ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অনিবন্ধিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট


অনিবন্ধিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

এটি সোমবার (২২ জুন) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি দায়ের করেন আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস. এম. জুলফিকুর আলী (জুনু)।

এই রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) মহাপরিচালক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, সিআইডির প্রধান এবং সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের প্রধানকে বিবাদী করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সুষ্ঠু নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছে জামায়াত: রুহুল কবির রিজভী

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেলসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এই কর্মকাণ্ড জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ইতিপূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন জানানো হলেও, দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। তাই জনস্বার্থে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনে বিতর্কিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যক্রম তদন্ত করা, প্রকৃত মালিকানা ও নিবন্ধন যাচাই করা, আইনবিরোধী কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট লিংক বা প্ল্যাটফর্ম বন্ধ (ব্লক) করা এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আবেদনকারী আইনজীবী এস. এম. জুলফিকুর আলী (জুনু) বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। তবে তিনি জানান, মিথ্যা তথ্য, গুজব, সাইবার হয়রানি ও মানহানিকর প্রচারণা কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতাভুক্ত নয়। রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি, আইনের শাসন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। রিট আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনলাইন কনটেন্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং পূর্বে দাখিলকৃত প্রতিনিধিত্বপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহু হেরে গিয়ে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান, দাবি বিরোধীদের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৫ পি.এম


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সাক্ষাৎটি সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতে পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর এবং সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে। গুরুত্বপূর্ণ এই সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার।

সাক্ষাৎকালে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন অধিকারে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়ে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর এবং কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো নিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের হার সবচেয়ে কম, যদিও দু'একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

সাক্ষাৎকালে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ দাবি জানান যে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো জন্য একজন ‘ফোকাল পয়েন্ট’ কর্মকর্তা নির্ধারণ করা হোক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে দাবিটি বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।

আলোচনার সময় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর হরিদাস চন্দ্র কর্তৃক রামমন্দির নির্মাণ এবং অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী কর্তৃক দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী বক্তব্য প্রদানের বিষয়টি উঠে আসে।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে সকল সম্প্রদায়েরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা আবশ্যক।’ তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন যেকোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে। শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহজালাল মাজারে ৭০০ বছরের রীতি ভেঙে প্রকাশ্যে চলছে টাকা গণনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৭ পি.এম


শাহজালাল মাজারে ৭০০ বছরের রীতি ভেঙে প্রকাশ্যে চলছে টাকা গণনা

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ৭০০ বছর ধরে প্রচলিত একটি রীতি ভেঙে, প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনার নির্দেশনা প্রদান করেছেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। তার নির্দেশনার ফলে প্রশাসনের উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণে টাকার গণনা শুরু হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে তিনি মাজারের দুটি দান ডেক এবং জেলা প্রশাসনের নতুন স্থাপিত দানবাক্স থেকে টাকা বের করে গণনার কার্যক্রম শুরু করেন। দুপুর আড়াইটা থেকে প্রশাসনের উপস্থিতিতে এই টাকা গণনা চলতে থাকে।

এ সময় বিদায়ী জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কথা বলেননি। তবে তিনি পরে একটি ভিডিও বার্তা দেওয়ার কথা জানান।

এর আগে রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তবে ওই প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে, তার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সোমবার (২২ জুন) সকাল থেকে সিলেটে বিভিন্ন ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ডিসি কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নেয়।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, সারওয়ার আলম সিলেটে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একটি দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট আড়াল থেকে এই প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

সকাল বেলা কার্যালয়ে প্রবেশের সময়, বিদায়ী জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে করমর্দন করেন। পরে বিক্ষোভকারীদের স্লোগানের মধ্য দিয়ে তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। দুপুরে তিনি নিজ কার্যালয় থেকে বের হয়ে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করেন।

দীর্ঘদিন ধরে শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করতে আসা ভক্ত ও দর্শনার্থীরা দান প্রদান করে আসছেন। কিন্তু সেসব দানের অর্থ প্রকাশ্যে গণনার এমন একটি নজির এই প্রথম। প্রশাসনের উপস্থিতিতে এই প্রকাশ্য গণনা উদ্যোগ নেওয়ার ফলে বিষয়টি ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করছেন আগত ভক্ত ও অনুরাগীরা।

এ প্রসঙ্গে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার মাজার প্রাঙ্গণে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে মাজারে থাকা পুরানো তিনটি দানের ডেকও সিলগালা করা হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছার অঙ্গীকার’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৯ পি.এম


বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছার অঙ্গীকার’

মালয়েশিয়ার শাংগ্রি লা হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সইয়ে সম্মত হয়েছে। এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতা দিতে দুই দেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতীক। এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মাত্র ১৮ ঘণ্টার সফর অতীব ফলপ্রসূ হয়েছিল। বর্তমানে তিনি চীনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে শাংগ্রি লা হোটেলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান। মাহদী আমিন আরও বলেন, পারস্পরিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায় সে বিষয়ে দুই রাষ্ট্রনায়ক আলোচনা করেছেন। দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সইয়ের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও দক্ষতার উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্প ও ব্যবসা খাতে সহযোগিতার বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির জন্য একসঙ্গে কাজ করার বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি, তাদের মধ্যে হালাল শিল্প ও হালাল ব্যবসার সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ খাতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে হালাল পণ্য, সনদ প্রদান ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল তৈরি এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সহযোগিতা বাড়ানো বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন। বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অর্থনীতি, সাইবার নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধির ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতে, প্রযুক্তি পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে। তিনি উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাদের গঠনমূলক অবদান উভয় দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে। দুই দেশের সরকারপ্রধান শিক্ষা ক্ষেত্রের সহযোগিতা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব, যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণে একমত হয়েছেন। পাশাপাশি, কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ডেলিগেশন মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেয়। এর পর মালয়েশিয়ার মহামান্য রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়েও মত বিনিময় হয়। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন এবং তার হাত ধরেই বাংলাদেশ থেকে এখানে জনশক্তি রফতানি শুরু হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়াও প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ১৯৯৩ সালে মালয়েশিয়া সফর করেন এবং এখানকার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিক বাংলাদেশে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। স্বাভাবিকভাবেই বিএনপি সরকারের সঙ্গে মালয়েশিয়ার একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক দৃঢ় রয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তার বিদেশে সফরের সূচনা হলো এই দেশ থেকে। মাহদী আমিন指出, বিভিন্ন কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার বন্ধ আছে। তবে এই সফরে পুনরায় শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিবাসনে ব্যয় কমানো, প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সহমত হয়েছেন। এ ছাড়া, মালয়েশিয়ার আইনগত কাঠামোর ভেতরে আটক বাংলাদেশিদের বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে আনোয়ার ইব্রাহিমকে আহ্বান জানান তারেক রহমান। শ্রমবাজারের জন্য সমঝোতা স্মারক নবায়ন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শ্রমবাজার বন্ধের সঙ্গে বিএনপির কোনও সম্পৃক্ততা কখনই ছিল না। বরং যতবার বিএনপি সরকারে এসেছে, ততবারই বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ হয়েছে। জ্বালানি খাতে এলএনজি, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের বৈঠক সম্পর্কেও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সফরে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সন্ত্রাস দমন করার বিষয়ে দুটি ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’ বিনিময় হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, পেট্রোনাস, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, পার্ডুয়া ও এমএমসি পোর্টের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সব মিলিয়ে এ সফর দুই দেশের সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। মাহদী আমিন আরও জানান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে তার সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রেস টিম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন, মালয়েশিয়ার কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হুলুস্থুল কাণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৩২ পি.এম


প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হুলুস্থুল কাণ্ড

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে এক হুলুস্থুল কাণ্ড। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি প্রদিতি রাউত প্রমার বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ তুলে বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন বিভাগীয় প্রধান এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. আতিজা দীল আফরোজ। পরীক্ষার জন্য কমিটি থেকে পদত্যাগ করায় দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে স্থগিত রয়েছে। এর ফলে, প্রথম বর্ষের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আট মাস পেরিয়ে গেলেও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। এ অবস্থায়, বিভাগীয় প্রধানের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) উপাচার্যের কাছে শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি জমা দেন। তাদের অভিযোগ হল, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে পরীক্ষার কমিটির সদস্য পদ থেকে বিভাগীয় প্রধান এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. আতিজা দীল আফরোজ পদত্যাগ করার পর পরীক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। এই বিষয়ে তারা একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কিন্তু কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। বরং সমাধানের পরিবর্তে অসহযোগিতামূলক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশের বিপরীত আচরণের সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, সাত থেকে আটবার বিভাগীয় প্রধানের কাছে গিয়েও কোনো সহযোগিতা পাননি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা আরও জানান, প্রথম বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. আতিজা দীল আফরোজ প্রায় ১৮ মাস বিলম্বে ফল প্রকাশ করেছেন। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে পরবর্তী বর্ষের পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়েছেন। স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় প্রধানকে চলমান সংকট-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি, তিন কার্যদিবসের মধ্যে স্থগিত পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা, বিকল্প ব্যবস্থায় পরীক্ষা গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক স্বার্থ সংরক্ষণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং তদন্ত চলমান রেখেই দ্রুত পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানান। ফোকলোর বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শায়খ মোহাম্মদ বলেন, আমাদের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের নভেম্বরে। কিন্তু তিন মাস ধরে পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আমরা মারাত্মক সেশনজটের মুখে পড়েছি। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের দায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নয়। অথচ আমরা সহযোগিতার পরিবর্তে বারবার অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছি। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছে। কোনো প্রশাসনিক অবহেলা বা ব্যক্তিগত জটিলতার দায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেন নেবে? এ বিষয়ে ফোকলোর বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. আতিজা দীল আফরোজ মন্তব্য করেছেন, একটি রেকর্ডিংয়ে শুনতে পাই যে মডারেশন করা প্রশ্নপত্র পরীক্ষা কমিটির সভাপতির ব্যাগে ছিল, যা তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ওই কমিটিতে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না, তাই আমি পদত্যাগ করি। পরবর্তীতে বিভাগের অন্য দুই শিক্ষকও একই কারণে কমিটিতে দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। এ কারণে, পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। তবে আমি পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে ডিন ও উপাচার্যকে জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা আমাকে পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। আমি অপারগতা প্রকাশ করলে এক শিক্ষার্থী উচ্চস্বরে কথা বলে ও অপমানকর আচরণ করে। তখন আমিও কিছুটা কঠোর আচরণ করেছি। এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন তদন্ত চলমান কিনা সে বিষয়ে তিনি জানান, বিভাগের বার্ষিক ভ্রমণে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে টাকা চুরির অভিযোগ তোলেন শিক্ষার্থীরা। তখন সেই বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। পরবর্তীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই যখন প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি সামনে আসে, তখন সেই একই কমিটি বিষয়টি দেখছে। এদিকে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের বিষয়ে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি প্রদিতি রাউত প্রমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি দেওয়ার সাথেও তিনি সম্পৃক্ত নন বলে জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%