ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিবাসন শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত


ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিবাসন শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নথিবিহীন বা বৈধ অভিবাসন মর্যাদা না থাকা শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডা বোর্ড অব গভর্নরসের ভোটে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যারা ভবিষ্যতে ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান, তাদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে অবস্থানের প্রমাণ থাকতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থী, অভিবাসী পরিবার এবং অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞাটি ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। তবে এটি মূলত নতুন ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ বর্তমানে ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত নথিবিহীন শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তের কারণে তাদের বর্তমান পড়াশোনা হারাবেন না। কিন্তু ভবিষ্যতে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাওয়া নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।

ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী আলেকজান্ডার ভ্যালেহোস এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছেন। তিনি জানান, খবরটি শুনে তার হৃদয় ভেঙে গেছে এবং পুরো বিষয়টি তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। ভ্যালেহোসকে মাত্র এক বছর বয়সে তার বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন। তিনি আগে পাম বিচ স্টেট কলেজে পড়াশোনা করেছেন এবং আগামী বসন্তে ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা থেকে স্নাতক হওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

 

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ভ্যালেহোসের নিজের পড়াশোনায় কোনো প্রভাব পড়ছে না। তবে তার চেয়ে কম বয়সী নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তার আশঙ্কা, যারা এখনো উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি, তারা ফ্লোরিডার সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হারাবে। ভ্যালেহোস বলেন, তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। কিন্তু একই পরিস্থিতিতে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে তার খুব খারাপ লাগছে।

ফ্লোরিডায় সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের বিষয়ে এটি সাম্প্রতিক সময়ে নেওয়া দ্বিতীয় বড় সিদ্ধান্ত। এর আগে গত জুনে স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন ফ্লোরিডা কলেজ ব্যবস্থার আওতাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি নিয়ে নতুন নিয়ম অনুমোদন করে। ওই নিয়ম অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মার্কিন নাগরিক অথবা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে অবস্থানরত হতে হবে। ফলে ফ্লোরিডার সরকারি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের সুযোগ আরও সংকুচিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেস্যান্টিস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ফ্লোরিডার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধভাবে থাকা অভিবাসীদের ভর্তি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট। ডেস্যান্টিসের বক্তব্য, ফ্লোরিডার বাসিন্দা এবং আমেরিকান নাগরিকদের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তার এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যের আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

ফ্লোরিডার লেফটেন্যান্ট গভর্নর জে কলিন্সও এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদেরই পড়াশোনার সুযোগ থাকা উচিত যারা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে অবস্থান করছেন। ফ্লোরিডার করদাতাদের অর্থ এমন ব্যক্তিদের শিক্ষার সুযোগে ব্যয় করা উচিত নয়, যারা আইন ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন বলেও তিনি জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডা ও আমেরিকার নাগরিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই রাজ্য সরকারের দায়িত্ব।

অন্যদিকে, নথিবিহীন শিক্ষার্থী ভ্যালেহোস বলেছেন, তার মতো শিক্ষার্থীরা কোনো বিশেষ সুবিধা বা সরকারি সহায়তা চাইছেন না। তারা শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ চান এবং সেই সুযোগ পেলে নিজেদের পরিশ্রমে এগিয়ে যেতে চান। তিনি বলেন, তারা কারও কাছ থেকে দান বা বিনামূল্যের সুবিধা চাইছেন না। শুধু পড়াশোনা করার সুযোগ পেলে পরবর্তী পথ তারা নিজেদের যোগ্যতা ও পরিশ্রম দিয়েই তৈরি করতে চান।

এদিকে, বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্যের জন্য ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় এর বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ কতটা সীমিত হবে, সেটিই আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলের চমচম বিদেশে রপ্তানির পদক্ষেপ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৭ পি.এম


টাঙ্গাইলের চমচম বিদেশে রপ্তানির পদক্ষেপ নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, টাঙ্গাইলের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চমচম বিদেশে রপ্তানির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

তিনি শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে তিন দিনব্যাপী ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, "টাঙ্গাইলের চমচম সারা বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক মানুষই চেনে। টাঙ্গাইলের শাড়ি যেমন বাংলাদেশের গর্ব ও ঐতিহ্য, তেমনি চমচমও এ অঞ্চলের ঐতিহ্যের অংশ। এই পণ্যকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটি সবার দায়িত্ব।"

তিনি আরও বলেন, "টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য ও অর্জন মানুষের মাঝে তুলে ধরতেই এ আয়োজন। ঐতিহ্যকে ধারণ করে আগামী দিনে ঐতিহাসিক ও নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চান তারা। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।"

মিষ্টি উৎসবের উদ্দেশ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "টাঙ্গাইলের পণ্য মানুষের কাছে তুলে ধরা এবং সারাদেশের মানুষের কাছে স্থানীয় ঐতিহ্যকে প্রতিষ্ঠিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।"

তিনি উল্লেখ করেন, "নির্বাচনের আগে গোপালপুরের একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি, চমচম ও আনারস নিয়ে কথা বলেছিলেন। টাঙ্গাইলের চমচম কীভাবে বিদেশে রপ্তানি করা যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, "চমচম শিল্পের প্রসার ঘটাতে পারলে একদিকে দেশের রপ্তানি আয় বাড়বে, অন্যদিকে এ শিল্পে মানুষের আগ্রহ ও কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক অর্থনীতির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।"

টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "টাঙ্গাইলের শাড়ির বিদেশে ব্যাপক কদর রয়েছে। এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে তাঁতিদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রান্তিক পর্যায়ে যারা শাড়ি তৈরি করেন, তাদের স্বল্প সুদে আর্থিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।"

তিনি আরও জানান, "ইতিমধ্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তাঁতিদের সঙ্গে কথা বলে একটি তাঁতি সমাবেশ আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে তাঁতশিল্পকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনা ও শতবর্ষের মিষ্টি তৈরির ঐতিহ্য দেশ-বিদেশে তুলে ধরা এবং স্থানীয় পণ্যের প্রসারে প্রথমবারের মতো ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে জেলার ১২ উপজেলা থেকে ২৩টি স্টল অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ২০টি স্টলে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং তিনটি স্টলে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

এর আগে বিকেলে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, "টাঙ্গাইলের জিআই পণ্য শুধু টাঙ্গাইলের নয়, এগুলো বাংলাদেশের গর্ব"- এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনাকেও এগিয়ে নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খালেদা জিয়ার নীতি দেশ বাঁচাও-মানুষ বাঁচাও, সব মানুষ এক: সংস্কৃতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২০ পি.এম


খালেদা জিয়ার নীতি দেশ বাঁচাও-মানুষ বাঁচাও, সব মানুষ এক: সংস্কৃতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদি শক্তি যখন তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পালিয়ে যায়, তখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, "কোন প্রতিশোধ নয়, কোন প্রতিহিংসা নয়, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও- সব মানুষ এক, তোমরা সবার পাশে থাকো"। এই মন্তব্য করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

মন্ত্রী আরও জানান, সে সময় সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মাবলম্বী, খৃষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের মানুষের মধ্যে একটি স্বাভাবিক ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাঁরা চিন্তিত ছিলেন, "আমাদের কী আবার লুটপাটের শিকার হতে হবে? আমরা কী দেশে থাকতে পারবো? উৎসব পালন করতে পারবো?" এসব প্রশ্ন নিয়ে আতঙ্ক ছিল। এ পরিস্থিতিতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আহ্বান জানিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মাগুরার সাহদোহায় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, "গত নির্বাচনে শত ভাগ হিন্দু সম্প্রদায় ভোট দিয়েছে বিএনপি’র প্রার্থীদের, এটা আমরা কেউ অস্বীকার করি না।" তিনি বলেন, এর ফলে আমাদের দায়বদ্ধতা অসীম। তিনি আরও বলেন, "আমরা দুইটা মসজিদ করলে একটা মন্দির করি। একটা গোরস্থান করলে একটা শ্মশান করি।" তিনি জানান, "আমরা নিয়মিত বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের কাছে হিন্দু মুসলমান কোন ভেদাভেদ নেই।"

এ সময় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরার জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহমেদ।

আলোচনা সভায় বক্তারা শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ, মানবতা, শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।

এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে বড় পরিবর্তন, নিতে হবে বাড়তি দায়িত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৩ পি.এম


গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে বড় পরিবর্তন, নিতে হবে বাড়তি দায়িত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবার সদস্যদের গ্রিন কার্ড স্পনসর করার প্রক্রিয়ায় ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রিন কার্ড স্পনসরদের ক্রেডিট-সংক্রান্ত তথ্য ভোক্তা রিপোর্টিং এজেন্সির কাছ থেকে সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছে সংস্থাটি।

এই পরিবর্তনটি মূলত ফর্ম আই-৮৬৪, যা অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট হিসেবে পরিচিত, এর সাথে সম্পর্কিত। যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্পনসর করার ক্ষেত্রে এই ফর্মে স্বাক্ষর করে স্পনসরকে অভিবাসীর আর্থিক দায়িত্ব গ্রহণের অঙ্গীকার করতে হয়।

নতুন ফর্মে একটি প্রাইভেসি রিলিজ বা তথ্য সংগ্রহের অনুমতির ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইউএসসিআইএস এক বা একাধিক কনজিউমার রিপোর্টিং এজেন্সির কাছ থেকে স্পনসরের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব তথ্য ব্যবহার করার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

 

 

নতুন নিয়মটি ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে যারা বর্তমানে পরিবারের সদস্যের গ্রিন কার্ডের জন্য অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট জমা দিচ্ছেন, তাদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট কেবল একটি সাধারণ ফর্ম নয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, এটি স্পনসর ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে একটি আইনগতভাবে কার্যকর চুক্তি। স্পনসরকে নির্দিষ্ট শর্তে অভিবাসীর আর্থিক সহায়তার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়।

স্পনসরকে সাধারণত নির্দিষ্ট আয়ের যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। যদি কেউ সেই আয়সীমা পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তবে যোগ্য জয়েন্ট স্পনসর ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, জয়েন্ট স্পনসরকে তার নিজস্ব আয়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আর্থিক যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।

স্পনসরশিপের দায়িত্ব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। সাধারণভাবে স্পনসর করা ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া, ৪০টি কোয়ালিফাইং কোয়ার্টারের কাজের ক্রেডিট অর্জন করা, স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি না হওয়া পর্যন্ত এই দায়িত্ব বহাল থাকে। বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে স্পনসরশিপের দায়িত্ব শেষ হয় না।

নতুন ক্রেডিট-তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড স্পনসরদের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য আরও তথ্য ব্যবহারের পথ তৈরি করতে পারে। তবে বর্তমানে ইউএসসিআইএস প্রতিটি স্পনসরের ক্রেডিট রিপোর্ট কীভাবে বা কোন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করেনি।

অতএব, গ্রিন কার্ডের জন্য পরিবারের সদস্যকে স্পনসর করতে যাওয়া ব্যক্তিদের নতুন ফর্মের সর্বশেষ সংস্করণ এবং ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুভেন্দু বাংলাদেশের সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করছে: এমপি সরোয়ার আলমগীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৫ পি.এম


শুভেন্দু বাংলাদেশের সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করছে: এমপি সরোয়ার আলমগীর

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বাংলাদেশ সম্পর্কে চিন্তা না করে নিজের দেশের পরিস্থিতির দিকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির এমপি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সরোয়ার আলমগীর।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, শুভেন্দু অধিকারী বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করছেন। তবে বাংলাদেশের মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে।

শুক্রবার ফটিকছড়ি উপজেলার বিবিরহাটে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালির আগে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ্য করে সরোয়ার আলমগীর বলেন, “আপনি আপনার দেশ নিয়ে মাথা ঘামান। আপনার দেশে গত এক মাসে মুসলিম পাড়ায় পানি পাওয়া যায়নি, অথচ এ দেশে হিন্দু এলাকায় এক সেকেন্ডের জন্যও পানির অভাব হয়নি। শুভেন্দু চাচ্ছেন এ দেশে উস্কানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করতে। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মন্তব্য করে যাচ্ছেন। আমরা মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান যারা এ দেশে বাস করি, সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এ দেশে সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই। আমরা সবাই বাংলাদেশি।’”

অসাম্প্রদায়িক চেতনার মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মো. ইব্রাহীম, ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান, মিহির চক্রবর্তী, অ্যাডভোকেট উত্তম কুমার মহাজন, অ্যাডভোকেট তরুণ কিশোর দেব, অধ্যাপক দয়াল, অ্যাডভোকেট মিহির, জুয়েল চক্রবর্তী, সুজিত চক্রবর্তী, রোপন ভোমিক, মিন্টু নাথ, সাগর দে-সহ সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%