ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘মার্কিন রক্ত ও অর্থ ব্যয়ে নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া নেতানিয়াহু’


‘মার্কিন রক্ত ও অর্থ ব্যয়ে নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া নেতানিয়াহু’

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি আরো রক্তপাত ঘটিয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। এই অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর মতে, নেতানিয়াহু ‘একজন অধঃপতিত জুয়াড়ির মতো’ মরিয়া হয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। খবরটি আনাদোলুর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আরাগচি নেতানিয়াহুকে ‘পলাতক যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, নেতানিয়াহুর হাতে আরব, মার্কিন ও ইরানিদের রক্ত লেগে আছে।

আরাগচি আরো উল্লেখ করেন, ‘একজন অধঃপতিত জুয়াড়ির মতো তিনি আরো মার্কিন রক্ত ও সম্পদ ব্যয় করে মরিয়া হয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররাও এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে চান।’

আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করে। তেহরানের দাবি, ওই যুদ্ধে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানও পাল্টা হামলা চালায়, যার ফলে মার্কিন ও ইসরাইলি নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটে। এরপর এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় আরো হামলা চালায়। জুনের মাঝামাঝি দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বিশ্বের জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা এখনো স্থবির রয়েছে।

এমএমআর

আরও পড়ুন: ভারত মহাসাগরে ১৩ দিনের যৌথ মিশনে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষা জাতীয়করণ ছাড়া বিকল্প কোনো দাবি নেই: প্রিন্সিপাল আজিজী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫২ পি.এম


শিক্ষা জাতীয়করণ ছাড়া বিকল্প কোনো দাবি নেই: প্রিন্সিপাল আজিজী

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের সভাপতি প্রিন্সিপাল দেলাওয়ার হোসেন আজিজী উল্লেখ করেছেন, তাঁদের একমাত্র দাবি হলো শিক্ষা জাতীয়করণ। এই দাবি ছাড়া তাঁদের কাছে আর কোনো বিকল্প দাবি নেই। তিনি বেসরকারি স্কুল-কলেজের সঙ্গে মাদ্রাসার বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি এমপিওভুক্ত ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবি জানান। শিক্ষকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

শনিবার ভোলা শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম, ভোলা জেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মাদ্রাসা শিক্ষকদের জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

প্রিন্সিপাল দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, “আমাদের এক দফা দাবি—শিক্ষা জাতীয়করণ। এছাড়া আর বিকল্প দাবি আমাদের নেই।”

তিনি আরও বলেন, বেসরকারি স্কুল-কলেজের সঙ্গে মাদ্রাসার বৈষম্য দূর করতে হবে। এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের পাশাপাশি ইবতেদায়ি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, মিড-ডে মিলসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষকদের চিকিৎসা ভাতা, বাড়িভাড়া, উৎসব ভাতা ও শিক্ষা ভাতা প্রদানের দাবি জানান তিনি। তিনি বদলির জন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সরকারি প্রধানসহ সকল শিক্ষকের দ্রুত বদলির আদেশ জারির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের ভোলা জেলা আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল আবু জাফর মোহাম্মদ মাইনুদ্দিনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্সিপাল মো. লোকমান হোসেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফোরামের বরিশাল জেলা আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল মো. দেলোয়ার হোসেন, গাজীপুর জেলা সহসভাপতি প্রিন্সিপাল ড. মুহাম্মদ রুহুল আমিন আজাদী এবং নরসিংদী জেলা সাধারণ সম্পাদক প্রিন্সিপাল মো. জয়নাল আবেদিন।

ভোলা জেলা শাখার সদস্যসচিব প্রিন্সিপাল মো. শফিউল্লাহর সঞ্চালনায় সম্মেলনে ভোলা জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাঈমুরের বিরুদ্ধে পারভীনের আত্মহত্যার অভিযোগ, মানববন্ধন টাঙ্গাইলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫২ পি.এম


নাঈমুরের বিরুদ্ধে পারভীনের আত্মহত্যার অভিযোগ, মানববন্ধন টাঙ্গাইলে

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পুলিশের এক কনস্টেবল স্বামীর মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে পারভীন আক্তার (১৯) নামের এক নববধূর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসী অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনে ফুঁসে উঠেছেন।

শনিবার দুপুরে উপজেলার লতিফপুর ছলিমনগর খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ওই গ্রামের নানা বয়সী শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য নাঈমুর রহমানের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের ছলিমনগর গ্রামের শাহীন সিকদারের মেয়ে পারভীন আক্তারের সঙ্গে প্রায় দুই মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব চান্দরা গ্রামের নাঈমুর রহমানের। উল্লেখ্য, নাঈমুর পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই নাঈমুর পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পারভীনকে ঘরে না তুলে নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন এবং তালাকের জন্য চাপ দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। স্বামীর এমন নির্যাতনের ফলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) পারভীন বিষপান করেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে।

মৃত্যুর আগে পারভীন একটি চার পৃষ্ঠার আবেগঘন সুইসাইড নোট রেখে গেছেন। ওই নোটে তিনি লিখেছেন, "আমার পরিবারের কোনো ভুল নাই, আমার পরিবার আমাকে অনেক সুখ দিছে। বড়লোকের মেয়ে আমি, কিন্তু অনেক সাধারণ-সুন্দরভাবে দিন কাটাইছি। আমার ফুলের মতো জীবন শেষ করল নাঈমুর।"

মানববন্ধনে বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মানসিক নির্যাতন ও আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়ে এক নববধূর জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা অভিযোগ করেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং প্রভাব খাটিয়ে তা আপস-মীমাংসার অপচেষ্টা চলছে। অবিলম্বে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এলাকাবাসী।

এ ঘটনায় নিহত নববধূর মা মালেকা বেগম বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মির্জাপুর থানায় অভিযুক্ত নাঈমুরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে, রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ৩ হাজার মিটার জাল জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ পি.এম


ফেনীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ৩ হাজার মিটার জাল জব্দ

ফেনী, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : জেলার সোনাগাজী এলাকায় প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে এবং নিষিদ্ধ সময়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বড় ফেনী নদীতে মাছ শিকার করার অভিযোগে মৎস্য বিভাগ ৩ হাজার মিটার চরঘেরা ও কারেন্ট জাল জব্দ করেছে।

আজ শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার মুহুরী প্রকল্প এলাকা থেকে চর খোন্দকার ও চর আবদুল্লাহ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইউসুফ মিয়া।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাছলিমা আকতার জানান, প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় শনিবার দুপুর থেকে বড় ফেনী নদীতে অভিযান শুরু হয়।

অভিযানের সময় মৎস্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু অসাধু জেলে নদীতে জাল ফেলে নৌকা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

পরে অভিযানে মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরার অভিযোগে নদী থেকে ৩ হাজার মিটার চর ঘেরা ও কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালগুলো জনসমক্ষে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

অভিযানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাছলিমা আকতার, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার পালসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সহায়তা করেন।

প্রসঙ্গত, মা ইলিশ সংরক্ষণে গত ৮ অক্টোবর দিবাগত রাত ১২টা থেকে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। টানা ২২ দিন ইলিশ শিকার, বিপণন, মজুত ও পরিবহন বন্ধ থাকবে।

সরকার ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালনা করবে। এ নিষেধাজ্ঞা ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত বহাল থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় পদ্মানদী জেলে শূন্য, নৌকা সারি সারি নোঙর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ পি.এম


রাজশাহীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় পদ্মানদী জেলে শূন্য, নৌকা সারি সারি নোঙর

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ৮ অক্টোবর থেকে রুপালি ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম শুরু হয়েছে। এই উপলক্ষে ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান শুরু হয়েছে। এ সময় নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় পদ্মাপাড়ের জেলেরা সংসার চালানো নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

সাগরের নোনা পানি থেকে নদীর মিঠাপানিতে এসে মা ইলিশ ডিম ছাড়ে। ডিম ছাড়ার পর মাছটি আবার সাগরে ফিরে যায়। ইলিশের এই প্রজননচক্র যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে কারণে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নদীর পাড়ের মৎস্য ঘাটগুলোতে সারি সারি নৌকা নোঙর করে রাখা হয়েছে এবং জাল স্তূপ করে রাখা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা মেনে মাছ ধরা থেকে বিরত রয়েছেন জেলেরা, যাতে ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীর প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকা ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময় পদ্মা নদীতে মাছ ধরা, ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুত করা নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকে নদীতে টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফলে পুরো পদ্মা নদী এখন জেলেশূন্য হয়ে পড়েছে। অলস সময় কাটাচ্ছেন জেলেরা, নদীর পাড়ে বসে জাল ও নৌকা মেরামতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

জেলেদের অভিযোগ, সারা বছর কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ না পাওয়া এবং ঋণের বোঝার মধ্যে ২২ দিন কাজ বন্ধ থাকায় অনেক জেলে পরিবার তীব্র আর্থিক সংকট ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। এ অবস্থায় জেলেরা চালের পরিমাণ বাড়ানোর এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন। তারা জানান, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা মেনে তারা নদীতে নামছেন না।

জেলেদের অভিযোগ, তাদের পুনর্বাসনের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা করা হয়নি। যে সংখ্যক জেলে রয়েছেন, সে অনুযায়ী সরকারি খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চালের সঠিক তালিকা তৈরি করে দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সম্পূর্ণ সফল করতে প্রকৃত জেলেদের তালিকা নির্ভুলভাবে হালনাগাদ করা, পর্যাপ্ত খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। এতে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রবণতা কমে আসবে।

সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত জেলে পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। তবে জেলেদের দাবি, পরিবারপ্রতি এই পরিমাণ চাল অপ্রতুল। তারা সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে অন্তত ১০০ কেজি চাল দেওয়ার পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

জেলেদের প্রধান অভিযোগ ‘জেলে কার্ড’ বিতরণ নিয়ে। আনারুল ইসলাম, রাজকুমার ও বিনয় চন্দ্রের মতো অনেক প্রকৃত জেলে বছরের পর বছর মাছ ধরলেও তাদের কোনো কার্ড হয়নি। অন্যদিকে, মাছ না ধরেও অনেকে জেলে কার্ড ও সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বারইপাড়া জেলেপল্লির বাসিন্দা লক্ষণ বলেন, ‘নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বেকার বসে আছি। তবে মা ইলিশ বাঁচানো ছাড়া উপায় নেই। কষ্ট হলেও আইন মানতে হবে। কিন্তু সহায়তা ছাড়া টিকে থাকা দুঃসাধ্য।’

দেওয়ানপাড়া গ্রামের জেলে কামাল উদ্দীন জানান, সরকারের দেওয়া ২৫ কেজি চাল দিয়ে বড় পরিবার চালানো কঠিন। পর্যাপ্ত সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকলে পেটের দায়ে অনেককে বাধ্য হয়ে লুকিয়ে নদীতে নামতে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

রেলওয়ে বাজার জেলেপল্লির রাজকুমার বলেন, ‘মাছ ধরা বন্ধ, তাই জাল-নৌকা তীরে বেঁধে রেখেছি। সরকার যে চাল দেবে, তা যেন দ্রুত বিতরণ করা হয়।’

গোদাগাড়ী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অহেদুজ্জামান জানান, জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল এক সপ্তাহের মধ্যেই বিতরণ করা হবে। গোদাগাড়ীতে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২ হাজার ৭৯৪ জন হলেও নদীর তীরবর্তী জেলে পরিবারের মধ্যে সরকারিভাবে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৯০০ জেলেকে ২৫ কেজি করে মোট সাড়ে ৪৭ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হবে। অনিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৫০০। ফলে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৩৯৪ জন জেলে চালের সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন।

তিনি আরো বলেন, ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। অভিযান সফল করতে পুলিশ, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে মাঠে থাকবে।

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়জুড়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ইলিশ সংরক্ষণে এই অবরোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ। এটি আমাদের গর্ব; আমাদের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও জীবিকার প্রতীক।

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%