বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:০২ পি.এম
কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংসতা সংক্রান্ত খবরের জন্য "গেরুয়া গুন্ডামি" শব্দবন্ধটি ব্যবহারের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের সংবাদপত্র ‘আনন্দবাজার’ এর সাংবাদিকরা এফআইআর এর মুখোমুখি হয়েছেন। বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট সাংবাদিকদের জরুরি ভিত্তিতে কোনো ধরনের আইনি সুরক্ষা বা স্বস্তি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
দৈনিকটির শিরোনামকে কেন্দ্র করে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাংবাদিকদের পক্ষে উপস্থিত বর্ষীয়ান আইনজীবী এস. এন. মুখার্জি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের কাছে অবিলম্বে আদালতের হস্তক্ষেপের আবেদন জানান।
অভিযুক্ত সাংবাদিকরা আদালতের কাছে এফআইআরগুলো সম্পূর্ণ বাতিল বা রদের আবেদন জানিয়ে শরণাপন্ন হয়েছেন। আইনজীবী মুখার্জি আদালতকে জানান, তার মক্কেল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি ঘটনাটির গুরুত্বের দিকে ইঙ্গিত করে অবিলম্বে শুনানির আর্জি জানান। আদালতে এস. এন. মুখার্জি বলেন, "বলা হয়েছে যে আমি নাকি সাম্প্রদায়িক অনুভূতিতে উস্কানি দিচ্ছি। এ সংক্রান্ত ৩টি ঘটনা ঘটেছে। আমার জরুরি স্বস্তি প্রয়োজন।"
আদালত উল্লেখ করে যে, এফআইআর বাতিলের আবেদন করা উচিত। মুখার্জি জবাবে বলেন, "আমি এফআইআর বাতিলের জন্যই আর্জি জানাচ্ছি।" তবে আদালত মামলাটিকে জরুরি শুনানির তালিকায় তুলতে রাজি হয়নি এবং জানায় যে সাধারণ বা নিয়ম মাফিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই মামলা বিবেচনা করা হবে। আদালত মন্তব্য করে, "আবেদন জমা দিন, তা উপস্থাপনার নিয়ম অনুসারেই ক্রমানুসারে তালিকায় আসবে।"
আইনজীবী মুখার্জি যখন জরুরি শুনানির জন্য ফের জোর দেন, তখন বেঞ্চ জানায় যে এফআইআর বাতিলের চেয়ে আরও বেশ কয়েকটি পিটিশন ইতিমধ্যেই তাদের কাছে বিচারাধীন রয়েছে। আদালত বলে, "আমি এখন কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের তারিখ নির্ধারণ করছি না কারণ আমার কাছে এফআইআর বাতিল সংক্রান্ত একাধিক বিষয় বিচারাধীন রয়েছে।" আইনজীবী বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন যে, এটি "একেবারেই রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়" এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে হওয়া বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করতে আদালতকে অনুরোধ জানান। বিচারপতি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তিনি বিশেষভাবে মামলাটি তালিকার শীর্ষে তুলতে পারবেন না।
আদালত আরও বলে, "আমি সময় নির্ধারণ করে দিতে শুরু করতে পারি না। এটা তালিকায় আসবে। খুব বেশি মামলা জমেনি, বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। না হলে আপনি আমাকে মনে করিয়ে দিতে পারেন। আমি এখন জরুরি শুনানির অনুমতি দিচ্ছি না।" পরবর্তীতে পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে আবারও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করার অনুমতি চান আইনজীবী মুখার্জি।
তিনি বলেন, "পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটলে আমাদের বিষয়টি পুনরায় আদালতের সামনে আনার অনুমতি দেওয়া হোক। দুজন জ্যেষ্ঠ নারী সাংবাদিককেও এই মামলায় টানা হয়েছে।" আদালত আইনজীবীদের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনটি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং ইঙ্গিত দেয় যে পরবর্তীতে তারা মামলাটি দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিতে পারেন।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘাতের প্রতিবেদন ও এফআইআর
গত ২০ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ওপর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আনন্দবাজার পত্রিকা "গেরুয়া গুন্ডামি" শব্দবন্ধটি ব্যবহার করার পর এই এফআইআরগুলো দায়ের করা হয়। ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের এক সাধারণ সভা চলাকালীন ওই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরু করার অভিযোগ তোলে এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের নিয়ে আসার দাবি করে। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
উল্লেখ্য, এবিভিপি জাতীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সাথে যুক্ত একটি চরমপন্থী সংগঠন, যা ভারতীয় জনতা পার্টিরও (বিজেপি) অভিভাবক সংস্থা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফআইআরে আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক ঈশানী দত্ত রায় এবং প্রধান প্রতিবেদক সোমা মুখার্জিসহ সম্পাদকীয় দলের সদস্যদের নাম রয়েছে।
পত্রিকা অফিসের সামনে বিক্ষোভ
হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সাথে যুক্ত একদল লোক কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা অফিসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষোভকারীরা "গেরুয়া গুন্ডামি" শব্দবন্ধ ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা ভবনের দেয়ালে গেরুয়া রং লেপে দেয় এবং স্লোগান তোলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা যখন ভবনের অংশে রং মাখছিল, তখন কাছেই পুলিশ সদস্যরা দাঁড়িয়ে ছিলেন।
পরবর্তীতে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ ভবনের দেয়ালগুলো পুনরায় রং করে নেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলা, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দেশের বর্তমান পরিস্থিতি কাটিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিগত সরকার দীর্ঘ ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতির কোমর এমনভাবে ভেঙে দিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিনতম সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। এই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে আমাদের সবাইকে অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’
আজ বুধবার বিকেল ৩টায় ভোলার নতুন বাজার চত্বর এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ভোলা জেলা শাখা আয়োজিত একটি গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আজ তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকা ভোলা সফরে আসেন।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শেষে বিকেল ৪টায় শহরের উকিলপাড়াস্থ নিজের বাসভবনে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় জেলা পুলিশ কর্তৃক গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন তথ্যমন্ত্রী।
বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময়ে আন্দোলনের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের শাসনকাল থেকে শুরু করে বিগত ১৮ বছর জাতীয়তাবাদী শক্তির ওপর অপূরণীয় নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত দিনে রাজনীতিতে নানা প্রলোভন ও সুবিধাপ্রাপ্তির সুযোগ থাকলেও তা প্রত্যাখ্যান করে আমি জিয়া পরিবারের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলাম। জিয়া পরিবার ও দল আমাকে সেই মূল্যায়ন করেছে। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’
ভোলার ভৌগোলিক ও সামাজিক অবকাঠামো ঢেলে সাজানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে কে আমাকে ভোট দিয়েছেন বা দেননি- তা দেখার বিষয় নয়। ভোলার উন্নয়নে আপনারা সবাই আমাকে সহযোগিতা করুন, সবাইকে সাথে নিয়ে ভোলার উন্নয়নের কাজ করতে হবে।’
দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এমপি হিসেবে বিগত সময়ে আমি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেইনি, ভবিষ্যতেও দেব না। আমার দল বা নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো অন্যায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা টেন্ডারবাজি করলে তাকে বরদাশত করা হবে না; সে আমার দলের লোক হতে পারে না।’
টিআর ও কাবিখাসহ সরকারি প্রকল্পের কোনো অনিয়ম হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
এর আগে আজ সকালে মন্ত্রী ঢাকার নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে বরিশাল ও লাহারহাট হয়ে স্পিডবোটযোগে ভোলা খেয়াঘাটে পৌঁছালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ভোলা জেলার সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম রতন ও সাধারণ সম্পাদক মো. মোতাছিম বিল্লাহর নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন।
এ সময় ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান ও পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, পিপিএম (বার) উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান সম্প্রতি মার্কিন বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় ‘নতুন রণকৌশল’ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব মহসিন রেজাই মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেছেন, খুব শীঘ্রই যুদ্ধক্ষেত্র ও কূটনীতিতে ইরানের এই নতুন কৌশল ওয়াশিংটনে দৃশ্যমান হবে।
মহসিন রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি মার্কিন প্রচেষ্টাকে ‘ব্যর্থ চেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "আপনারা নিজেদের জন্য যে নারকীয় পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, তা থেকে এই ধরনের ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে রেহাই পাবেন না।"
তিনি আরও বলেন, "খুব শীঘ্রই আপনারা দেখতে পাবেন যে যুদ্ধক্ষেত্র, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলার ক্ষেত্রে ইরানের নতুন কৌশল আপনাদের সমস্ত ভিত নাড়িয়ে দেবে।"
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন হামলার পর ইরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান ও সামরিক হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৯ জনে পৌঁছেছে। এই তথ্য ইরানি গণমাধ্যমের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রাতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকা লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। এই হামলার ফলে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রাণহানির বিস্তারিত পরিসংখ্যান
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহতদের তালিকা নিচে উল্লেখ করা হলো:
খুজেস্তান প্রদেশ: এখানে হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭ জন।
কুহেস্তাক: বিমান হামলায় ৪ জন নিহত হয়েছেন।
কেরমানশাহ: ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ৪ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।
লাভান দ্বীপ: আধা-সামরিক বাহিনী 'বাসিজ'-এর ৩ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
জাহরোম / ফার্স প্রদেশ: ১ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এই হামলার পর চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরে সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান হত্যা মামলায় আদালত এক আসামিকে মৃত্যুদন্ড এবং দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান খান এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি রুবেল এবং যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত এলিন ও শুভ কুমার পলাতক রয়েছেন। মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত মাদক কারবারি জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদিকে আদালত খালাস দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী বেলাল এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত সাংবাদিক উৎস রহমানের পরিবার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান রংপুরের একটি স্থানীয় দৈনিক যুগের আলো কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। এরপর রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে নগরীর ধর্মদাস এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের মা নুরজাহান বেগম নুরী রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে আদালত ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। দীর্ঘ ১০ বছর ৯ মাসের বিচারকার্য শেষে বুধবার আদালত রায় ঘোষণা করেন। মামলার বাদী নুরজাহান বেগম জানান, "এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।" তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাদী বেলাল ও বাদীপক্ষের আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ জানান, মামলার মূল অভিযুক্ত জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদিকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে সাংবাদিক উৎস রহমানকে হত্যা করিয়েছে।
তবে আদালত হত্যাকান্ডের মাস্টার মাইন্ডকেই খালাস দিয়েছে। এ রায়ে আইনজীবীসহ নিহতের পরিবার সংক্ষুব্ধ। তারা জানান, এ মামলার বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। হত্যার পর মূলহোতা পার পেয়ে গেলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ