০৭:২৩ পি.এম
রাজধানীর গুলিস্তান থেকে পাচারের সময় ছয়টি বিষধর খৈয়া গোখরা সাপ উদ্ধার করেছে বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। এই ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে, কিন্তু যাচাই-বাছাই শেষে একজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে বঙ্গবাজার ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে সাপগুলো উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন চাঁদপুরের বাসিন্দা মনির হোসেন মামুদ, স্বপন ও আব্দুল কাদের। তাদের মধ্যে সাপ পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মনির হোসেন মামুদ-এর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়েছে। অন্য দুজনের বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ২৪ ঘন্টায় ডিএমপি’তে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২১১১টি মামলা
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট জানিয়েছে, চাঁদপুরের বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিষধর সাপ সংগ্রহ করে পাচার করে আসছে। চরাঞ্চলে সাপ দেখা গেলে বা মাছ ধরার জালে আটকা পড়লে সেগুলো সংগ্রহ করে নিজেদের হেফাজতে রাখে। পরে সুযোগ বুঝে দেশের বিভিন্ন স্থানে তা পাচার করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোর থেকে সদরঘাট ও গুলিস্তান এলাকায় নজরদারি চালানো হয়। একপর্যায়ে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযুক্তদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ছয়টি জীবিত খৈয়া গোখরা সাপ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানান, বিভিন্ন সময়ে ধরা সাপগুলো প্রায় এক সপ্তাহ বস্তাবন্দি করে রাখা হয়েছিল। পরে সেগুলো ঢাকায় এনে পাচারের চেষ্টা করা হয়। তদন্তে আরও জানা গেছে, মনির হোসেন মামুদ দীর্ঘদিন ধরে সাপ ধরার কাজে জড়িত। আগে অন্যদের মাধ্যমে সাপ পাচার করলেও এবার নিজেই চালান বহন করছিলেন।
বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আদনান আজাদ বলেন, উদ্ধার হওয়া ছয়টিই বিষধর খৈয়া গোখরা। সাপগুলোর আনুমানিক বয়স এক থেকে সাত বছর। বর্তমানে এ প্রজাতির প্রজনন মৌসুম চলায় অসাধু চক্র এ সময় সাপ ধরে পাচারের চেষ্টা করে।
আরও পড়ুন: ভূমি খাতে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, ঢাকার ভেতরে পাচারের সময় বিষধর সাপের চালান উদ্ধারের ঘটনা এটিই প্রথম। উদ্ধার হওয়া সাপগুলো স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন