প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে বাড়ছে আগাম শীতকালীন সবজির চাহিদা। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আগাম লাউ চাষে অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার পূর্ব কেউন্দিয়া গ্রামের উদীয়মান কৃষক মামুন খান। বাম্পার ফলন ও বাজারে দারুণ দাম পাওয়ায় তার মুখে এখন তৃপ্তির হাসি। উপজেলা কৃষি অফিসের নিয়মিত সহযোগিতা এবং নিজের কঠোর পরিশ্রমে লাউ চাষ করে তিনি এখন এলাকার অন্য কৃষকদের কাছেও এক অনন্য অনুপ্রেরণার নাম।
জানা গেছে, কাউখালী উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় ৫২ শতাংশ জমিতে উচ্চফলনশীল ‘পল্লবী’ ও ‘ডায়না’ জাতের লাউয়ের একটি প্রদর্শনী প্লট গড়ে তোলেন নুর আলী খানের ছেলে মামুন খান। বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলা করে নিয়মিত পরিচর্যা ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শ অনুসরণ করায় তার জমিতে এবার আশানুরূপ ফলন হয়েছে।
সফল এই কৃষক জানান, চলতি মৌসুমে প্রতি সপ্তাহে দুই দিন জমি থেকেই ১৫০ থেকে ২০০টি লাউ সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে পাইকারি দরে বিক্রি করছেন তিনি। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতিটি লাউ ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় দেড় লাখ টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুমের বাকি সময়ে আরও তিন থেকে চার লাখ টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে জোরালো আশা প্রকাশ করছেন তিনি। এমনকি গত বছরও শুধু লাউ বিক্রি করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আয় করেছিলেন এই উদ্যোক্তা কৃষক।
মামুন খানের এই সাফল্য কেবল লাউ চাষেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং সারা বছরই তিনি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে আসছেন। তার খামারে চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, পেঁপে, কলা, কাঁকরোল ও বেগুনসহ নানা জাতের নিরাপদ সবজি উৎপাদিত হয়। এসব সবজি বিক্রির আয় দিয়েই সচ্ছলভাবে চলে তার সংসার এবং একমাত্র ছেলের মাদ্রাসার পড়াশোনার খরচ।
নিজের সাফল্যের পেছনের অনুভূতি প্রকাশ করে মামুন খান বলেন, নিজের কাজ নিজে করার ভেতরেই আসল আনন্দ। এতে কারও ওপর নির্ভরশীল হতে হয় না, কাজেরও পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে। বিশেষ করে উপজেলা কৃষি অফিস শুরু থেকেই আমাকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে।
কৃষক মামুন খানের এই কৃষি সাফল্য প্রসঙ্গে কাউখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস বলেন, আগাম সবজি চাষ সবসময়ই কৃষকদের জন্য অধিক লাভজনক। মামুন খান একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও উদ্যোগী কৃষক। উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে তাকে ‘পল্লবী’ ও ‘ডায়না’ জাতের লাউয়ের প্রদর্শনী প্লট স্থাপনের পাশাপাশি মানসম্মত বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাইনুল হুদা নিয়মিত তার খামার পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও যোগ করেন, সরকারি বরাদ্দ ও প্রণোদনা সবসময় প্রকৃত ও পরিশ্রমী কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। মামুন খানের এই চোখধাঁধানো সাফল্য দেখে এখন এলাকার অন্য কৃষকরাও আগাম সবজি চাষে ব্যাপকভাবে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন