০৬:১২ পি.এম
ঢেমুশিয়া জলমহাল সাধারণের জন্য উন্মুক্ত হলো ১৭ বছর পর।
ঢেমুশিয়া জলমহাল প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্য নিয়ে ১২০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটি কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার সাতটি উপকূলীয় ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও -১ আসনে উপনির্বাচন সরকারি দলকে সমর্থন, গভীর রাতে প্রত্যাহার হলেন ৯ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা
লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া ১৭ বছর ধরে চলছিল। অবশেষে জলমহালটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হলো।
সরকারের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জলমহালটি আর লিজ না দেওয়ার ফলে ‘জাল যার জলা তার’ নীতির বাস্তবায়ন ঘটেছে। মৎস্যজীবীদের মধ্যে এ নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিন বছর অন্তর সামান্য টাকায় লিজ দেওয়া হতো ঢেমুশিয়া জলমহাল। এর ফলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। ফলে মৎস্যজীবী এবং দুই পাশের হাজারো পরিবারের সদস্যরা এর পানি ব্যবহার করতে পারতেন না।
এছাড়া, সরকারিভাবে লিজ নিয়ে স্লুইস গেটের জলকপাট খুলে দিয়ে লবণ পানি জলমহালের ভেতরে প্রবাহিত করা হতো।
এতে হাজারো কৃষক জলমহাল থেকে সেচের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন। ফলে উপজেলার সাত ইউনিয়নের জনগণের মধ্যে নানা সমস্যা দেখা দিত।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সকাল হলে ভাগ্য নির্ধানের পালা
মাতামুহুরী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাহারবিল, পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, পূর্ব বড় ভেওলা, ভেওলা মানিকচর ও বদরখালী ইউনিয়নের মানুষের প্রাণের দাবি ছিল ঢেমুশিয়া জলমহাল লিজ না দেওয়ার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশে এবার নতুন করে জলমহালটি ইজারা দেওয়া হয়নি। এখন থেকে ঢেমুশিয়া জলমহাল জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং জনগণ তাদের দৈনন্দিন কাজে জলমহালের পানি ব্যবহার করবে।
এছাড়া, স্থানীয় মৎস্যজীবীরা মাছ শিকারের মাধ্যমে এর সুফল ভোগ করবেন।
আরও পড়ুন: বালিয়াডাঙ্গীতে পতিলাভাষা যুব সমাজের উদ্যোগে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত
ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের খাসপাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা ছিদ্দিক আহমদ (৮৫), মৎস্যজীবী মোহাম্মদ সুমনসহ জলমহালের দুই পাশের কয়েকজন বাসিন্দা কালের কণ্ঠকে জানান, তারা শত শত বছর ধরে ঢেমুশিয়া জলমহালের পানি ব্যবহার করে আসছেন।
তাদের মতে, জলমহালটিতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো শত শত জেলে পরিবার। এর মিঠা পানি দিয়েই উপকূলীয় এলাকার ফসলি জমিতে ধান ও বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হতো। ফলে স্থানীয়রা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতেন। কিন্তু গত ১৭ বছর তাদের এই অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল সামান্য টাকায় লিজ দেওয়ার মাধ্যমে।
ভুক্তভোগী লোকজনের মুখে হাসি ফুটেছে এবং তারা বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল এই জলমহাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লিজ না দেওয়ার। লিজ দিলে আমাদের বহুমুখী সমস্যা হবে, এটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরি। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি (সালাউদ্দিন আহমদ) নির্বাচনী প্রচারণার সময় আশ্বাস দিয়েছিলেন জলমহালটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অবশেষে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলো।’
কক্সবাজার জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মৎস্যজীবী প্রতিনিধি জাফর আলম বলেন, ‘ঢেমুশিয়া জলমহাল এখানকার কৃষক, স্থানীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায় এবং খেটে খাওয়াসহ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে চাষাবাদ নিয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে।
আরও পড়ুন: কাউনিয়া থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, টার্গেটে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং
মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়া চকরিয়ার ইউএনও শাহীন দেলোয়ার বলেন, ‘এখানকার জনগণের দাবির প্রতি সাড়া দিয়ে নতুন করে ঢেমুশিয়া জলমহালটি কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি।’
ইউএনও সতর্ক করে জানান, ‘শোনা যাচ্ছে কেউ কেউ এই জলমহালের অংশ দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই ধরনের কর্মকাণ্ড যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন