০৮:২৪ এম
মাশরুর আরেফিন, সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), মনে করেন যে ব্যবসায়ীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য কেবল দেশীয় নয়, বৈশ্বিক বিভিন্ন অনিশ্চয়তার অবসানও প্রয়োজন। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, কভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক অভিঘাত, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং ইরানকে ঘিরে চলমান অস্থিরতা ব্যবসায়ীদের ওপর ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
লম্বা সময় ধরে ডলার-টাকার বিনিময় হারের অস্থিরতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি এই দুর্বলতা ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাশরুর আরেফিন উল্লেখ করেছেন যে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সুদহারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে ঋণের সুদহারও তুলনামূলক বেশি রাখতে হচ্ছে। এই অবস্থার কারণে ব্যবসায়ীরা কম খরচে অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ হারাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আশাবাদী।
আরও পড়ুন: তেলের দাম কমবে কবে: রুশ উপপ্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
মাশরুর আরেফিনের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি যে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তা দেশের অর্থনীতির জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করতে পারে। এই তহবিল থেকে যদি ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত ও সহনীয় সুদের হার নিয়ে ঋণ পান, তবে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়বে এবং বিনিয়োগে নতুন গতি আসবে।
তিনি আরও বলেছেন যে জ্বালানি খাতের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা জরুরি, যাতে দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিবেশকে শক্তিশালী করা সম্ভব হয়। তাঁর বিশ্বাস, সরকার চাইলে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
মাশরুর আরেফিনের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হলেও আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত প্রণোদনা কর্মসূচি এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে এলে ব্যবসায়ীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে এবং বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি তৈরি হবে। যদিও ব্যবসায়িক পরিবেশে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনও পুরোপুরি ফিরে আসেনি, তবে সময়ের সাথে সেই অবস্থা পরিবর্তিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশেরও নিচে রয়েছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। কিন্তু এ পরিসংখ্যানকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে বাস্তব চিত্র বোঝা যাবে না। অতীতে যখন ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ বা তার বেশি ছিল, তখন সেই ঋণের একটি বড় অংশ ছিল বেনামি বা অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণ। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাত থেকে উদঘাটিত অনিয়মিত ঋণের পরিমাণ বিবেচনায় নিলে প্রকৃত ঋণ প্রবৃদ্ধি অতীতে এত বেশি ছিল না, এ বিষয়ে তাঁর মতামত। সত্যিকার অর্থে, ঋণ প্রবৃদ্ধি সম্ভবত ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যেই ছিল।
আরও পড়ুন: অরেগনের স্কুলে গুলিতে নিহত ৪, আহত ২; শোকে স্তব্ধ শহর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন