বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৩৭ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন সমীকরণে পাকিস্তানের সামরিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইসলামাবাদ কতদূর পর্যন্ত রিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগোবে, বিশেষ করে হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করবে কি না—এ নিয়ে আলোচনা চলছে।
‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবের প্রতি নিরাপত্তার অঙ্গীকার থাকলেও পাকিস্তান এখনো সরাসরি স্থলযুদ্ধে জড়ানোর পরিবর্তে সহায়ক ভূমিকায় থাকার চেষ্টা করছে।
ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক দীর্ঘকাল ধরে বিদ্যমান। ১৯৬০-এর দশক থেকেই পাকিস্তানি কর্মকর্তারা সৌদি সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সামরিক পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
১৯৮২ সালে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ও পাকিস্তান সৌদি আরবের নিরাপত্তায় সেনা মোতায়েন করেছিল।
তবে সামরিক সহযোগিতা থাকা সত্ত্বেও ইসলামাবাদ সব সংঘাতে সৌদি আরবের পাশে সরাসরি যুদ্ধ করার নীতি অনুসরণ করেনি। ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযানে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট নিরপেক্ষ থাকার পক্ষে অবস্থান নেয়। পরে সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করা হলেও সেগুলোর ভূমিকা মূলত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ ছিল।
নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি, বাড়ছে প্রত্যাশা
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি (এসএমডিএ) স্বাক্ষরের পর দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা নতুন গুরুত্ব পায়। এরপর ২০২৬ সালের আগস্টে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা চুক্তি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করে।
দ্য ডিপ্লোম্যাটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা বাড়তে থাকায় গত ৫ অক্টোবর পাকিস্তান ও তুরস্ক সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়। তবে পাকিস্তান সরাসরি শত্রুপক্ষের ভূখণ্ডে অভিযান চালানোর পরিবর্তে সৌদি বাহিনীকে সহায়তা দেওয়ার অবস্থানে রয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও বলেছেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। গোয়েন্দা নজরদারিসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা থাকলেও সরাসরি লড়াই মূলত সৌদি বাহিনীই পরিচালনা করছে।
সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে বাধা কোথায়?
সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তানের অঙ্গীকার থাকলেও সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে দেশটির সামনে কয়েকটি জটিলতা রয়েছে। প্রথমত, পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে ইরানের সঙ্গে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।
হুথিদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠতার কারণে সৌদি নেতৃত্বাধীন কোনো সামরিক অভিযানে পাকিস্তানের সরাসরি অংশগ্রহণ তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জটিল করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানের জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শিয়া মুসলিম। ফলে ইরানবিরোধী কোনো সামরিক অবস্থান দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি আফগানিস্তান ও ভারতের সঙ্গে সীমান্তসংক্রান্ত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া ইসলামাবাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তা ও বিনিয়োগ পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রিয়াদের নিরাপত্তা চাহিদা উপেক্ষা করাও ইসলামাবাদের জন্য সহজ নয়।
তবে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে কোনো সংঘাতে রিয়াদ একই মাত্রায় সামরিক বা কূটনৈতিক সমর্থন দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তানের ভূমিকা বাড়লেও সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণের প্রশ্নটি এখনো জটিল। একদিকে প্রতিরক্ষা চুক্তির বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে নিজস্ব নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক ভারসাম্য—এই তিনের মধ্যে সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে ইসলামাবাদকে।
ফলে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের যুদ্ধে কতটা সরাসরি জড়াবে, তা নির্ভর করবে সংঘাতের গতিপ্রকৃতি এবং দুই দেশের নিরাপত্তা অঙ্গীকার কীভাবে বাস্তবায়িত হয় তার ওপর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় দুটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাউদা মনি (৭) নামে এক পথচারী শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের ওমরগাঁও নামাপাড়া মাদ্রাসা-সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সাউদা মনি ওই গ্রামের ফরিদ মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশের সড়ক দিয়ে হাঁটছিল শিশু সাউদা মনি। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা দুটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে একটি ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে সড়কের পাশে থাকা শিশুটির ওপর পড়ে। ইজিবাইকের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয় সে।
পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ইজিবাইকটি সরিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী মেরি পেলটোলার নির্বাচনি প্রচার শিবিরের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই নামে আরেকজনকে নির্বাচনে দাঁড় করানোর অভিযোগে, প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থীর ভোট কমানোর উদ্দেশ্যে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দেওয়ানি জরিমানার বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে। রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডানলিভি এ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিনেটর ড্যান সুলিভানের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ড্যান জে সুলিভান নামে এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করার সঙ্গে পেলটোলার প্রচার শিবিরের সংশ্লিষ্টতা ছিল।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডানলিভি মন্তব্য করেন, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটারদের অন্য কারও পক্ষে ভোট দিতে প্ররোচিত করা নির্বাচনের সততাকে আঘাত করে।’ তিনি আইন ভঙ্গের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।
নির্বাচনে একই নামের দুই ড্যান সুলিভানের উপস্থিতি নিয়ে রিপাবলিকানরা আপত্তি তুলেছেন। তাদের একজন দুই মেয়াদে নির্বাচিত বর্তমান মার্কিন সিনেটর। অন্যজন দক্ষিণ-পূর্ব আলাস্কার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, যার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সীমিত।
রিপাবলিকানদের অভিযোগ, ভোট ভাগ করে বর্তমান সিনেটরের পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত করতেই নতুন প্রার্থীকে দাঁড় করানোর কৌশল নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।
তবে অন্য ড্যান সুলিভানকে নির্বাচনে নামানোর সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পেলটোলার প্রচার শিবির।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেলটোলার প্রচার শিবিরের কর্মকর্তারা এবং ডেমোক্র্যাটিক সিনেটরিয়াল ক্যাম্পেইন কমিটি (ডিএসসিসি) আলাস্কায় ড্যান সুলিভান নামের অন্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেছিলেন। প্রতিবেদনে পেলটোলার সাবেক প্রচার ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার, নথি ও খুদে বার্তার ভিত্তিতে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কারাবাও কাপের শেষ আটে জায়গা করে নিতে দুই ইংলিশ জায়ান্টকে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে টাইব্রেকারে ব্রাইটনকে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। অন্যদিকে চেলসির বিপক্ষে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের পর পেনাল্টি শুটআউটে জয় পেয়েছে লিভারপুল। দুই ম্যাচেই শেষ হাসি হেসেছে স্বাগতিক দল।
ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ২-২ গোলে শেষ হয়। ৩০ মিনিটে মালিক ইয়ালকুয়ের গোলে এগিয়ে যায় ব্রাইটন। ৪০ মিনিটে দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান মাতেও কোভাচিচ। বিরতির পর ৪৭ মিনিটে জর্জিনিও রুটারের গোলে আবার এগিয়ে যায় সফরকারীরা।
৭২ মিনিটে রায়ান শেরকির ফ্রি-কিক ভিটর রেইসের গায়ে লেগে জালে ঢুকলে সমতায় ফেরে সিটি। এরপর টাইব্রেকারে গোলরক্ষক জেরোনিমো রুলি ব্রাইটনের দুটি শট ঠেকিয়ে দেন। সিটির হয়ে জয় নিশ্চিত করা শটটি নেন রায়ান শেরকি। কোয়ার্টার ফাইনালে সিটির প্রতিপক্ষ ব্র্যাডফোর্ড সিটি।
অন্য ম্যাচে অ্যানফিল্ডে লিভারপুল ও চেলসির লড়াইও নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে শেষ হয়। ৪০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে চেলসিকে এগিয়ে দেন মরগান রজার্স। তিন মিনিট পর পেনাল্টি থেকেই সমতা ফেরান কোডি গাকপো। দ্বিতীয়ার্ধে আর গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে ৬-৫ ব্যবধানে জেতে লিভারপুল। চেলসির ওয়েসলি ফোফানার শেষ শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে নিশ্চিত হয় লিভারপুলের জয়। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ বোর্নমাউথ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ