০২:০৬ পি.এম
গ্রাহকের ফেরত দেওয়া ক্রেডিট কার্ড ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজে রেখে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকার জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃত কর্মকর্তার নাম সারোয়ার হোসেন (৪০)।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে ডিএমপির গুলশান থানাধীন ৩২ নম্বর রোডের কমার্শিয়াল কোভ ভবন এলাকা থেকে সিআইডির ঢাকা মেট্রো (পশ্চিম)-এর একটি আভিযানিক দল তাঁকে গ্রেফতার করে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে যে, অভিযুক্ত সারোয়ার হোসেন ২০১৭ সালে একটি স্বনামধন্য ব্যাংকে সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার (কার্ড সেলস, রিটেইল ব্যাংকিং) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেসময় এক গ্রাহক ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন জানালেও পরে প্রয়োজন অনুভব না করে সেটি ব্যবহার না করেই ব্যাংকে ফেরত দেন। কিন্তু সারোয়ার এই কার্ডটি ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। পরবর্তীতে তিনি ভুয়া মোবাইল নম্বর এবং ঠিকানা ব্যবহার করে কার্ডটি সচল করেন, যাতে সমস্ত ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) তাঁর ফোনে আসে।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ফ্লাইট চালু হবে: আরিফুল হক
তদন্ত করতে গিয়ে জানা যায়, ২০১৭ সালের শেষভাগ থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভুক্তভোগী গ্রাহকের অজান্তে ওই কার্ডের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৭০ হাজার ২১৩ টাকার লেনদেন করেন সারোয়ার। এই লেনদেনের মধ্যে ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হলেও লভ্যাংশসহ অবশিষ্ট ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ২০১৯ সালে সারোয়ার ব্যাংকটির চাকরি ছেড়ে দিলেও ওই কার্ড ব্যবহার করে জালিয়াতি অব্যাহত রাখেন।
সম্প্রতি ভুক্তভোগী গ্রাহক বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্ট বের করতে গিয়ে দেখেছেন যে, তাঁর নামে ২০১৭ সাল থেকে একটি বড় অঙ্কের ঋণ দেখাচ্ছে, যা সম্পর্কে তিনি অবগত নন। এরপর তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর লিখিত অভিযোগ জানান, ফলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষে নজরে আসে।
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হলে, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় পেনাল কোডের ৪০৮/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-৩৫) রুজু করা হয়।
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সারোয়ার হোসেন জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি আরও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জালিয়াতি করেছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত সারোয়ারকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎমন্ত্রী: গত আট মাসে জ্বালানি আমদানিতে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন