মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
০৪:১৭ পি.এম
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে বিএনপির নেতাকর্মীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
গত ৩ আগস্ট সোমবার সকাল ১১টার দিকে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমান স্বপন, সহ-সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন মেনু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম ফুলু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান মিঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান খলিল, পৌর যুবদলের সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল হান্নান, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. তাসরিফুল হাসিব ও হাজী মাসুদুল ইসলাম বাবুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা দাবি করেন, কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর উপজেলার আলোচিত তিনটি হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ জুলাই রোববার সকালে কিশোরগঞ্জ শহরের আখড়াবাজার এলাকায় কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম কার্যালয়ে কটিয়াদী উপজেলার উত্তর ঝিড়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা ও দীর্ঘদিনের প্রবাসী মো. শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার তদন্তে পক্ষপাতিত্ব, গাফিলতি এবং প্রভাবশালী আসামিদের আড়াল করার অভিযোগ তুলে কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, মামলার মূল আসামিদের নাম-পরিচয় বারবার জানানো হলেও কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তাদের গ্রেপ্তার করছেন না। বরং একতরফাভাবে তদন্ত পরিচালনা করছেন।
এ অবস্থায় হত্যা মামলাটি কটিয়াদী মডেল থানা থেকে প্রত্যাহার করে পিবিআই, সিআইডি অথবা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একজন দক্ষ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন তারা।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করে নিহতের স্বজন নয়ন মিয়া জানান, দীর্ঘদিনের প্রবাসী জীবন শেষ করে মো. শফিকুল ইসলাম দেশে ফিরে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তার মোবাইল ফোনে একটি কল আসে।
ফোনে তাকে জরুরি ভিত্তিতে রসুলপুর ঈদগাহ মাঠের পাশে যেতে বলা হয়। সেখানে যাওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন বেগম বাদী হয়ে কটিয়াদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ বাবুল মিয়া নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, তারা জানতে পেরেছেন বাবুল মিয়ার পাশাপাশি বাদশা মিয়া, আমির হোসেন, হারুন মিয়া, মজিবুর রহমান, শুভ মিয়া ও জয় আহম্মেদ বকুলসহ আরও কয়েকজন এ হত্যাকাণ্ডে সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। পারিবারিক জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তারা দীর্ঘদিন ধরে শফিকুল ইসলামকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।
এসব ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা একাধিকবার ওসিকে জানানো হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে নিহতের মা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। তারা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরাফেরা করছেন এবং মামলা চালিয়ে গেলে নিহতের পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এছাড়া ঘটনার দিন শফিকুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে কে ডেকে নিয়েছিল, সেটি শনাক্ত করার অনুরোধ জানানো হলেও পুলিশ তা অনুসন্ধান করেনি বলেও দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধনের উদ্যোগ নিলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। পাশাপাশি ওসির সঙ্গে অভিযুক্তদের পূর্বপরিচয় ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি তাদের পক্ষ নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা। এসময় নিহতের মা আনোয়ারা বেগম, বোন কামরুন্নাহার, সাবিকুন্নাহার এবং হত্যা মামলার বাদী বেগম উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক মো. রাজু আহমেদ এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ওসি সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি জেনে উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, কিশোরগঞ্জ নয়, ঢাকা প্রেসক্লাবে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে বলেন।
এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল, অনলাইন টিভি ও পত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত এসব সংবাদ ও বিভিন্ন অপপ্রচারের প্রতিবাদে গত ৩ আগস্ট সকালে কটিয়াদীতে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে বিএনপির নেতা কর্মীরা।
অপর দিকে জানা যায়, কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান হত্যা মামলার প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ। তাদের দাবি, দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় মামলাটি পরবর্তীতে পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এছাড়াও লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামে প্রকাশ্যে শতাধিক মানুষের সামনে আনোয়ার হোসেন নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর বিনা চিকিৎসায় পাঁচ ঘণ্টা বৃষ্টির পানিতে পড়ে থেকে মৃত্যুর ঘটনায় মানববন্ধন করা হয়েছিল।
অন্যদিকে জানা যায়, ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর মাদকবিরোধী অভিযানে একাধিক মাদক কারবারি ও মাদকসেবীকে গ্রেফতার করে সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা পেলেও এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সফলতা দেখাতে পারেননি।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, প্রবাস ফেরত মো. শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামি বাবুল মিয়া নামে একজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি করিয়েছি। বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। কটিয়াদী বাজারের ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান হত্যা মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে। আনোয়ার হোসেন হত্যা মামলার আসামি মহররম আলীকে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছি। অপর আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। এসব হত্যার মরদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ : চলতি আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, এমনটি জানিয়েছেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি এ নির্দেশনা দেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ভিত্তিতে দুই দেশের ঐকমত্যের মাধ্যমে সব শ্রমিকের জন্য মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
সরকারের উদ্দেশ্য, অতীতের অনিয়ম ও হয়রানি থেকে মুক্ত, একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মী পাঠানো, যাতে প্রকৃত কর্মপ্রত্যাশীদের সমান সুযোগ দেওয়া যায়।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আগস্টের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমি জানাতে চাই, দুই দেশের বৈঠকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সকল শ্রমিকের মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংবাদ।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার।
দীর্ঘদিন ধরে কর্মী পাঠাতে নানা জটিলতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে বহু কর্মপ্রত্যাশী বিদেশে কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সরকারের আশা, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই স্থবিরতা কাটিয়ে পুনরায় নিয়মিতভাবে কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে।
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, অতীতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম, সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির আধিপত্য, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এসব কারণে অনেক বাংলাদেশি কর্মী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং বিদেশ যাওয়ার আগে নানারকম হয়রানির শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, অতীতে এই প্রক্রিয়ায় অনেক অনিয়ম হয়েছিল। কর্মীরা বেশ ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। বর্তমান সরকার সে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে চায়।’
সার্বিকভাবে সরকারের লক্ষ্য হলো, প্রকৃত কর্মপ্রত্যাশীরা যেন কোনো সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অর্থ আদায় বা অনিয়মের শিকার না হন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান শুধু কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে না বরং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাহলে সরকার নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বক্তব্যে বলেন, সরকার চায় বিদেশগামী শ্রমিকরা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বৈধ উপায়ে বিদেশে যাতে যান এবং সেখানে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ পান।
এই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তথ্য উপদেষ্টা আরো উল্লেখ করেন, সরকার দেশের অভ্যন্তরেও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।
শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং বিদেশে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণ- সব ক্ষেত্রে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, নতুন শ্রমবাজার চালুর ক্ষেত্রে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যাতে কর্মী নির্বাচন, নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, ভিসা প্রক্রিয়া এবং বিদেশে পাঠানোর প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
কোনো অসাধু চক্র যেন এসব সুযোগ নিয়োগ করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে না পারে, এটি নিয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান আশা প্রকাশ করেছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
একইসঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার অর্জন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি বলেন, সরকার চায় দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও যোগ্য জনশক্তিকে বিদেশে পাঠানোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম আরও বৃদ্ধি পাক।
সেই লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় সংস্কার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তথ্য উপদেষ্টা প্রাধান্য দিয়ে বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়া দেশের লাখো কর্মপ্রত্যাশীর জন্য একটি আশাব্যঞ্জক খবর।
সরকার চায়, এ সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করা হোক এবং স্বচ্ছ ও সুশাসনভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হোক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের মোট কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে প্রণয়নের জন্য নির্দেশনা উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা আবশ্যক।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত এক সভায় তিনি সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেন যে, কৃষক কার্ডে কৃষকের পরিচয় উপস্থাপনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, সরকারি সহায়তা এবং কৃষি বাজার-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এসব বিষয় নজরে রেখে কার্ড প্রস্তুতির জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়।
উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, সভায় জানানো হয় যে, কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে ধাপে ধাপে কৃষকদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে।
কৃষি খাতে সরকারের ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, প্রণোদনা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা প্রকৃত কৃষকের কাছে দ্রুত ও সহজে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষক এ কার্ডের সুবিধা লাভ করবেন। আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের কম-বেশি ২ কোটি কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় কৃষি ও মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের সভাপতি এস এম আমীর হামজা শাতিলসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে রংপুর জেলা কারাগার থেকে ৫ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান তিনি। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে নীলফামারী শহরের ডাকবাংলো সার্কিট হাউস ঈদগাহ মাঠে মায়ের জানাজায় অংশ নেন। জানাযা শেষে তিনি আবার রংপুর জেলা কারাগারে নিয়ে যান। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘মায়ের জানাজায় অংশগ্রহণ করতে তাকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। শহরজুড়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’ প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুটি হত্যা মামলাসহ পাঁচটি মামলার আসামি শাহিদ মাহমুদ। ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাতে রংপুর নগরীর ধাপ লালকুঠির একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পাওয়া কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহার ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরু হল চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো-কোলোতে। চিলিতে আসার পর মেডিকেল পরীক্ষা এবং আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছেন।
বিমানবন্দরে ভোজিনহাকে স্বাগত জানাতে শত শত সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন। তার নাম ধরে স্লোগান এবং উচ্ছ্বাস পরিবেশকে মুখর করে তোলে। পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় সমর্থকদের উন্মাদনা।
কোলো-কোলো জানিয়েছে, ভোজিনহার সঙ্গে প্রাথমিকভাবে একটি ছয় মাসের চুক্তি হয়েছে। তার পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।
নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়ার পথে নাম নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ভোজিনহার প্রকৃত নাম জাজিমার জোসে এভোরা দিয়াস। তবে তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত ‘ভোজিনহা’ নামেই। চিলির নিয়ম অনুযায়ী, জার্সিতে ডাকনাম ব্যবহারের সুযোগ না থাকলেও কোলো-কোলোর বিশেষ অনুরোধে শেষ পর্যন্ত সেই নাম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।
চিলির সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৬ আগস্ট কোলো-কোলোর জার্সিতে তার অভিষেক হতে পারে।
২০০৭ সালে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করা ভোজিনহা অ্যাঙ্গোলা, সাইপ্রাস, মলদোভা, স্লোভাকিয়া ও পর্তুগালের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। সবশেষে তিনি পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শাভেসে ছিলেন। জুনে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ক্লাববিহীন অবস্থায় বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় আসেন ভোজিনহা। পরে উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে কেপ ভার্দেকে নকআউট পর্বে উঠাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে লড়াকু পারফরম্যান্স করেও ৩-২ গোলে হারে তার দল। চার ম্যাচে ধারাবাহিক দারুণ পারফরম্যান্সের জন্য বিশ্বকাপের সেরা একাদশেও তার জায়গা হয়।
বিশ্বকাপের আগে ইনস্টাগ্রামে ভোজিনহার অনুসারী ছিল প্রায় ৫০ হাজার। স্পেন ম্যাচের পর সেটি দ্রুত বেড়ে কোটি ছাড়ায়। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় তিন কোটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ