প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দোকানে ঢুকে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনা আবারও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে বরিশালে নিজের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম। তাঁর অভিযোগ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার পরও মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। বরং অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।
সাংবাদিক আসলামের প্রশ্ন, একজন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরও যদি তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে বিপদের মুহূর্তে তিনি কার কাছে যাবেন? তাঁর আশঙ্কা, তাঁর মৃত্যুর পরই কি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের টনক নড়বে?
সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাতে বরিশাল নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রিফিউজি কলোনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একসময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তির নেতৃত্বে মোটরসাইকেলে মহড়া ও প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সংঘটিত ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তালাশ বিডি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ওই ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সাংবাদিক আসলাম। তাঁর দাবি, অপরাধ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক সংবাদ প্রকাশ করাই ছিল তাঁর পেশাগত দায়িত্ব। তবে এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
তাঁর অভিযোগ, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের খেলার মাঠসংলগ্ন সড়কে মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে মাথায় অস্ত্র তাক করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আর কোনো সংবাদ প্রকাশ না করতেও তাঁকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় বলে দাবি তাঁর।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেছেন বলে জানান সাংবাদিক আসলাম। তাঁর দাবি, মামলার কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে মুক্তি পান। তবে মামলার প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা ‘নাককাটা রুবেল’ এখনো গ্রেপ্তার হননি।
৭ অক্টোবর ফের হত্যার হুমকি, মামলা প্রত্যাহারে চাপের অভিযোগ
সাংবাদিক আসলামের অভিযোগ, মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হলেও অন্য আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। তাঁদের মধ্যে মামলার ৬ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখিত আসলাম গ্রুপের শীর্ষ সন্ত্রাসী আসলাম গত ৭ অক্টোবর তাঁকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেন।
আসলামের ভাষ্য, মামলার ৬ নম্বর আসামি আসলাম ওরপে মেলা আসলাম। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে তাঁকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর ছোট সন্তান স্কুলে পড়ে—এ বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁকে মানসিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে যেন তিনি মামলা তুলে নেন, সে উদ্দেশ্যেই এ চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ পরিস্থিতিতে নিজের পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও চরম উদ্বেগে রয়েছেন বলে জানান সাংবাদিক আসলাম।
‘আসামির লোকেশন খুঁজে দেওয়া কি সাংবাদিকের দায়িত্ব?’
মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া এবং নতুন করে হত্যার হুমকির অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানান সাংবাদিক আসলাম। তাঁর দাবি, একাধিকবার বিষয়টি জানিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, পিপিএম তাঁকে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কাজ করছে। আপনি আসামির বর্তমান লোকেশন (অবস্থান) দিন, আমরা অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করব।”
অন্যদিকে, বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়ে সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি মডেল থানা) অলক কান্তি শর্মা বলেন, “পুরো ব্যাপারটা আমি দেখছি।”
তবে আসলামের অভিযোগ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া এবং নতুন করে প্রাণনাশের হুমকির বিষয়টি জানানোর পরও তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম বলেন, “আমি একজন সাংবাদিক। আমি সংবাদ সংগ্রহ করি, অপরাধের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরি এবং জনগণের সামনে সত্য প্রকাশের চেষ্টা করি। কিন্তু একজন অভিযুক্ত কোথায় অবস্থান করছেন, তা শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান পরিচালনা করা আমার দায়িত্ব নয়। আমি যদি নিজেই আসামির লোকেশন খুঁজে বের করে দিতে পারি, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতার ভূমিকা কী?”
তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করতে তদন্তে সময় লাগতে পারে। কিন্তু সে কারণে হত্যার হুমকির অভিযোগে আক্রান্ত একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়। মামলার অগ্রগতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর ও পরিবারের নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তদন্তে ছয় আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা, তবু অধরা প্রধান আসামি নাকা রুবেল।
সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম জানান, এ ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়। তাঁর দাবি, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ছয়জন আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পেয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছেন এবং এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করেছেন।
তবে মামলার এক নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাককাটা রুবেল’ এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক আসলাম।
তাঁর দাবি, একসময় র্যাবের ক্রসফায়ারের তালিকায় নাম থাকা এই ব্যক্তির কাছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র মজুত রয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের মজুত সম্পর্কেও প্রশাসন অবগত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া প্রয়োজন।
মাছুদুর রহমান আসলামের প্রশ্ন, মামলার তদন্ত শেষে ছয়জনের বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলেও প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা না গেলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে হত্যার হুমকির মুখে থাকা একজন সাংবাদিক, কীভাবে নিরাপদ বোধ করবেন? অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান পরিচালনা করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। সেখানে একজন সাংবাদিককেই যদি আসামির অবস্থান খুঁজে দিতে হয়, তাহলে পুলিশের তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের ভূমিকা কী?
ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক আসলাম বলেন, “একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব অপরাধের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে জনসমক্ষে তুলে ধরা। আসামির অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করানো আমার দায়িত্ব নয়। পুলিশ যদি একজন সাংবাদিকের কাছেই আসামির লোকেশন চায়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজটা কী? একজন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ থাকার পরও যদি তাঁকে নিরাপত্তা দিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে তাঁর মৃত্যুর পর লাশের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা আর শোক প্রকাশ করা ছাড়া প্রশাসনের আর কী করার থাকবে?”
তিনি আরও বলেন, “আমি চাই না, আমার মৃত্যুর পর প্রশাসন তৎপর হোক। আমি বেঁচে থাকতে আমার অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করা হোক, প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হোক এবং আমার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। একজন সাংবাদিকের মৃত্যুর পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে তাঁকে জীবিত অবস্থায় নিরাপত্তা দেওয়াই রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব।”
আমার মৃত্যুর পরই কি জাগবে প্রশাসন?’
নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনা নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানান সাংবাদিক আসলাম। তাঁর আশঙ্কা, হত্যার হুমকির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে পারেন তিনি।
নিজের জীবনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরে আসলাম বলেন, “আমি যদি কোনো দিন হত্যার শিকার হই, তখন কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঘুম ভাঙবে? আমার মৃত্যুর পর কি আমার অভিযোগ, আমার মামলা এবং আমার নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে? একজন সাংবাদিককে বাঁচিয়ে রাখতে যদি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে তাঁর মৃত্যুর পর বিচার চাওয়ার অপেক্ষা কেন?”
তিনি আরও বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পেয়ে সত্য প্রকাশের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চাই না। আমি রাষ্ট্র ও দেশের মানুষের জন্য, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং অপরাধের তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকতা করি। কিন্তু আমার একটি ছোট সন্তান রয়েছে। সে স্কুলে পড়ে। আমার কিছু হয়ে গেলে তার ভবিষ্যৎ কী হবে? তাকে কে দেখবে, কীভাবে বড় হবে? একজন বাবা হিসেবে এই প্রশ্ন আমাকে প্রতিনিয়ত ভাবায়।”
আসলামের বক্তব্য, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকলেও সন্তানের ভবিষ্যৎ তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলছে। একজন বাবা হিসেবে তিনি চান, তাঁর সন্তান নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠুক এবং তাঁকে বাবার নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে না হোক।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?
সাংবাদিকদের রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি, অপরাধ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র তুলে ধরার মাধ্যমে তাঁরা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি হত্যার হুমকি, হামলা কিংবা মামলা প্রত্যাহারের চাপের মুখে পড়তে হয়, তাহলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।
সাংবাদিক আসলামের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি। তাঁর দায়ের করা মামলার তদন্ত কত দূর এগিয়েছে? ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের পর মামলার পরবর্তী অগ্রগতি কী? প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? গত ৭ অক্টোবর নতুন করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে কি না? তাঁর ও পরিবারের নিরাপত্তা মূল্যায়ন করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না?
এসব প্রশ্নের জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আসা প্রয়োজন। অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
আমার কলম থামানোর আগে সত্য যাচাই করুন’
সাংবাদিক আসলামের বক্তব্য, ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা কাউকে হয়রানি করা তাঁর সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য নয়। অপরাধের তথ্য সংগ্রহ, প্রমাণ যাচাই এবং জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করাই তাঁর কাজ। কোনো প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং আইনসম্মতভাবে প্রতিকার চাওয়ার পথও খোলা রয়েছে। কিন্তু হত্যার হুমকি কিংবা জোর করে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন তিনি।
তাঁর মতে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আশ্বাস বা আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ এবং বাস্তব নিরাপত্তাব্যবস্থা।
নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, হুমকির অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং সম্ভাব্য বিপদ প্রতিরোধে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া কতটা জরুরি। কোনো সাংবাদিকের মৃত্যুর পর তদন্ত ও বিচারের উদ্যোগ নেওয়ার চেয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করে আগেই তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ চান আসলাম
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সাংবাদিক আসলাম জানিয়েছেন, সত্য প্রকাশের দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যেতে চান না তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁর অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে, মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করবে এবং তাঁর ও পরিবারের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তিনি চান না, তাঁর সন্তানকে কখনো বাবার হত্যার বিচার চাইতে রাজপথে দাঁড়াতে হোক কিংবা বাবার অনুপস্থিতিতে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে হোক।
একজন সাংবাদিকের কলম যদি অপরাধের তথ্য তুলে ধরার কারণে ভয়ের মুখে থেমে যায়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হন শুধু ওই সাংবাদিক নন; ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষের জানার অধিকারও। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো বিশেষ অনুগ্রহ নয়; এটি আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ রক্ষার অপরিহার্য অংশ।
সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলামের প্রশ্নটি তাই শুধু তাঁর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে নয়; এটি দেশের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিয়েও।
তাঁর আকুতি, “আমার মৃত্যু হলে তখন হয়তো আমার কথা সবাই শুনবেন। কিন্তু আমি বেঁচে থাকতে, আমার সন্তান বাবাকে কাছে পেতে এবং আমি নিরাপদে সাংবাদিকতা চালিয়ে যেতে—সেই নিশ্চয়তা কি এখনই দেওয়া যায় না?”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন