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে ঘরের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরে তারা লোহার রড দিয়ে ওসমান মোল্যার মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করলে তিনি বাম হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার বাম হাত গুরুতর জখম ও হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করেন আহত ওসমান মোল্যার স্ত্রী ও বাদী মোসা. রূপবান বেগম।
আহত নাইম মোল্যা বলেন, বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও লাঠি দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। এ সময় ডলি বেগম ধারালো বটি দিয়ে তার মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে তা ঠেকাতে গিয়ে বাম হাতের তর্জনীতে কাটা জখম হন। পরে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত ওসমান মোল্যা ও তার ছেলে নাইম মোল্যাকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওসমান মোল্যার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্তদের বাড়িতে পাওয়া না যাওয়ায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল সরোয়ার বলেন, অভিযোগটি আমলে নিয়ে এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইপিএলের সর্বশেষ আসরের নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজুর রহমানকে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছিল। তবে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির কারণে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে মোস্তাফিজকে আইপিএলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
ভারত মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায়, পুরো দল, টিম ম্যানেজমেন্ট, সাংবাদিক এবং দর্শকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গত মার্চে বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি অন্তবর্তীকালীন সরকার।
বাংলাদেশ চেয়েছিল পাকিস্তানের মতো শ্রীলংকায় গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দেওয়া হয় আইসিসি দ্বারা।
সেই সময় অন্তবর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ নজরুল। বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তের জন্য এখন তাকেই দায়ী করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, "বাংলাদেশ টিম যে ইন্ডিয়ায় গেল না, সেটার তদন্তে এসেছে তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এটার জন্য রেসপন্সিবল।" পরে তিনি আরও বলেন, "উনি আসলে কখনো এটা নিয়ে কোনো লুকোছাপা করেননি। উনি আগেও জানিয়েছিলেন—এটা আসলে উনি উনার সিদ্ধান্তে করেছেন।"
মঙ্গলবার তিনি বলেন, "এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই সিদ্ধান্তটা কি এমন কোনো সিদ্ধান্ত, যেটা আসলে আমরা কোনো না কোনোভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে পারি? একটা জিনিস খেয়াল করব, আমি একটু আগেই এ কথাটা বলেছি যে—ওই প্রেক্ষাপটে ইন্ডিয়াতে যাওয়া উচিত হবে কি হবে না, এটা কিন্তু খুবই সাবজেক্টিভ ডিসিশন। এখন উনি যেহেতু দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন, উনার কাছে মনে হয়েছে।"
এটা কারও কাছে ভিন্ন মনে হতে পারে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, "উনার কাছে যেহেতু মনে হয়েছে, উনি ওই প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্তটা নিয়েছেন। এটার পক্ষেও মানুষ আছে, বিপক্ষেও মানুষ আছে।"
তিনি বলেন, "উনি ওই কাজটা করার মাধ্যমে উনার ওপরে যে অর্পিত দায়িত্ব ছিল, উনার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সেখানে কোনো আইনি ব্যত্যয় উনি ঘটিয়েছেন—এমনভাবে যেহেতু বলা যাবে না। তাই উনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে, সেরকম কিছু না। বরং এটা আমাদের সোশ্যাল স্ফিয়ারে থাকুক, মানুষ কথা বলুক পক্ষে-বিপক্ষে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন জানিয়েছেন, রাজউক থেকে যেকোনো প্ল্যান অনুমোদনের জন্য ২৪ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি এ কথাগুলি নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, যেখানে রাজউকের বিদ্যমান মাস্টারপ্ল্যানের পাশাপাশি একটি আলাদা বিশেষ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয় উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, "রাজউক এই সরকারেরই একটি অংশ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও সরকারেরই অংশ। জনগণের জন্য যেটা ভালো হবে, সেটাই করা হবে।"
মন্ত্রী নারায়ণগঞ্জের জন্য বিশেষ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, রাজউকের বিদ্যমান মাস্টারপ্ল্যানের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের জন্য আলাদা মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হবে। তিনি জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সীমানা বাড়ানোর বিষয়টিও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ফতুল্লাসহ আশপাশের এলাকার অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।
রাজউকের দুর্নীতি ও সেবায় হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, রাজউকের আওতাধীন এলাকা বড় হওয়ায় প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম ছিল। এই কারণে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে, যাতে মানুষের কাছে সেবা আরো সহজে পৌঁছানো যায়।
আরো পড়ুন
সীমান্ত নিরাপত্তা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বিবেচনায় সীমান্ত সড়ক হবে : পানিসম্পদমন্ত্রী
মন্ত্রী রাজউকের সেবায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আগের রাজউকের চেয়ে আগামী দিনের রাজউক অনেক ডিফারেন্ট হবে।’
তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের মূল লক্ষ্য হলো নারায়ণগঞ্জবাসীকে আরো ভালো সেবা দেওয়া এবং একটি পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবগঠিত এনডিএর চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অবশেষে বাংলাদেশের জন্য এশিয়ান গেমসে পদক নিশ্চিত হলো। সোমবার উশুর ৫২ কেজি ওজনশ্রেণীর ফাইট ইভেন্টে জিন্নাত আক্তারের হাত ধরে পদক তালিকায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত হলো।
১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন বক্সার মোশাররফ হোসেন। এটাই ছিল এশিয়ার সর্বোচ্চ এই আসরে বাংলাদেশের একমাত্র অর্জন ব্যক্তিগত ইভেন্টে। দীর্ঘ ৪০ বছরের খরা কাটিয়ে এবার মোশাররফের পাশে নাম লেখালেন জিন্নাত।
আইচির প্রিফেকচারাল মার্শাল আর্টস হলে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিযোগিতায় ইন্দোনেশিয়ার থারিসা ডি ফ্লোরেন্টিনা অতিরিক্ত ওজনের কারণে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়লে জিন্নাতের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়। এর আগে প্রাথমিক পর্বে জিন্নাত বাই পেয়ে শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করেন।
গেমসের নিয়ম অনুযায়ী, আটজনের বেশি প্রতিযোগী অংশ নিলে সেমিফাইনালে ওঠা চারজনেরই পদক নিশ্চিত হয়। জিন্নাত যে ওজনশ্রেণীতে অংশ নিয়েছেন সেখানে ১৬ জন প্রতিযোগী থাকায় সেমিফাইনালে ওঠার ফলে বাংলাদেশের অন্তত ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ উশু এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দিলদার হোসেন দিলু।
দিলু আরও জানান, জিন্নাত সেমিফাইনালে জয়লাভ করলে তারা স্বর্ণ পদকের লড়াইয়ে অংশ নেবেন। আর যদি সেমিফাইনালে পরাজিত হন, তবুও এই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত হয়ে যাবে।
মঙ্গলবার সেমিফাইনালে চীনের প্রতিপক্ষ ডি উর বিপক্ষে লড়াইয়ে নামবেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উশুকা জিন্নাত।
দেশের জন্য ৪০ বছর পর ব্যক্তিগত কোন ইভেন্টে আন্তর্জাতিক পদক অর্জনের খবর শুনে জিন্নাত বলেন, ‘আমি অনেক খুশী, দেশের জন্য কিছু করতে পেরেছি। সকলের দোয়া চাই। বাংলাদেশের উশুকে যেন আরও অনেকদুর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ অবকাঠামোয় প্রতিযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)-নির্ভর আন্তর্জাতিক সংযোগ অবকাঠামোর কারণে বাজারে কাঙ্ক্ষিত প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে না। এই কারণে ইন্টারনেটের দাম কমানো এবং সেবার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উল্লেখ করেছেন যে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনে বিনিয়োগের সুযোগ সহজ করতে হবে। পাশাপাশি সাবমেরিন ক্যাবলের ল্যান্ডিং স্টেশনে উন্মুক্ত ও বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা আবশ্যক। এর ফলে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং এর সুফল গ্রাহকরা লাভ করবেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন হলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘সবার জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট ও টেক জায়ান্টদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ : বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনার ও কর্মশালায় এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
টিআরএনবির সভাপতি মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রকল্প প্রধান মাহমুদ শাহেদ এবং আইএসপিএবির কোষাধ্যক্ষ মইন উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি সমীর কুমার দে।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল হাকিম, সিডিনেট কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান এবং বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমান।
সেমিনারে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বিএসসিপিএলসি সি-মি-উই-৪ ও সি-মি-উই-৫—দুটি সাবমেরিন ক্যাবলে মোট ৮১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। ২০০৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এই সময়ে নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকার বেশি।
সেমিনারে জানানো হয়, ২০০৬ সালে বিটিসিএল এক এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করত। পরবর্তীতে বিএসসিপিএলসি ব্যান্ডউইথ বিক্রি শুরু করে। ২০১৬ সালে এক এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের দাম কমে ৫০০ টাকায় নেমে আসে। বর্তমানে তা ১২০ টাকা।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল চালু করে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে ২০২৭ সালে এক এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
সেমিনারে আরো জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ জিবিপিএস আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করছে। বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা ও অবকাঠামোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংযোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংযোগের সীমাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতার ঘাটতি, অনুকূল নীতিমালার অভাব এবং বিএসসিপিএলসিনির্ভর অবকাঠামোর কারণে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও হাইপারস্কেলারদের বিনিয়োগে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হচ্ছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) পক্ষ থেকে মনোপলি কমিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগ ও উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের প্রক্রিয়া সহজ করা, ল্যান্ডিং স্টেশনে ক্যারিয়ার-নিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং একাধিক সাবমেরিন ক্যাবল ও ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
এ ছাড়া দেশীয় ফাইবার শেয়ারিং বাড়ানো, ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ পয়েন্ট (আইএক্সপি) ও স্থানীয় পিয়ারিং সম্প্রসারণ এবং ব্রডব্যান্ড অবকাঠামো ও সরঞ্জামের ওপর কর যৌক্তিকীকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
আলোচনায় আমিনুল হাকিম বলেন, বিএসসিপিএলসির একচেটিয়া ব্যবস্থা বহাল রেখে দেশে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত ইন্টারনেট নিশ্চিত করা কঠিন। আন্তর্জাতিক সংযোগ অবকাঠামোয় প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে। বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে ব্যান্ডউইথের বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং এর সুফল গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছাবে।
বক্তারা বলেন, নতুন সাবমেরিন ক্যাবল ও বিকল্প আন্তর্জাতিক রুটের সুযোগ সীমিত থাকলে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হবে। আন্তর্জাতিক সংযোগ অবকাঠামোয় প্রতিযোগিতা, স্থিতিশীল ও পূর্বাভাসযোগ্য নীতিমালা এবং প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ডিজিটাল অবকাঠামো হাবে পরিণত করার সুযোগ তৈরি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ