মোঃ শরীফ উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
০৬:০৮ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে গাঁজা বহনের অভিযোগে দুইজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে বাঞ্ছারামপুর থানার পুলিশ একটি চেকপোস্ট ডিউটি করছিল। এ সময় ফরদাবাদ ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকায় একটি প্রাইভেটকার থামিয়ে তল্লাশি শুরু করা হয়।
তল্লাশির সময় প্রাইভেটকার থেকে ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত গাঁজা ও প্রাইভেটকারটি আইন অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—
১. শামীম আহমেদ মোরশেদ, পিতা- আব্দুল আউয়াল মিয়া।
২. মোঃ শামীম, পিতা- ফারুক মিয়া।
দুইজনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মধ্যপাড়া এলাকায় অবস্থিত।
এ ঘটনায় বাঞ্ছারামপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লায় শটগান-বন্দুক, কার্তুজসহ যুবক গ্রেপ্তার
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কুমিল্লায় মো. এয়াকুব খান ওরফে বাবর (৩২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। এই যুবকের কাছে শটগান, দেশি বন্দুক ও দুই রাউন্ড কার্তুজ ছিল। রবিবার (৩০ আগস্ট) মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া স্টেশন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ্ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার হওয়া এয়াকুব নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা।
ওসি শামসুল আলম শাহ্ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৩টার দিকে নাথেরপেটুয়া স্টেশন বাজার এলাকায় একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল থামিয়ে এয়াকুবকে আটক করা হয়। এরপর মোটরসাইকেলের বাম পাশে বাঁধা একটি বস্তায় তল্লাশি চালানো হয়।
এই তল্লাশির সময় বস্তা থেকে একটি শটগান, দুই রাউন্ড কার্তুজ ও একটি দেশীয় বন্দুক উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় রবিবার বিকেলে এয়াকুবের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সম্প্রতি ‘মক্কা প্যাক্ট’ নামে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। নতুন সামরিক জোট গঠনের পর থেকেই এতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে আসছে বাংলাদেশ সরকার। তবে, বিষয়টি ঘিরে ইতিবাচক আলোচনার পাশাপাশি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে।
রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়টিই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের কাছে তুলে ধরেন সাংবাদিকরা।
জবাবে তিনি বলেন, বাঁচার আগে যদি মরার চিন্তা করেন তাহলে লাভ আছে? মানে বাঁচার আগে যদি মরার চিন্তা করি তাহলে তো সমস্যা। এটা একটা একক প্যাক্ট, নতুন উদ্যোগ। এটা একটা নতুন সুযোগ।
হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমানের অস্থিতিশীল বা সংকট-বিক্ষুব্ধ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে, আপনি অন্য কোনো জোট বা ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারবেন না। এটি আপনার কাজের পরিধিকে কোনোভাবেই সীমাবদ্ধ করে না।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি দেশকে বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার গতিপ্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অত্যন্ত সমন্বিত ও নমনীয় উপায়ে পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়গুলো পরিচালনা করতে হবে। সেই বিবেচনায়, এতে কোনো ঝুঁকি নেই। আমরা আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবিচল; আর যেখানেই শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থাকবে। বাংলাদেশ সর্বদা সেখানেই তার উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।
সম্প্রতি জেদ্দায় সৌদি ও তুরস্কের মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে হুমায়ুন কবিরের। সেখানে মক্কা ডিফেন্স প্যাক্টে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে আলোচনা ও মনোভাব জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বাংলাদেশ নতুন এই জোটের বিষয়ে ইতিবাচক।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসা এবং সহায়তা করা মোটেও খারাপ কিছু নয়। এসব বিষয়ে আলোচনা গঠনমূলকভাবে এগিয়েছে; দেখা যাক পরবর্তী ধাপে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়। আমরা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছি।
হুমায়ুন কবির বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তায় আমরা সামনের সারিতে রয়েছি। আমাদের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বলেই আমরা অবদান রাখি। অন্য কোনো বিকল্প নেই বলে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো স্বীকার করে যে, সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার কারণে বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থেই বাড়তি মূল্য বা গুরুত্ব যোগ করে।
মক্কা ডিফেন্স প্যাক্টে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে আনুষ্ঠানি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কিনা— এমন প্রশ্নে হুমায়ুন কবির জবাব দেন, যখন আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হবে আমরা অবশ্যই আপনাদের তা জানাব। বর্তমানে আমরা এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং সকল দ্বিপাক্ষিক অংশীদারের সঙ্গে নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢেমুশিয়া জলমহাল সাধারণের জন্য উন্মুক্ত হলো ১৭ বছর পর।
ঢেমুশিয়া জলমহাল প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্য নিয়ে ১২০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটি কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার সাতটি উপকূলীয় ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত।
লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া ১৭ বছর ধরে চলছিল। অবশেষে জলমহালটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হলো।
সরকারের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জলমহালটি আর লিজ না দেওয়ার ফলে ‘জাল যার জলা তার’ নীতির বাস্তবায়ন ঘটেছে। মৎস্যজীবীদের মধ্যে এ নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিন বছর অন্তর সামান্য টাকায় লিজ দেওয়া হতো ঢেমুশিয়া জলমহাল। এর ফলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। ফলে মৎস্যজীবী এবং দুই পাশের হাজারো পরিবারের সদস্যরা এর পানি ব্যবহার করতে পারতেন না।
এছাড়া, সরকারিভাবে লিজ নিয়ে স্লুইস গেটের জলকপাট খুলে দিয়ে লবণ পানি জলমহালের ভেতরে প্রবাহিত করা হতো।
এতে হাজারো কৃষক জলমহাল থেকে সেচের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন। ফলে উপজেলার সাত ইউনিয়নের জনগণের মধ্যে নানা সমস্যা দেখা দিত।
মাতামুহুরী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাহারবিল, পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, পূর্ব বড় ভেওলা, ভেওলা মানিকচর ও বদরখালী ইউনিয়নের মানুষের প্রাণের দাবি ছিল ঢেমুশিয়া জলমহাল লিজ না দেওয়ার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশে এবার নতুন করে জলমহালটি ইজারা দেওয়া হয়নি। এখন থেকে ঢেমুশিয়া জলমহাল জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং জনগণ তাদের দৈনন্দিন কাজে জলমহালের পানি ব্যবহার করবে।
এছাড়া, স্থানীয় মৎস্যজীবীরা মাছ শিকারের মাধ্যমে এর সুফল ভোগ করবেন।
ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের খাসপাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা ছিদ্দিক আহমদ (৮৫), মৎস্যজীবী মোহাম্মদ সুমনসহ জলমহালের দুই পাশের কয়েকজন বাসিন্দা কালের কণ্ঠকে জানান, তারা শত শত বছর ধরে ঢেমুশিয়া জলমহালের পানি ব্যবহার করে আসছেন।
তাদের মতে, জলমহালটিতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো শত শত জেলে পরিবার। এর মিঠা পানি দিয়েই উপকূলীয় এলাকার ফসলি জমিতে ধান ও বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হতো। ফলে স্থানীয়রা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতেন। কিন্তু গত ১৭ বছর তাদের এই অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল সামান্য টাকায় লিজ দেওয়ার মাধ্যমে।
ভুক্তভোগী লোকজনের মুখে হাসি ফুটেছে এবং তারা বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল এই জলমহাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লিজ না দেওয়ার। লিজ দিলে আমাদের বহুমুখী সমস্যা হবে, এটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরি। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি (সালাউদ্দিন আহমদ) নির্বাচনী প্রচারণার সময় আশ্বাস দিয়েছিলেন জলমহালটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অবশেষে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলো।’
কক্সবাজার জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মৎস্যজীবী প্রতিনিধি জাফর আলম বলেন, ‘ঢেমুশিয়া জলমহাল এখানকার কৃষক, স্থানীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায় এবং খেটে খাওয়াসহ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে চাষাবাদ নিয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে।
মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়া চকরিয়ার ইউএনও শাহীন দেলোয়ার বলেন, ‘এখানকার জনগণের দাবির প্রতি সাড়া দিয়ে নতুন করে ঢেমুশিয়া জলমহালটি কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি।’
ইউএনও সতর্ক করে জানান, ‘শোনা যাচ্ছে কেউ কেউ এই জলমহালের অংশ দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই ধরনের কর্মকাণ্ড যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রথাগতভাবে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলো নিজেদের মতো করে কাজ করে আসছে। তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছিল না। বর্তমান সরকারের মূল নীতি হচ্ছে- সরকার পরিচালনা ও অর্থনীতি পরিচালনাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করা।
তিনি বলেন, সরকার বন্যার তাৎক্ষণিক সহায়তায় প্রথম সাড়াদানকারী হিসেবে কাজ করে। তবে সব ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে সেবা পৌঁছে দেওয়া সরকারের একার পক্ষে কঠিন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও স্যানিটেশনসহ বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের কাজগুলো সম্পন্ন করতে- সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। সেবা কার্যক্রমে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকে যুক্ত করলে দক্ষতা বাড়ে এবং অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগ কমে।
আজ রোববার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস অডিটোরিয়ামে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের উদ্যোগে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহের পুনর্বাসন সহায়তা প্রকল্পের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে এইচএসবিসি ব্যাংকের অর্থায়নে ব্র্যাকের মাধ্যমে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সেবা প্রদানের কার্যক্রমগুলোকে সরকার একটি অংশীদারিত্বের জায়গায় নিয়ে গেছে। এটি শুধু কাজের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করার বিষয় নয়; কোনো দুর্যোগ পরিস্থিতি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে হলে ‘ত্রাণ ও সহায়তা’ সুষ্ঠুভাবে বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে অনেক ক্ষতি ও অপচয় হয়। এর পেছনে দুর্নীতি, অপচয় ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব দায়ী। এ কারণে সরকারের প্রতিটি কাজে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এই অংশীদারিত্ব শুধু বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমরা নতুন একটি অর্থনৈতিক মডেল ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ চালু করেছি। সেখানে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অংশীদারিত্ব রয়েছে। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট সবাই রয়েছেন এবং আমরা যৌথভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছি। বন্যা-পরবর্তী কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত দুর্নীতির কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। এটিকে আমি এই অংশীদারিত্বের সাফল্য হিসেবে দেখছি।
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাইলট প্রকল্পেও মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ ত্রুটি পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই কম। এ কার্যক্রম কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিচালিত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। বিভিন্ন মাধ্যমে কার্যকরভাবে সেবা পৌঁছে দেওয়ার এই ব্যবস্থাটি একদিকে দক্ষতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে অপচয় ও দুর্নীতি কমাতে নজরদারির ভূমিকা পালন করছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক স্বরুপ কুমার চৌধুরী, এইচএসবিসি ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি, নগর উন্নয়ন কর্মসূচি এবং দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী।
১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের মাধ্যমে এইচএসবিসি ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হলো চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি নির্মাণ, জীবিকা পুনরুদ্ধার, বিদ্যালয় মেরামত এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৮নং ওয়ার্ড. চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া, বাঁশখালী উপজেলা এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ