১০:৫৫ এম
চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তারের সময় অমানবিক আচরণের অভিযোগ; তদন্ত কমিটি, দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস
সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দৈনিক কালবেলার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি আসাদ সবুজের মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, নিঃশর্ত মুক্তি এবং গ্রেপ্তারের সময় কথিত অমানবিক আচরণের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তির আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মুক্তি না দিলে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন বিএমএসএফের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
বৈঠকে সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা হেনস্তা ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। অভিযোগটি তদন্তে বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে আগামী ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তদন্তে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন তিনি।
বৈঠকে আরও উঠে আসে, একটি ভূমি-সংক্রান্ত ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে আসাদ সবুজ চাঁদাবাজির মামলায় জড়িয়েছেন—এমন দাবি করেছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন পুলিশ সুপার।
’
বৈঠক শেষে আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিক আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারের নামে তার সঙ্গে কোনো ধরনের অমানবিক আচরণ হয়ে থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসাদ সবুজকে মুক্তি না দিলে সাংবাদিক সমাজ দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি স্বাধীন গণমাধ্যম। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি, নির্যাতন ও মামলা দিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা হলে তার প্রভাব শুধু সাংবাদিকদের ওপর নয়, সামগ্রিকভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর পড়ে।
তারা আরও বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার হবে—এতে আপত্তি নেই। তবে সাংবাদিকতার কারণে কাউকে হয়রানি বা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলে তারও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
এ সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ৮ নভেম্বরের মধ্যে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে পরিচালনা করবেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের।
আগামীকাল রোববার বরগুনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল হক মাস্টার, বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাফিজুর রহমান, বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আরিফ রহমান ও আমির হোসেন, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা রাহাদ সুমন, জামাল হোসেন খান, দানিসুর রহমান লিমন, বেতাগী শাখার সভাপতি হাসান সিকদার, দুমকি শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান মামুন, বরগুনা জেলা শাখার সদস্য আসাদ তালুকদার ও রাসেল সিকদার এবং প্রেস ক্লাবের সদস্য কাশেম হাওলাদারসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
আরও পড়ুন: পিরোজপুরে শীতলা মন্দিরের জমি উদ্ধারের দাবিতে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন