বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:৪১ পি.এম
ভারতের উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগরে যৌতুকের জন্য এক লাখ টাকা দিতে না পারার কারণে মুফিদুন্নিশা নামের এক তরুণীকে বিয়ের ৪৫ দিনের মধ্যে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানায়, মে মাসে মুফিদুন্নিশার বিয়ে হয়েছিল সিদ্ধার্থনগরের শামসের আহমদের সাথে। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীকে যৌতুকের টাকার জন্য নানাভাবে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন করতেন স্বামী। বিষয়টি অবগত করেন তিনি তার বাবার বাড়িতে। তাদের বাড়ি থেকে বিষয়টির মিটমাটের চেষ্টা হয়।
নিহত মুফিদুন্নিশার মা জানান, গত ১৪ জুলাই তার মেয়ের জামাই ফোন করে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আপনার মেয়েকে মেরে ঘরে পুঁতে দিয়েছি। এসে নিয়ে যান।’ এই ফোনটি পাওয়ার পরই তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে তিনি বিষয়টি আত্মীয়দের নিকট জানিয়ে দেন। এরপর বিষয়টি পুলিশে জানানো হয়।
পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পর মুফিদুন্নিশার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তল্লাশি শুরু করে। এই অভিযানের ফলে আটক করা হয় মুফিদুন্নিশার স্বামী, শ্বশুর এবং শাশুড়িকে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় শামসের দাবি করেন, ঘরের মধ্যেই স্ত্রীকে পুঁতে রেখেছেন।
শামসেরের দাবি অনুযায়ী, ঘরের মেঝে খোঁড়া হয়। সেখানেই মেলে মুফিদুন্নিশার দেহ। এরপরেই গ্রেপ্তার করা হয় মুফিদুন্নিশার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্খা পূরণ এবং জুলাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় আসা বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও সেক্টরে নির্বাচনি ইশতেহারের মূল অঙ্গীকারগুলো ধরে-ধরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘ফল উৎসব-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঐতিহাসিক ১৬ জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি স্মরণ করে অনুষ্ঠানের শুরুতেই তিনি শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম আকরামসহ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আত্মদানকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচিত সরকারের বয়স প্রায় পাঁচ মাস হতে চললো। এই স্বল্প সময়েই প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে নির্বাচনি ইশতেহারের প্রধান-প্রধান বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য সবাই কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক মত, পথ বা আদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের একসাথে কাজ করে যেতে হবে। এই নতুন বাংলাদেশে সরকারের মূলনীতিই হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আমরা এমন এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই, যার ভিত্তি হবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার।’
মাহদী আমিন আরও বলেন, গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন সবচেয়ে বেশি গুম, খুন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছে। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে জনগণের পাশে থাকা এই দলটির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গঠিত বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিক।
সাংবাদিকদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা হচ্ছেন জাতির দর্পণ। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যেভাবে আপনারা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে আজকের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও সত্য, সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত বিষয়গুলো জাতির সামনে উপস্থাপন করতে হবে।’
বাকস্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় দেশে সবচেয়ে বেশি গণমাধ্যমের পথচলা শুরু হয় এবং কোনো বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়নি।
ডিআরইউ-এর সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-চার্লে, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিসটিয়াগা, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) বাইবা জারিনা এবং জার্মানির চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) আনজা কারস্টেন।
এ সময় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় অংশীদারদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রতিরক্ষা, বেসামরিক বিমান চলাচল (এভিয়েশন) এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে সহযোগিতা আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের নিজ নিজ দেশের বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জন্য স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হলেও, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না, এমনটাই জানিয়েছেন শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকেয়া খানম।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলার রাজৈর গ্রামের আব্দুল মজিদ হাওলাদারের বাড়ি থেকে কবির হাওলাদার এবং তাঁর স্ত্রী হালিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্বজনদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক কলহের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। তাঁদের ধারণা, ওই বিরোধের ফলস্বরূপ স্ত্রী হালিমা বেগমকে হত্যার পর কবির হাওলাদার আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ, যেখানে লেখা রয়েছে, “এই মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।” চিরকুটটির সত্যতা এবং এটি কে লিখছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হালিমা বেগমের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
নিহত দম্পতির সাত বছর এবং দুই মাস বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। ঘটনার সময় দুই মাসের শিশুসন্তানটি ঘরেই ছিল। বাবা-মায়ের মরদেহের পাশেই শিশুটিকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান স্বজন ও প্রতিবেশীরা। মর্মান্তিক এ ঘটনার কারণে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মরদেহে পাওয়া আলামতও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের একটি বিশেষায়িত ক্যানসার হাসপাতালের আশপাশে দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার ফলে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং ২১১ জন রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক রেজা বাজারের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্সে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে বাঘায়ি স্পেশালাইজড হাসপাতাল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। যদিও হামলায় হাসপাতালের ভেতরে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত সব রোগীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ডা. মাজিদ বো'আজার আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ২১১ জন রোগীকে বাধ্য হয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ক্যানসার রোগীসহ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাধীন অনেক গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি ছিলেন। হামলার বিষয়ে হাসপাতালের এক কর্মী আল জাজিরাকে জানান, হাসপাতালের আশপাশে ব্যাপক বোমাবর্ষণ হচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘এখানে ক্যানসার রোগীসহ বিশেষায়িত চিকিৎসাধীন রোগীরা ভর্তি ছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাসপাতালের চারপাশে ব্যাপক বোমাবর্ষণ হয়েছে। অনেক রোগী অক্সিজেন ও ভেন্টিলেটরের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেউ শিশুদের কোলে নিয়ে, কেউ হাতে স্যালাইন নিয়ে, আবার কেউ হুইলচেয়ারে করে হাসপাতালের বাইরে বেরিয়ে আসেন। সবাইকে দ্রুত ভবনের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়।’ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এক্সে এক পোস্টে বলেন, এই হামলা ছিল বর্বরোচিত এবং এটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর ইসরাইলের হামলার কথা মনে করিয়ে দেয়। তিনি বলেন, ‘এই বর্বরোচিত হামলার কারণে হাসপাতালে ভর্তি শিশু ও অন্যান্য রোগীরা চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কের মুখে পড়েছেন।’ তিনি জানান, কেমোথেরাপি গ্রহণরত ২১১ জন রোগীকে সরিয়ে নিতে হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতাল খালি করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। একইসঙ্গে হামলার লক্ষ্যবস্তু হাসপাতাল ছিল কি না, সে বিষয়েও ওয়াশিংটন কোনো মন্তব্য করেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ