ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রেকর্ড তাপপ্রবাহে ইউরোপে অতিরিক্ত মৃত্যু ১২০০ জনের বেশি: ডব্লিউএইচও


রেকর্ড তাপপ্রবাহে ইউরোপে অতিরিক্ত মৃত্যু ১২০০ জনের বেশি: ডব্লিউএইচও

 

গত ২১ জুন থেকে ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহের কারণে প্রত্যাশার চেয়ে অতিরিক্ত ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

রবিবার (২৮ জুন) ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক ড. তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুসের এক পোস্টের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে ড. তেদরোস লেখেন, ২১ জুন থেকে ইউরোপে উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত অতিরিক্ত ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তাপজনিত শারীরিক চাপকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। ইউরোপের বাড়িঘর, কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ ধরনের উচ্চ তাপমাত্রা মোকাবিলার জন্য নির্মিত নয়।

এদিকে, রবিবার সকালে ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, শুধুমাত্র বুধবার থেকে দেশটিতে প্রত্যাশিত সংখ্যার তুলনায় প্রায় ১ হাজার জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার ইউরোপে অন্তত ১৯ কোটি ১০ লাখ মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হবেন। বিশেষ করে জার্মানি, চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ডে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বেশি।

আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

অস্ট্রিয়াভিত্তিক বেসরকারি সংস্থার ক্লিমাড্যাশবোর্ড-এর সংকলিত জার্মান আবহাওয়া অধিদপ্তরের (ডিডব্লিউডি) পূর্বাভাস ও ২০২৫ সালের জনসংখ্যার তথ্যের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তুরস্ক বাদে ইউরোপে মোট ৩৮ কোটি ১০ লাখ মানুষ ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মধ্যে থাকবেন।

তেদরোস বলছেন, বর্তমানে ইউরোপজুড়ে লাখো মানুষ চরম তাপপ্রবাহের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।

শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, স্কুল বন্ধ রয়েছে ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে একসময় যে দাবদাহকে ‘প্রজন্মে একবার ঘটে’ বলে মনে করা হতো, তা এখন প্রায় প্রতি বছরই দেখা যাচ্ছে। ইউরোপ পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ, যেখানে উষ্ণায়নের হার বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণ।

আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে ইয়াবা কারবারিদের ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ, থানার ক্যাশিয়ার নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন

তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে ইউরোপের দেশগুলোকে ‘হিট হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান’ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান ডব্লিউএইচও প্রধান।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রেকর্ডগড়া তাপমাত্রা

রবিবার জার্মানিতে নতুন রেকর্ডগড়া তাপমাত্রা পরিমাপ করা হয়েছে।

ডিডব্লিউডি জানায়, এদিন স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে পোল্যান্ড সীমান্ত লাগোয়া পূর্ব ব্রেডেনবার্গের কোশেন স্টেশনে ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগের পর স্ত্রীর রহস্যময় পোস্ট

এর একদিন আগে ড্রেভিৎস এলাকায় সর্বোচ্চ ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।

একই দিনে চেক রিপাবলিকেও তাপমাত্রা পৌঁছায় ৪১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। রেকর্ডগড়া এই তাপমাত্রা পরিমাপ করা হয় প্রাগের উত্তরে অবস্থিত ডোকসানিতে।

দেশটির আবহাওয়া সংস্থা চেক হাইড্রোমেটিওরোলজিকাল ইনস্টিটিউটের (সিএইচএমআই) ভাষ্যমতে, দেশটিতে এই প্রথমবারের মতো ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হলো।

এর আগের দিন শনিবার এই জায়গায় রেকর্ড করা ৪০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল গত ১৪ বছরের মধ্যে পরিমাপ করা সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য ২০০ ট্রলি প্রদান

পোল্যান্ডেও সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে আজ।

দেশটির ইনস্টিটিউট অব মেটিওরোলজি অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্টের (আইএমজিডব্লিউ) এক মুখপাত্র এএফপিকে এ তথ্য জানান। দেশটির পশ্চিমের শহর স্লুবিচে এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে জামায়াতের নেতৃত্বে কখনোই বিপ্লব হবে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:০৪ এম


বাংলাদেশে জামায়াতের নেতৃত্বে কখনোই বিপ্লব হবে না

রাজনীতি বিশ্লেষক ও জবান ম্যাগাজিনের সম্পাদক রেজাউল করিম রনি মন্তব্য করেছেন যে, কিয়ামতের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে জামায়াতের নেতৃত্বে কোনো বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থান কিছুই হবে না। তিনি সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন।

রেজাউল করিম রনি আরো বলেন, জামায়াতের নেতৃত্বে কেন কোনো বিপ্লব হবে না, সেটা হলো ট্রাস্টের একটি ব্যাপার রয়েছে। ন্যাশনাল মেমোরিতে এই দলটিকে মানুষ ট্রাস্ট করে না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংসদে তারা (জামায়াত) বলেছিল সততার এক পরাকাষ্ঠা দেখাবে। তারা প্লট নেবে না, কিছু নেবে না—তারপর তাদের একজন সহযোগী এমপি দিয়ে গাড়ি চাওয়ানো হলো। তারপরে পৌরসভা পরিষদের জন্য রুম বরাদ্দ করা হয়েছে, ইতিমধ্যে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

রেজাউল করিম রনি বলেন, ’৭১-কে শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনীতির ক্ষেত্রে যেভাবে ব্যবহার করেছে, জামায়াত ১৮ মাসে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে সেভাবে ব্যবহার করছে। আমরা একটা ডিভিশন দেখতে পেলাম। বিএনপিকে ২৪-এর গাদ্দার, নির্বাচন চাইলে জুলাই গাদ্দার, সংস্কারের আগে নির্বাচন চাওয়া মানে জুলাই বিরোধী বলে আখ্যা দেওয়া হয়।

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক জানান, শেখ হাসিনার কাঠামো কোনটা নির্বাচনবিহীন ক্ষমতা—সেটা জামায়াত ধরে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। তারা সব রকম প্রচেষ্টা করে, কিন্তু তা জনগণ ব্যর্থ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আপনাদের (জামায়াতের) অসংগতি মুখে বললে আবেগে যে কিছুই লাগবে না, এটা চলবে কীভাবে? কিছু লাগবে না বললে। তার নিজের ডিউটির কারণে রাষ্ট্র গাড়ি বরাদ্দ করে। তার ওই সাধুগিরি দেখানোর দরকার নেই, যেটা সে এফোর্ট করতে পারবে না। এগুলো বলার দরকার কী?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপির সরকার: জামায়াতের গাত্রদাহ ও আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:০৭ এম


বিএনপির সরকার: জামায়াতের গাত্রদাহ ও আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন সম্ভাবনা

গত নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পর, যখন বিএনপি জামায়াতকে সরকারের অংশ করতে অস্বীকার করে, তখন থেকেই জামায়াত বিএনপির পিছনে লাগা শুরু করে। বাস্তবিকভাবে নির্বাচন বানচাল কিংবা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার আন্দোলন হালে পানি না পাওয়ায় এনসিপি-জামায়াত নির্বাচনে যেতে বাধ্য হয়। যে দুই দলের লক্ষ্য ছিল ৫ আগস্ট পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধাগুলোকে অক্ষুণ্ন রাখা। প্রকৃতপক্ষে, সেসময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্তরালে এনসিপি-জামায়াতই ক্ষমতায় ছিল এবং তাদের ইচ্ছা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকার ব্যবস্থা পরিচালিত হয়েছে। এই ব্যবস্থা যে অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না, সেটা বুঝেও তারা চেষ্টা করেছে যতদিন সম্ভব এটিকে টেনে নিয়ে যেতে। সে প্রচেষ্টার শেষে তারা ড. আলী রিয়াজের মাধ্যমে বেআইনিভাবে ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্তকরণ ও তা বাস্তবায়নের আদেশ জারি করে, যা আইন বহির্ভূত ও জালিয়াতিতে পরিপূর্ণ ছিল বলে বোদ্ধাজনেরা মনে করেন।

নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে জামায়াতের আমির বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে সরকারের অংশ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করলেও জানাবার তারেক রহমান তাতে সম্মত হননি। এতে ক্ষুব্ধ এনসিপি-জামায়াত নির্বাচনের পরদিন থেকেই এই নবনির্বাচিত সরকারের পতনের পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। সরকার গঠনের পরদিন থেকে শুরু হওয়া সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বা সত্য-মিথ্যা নানা বিরোধিতা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এই ক্যাম্পেইনের থেমে যাওয়া বা এর গতি কমারও কোনো লক্ষণ যদি দেখা যায়, তখনই সেটি স্পষ্ট হবে।

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি ফ্রন্টে খেলে। মূলদল ছাড়াও এনসিপি, এবি পার্টি, আপ বাংলাদেশ পার্টি নামের সংগঠন যেমনি রয়েছে, তেমনি রয়েছে ‘দেশের সাধারণ জনগণ’, ‘সাধারণ মানুষ’, ‘ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহক’ প্রভৃতির নানা ফোরাম। যেকোনো নতুন পরিস্থিতিতে নতুন নতুন নামে নতুন অ্যাজেন্ডা নিয়ে হাজির হচ্ছে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। আর তাদের সবচেয়ে বেশি প্রভাবের জায়গা বলাবাহুল্য সামাজিক মাধ্যম।

এই সব ফোরামে নানা ইস্যু এবং নন-ইস্যু নিয়ে তারা মাঠ গরম করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো বিএনপির নবগঠিত সরকারকে অজনপ্রিয় করে তোলা যাতে তারা মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি তুলতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো বিএনপির সরকার অতীতের রেকর্ড ভেঙে নির্বাচনের পরও শুধু জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে, সাথে তাদের জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। এর সিংহভাগ কৃতিত্ব দলের শীর্ষ নেতা জনাব তারেক রহমানের জনগণের সাথে মিশে যাওয়া ও সরকারের কার্যক্রমকে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। সংসদ সদস্যদের জন্য করমুক্ত গাড়ি ক্রয়ের বিধান বাতিল, রাজউকের প্লট না নেবার ঘোষণা প্রভৃতির মাধ্যমে জনাব তারেক রহমান জামায়াতকে ব্যাকফুটে যেতে বাধ্য করেছেন। তাদের নির্বাচন পূর্বে গাড়ি, প্লট বা ফ্ল্যাট না নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর যখন তারা দেখছে, যে এসব সুবিধা প্রকৃতপক্ষেই আর পাওয়া যাবেনা, তখন তার বিকল্প হিসেবে সরকারি গাড়ি, অফিস এমনকি বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাটে মাইক্রোওয়েভ ওভেন, পর্দা, ওয়াশিং মেশিনের মতো সামান্য ইনিসের জন্য সংসদে দাবিনামা পেশ করছেন। এসব যে প্রত্যাশা অনুযায়ী না পাওয়ার হতাশা/বেদনা থেকে আসছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

জামায়াতে ইসলামী এদেশে কখনোই রাজনীতির মূল খেলোয়াড় ছিল না। স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের আত্মপ্রকাশের পর থেকেই তারা বড় দুটি রাজনৈতিক দলের লেজুড় হিসেবে থেকেছে। সে সময়গুলোতে তারা এই দুই দলের ছত্রছায়ায় থেকে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির সহায়ক হিসাবে কাজ করেছে এবং গোপনে নিজেদের দল সংগঠন করেছে। সেই হিসেবে তারা যুগপৎ আন্দোলনের ক্ষেত্রে বিশেষ সাফল্য লাভ করেছে, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। জামায়াতে ইসলামী ১৯৪১ সালে অবিভক্ত ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বর্তমানে উপমহাদেশের তিনটি রাষ্ট্রে সক্রিয় রয়েছে। ভারতে তারা একটি দুর্বল প্রেসার গ্রুপ ছাড়া আর কিছু হতে পারেনি। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে তাদের সংগঠন জাতীয় রাজনীতিতে একটা অবস্থান নিলেও তারা এই দুই দেশে মোটামুটি আউটসাইডার হিসেবেই এতদিন অবস্থান করেছে।

১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৫ শতাংশের কম ভোট পেয়েছিল। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রায় ১২ শতাংশের মতো ভোট পেয়েছিল এবং সংসদের ১৭টি আসনে জয় লাভ করেছিল। এটি যথাযথভাবে জামায়াতের শ্রেষ্ঠ সাফল্য। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে এককভাবে নির্বাচন করলে, তাদের ভোট আবার ৫ শতাংশের নিচে নেমে যায়, সেবার তারা মাত্র ৩ টি আসনে জয় লাভ করে। পরে ২০০১ সালে তারা বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করলে, তাদের প্রাপ্ত ভোটার হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলেও তারা ১৮ টি আসনে জয়ী হতে সক্ষম হয়। পাকিস্তানে তাদের অবস্থান তার চেয়েও খারাপ। ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে তারা ২ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেলেও, তারা পার্লামেন্টে কোনও আসন পায়নি। সেই প্রেক্ষাপটে এবার ২০২৬ এর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট ও ৬৭টি (তাদের অন্যান্য প্লাটফর্মসহ মোট ৭৭ টা) আসনে জয় পাওয়ার পর তাদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ হয়। তারা এটা বলবার চেষ্টা করছেন যে এবারের নির্বাচনের ফলাফল দেশের মানুষের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি; কিন্তু এর মাধ্যমে তারা যা বুঝাতে চাচ্ছে, বাস্তবতাটা হলো ঠিক তার বিপরীত। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল। ইতঃপূর্বে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধিত্বশীল নির্বাচনগুলিতে তারা ৩১-৩৫ শতাংশের মধ্যে ভোট পেয়েছে। একথা অনস্বীকার্য যে শেখ হাসিনার ক্ষমতার প্রতি অদম্য আকর্ষণ এবং তার স্বজনপ্রীতি ও অর্থের প্রতি তীব্র লোভের কারণে আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। আসলে শেখ হাসিনা বা তার পরিবারের সদস্যদের এই দেশটার প্রতি কোনো মমতা বা ভালবাসা ছিল না। তিনি তার পিতার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এবং তার ব্যক্তিগত লোভ-লালসা চরিতার্থ করার জন্য আমাদের দেশটাকে বেছে নিয়েছিলেন। আর তাকে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়েছিল প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত তাদের নানা অন্যায্য সুবিধা আদায়ের ক্রীড়নক হিসাবে ব্যবহারের জন্য। শেখ হাসিনার শাসনামলের সাড়ে পনেরো বছরে তিনি ও তার আত্মীয়-স্বজন এবং তার দলের মাফিয়ারা দেশটাকে সাক্ষাৎ নরক বানিয়ে ফেলেছে। এসময়ে তিনি ও তার লোকজন দেশ থেকে ৩২৪ বিলিয়ন ডলার শুধু বিদেশে পাচার করেছে। তাছাড়া ব্যাংক লুট, ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ, গুম-খুনের মাধ্যমে দেশ থেকে বিরোধী মতকে স্তব্ধ করে রাখা, পুলিশ ও আমলাতন্ত্রকে দলীয়করণ, কোনও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে না দেওয়া প্রভৃতি কারণে শেখ হাসিনা ও তার দলের জনপ্রিয়তা শূন্যের কোটায় নেমে আসে এবং গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতা থেকে অপসৃত হন এবং পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। পরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত তাদের জন্য অভাবনীয় সফলতা পায়।

বাংলাদেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি অন্যান্য দেশের রাজনীতি থেকে কিছুটা ভিন্ন। উপমহাদেশের অপর দুইটি দেশের মতো বাংলাদেশেও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতিই মূল রাজনৈতিক ধারা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এদেশে নেতৃত্ব যে শুধুমাত্র কোনও একক পরিবার থেকে আসে তা নয়, এদেশে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরাও পরিবার পরম্পরায় একই দলের রাজনীতি করে অভ্যস্ত। খুব বড় কোনও দুর্ঘটনা না ঘটলে এদেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক আনুগত্য পরিবর্তন করে না। গত গণ-অভ্যুত্থানে সে ধরনের একটি বিশাল ঘটনা ঘটে। গণ-অভ্যুত্থানের পরে দেশের আওয়ামী লীগ সমর্থকদের অল্প কিছু অংশ তাদের রাজনীতি ও সমর্থনের দল পরিবর্তনের চিন্তা ও চেষ্টা করে। যারা আওয়ামী ভাবধারার রাজনীতিতে অভ্যস্ত, তাদের জন্য জামায়াত কোনও অপশন নয়। তারা বিকল্প হিসেবে এনসিপি এবং বিএনপি নিয়ে ভেবে থাকে। গণ-অভ্যুত্থানের পর এনসিপির নেতৃত্বের অপরিমেয় লোভ-লালসা, চাঁদাবাজি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, দখলদারি, মব-সন্ত্রাসের কারণে তারা জনগণের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা দ্রুত হারিয়ে ফেলেছে। জামায়াতের মিথ্যাচার ও মুনাফেকি নির্ভর রাজনীতির পাশাপাশি ক্ষমতার সব কেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা এবং সবকিছু গ্রাস করে ফেলার প্রবণতার কারণে ভয় পেয়ে অনেক আওয়ামী লীগ লোকও বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। আর যারা এনসিপি-জামায়াতকে ভোট দিয়েছে, তারাও তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে।

বিবিসির সাথে একটি সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মরহুম ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন যে বাংলাদেশে দুটি বিষয় 'Non Negotiable', যার একটি হলো ইসলাম এবং অপরটি হলো আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে জনাব রাজ্জাকের এই উপলব্ধিটা আমার কাছে সঠিক ও শ্রেষ্ঠ অনুভব হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, স্বয়ং জামায়াতই বিষয়টিকে আমলে নেয়নি, যার কারণে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককে দল ছাড়তে হয়েছে। বাংলাদেশে রাজনীতি রাজনীতিকে কুক্ষিগত করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে নিজেদেরকে হাস্যস্পদ করে ফেলেছে, তেমনি জামায়াত ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের অবস্থানকে দুর্বল করে ফেলেছে। আর ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও, মিথ্যাচার, অপরিসীম লোভের কারণে তারা দেশের মানুষের আস্থার জায়গাটি নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাছাড়া তাদের দলে প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত লোকেরও খুব অভাব রয়েছে। বিশেষ করে এবারে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে এমন সব মানুষ রয়েছেন, যারা সংসদ বিষয়টিই না বুঝে, উল্টাপালটা বক্তব্য দিয়ে নিজেদের আরও খেলো করে তুলছেন। তাছাড়া আওয়ামী লীগ যেমন ভারত-নির্ভর রাজনীতি করতে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তেমনি জামায়াতও অতি পাকিস্তানপন্থী রাজনীতির চর্চা করতে গিয়ে গত গণ-অভ্যুত্থানকালের নিজেদের অর্জনগুলিকে হারিয়ে ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশপন্থী রাজনীতির দল বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশে বিএনপি বর্তমানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে রয়েছে; এবং জামায়াত দায়িত্বশীল বিরোধীদলের স্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এজন্য ভারত ও কিছু পশ্চিমা দেশ এই দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। বিএনপি এ বিষয়ে একমত। বিএনপি মনে করছে এই দেশে বিএনপি ছাড়াও একটি দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল থাকা প্রয়োজন যারা প্রয়োজনে বিকল্প হিসেবে দাঁড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব একটা বিরাট প্রতিবন্ধকতা। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এমন একটি ‘মেগালোমনিয়াকে’ পরিণত হয়েছেন যে তিনি তার চিন্তার সাথে সাংঘর্ষিক সবকিছুকেই সন্দেহ ও পরিত্যাজ্য বিবেচনা করেন। বস্তুতঃ তার পরিবারের সদস্যদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ফলে তিনি অনিরাময়যোগ্যভাবে মানসিক বৈকল্যের শিকার হয়েছেন এবং সাইকোটিক হয়ে গেছেন। এরপর তার স্বাভাবিক চিন্তা-ভাবনা করার যে সামান্য ক্ষমতা অবশিষ্ট ছিল, তা লোভী-চাটুকারেরা মোসাহেবির মাধ্যমে নিঃশেষ করে ফেলেছে।

গত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে লজ্জাজনকভাবে ক্ষমতাচ্যুতি ও পলায়নের পর, তার নিজের ও তার দলের কর্মকাণ্ড নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করে আওয়ামী লীগের ও এর নেতৃবৃন্দের দোষ-ত্রুটিগুলোকে চিহ্নিত করা দরকার ছিল। রাজনীতিতে ফিরতে চাইলে দেশের মানুষের সাথে সংঘটিত অন্যায়-অপকর্মগুলির জন্য অনুতাপ না করলে দেশের মানুষ কেন তাদেরকে ক্ষমা করবে বা আবার আস্থায় নেবে? কিন্তু আত্মম্ভরি শেখ হাসিনা সেসবের দিকে যাননি। তিনি মনে করছেন कि তার সময়ে প্রয়োজনের চেয়ে বহুগুণ বেশি অর্থ ব্যয়ে করা উন্নয়ন কাজের জন্য দেশবাসী তাঁকে আবার গ্রহণ করবে! কী নিদারুণ দিবাস্বপ্ন! বস্তুতঃ শেখ হাসিনা দলের নেতৃত্বে থাকাকালে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কখনোই মূল খেলোয়াড় হতে পারবে বলে মনে হয় না। গত দুই দশকে যেভাবে আওয়ামী লীগকে পরিচালনা করা হয়েছে, তাতে বিকল্প নেতৃত্ব সৃষ্টি হওয়ারও কোনো সুযোগ ছিল না। ফলে, বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কোনও ব্যক্তি ওই দলে নেই। তাছাড়া শেখ হাসিনার সাথে তার দলের সব চোর-বাটপারও পালিয়ে গেছে। তারা এখন বিদেশের মাটিতে বসে দেশের সরকার ও গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের মানুষদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে, যা তাদের প্রতি দেশের মানুষের ভীতি ও বিতৃষ্ণাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। দেশে অবস্থানরত তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির নেতাকর্মীরা মাঝে মাঝে টাকার বিনিময়ে রাস্তায় চোরাগোপ্তা মিছিল করে ভাবছে আওয়ামী লীগকে দেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করছে। ঢাকা বা দেশের বিভিন্ন শহরের রাজপথে ৫০-১০০ জনের মিছিল শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনবে, এই চিন্তাটা শুধু বালখিল্য নয়, দিবাস্বপ্নের চেয়েও বড় কিছু।

এনসিপি-জামায়াতের অস্থিরতা এবং অহর্নিশ ষড়যন্ত্রের কারণে অনেকে মনে করেন আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। বিএনপির গত নির্বাচনী ইশতেহারেও সে বিষয়ে একটি পথ তৈরি করে রাখা হয়েছে। বিষয়টি বিএনপি বিবেচনা করবে প্রয়োজন অনুভব করলে, এবং তা হবে বিএনপির জন্য সুবিধাজনক সময়ে। কিন্তু কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা এবং দেশের মানুষের আস্থাভাজন না হয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করলে, তা আওয়ামী লীগের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না; বরং তা তাকে অবশ্যম্ভাবী বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
লাইসেন্স জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগে গতি আনতে বড় সংস্কার

ট্রেড লাইসেন্স সম্পূর্ণ ডিজিটাল, আরজেএসসিসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:১৫ এম


ট্রেড লাইসেন্স সম্পূর্ণ ডিজিটাল, আরজেএসসিসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে

দেশে ব্যবসা শুরু করতে বর্তমানে গড়ে প্রায় ৩৫৫ দিন সময় লাগে। তবে ভবিষ্যতে একটি নতুন প্রতিষ্ঠানকে মেশিনপত্র আমদানির জন্য এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার পর্যায়ে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ১৪ দিন। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে লাইসেন্স, ক্লিয়ারেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, দেশে বিনিয়োগের গতি বাড়াতে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা দূর করা হবে এবং সেবাগুলোকে দ্রুত ও ডিজিটাল করা হবে। তিনি বলেন, 'বর্তমানে বাংলাদেশে একটি ব্যবসা শুরু থেকে কার্যক্রমে যেতে প্রায় ৩৫৫ দিন সময় লাগে। আমরা সেটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি। লক্ষ্য হচ্ছে, একটি নতুন কম্পানি যেন মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে মেশিনপত্র আমদানির জন্য এলসি খোলার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।' তবে সব ধরনের লাইসেন্স ১৪ দিনের মধ্যে দেওয়া সম্ভব হবে না, এমনটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফায়ার লাইসেন্সসহ কিছু ক্ষেত্রে সরেজমিন পরিদর্শন ও কারিগরি যাচাই প্রয়োজন হয়। এজন্য এসব সেবায় কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। ট্রেড লাইসেন্স প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ অনলাইনে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে ট্রেড লাইসেন্স নিতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা কিংবা সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে সরাসরি যেতে হবে না। তিনি বলেন, 'একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টালে আবেদন ও ফি জমা দিলেই ট্রেড লাইসেন্স ডাউনলোড করা যাবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের হিসাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফি জমা হবে।' এছাড়া যৌথ মূলধনি কম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধক দপ্তর (আরজেএসসি), শেয়ার হস্তান্তর এবং কম্পানি অবসায়ন প্রক্রিয়াও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রস্তাবিত বাজেটের প্রশংসা করে मुक्तাদির বলেন, এবারের বাজেট তার প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বাজেটকে 'স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধিনির্ভর' হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, 'এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দক্ষতা বৃদ্ধি।' তিনি জানান, মোট বাজেটের ১৩ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষা খাতে এবং ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে হলে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হবে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো গেলে ৮ দশমিক ৫ থেকে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব বলেও তিনি মত দেন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে লজিস্টিক ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক বেশি। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধি করা গেলে পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের উৎপাদক ও ভোক্তা পর্যায়ের দামের বড় ব্যবধান কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রয়োজন রয়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে দেশের প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার শিল্প বিনিয়োগ কার্যত স্থবির হয়ে আছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না। তবে পরিস্থিতি উন্নয়নে এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি সার কারখানার জন্য পৃথক এলএনজি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও চলছে। চামড়া ও পাট খাতকে দেশের ভবিষ্যৎ রপ্তানির অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) উন্নয়নের মাধ্যমে চামড়া খাতের রপ্তানি ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। এ ছাড়া গবেষণা, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের মাধ্যমে পাট খাতকেও আরো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। বক্তব্যের শেষদিকে মন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান বাজেট ও নীতিগত সংস্কারের লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং উচ্চ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। আমরা বিশ্বাস করি, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় চাঁদাবাজদের গু-লিতে আহত ভাঙারি ব্যবসায়ী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:১৫ এম


খুলনায় চাঁদাবাজদের গু-লিতে আহত ভাঙারি ব্যবসায়ী

চাঁদা না দেওয়ায় রফিকুল ইসলাম মানিক (৪০) নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাত ১০টার দিকে নগরীর গল্লামারী আইডিয়াল নার্সিং হোম ক্লিনিকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আহত ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মানিক নগরীর এম এ বারি সড়কের বাসিন্দা রুস্তুম মাঝির ছেলে।

খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গল্লামারী আইডিয়াল নার্সিং হোমের সামনে মানিকের ভাঙারি ব্যবসা রয়েছে। সম্প্রতি এক সন্ত্রাসী তার কাছে যাওয়া দাবি করেছিল। বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানাননি। আজ রাতে মানিক দোকানের সামনে বসেছিলেন। দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে মানিকের পেটের বাম পাশে গুলি লাগে। 

তিনি জানান, ঘটনার পরপরই জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। ওই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা করা চলছে। 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%