এস এম সাহান,ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:
০৭:৩৪ পি.এম
ফরিদপুর পৌরসভার স্বর্ণপট্টি এলাকার কালি মন্দির সড়কের উন্নয়নকাজে স্থানীয় বাসিন্দারা বৈষম্যমূলক আচরণ এবং পূর্ব নোটিশ ছাড়াই স্থাপনা ভাঙার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের অভিমত হল, একই সড়কে কোথাও ১৮ ফুট আবার কোথাও ১৬ ফুট প্রশস্ত করে নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। এছাড়া, কোনো ধরনের লিখিত নোটিশ অথবা পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই কয়েকটি বাড়ির মূল ফটক, দোকানপাট এবং অন্যান্য স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ হলো, অতীতে কালি মন্দির সড়কে যতবার উন্নয়নকাজ হয়েছে, প্রতিবারই সমান প্রস্থ বজায় রেখে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু চলমান প্রকল্পে সেই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না, ফলে কয়েকজন বাসিন্দা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে তারা দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী আলী আসলাম মো. নাঈম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার বাসিন্দা। অতীতে যতবার সড়ক উন্নয়ন হয়েছে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই সমান প্রস্থের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এবার কোথাও ১৮ ফুট, কোথাও ১৬ ফুট করে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে আমরা চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “রাস্তা নির্মাণের সময় আমাদের কোনো ধরনের লিখিত নোটিশ বা পূর্ব সতর্কতা দেওয়া হয়নি। অথচ পৌরসভার উদ্যোগে আমাদের বাড়ির মেইন গেট, দোকানপাট এবং অন্যান্য স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি আইনসঙ্গত নয় বলে আমরা মনে করি।”
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পাদন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর শিবপুরে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ মাঠে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী। এ সময় তিনি বলেছেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আজকের কৃতি শিক্ষার্থীরাই একদিন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে এবং দেশের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তিনি বলেন, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আরও বড় হবে। শুধু লেখাপড়ায় ভালো ফলাফল করলেই হবে না, তাদেরকে নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশে শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের চর্চা জরুরি। সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে আজকের এসব মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামীতে দেশের নেতৃত্ব দেবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফারজানা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মু. আব্দুর রহিম, শিবপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া, উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হারিছ রিকাবদার, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু ছালেক রিকাবদার, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কবিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
আয়োজকরা জানান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগাতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে শিবপুর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে মোট ১৭৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে। এর মধ্যে সরকারি ট্যালেন্টপুলে ৫৮ জন, বেসরকারি ট্যালেন্টপুলে ১১ জন, সরকারি সাধারণ বৃত্তিতে ৮৮ জন এবং বেসরকারি সাধারণ বৃত্তিতে ১৭জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাভারের তেঁতুলঝোড়া, আমিনবাজার ও ভাকুর্তা ইউনিয়ন কেরানীগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার(৭ আগস্ট) জুমার নামাজের পরে হেমায়েতপুর বাস স্ট্যান্ডে অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন হাজারো মানুষ। এ ঘটনায় মহাসড়কের উভয় পাশে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট, ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে যাত্রী ও চালকদের।
এর আগে, সাভারের তেঁতুলঝোড়া, আমিনবাজার ও ভাকুর্তা ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আন্দোলনে অংশ নেন স্থানীয়রা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কৌশলে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে ফর্মে। আসলে সেই ফর্মগুলো ছিল এই তিন ইউনিয়নকে সাভার থেকে বাদ দিয়ে কেরানীগঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাবনার। তারা সাভার উপজেলাতেই থাকতে চান এবং কোনোভাবেই প্রস্তাবিত কেরানীগঞ্জ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হতে রাজি নন।
বক্তারা দ্রুত এই প্রস্তাবনা বাতিলের দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি প্রদান করেন যে, আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে খুব শিগগিরই জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান, এলাকাভিত্তিক গণস্বাক্ষর অভিযান এবং লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইল, ৭ আগস্ট, ২০২৬: টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, সংবাদপত্র একটি দেশের দর্পণের মতো কাজ করে।
তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরার পাশাপাশি সংবাদপত্র মানুষকে সঠিক পথে চলতে এবং সমাজকে সুন্দর ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরো বলেন, অপ-সাংবাদিকতা রোধে প্রকৃত সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আজ শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সাপ্তাহিক ‘সময় তরঙ্গ’-এর শুভ উদ্বোধন ও প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সাংবাদিকদের কাজ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, মানুষ যাতে সঠিক পথে চলে এবং সমাজ সুন্দর ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সংবাদপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে যে কিছু অপসাংবাদিকতা রয়েছে, তা অবশ্যই পরিহার করা উচিত।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কখনোই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করব না। কারও স্বাধীনতায় আমরা হস্তক্ষেপ করব না। আমরা সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।
তিনি যোগ করেন, সাংবাদিকদের নেতৃত্ব নির্বাচনি হতে হবে। আমরা শুধুমাত্র পরিবেশ তৈরি করে দেব।
টাঙ্গাইলের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই টাঙ্গাইল একটি বৃহৎ অঞ্চল। এই জেলা অনেক বিষয়ে সমৃদ্ধশালী ও ঐতিহ্যবাহী।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, গর্ব করার মতো অনেক কিছুই রয়েছে। এই টাঙ্গাইলকে এগিয়ে নিতে হলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
সাপ্তাহিক ‘সময় তরঙ্গ’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মো. রওশন আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা প্রমুখ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আবাসিক ও অনাবাসিক নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা ক্যাম্পাসে অবাধ যাতায়াত এবং হলের বিদ্যমান বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। শুক্রবার (০৭ আগস্ট) এ-সংক্রান্ত বিবৃতি তিনি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে নারীদের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি, নিরাপদ ক্যাম্পাস ও সমঅধিকারভিত্তিক আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান সর্ব মিত্র চাকমা।
এই বিষয়ে সর্ব মিত্র চাকমা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যা মুক্তচিন্তা, জ্ঞানচর্চা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের বাতিঘর হিসেবে পরিচিত, সেখানে এখনো নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বৈষম্যমূলক নীতি ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। নিরাপত্তার অজুহাতে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করা বা আবাসিক সুবিধায় বৈষম্য সৃষ্টি করা একটি প্রগতিশীল বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
সর্ব মিত্র চাকমার ভাষ্য, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থ কোনো শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার বা স্বাধীনতা সংকুচিত করা নয়; বরং এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে ক্যাম্পাস ২৪ ঘণ্টা সব শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ, প্রবেশযোগ্য ও অবাধ যাতায়াতের উপযোগী হয়।
তিনি বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের সমান অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত না করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, মানবিক ও প্রগতিশীল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব নয়। শিক্ষা, গবেষণা, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলে নারী শিক্ষার্থীদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন শুধু নারী শিক্ষার্থীদের নয়, সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্ন।
বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি চারটি দাবিও জানানো হয়। সেগুলো হলো, নারীদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্যমূলক নীতি ও বিধিনিষেধ দ্রুত পুনর্বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার করা, আবাসিক ও অনাবাসিক সব নারী শিক্ষার্থীর জন্য বৈধ পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে ক্যাম্পাসে ২৪ ঘণ্টা প্রবেশ ও অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা, নিরাপত্তার নামে অধিকার সীমিত না করে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, নজরদারি ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, এবং ক্যাম্পাসকে সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ শিক্ষাঙ্গনে পরিণত করা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরাপদ, বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমঅধিকারভিত্তিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে আন্দোলনরত সব নারী শিক্ষার্থীর প্রতি তিনি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছেন এবং তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ