ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেহা বোরা মুক্ত, অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ


নেহা বোরা মুক্ত, অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ

ভারতের দিল্লিতে আটক অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাকে পুলিশ মুক্তি দিয়েছে। তবে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ তাকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পরিকল্পনা করেছে। এ তথ্য বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের মতে, আইনের ৬৫ ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সিজেপি অভিযোগ করেছে যে, দিপককে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তার অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ কোনো তথ্য প্রদান করছে না।

আরও পড়ুন: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারালেন চান্দিনার সাগর

দিপকের অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব পালনকারী অজিঙ্কা শিন্ডে এএনআইকে জানিয়েছেন, আটকের আট ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তারা দিপকের অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানতে পারেননি। তিনি আরো অভিযোগ করেন, তাকে আইনজীবী কিংবা দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। আটক হওয়ার কারণ সম্পর্কেও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন শিন্ডে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নয়াদিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে নির্ধারিত কর্মসূচির আগে অভিজিৎ দিপককে তার বাসা থেকে আটক করা হয়। একই দিন যন্তর মন্তরের কাছ থেকে এআইএসএ নেতা নেহা বোরাকেও আটক করা হয়। উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবরও নেহা বোরাকে আটক করা হয়েছিল, তবে পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এদিকে, সিজেপির আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছে। তারা বর্তমানে পাঁচ দিনের কারা হেফাজতে রয়েছেন।

নয়াদিল্লিতে ফিরে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ মার্চ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিলেন অভিজিৎ দিপক। শুক্রবার বিকেলে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুন: সৌদি-হুথি সংঘাত সমাধানে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত ইরান

কিন্তু কর্মসূচির কয়েক ঘণ্টা আগে দিল্লি পুলিশ সিজেপি নেতাকে নোটিশ পাঠিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন না করার নির্দেশ দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরে করোলবাগে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (শারদ পাওয়ার) মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডের বাসা থেকে দিপককে আটক করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবাবি আমলের ঐতিহাসিক দোলেশ্বর জামে মসজিদে দর্শনার্থীদের ভিড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৫ এম


নবাবি আমলের ঐতিহাসিক দোলেশ্বর জামে মসজিদে দর্শনার্থীদের ভিড়

ঢাকার কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর গ্রামে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অনন্য স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ। প্রায় দেড় শ বছর ধরে কালের নানা পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে থাকা এই মসজিদ নবাবি আমলের স্থাপত্যশৈলীর একটি অনন্য নিদর্শন। এটি এখন দেশ-বিদেশের মানুষের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। সময়ের পরিক্রমায় একাধিকবার সংস্কার ও সম্প্রসারণ হলেও, এর মূল নকশা ও ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলী যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও নান্দনিক স্থাপত্যের স্বীকৃতি হিসেবে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ইউনেসকোর এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাওয়ার্ডস ফর কালচারাল হেরিটেজ কনজারভেশনে ‘অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ অর্জন করে মসজিদটি। একই মাসের ১৬ ডিসেম্বর সৌদি আরবের আবদুল লতিফ ফাওজান আন্তর্জাতিক মসজিদ স্থাপত্যশিল্পবিষয়ক অ্যাওয়ার্ডেও ভূষিত হয় এটি। এসব আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পর, দোলেশ্বর মসজিদ দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছে আরো পরিচিত হয়ে ওঠে।

স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলা ১২৭৫ সনে, অর্থাৎ ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দ ও ১২৮৫ হিজরিতে, দারোগা আমিনউদ্দিন আহমদ নিজ উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করেন। মসজিদ নির্মাণের প্রথম উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর নাম জড়িয়ে থাকায় একসময় এটি ‘দারোগা মসজিদ’ নামেও পরিচিত ছিল। দারোগা আমিনউদ্দিন আহমদের ছেলে মইজউদ্দিন আহমদ ছিলেন মসজিদের প্রথম মুতাওয়াল্লি। পরবর্তী সময়ে মইজউদ্দিন আহমদ, তমিজউদ্দিন আহমদ, করিমউদ্দিন আহমদ, খিদির বক্স মিয়া ও আবদুর গফুর আহমদ মসজিদের জন্য জমি ওয়াকফ করেন।

পুরনো রূপ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ

ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটিকে আধুনিকভাবে পরিবর্তন না করে, তার পুরনো রূপ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় হামিদুর রহমানের পরিবার। তাদের উদ্যোগে স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদের তত্ত্বাবধানে, মসজিদটির মূল অবকাঠামো ও স্থাপত্যশৈলী অক্ষুণ্ন রেখে পুনঃসংস্কারের কাজ শুরু হয়। ২০১৮ সালে সংস্কারকাজ শেষ হয়। পুরনো মসজিদের পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে নতুন একটি মসজিদ। ফলে ঐতিহাসিক পুরনো স্থাপনাটি এখন গ্রন্থাগার ও মক্তব হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এতে একদিকে মসজিদের ঐতিহাসিক কাঠামো সংরক্ষিত হয়েছে, অন্যদিকে নতুন মসজিদে নিয়মিত ইবাদতের ব্যবস্থা অব্যাহত আছে।

লাল ইটের নান্দনিক স্থাপত্য

দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদের অন্যতম আকর্ষণ এর লাল ইটের নির্মাণশৈলী। ঐতিহাসিক বাংলার মসজিদগুলোর প্রাচীন স্থাপত্যের সঙ্গে এ কাঠামোর বেশ মিল রয়েছে। মসজিদের এক গম্বুজবিশিষ্ট নকশা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। উঁচু ও গোলাকার গম্বুজের চারপাশে রয়েছে ছোট ছোট মিনারসদৃশ অলংকরণ। মসজিদের প্রবেশপথে রয়েছে খিলানযুক্ত দরজা। দরজার ওপরে ও চারপাশে সূক্ষ্ম কারুকার্য এবং নকশা খোদাই করা হয়েছে। সামনের দেয়ালেও রয়েছে নান্দনিক অলংকরণ। ভেতরের অংশ উঁচু ও প্রশস্ত। আলো-বাতাস চলাচলের জন্য রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা।

মসজিদের চারপাশের সবুজ পরিবেশও এর সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। ছোট ছোট গাছ, সবুজ ঘাস আর পাশের জলাধারে মসজিদের প্রতিচ্ছবি—সব মিলিয়ে জায়গাটি তৈরি করেছে মনোরম এক দৃশ্য। প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কার করায় স্থাপনাটি পেয়েছে নতুন প্রাণ, কিন্তু হারায়নি তার ঐতিহ্যের ছাপ। মসজিদটিতে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন স্থানীয় মুসল্লিরা। জুমার নামাজেও অংশ নেন শত শত মুসল্লি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ছুটে আসেন এর স্থাপত্য ও ঐতিহ্য দেখতে।

দেড় শতাব্দীর বেশি সময় ধরে নানা পরিবর্তনের মধ্যেও দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদের মূল স্থাপত্যশৈলী ধরে রাখা হয়েছে। পুরনোকে ভেঙে নতুন করে নির্মাণের পরিবর্তে ঐতিহাসিক কাঠামো সংরক্ষণ করে তার পাশে নতুন মসজিদ নির্মাণ—এই উদ্যোগ স্থাপত্য ঐতিহ্য রক্ষার একটি প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত।

কালের স্রোতে বহু স্থাপনা হারিয়ে গেলেও, দোলেশ্বর মসজিদ যেন আজও নীরবে বলে যাচ্ছে কয়েক প্রজন্মের ইতিহাস। এর ইট-পাথরের গায়ে মিশে আছে অতীতের স্মৃতি, স্থাপত্যের সৌন্দর্য এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের দীর্ঘ পথচলা। লাল ইটের দেয়াল, উঁচু গম্বুজ, সূক্ষ্ম কারুকাজ, সবুজ পরিবেশ আর জলাধারে প্রতিফলিত মসজিদের অবয়ব—সব মিলিয়ে দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ আজ বাংলাদেশের স্থাপত্য-ঐতিহ্যের জীবন্ত স্মারক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালকিনিতে মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিএনপির আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাওন বল,মাদারীপুর প্রতিনিধি:

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৫ এম


কালকিনিতে মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিএনপির আলোচনা সভা

মাদক, চাঁদাবাজি ও এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মাদারীপুরের কালকিনিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সাহেবরামপুর কলেজ চত্বরে স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‘বিএনপির মূলনীতি, আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’—এ স্লোগানকে সামনে রেখে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আনিছুর রহমান তালুকদার খোকনের দিকনির্দেশনায় সভাটির আয়োজন করা হয়।

সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল হাওলাদারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সাহেবরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মো. সিরাজুল হক বেপারী, বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন, খলিল সরদার, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ আরিফ হাওলাদার, আরিফ সিকদার, জাকির সরদার, জুয়েল, কামাল সরদারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সভায় মাদক ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মীরা এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলেনস্কির অভিযোগ: রাশিয়াকে তহবিল জোগাতে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৫ এম


জেলেনস্কির অভিযোগ: রাশিয়াকে তহবিল জোগাতে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের নতুন ড্রোন হামলা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এটিকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের এই সমালোচনার প্রেক্ষিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি শুধুমাত্র তার দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছেন। তিনি মস্কোর কাছ থেকে ডিজেল আমদানির জন্য ওয়াশিংটনের বিতর্কিত চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে অভিযোগ করেছেন যে, এটি পুতিনের পকেটে যুদ্ধের তহবিল জোগাতে সহায়তা করবে।

সম্প্রতি রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর ট্রাম্প একপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। কিন্তু মস্কো সেই চুক্তি মানতে অস্বীকার করে এবং ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রাখে, যার ফলে কিয়েভও গত মঙ্গলবার থেকে পাল্টা হামলা শুরু করে। এ ঘটনার পর এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুতিনের চেয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে চুক্তি করা বেশি কঠিন। তিনি বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।’ ট্রাম্পের মতে, ইউক্রেনের এই হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ডিজেল সরবরাহের চুক্তি ব্যাহত হচ্ছে। আগামী মাসের মিড-টার্ম নির্বাচনের আগে দেশে জ্বালানির দাম কমাতে রাশিয়া থেকে তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির চুক্তি করেছিলেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সম্মেলনে যোগ দিয়ে জেলেনস্কি ইইউ নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ট্রাম্পকে পরোক্ষভাবে নিশানা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রকৃত নেতাদের মাঝে ফিরতে পেরে বেশ ভালো লাগছে।’

ডিজেল চুক্তির বিরুদ্ধে তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আজ ডিজেল চুক্তি হলো, কাল হয়তো গ্যাস চুক্তি হবে। আমি যদি এর প্রতিবাদ না করি, তবে আর কে করবে?’

সম্মেলনে জেলেনস্কি ইইউ নেতাদের কাছে সতর্ক করে জানান, আগামী বছর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইউক্রেনের ১৫৫ বিলিয়ন ইউরো প্রয়োজন হবে, যার মধ্যে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা ও অস্ত্রের জন্যই ইইউ থেকে অন্তত ৭০ বিলিয়ন ইউরো দরকার। তিনি আমেরিকার তৈরি ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটের কথা উল্লেখ করে শীতের দিনে আকাশ সুরক্ষায় ইউরোপকে দ্রুত সহায়তা করার আহ্বান জানান।

এদিকে, সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনকে রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে চাপ দিতে তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’-এর গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাতে স্টারলিংক ধীরগতির হয়ে পড়ার সুযোগে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি স্থানে রাশিয়া প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালায়, যার জন্য কোনো আগাম সতর্কতা জারি করা সম্ভব হয়নি। জেলেনস্কি এটিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অপ্রীতিকর বিস্ময়’ বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি তেল শোধনাগারে হামলা না থামালে গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ব্রাসেলসে সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন—‘ট্রাম্প কি নিজের রাজনৈতিক চাপ সামলাতে জেলেনস্কিকেই বলির পাঁঠা বানাচ্ছেন?’ জবাবে জেলেনস্কি কিছুক্ষণ চুপ থেকে মৃদু হাসেন, যা উপস্থিত সাংবাদিকদের হাসিয়ে তোলে। তিনি বলেন, ‘আমার এই হাসিটুকুই প্রশ্নটির উত্তর।’

এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ইউক্রেনের খারকিভে রুশ ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে মস্কোর আকাশসীমা লক্ষ্য করে ইউক্রেনের চালানো বড় ধরনের ড্রোন হামলার পর ২৬টি অঞ্চলে অন্তত ৬৪৪টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রাশিয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারের পতন চাই, তবে নির্বাচন ও সাংবিধানিক উপায়ে: প্রকাশ রাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ এম


সরকারের পতন চাই, তবে নির্বাচন ও সাংবিধানিক উপায়ে: প্রকাশ রাজ

ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের পতন চাওয়ার কথা বললেও, অভিনেতা ও অধিকারকর্মী প্রকাশ রাজ উল্লেখ করেছেন যে, এটি বাংলাদেশ বা নেপালের মতো পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে হওয়া উচিত নয়, বরং নির্বাচন ও সাংবিধানিক উপায়ে এটি ঘটতে হবে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি মন্তব্য করেন যে, তারা উত্তর প্রদেশের নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন।

প্রকাশ রাজ বলেন, "আমরা এই সরকারের পতন চাই, এবং আমরা গণতান্ত্রিক উপায়েই তা ঘটাব।"

তিনি অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার আলোচনা বন্ধ করে বিক্ষোভকারীদের দমনে বলপ্রয়োগ করছে। এর ফলে সরকারের অপসারণের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ‘নৈরাজ্য’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে প্রকাশ রাজ বলেন, নাগরিকরা তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলছেন, বিক্ষোভ করছেন এবং নির্বাচনে ভোট দেবেন। তিনি বলেন, "আমরা কোনো অস্ত্র বহন করছি না। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান ও প্রতিবাদের অধিকার।"

শুক্রবার তেরঙ্গা পদযাত্রার আগে নেতাকর্মীদের আটকের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই অভিনেতা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, "মোদির সেই ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ স্লোগানের কী হলো? দেশের তরুণরা আজ জাতীয় পতাকা নিয়ে হাঁটতে চায়।"

বিক্ষোভকারীদের, বিশেষ করে নারীদের ওপর পুলিশি সহিংসতার অভিযোগও তোলেন প্রকাশ রাজ। আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে সংসদে এ বিষয়ে সরব হতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কৃষক সংগঠন সংযুক্ত কিষান মোর্চাসহ নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে প্রকাশ রাজ বলেন, আন্দোলনের পরবর্তী ধাপে আরও বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজপথে নামবেন।

তার বক্তব্যে সরকারের পরিবর্তনের দাবি স্পষ্ট হলেও সেই পরিবর্তন গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%