ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ট্রাম্পের ফ্লোরিডার বাসভবনের কাছে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত ৯


ট্রাম্পের ফ্লোরিডার বাসভবনের কাছে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত ৯

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে একটি ছোট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে নয়জন নিহত হয়েছেন। রোববার স্থানীয় একটি আবাসিক এলাকায় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।

ঘটনাস্থলটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবকাশযাপন কেন্দ্র মার-এ-লাগো থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত। দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

আরও পড়ুন: সৌদি জোটের হামলায় ইয়েমেনে ২০ জন নিহত

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় উড়োজাহাজটিতে থাকা নয়জনের সবাই নিহত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, উড়োজাহাজটি প্রায় খাড়াভাবে দ্রুতগতিতে মাটিতে আছড়ে পড়ছে। এতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ও আগুনের গোলা সৃষ্টি হয়। পরে ব্যস্ত সড়কের পাশে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং মাটিতে গভীর গর্ত তৈরি হয়। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে আজকের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা একটি ভয়াবহ মর্মান্তিক ঘটনা।’ তিনি জানান, দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজের সব আরোহী নিহত হয়েছেন।

ডাফি জানান, লিয়ারজেট ৬০ মডেলের উড়োজাহাজটি টেক্সাসের অস্টিন থেকে যাত্রা শুরু করে বাহামাসের উদ্দেশে যাচ্ছিল।

আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের পর হেগসেথকে সরানোর পরিকল্পনা ট্রাম্পের

পাম বিচ কাউন্টির ক্রেস্টহ্যাভেন আবাসিক এলাকায় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এলাকাটি ট্রাম্পের মার-এ-লাগো অবকাশযাপন কেন্দ্র থেকে সাত মাইলেরও কম দূরে, অর্থাৎ প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

রোববার ট্রাম্প নিজেও মার-এ-লাগোতে অবস্থান করছিলেন। বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে এয়ার ফোর্স ওয়ানে আরোহণের পর তিনি কাছের বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করেন। বিমানবন্দরটির নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’। ট্রাম্পের যাত্রা শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা পর লিয়ারজেট উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।

দুর্ঘটনার আগে ওই এলাকায় ঝড়ের খবর পাওয়া গিয়েছিল। এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় ট্রাম্পকে ছাতা ব্যবহার করতেও দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংস্থাটি এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) যৌথভাবে তদন্ত করবে।

আরও পড়ুন: ২২ বছর মহাকাশে কাটিয়ে নাসার টেলিস্কোপ ধ্বংস হল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলাস্কার সিনেট নির্বাচনের ফল আটকে দেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ পি.এম


আলাস্কার সিনেট নির্বাচনের ফল আটকে দেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জয়ী হলে নির্বাচনের ফল ঘোষণা আটকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের করা আবেদন একটি ফেডারেল আদালত খারিজ করে দিয়েছে।

রোববার আদালত এই আবেদন খারিজ করে জানায়, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) আদালতে মঙ্গলবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান পরাজিত হলে নির্বাচনের ফলাফল আনুষ্ঠানিক অনুমোদন (সার্টিফিকেশন) স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছিল।

তাদের যুক্তি ছিল, ড্যান সুলিভান নামের আরেকজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ফলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে এবং এতে রিপাবলিকান সিনেটর সুলিভানের ভোট কমে যেতে পারে।

ট্রাম্প নিজেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের ফল চ্যালেঞ্জ করার আশঙ্কা রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে ডেমোক্র্যাটরা যেসব অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসন নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে, আলাস্কা তার মধ্যে একটি।

মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, আলাস্কার ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী মেরি পেলটোলা রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের নামে আরেকজন প্রার্থীকে নির্বাচনে দাঁড় করিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপাবলিকান প্রার্থীর ভোট ভাগ করে নিজেদের জন্য অন্যায্য সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, যদি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জয়ী হন, তবে তদন্তের নির্দেশ দিতে হবে। এর মাধ্যমে দ্বিতীয় ড্যান সুলিভানকে দেওয়া ভোটগুলোর মধ্যে কতজন প্রকৃতপক্ষে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটরকে ভোট দিতে চেয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হবে।

সাবেক ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নিয়োগ দেওয়া বিচারক শ্যারন গ্লিসন তার রায়ে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং এর ফলে অনেকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে নিয়ম পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে মেরি পেলটোলা নির্বাচনে অংশ নেওয়া দ্বিতীয় ড্যান সুলিভানকে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন—এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আদালতের রায়ের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, তারা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে।

বিচার বিভাগের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আলাস্কার ভোটারদের একটি সুষ্ঠু নির্বাচন পাওয়ার অধিকার রয়েছে। নির্বাচনের ফল কারসাজি করার উদ্দেশ্যে তাদের বিভ্রান্ত করা উচিত নয়।’

এদিকে আদালতের রায়ের পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ‘ভুয়া ড্যানিয়েল জে. সুলিভান জুনিয়র’ উধাও হয়ে গেছেন। তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আইনজীবী ও কর্মীদের বিরুদ্ধে আইন অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তাঁদের ‘অপরাধী’ বলেও আখ্যায়িত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে আগাম লাউ চাষে বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক, এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত মামুন খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ পি.এম


কাউখালীতে আগাম লাউ চাষে বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক, এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত মামুন খান

শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে বাড়ছে আগাম শীতকালীন সবজির চাহিদা। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আগাম লাউ চাষে অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার পূর্ব কেউন্দিয়া গ্রামের উদীয়মান কৃষক মামুন খান। বাম্পার ফলন ও বাজারে দারুণ দাম পাওয়ায় তার মুখে এখন তৃপ্তির হাসি। উপজেলা কৃষি অফিসের নিয়মিত সহযোগিতা এবং নিজের কঠোর পরিশ্রমে লাউ চাষ করে তিনি এখন এলাকার অন্য কৃষকদের কাছেও এক অনন্য অনুপ্রেরণার নাম।
জানা গেছে, কাউখালী উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় ৫২ শতাংশ জমিতে উচ্চফলনশীল ‘পল্লবী’ ও ‘ডায়না’ জাতের লাউয়ের একটি প্রদর্শনী প্লট গড়ে তোলেন নুর আলী খানের ছেলে মামুন খান। বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলা করে নিয়মিত পরিচর্যা ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শ অনুসরণ করায় তার জমিতে এবার আশানুরূপ ফলন হয়েছে।
সফল এই কৃষক জানান, চলতি মৌসুমে প্রতি সপ্তাহে দুই দিন জমি থেকেই ১৫০ থেকে ২০০টি লাউ সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে পাইকারি দরে বিক্রি করছেন তিনি। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতিটি লাউ ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় দেড় লাখ টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুমের বাকি সময়ে আরও তিন থেকে চার লাখ টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে জোরালো আশা প্রকাশ করছেন তিনি। এমনকি গত বছরও শুধু লাউ বিক্রি করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আয় করেছিলেন এই উদ্যোক্তা কৃষক।
মামুন খানের এই সাফল্য কেবল লাউ চাষেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং সারা বছরই তিনি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে আসছেন। তার খামারে চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, পেঁপে, কলা, কাঁকরোল ও বেগুনসহ নানা জাতের নিরাপদ সবজি উৎপাদিত হয়। এসব সবজি বিক্রির আয় দিয়েই সচ্ছলভাবে চলে তার সংসার এবং একমাত্র ছেলের মাদ্রাসার পড়াশোনার খরচ।
নিজের সাফল্যের পেছনের অনুভূতি প্রকাশ করে মামুন খান বলেন, নিজের কাজ নিজে করার ভেতরেই আসল আনন্দ। এতে কারও ওপর নির্ভরশীল হতে হয় না, কাজেরও পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে। বিশেষ করে উপজেলা কৃষি অফিস শুরু থেকেই আমাকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে।
কৃষক মামুন খানের এই কৃষি সাফল্য প্রসঙ্গে কাউখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস বলেন, আগাম সবজি চাষ সবসময়ই কৃষকদের জন্য অধিক লাভজনক। মামুন খান একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও উদ্যোগী কৃষক। উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে তাকে ‘পল্লবী’ ও ‘ডায়না’ জাতের লাউয়ের প্রদর্শনী প্লট স্থাপনের পাশাপাশি মানসম্মত বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাইনুল হুদা নিয়মিত তার খামার পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও যোগ করেন, সরকারি বরাদ্দ ও প্রণোদনা সবসময় প্রকৃত ও পরিশ্রমী কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। মামুন খানের এই চোখধাঁধানো সাফল্য দেখে এখন এলাকার অন্য কৃষকরাও আগাম সবজি চাষে ব্যাপকভাবে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আবহাওয়ার আগাম বার্তা পাচ্ছেন কৃষকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আবহাওয়ার আগাম বার্তা পাচ্ছেন কৃষকরা

একেএম রাশেদ শাহরিয়ার

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : কৃষক কার্ডধারীদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস পৌঁছাবে। এর ফলে কৃষকরা বৃষ্টি, তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক হতে পারবেন।

স্বাভাবিক সময়ে ৬ ঘণ্টা পরপর এবং দুর্যোগকালীন সময়ে প্রয়োজন অনুসারে একাধিকবার আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষকদের কাছে এসএমএসের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানো হবে।

সরকারের কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় এই সুবিধা চালু করা হচ্ছে। আবহাওয়ার আগাম তথ্যের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ, সেচ সুবিধা ও কৃষি বীমাসহ ১০ ধরনের সেবা কৃষক কার্ডধারীরা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার আগামী চার বছরে দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টি, খরা, তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং ঝড়ের কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যদি কৃষকরা সময়মতো আবহাওয়ার পূর্বাভাস পান, তাহলে তারা চাষাবাদ, সেচ, সার প্রয়োগ, বালাইনাশক ব্যবহার এবং ফসল সংগ্রহের বিষয়ে আগাম সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন।

কৃষক কার্ডধারীদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাঠানোর উদ্যোগটি কৃষকদের কাছে আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে কৃষকদের আলাদাভাবে প্রতিবার আবহাওয়ার তথ্য খুঁজতে হবে না, বরং নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের মোবাইল ফোনে বার্তা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

যেমন, ধান কাটার সময় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে আগাম বার্তা পেয়ে কৃষকরা দ্রুত ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিতে পারবেন। একইভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাস অনুযায়ী সেচের প্রয়োজন নির্ধারণ করা সম্ভব হলে পানি ও উৎপাদন ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ঝড় বা প্রতিকূল আবহাওয়ার সতর্কতা কৃষকদের ফসল ও কৃষি উপকরণ সুরক্ষায় প্রস্তুতি নিতেও সহায়তা করবে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন কৃষি তথ্য সার্ভিস বা এআইএস। কৃষি বিষয়ে তথ্য, পরামর্শ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠানটি কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় স্বয়ংক্রিয় এসএমএসের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস সরবরাহ করবে।

দেশের কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডারের আওতায় এনে তাদের কাছে সরকারি কৃষিসেবা পৌঁছানোর লক্ষ্যে কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার।

কৃষক কার্ড কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে তাদের জন্য সরকারি সহায়তা ও সেবা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করা। এই লক্ষ্যে কৃষকদের ব্যক্তিগত ও কৃষিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার মধ্যে ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম এগিয়েছে। এসব ব্লকে এখন পর্যন্ত ২২ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে ৯ লাখ।

গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি উপকরণ সহায়তা পাওয়ার জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক।

এর আগে, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় আটটি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়। এ পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়।

প্রকল্পের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মো. রাকিবুজ্জামান খান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও তাদের চাহিদা নিরূপণের মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়নে সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে উঠলে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও কার্যকর করা। এ জন্য তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কার্যক্রমকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষকদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাঠানোর উদ্যোগটি এ সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে চাষাবাদের পরিকল্পনা সাজানো এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি আরও বলেন, কৃষি উৎপাদনে আবহাওয়ার প্রভাব বিবেচনায় সময়মতো পূর্বাভাস পাওয়া কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেলিম খান বলেন, সঠিক সময়ে তথ্য পৌঁছালে কৃষকরা ফসলের পরিচর্যা, সেচ ব্যবস্থাপনা, সার প্রয়োগ এবং ফসল সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

কৃষি সচিব আরও বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও কৃষি ব্লককে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্প।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনবিআর-এর তদন্তে দুই পোশাক কারখানায় ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


এনবিআর-এর তদন্তে দুই পোশাক কারখানায় ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : দুই পোশাক কারখানা অবৈধভাবে খোলাবাজারে কাপড় বিক্রি এবং কম মূল্যে রপ্তানি প্রদর্শনের মাধ্যমে ১০২ কোটি ৫৭ লাখ ১৩ হাজার ১২৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) পৃথকভাবে এই রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি উদঘাটন করেছে।

এনবিআরের আজকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান দুটি হল রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড এবং লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেড। রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকা এবং লিশা টেক্সের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিআইসির তদন্ত দল উভয় প্রতিষ্ঠানের কারখানা ও গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাঁচামালের মজুদ যাচাই করেছে। আমদানি ও রপ্তানির তথ্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে অনিয়ম শনাক্ত করা হয়েছে।

রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ৪১টি ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনের (ইউডি) আওতায় বন্ড সুবিধায় ২ হাজার ৮৬২ টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় আমদানি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২৩৭ টন বা ৭৮ শতাংশ কাপড় কারখানার গুদামে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, রপ্তানির হিসাবেও এসব কাপড়ের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তে দেখা গেছে, বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে কাপড় সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে।

এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানির নথিতে সুতা ও নিট কাপড়ের হিসাব পাওয়া গেলেও ওভেন পলিয়েস্টার কাপড়ের বড় ধরনের ঘাটতি শনাক্ত হয়েছে। ৩১টি ইউডিতে কোনো রপ্তানি না হওয়া সত্ত্বেও ৩০টিতে আমদানি করা কাপড়ের পুরোটা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আংশিক রপ্তানি হওয়া ১০টি ইউডিতেও আমদানি করা কাপড়ের প্রায় ৫৩ শতাংশের হিসাব পাওয়া যায়নি।

পরিদর্শনে পুরো কারখানায় ৬৯ হাজার ৩৮২ কেজি সুতা, ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯৭ পিস তৈরি পোশাক এবং মাত্র ২৫ হাজার ৫৩৩ দশমিক ৫০ কেজি ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় পাওয়া যায়। এই কাপড়ের পরিমাণ মোট আমদানির মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া কাপড়ের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, লিশা টেক্সের বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার কেজি পলিয়েস্টার কাপড় কারখানায় পাওয়া যায়নি। তদন্তে উঠে এসেছে যে, এসব কাপড় বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে সরিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এই খাতেই প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি শনাক্ত হয়েছে।

এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনুমোদনের চেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করলেও চুক্তিমূল্যের তুলনায় কম রপ্তানিমূল্য দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। ইউডির বাইরে স্থানীয় উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত পূরণ না করার বিষয়টিও তদন্তে পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চার লাখের বেশি পিস পোশাকের আনুষঙ্গিক কাঁচামাল অনুমোদন ছাড়াই মূসক পরিশোধ না করে স্থানীয় বাজার থেকে কেনা হয়েছে। লাইসেন্সবিহীন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার কিট ব্যাগ সরবরাহের মাধ্যমে মূসক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মোট ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে।

এনবিআর জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে সিআইসির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%