বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:০২ এম
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মূলত শাপলা চত্বরের শহীদ পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তাকে এই ধন্যবাদ জানানো হয়।
রাজধানীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ইসলামী বইমেলায় ‘শাপলা কর্নার’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মামুনুল হক উল্লেখ করেন, “সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বসে প্রথমবারের মতো ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের শহীদ পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে সম্মাননা দিয়েছেন। এই অনন্য উদ্যোগের অকপট স্বীকৃতি ও কৃতিত্ব দিয়ে উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাই ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।”
শাপলা চত্বরের আত্মত্যাগকে জাতীয় ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেমন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ভিত থেকে এসেছিল, তেমনি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মূল প্রেরণাও প্রোথিত ছিল ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের রক্তে রাঙা আত্মত্যাগের মাঝে। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের মতো শাপলার শহীদরাও যেন পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পান, সেই দাবি সংসদে ও রাজপথে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মাওলানা মামুনুল হক জানান, শাপলা স্মৃতি সংসদ দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর শহীদদের একটি প্রামাণ্য তালিকা তৈরি করে ‘শহীদনামা’ শীর্ষক স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শাপলা হত্যাকাণ্ডের মামলা ও শহীদদের পরিচয় শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে এই তালিকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
অনুষ্ঠানে তিনি শাপলা স্মৃতি সংসদের সদস্যসচিব মাওলানা কামালউদ্দীনসহ সংশ্লিষ্ট সদস্য এবং মেলায় স্টল বরাদ্দ দেওয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মেলা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। মামুনুল হক শাপলার চেতনা তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ায় নাশকতার মামলায় জামিন নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। বিএনপির নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন যে, হামলায় ৫-৬ জন সমর্থক আহত হয়েছেন। পরে জানা গেছে, বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ভাঙচুর ও তার পাটের গোডাউনে আগুন দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলকোলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ অনুযায়ী, পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. রুহুলের নেতৃত্বে হামলা ও ভাঙচুরটি সংঘটিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হামলার শিকার বিএনপির সমর্থকরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর নলকোলা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা মুড়ি-চানাচুর খাচ্ছিলেন। এ সময় রুহুলের নেতৃত্বে প্রায় ৫০-৬০ জন ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা কার্যালয়ে ভাঙচুর করে এবং বিএনপির কয়েকজন সমর্থককে মারধর করে। তাদের দাবি, এতে ৫-৬ জন আহত হন।
তারা আরও জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা মিছিল করায় ইবি থানায় একটি নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলসহ বেশ কয়েকজন আসামি হন। মঙ্গলবার আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ফেরার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলার পর বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলের বাড়িতে ভাঙচুর করেন। এ সময় তার পাটের গোডাউনে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. ফয়সাল মাহমুদ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে ইবি থানা পুলিশ উপস্থিত রয়েছে। তিনি বলেন, "আমিও ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বেকারি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন এই খাতের ব্যবসায়ী নেতারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় ব্যবসায়ীদের ঘোষণাসহ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ব্যয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনার পর ব্যবসায়ী নেতারা বিস্কিট ও ব্রেডের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখার বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেন।
এদিকে, বেকারি পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যয়, কাঁচামালের মূল্য, কর ও শুল্কসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনার জন্য বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সভায় সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত না করে জনস্বার্থ ও ভোক্তাদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যৌক্তিক মূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সভায় সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা এবং বেকারি পণ্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম মহোদয়।
কল্যাণসভায় পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন পর্যায়ের সমস্যা, সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সরাসরি মতবিনিময় করেন পুলিশ সুপার মহোদয়। তিনি পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শুনে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ছুটি, চিকিৎসা, খাবারসহ অন্যান্য কল্যাণমূলক বিষয় নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সতর্কতা, সচেতনতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
কল্যাণসভা শেষে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সাফল্য, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, আসামি গ্রেফতারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সাফল্য অর্জনকারী পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের পুরস্কার, সম্মাননা ও সনদপত্র প্রদান করেন পুলিশ সুপার মহোদয়।
পুলিশ সুপার মহোদয় বলেন, পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভালো কাজের যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি প্রদান একটি ফোর্সবান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার জন্য তিনি সকলকে উৎসাহিত করেন।
সভায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ চেকপোস্ট কার্যক্রমের আওতায় ২৮ হাজার ৫টি গাড়ি ও মোটরসাইকেলে তল্লাশি সম্পন্ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার অভিযানের ফলে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে একটি দেশীয় অস্ত্র। পাশাপাশি ১ হাজার ১৪টি গাড়ি ও ১ হাজার ১২৮টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটের চেকপোস্ট সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন ও জেলা পর্যায়ে মোট ১ হাজার ৬৩৭টি চেকপোস্ট পরিচালিত হয়েছে। এসব চেকপোস্টে ২২ হাজার ৮টি গাড়ি এবং ২৮ হাজার ৫টি মোটরসাইকেলে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হয়।
অভিযানে ১ হাজার ১৪টি গাড়ি ও ১ হাজার ১২৮টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজধানীর ঢাকা মহানগরীতে ২১৫টি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। এসব চেকপোস্টে ৩ হাজার ৭৪৮টি গাড়ি ও ৪ হাজার ৭৮৭টি মোটরসাইকেলে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়ির বিরুদ্ধে ১৬৭টি এবং মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ৩১৭টি প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে ২৬৯টি চেকপোস্টে ৫ হাজার ৪৫৯টি গাড়ি ও ৪ হাজার ৮৯৬টি মোটরসাইকেলের তল্লাশি করা হয়। এ সময় ৩৭২টি গাড়ি ও ২৪৫টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করা হয়।
খুলনায় ২১৫টি চেকপোস্টে ১ হাজার ৫০৮টি গাড়ি এবং ২ হাজার ৬৩৪টি মোটরসাইকেলে তল্লাশি পরিচালিত হয়। এ সময় ১৩২টি গাড়ি ও ৪২টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজশাহীতে ১১৯টি চেকপোস্টে ১ হাজার ৩৩৬টি গাড়ি ও ২ হাজার ৬০১টি মোটরসাইকেলে তল্লাশি করা হয়। এ সময় ১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে ২৬ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ময়মনসিংহে ৬৭টি চেকপোস্টে ১ হাজার ২৮১টি গাড়ি ও ১ হাজার ৬১৮টি মোটরসাইকেলে তল্লাশি করা হয়। এ সময় গাঁজাসহ একজনকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক ও অবৈধ মালামাল উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্রধারী ও অপরাধীদের শনাক্তে এ ধরনের বিশেষ চেকপোস্ট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ