রিপোর্ট- শাহ্ জালাল সরদার, কালকিনি মাদারীপুর
০৯:১৫ এম
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের উত্তর রমজানপুর গ্রামে আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে পাকা স্থাপনা ও দেয়াল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যায় উত্তর রমজানপুর গ্রামের বাসিন্দা শিরাজ খলিফার মালিকানাধীন পাকা স্থাপনা এবং দেয়াল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলে প্রতিপক্ষ রিফাত পাইক, ছালাম পাইক, সাইদুল পাইক, জহুরাসহ কয়েকজন। এছাড়া এ ঘটনার হুকুমদাতা হিসেবে মামুন পাইক, ছালেক পাইক ও সাইদুল পাইকের নাম অভিযোগকারী পক্ষ উল্লেখ করেছেন। ভুক্তভোগী শিরাজ খলিফা দাবি করেন, তিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে বিরোধপূর্ণ জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। আটজন ওয়ারিশের মধ্যে সাতজনের কাছ থেকে পাঁচ শতাংশ জমি ক্রয়ের মাধ্যমে বৈধ মালিকানা অর্জন করেন। বাকি এক ওয়ারিশ অসুস্থ থাকায় তার অংশের জমি দলিল করা সম্ভব হয়নি। পরে ওই এক শতাংশ জমি রিফাত পাইক ক্রয় করেন, তবে সেই জমির মূল্য তিনিই পরিশোধ করেছেন বলে দাবি করেন। শিরাজ খলিফা আরও জানান, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করে বিরোধপূর্ণ জমিতে সব ধরনের নির্মাণ ও কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আদালতের ওই নির্দেশনা অমান্য করে প্রতিপক্ষ তার পাকা স্থাপনা ভেঙে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই বিষয়ে অভিযুক্ত রিফাত পাইকের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানা গেছে। আরটিভি প্রতিনিধির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থায় তিনি কীভাবে ওই জমির পাকা স্থাপনা ভাঙলেন এবং মামলা নিষ্পত্তির আগে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এখতিয়ার তার আছে কি না। তবে এসব প্রশ্নের কোনো জবাব তিনি দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এলাকার মানুষের দাবি, বিচারাধীন জমিকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের সংঘাত না ঘটে, সেটির জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, এবার ডেঙ্গুজ্বরের শিকার হওয়া রোগীদের রক্তক্ষরণেরও আশঙ্কা রয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, ‘ডাক্তাররা আশঙ্কা করছেন এবারের ডেঙ্গুর রূপ হবে ভয়াবহ। যার নাম হেমোরোজিক। ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে হতে পারে রক্তক্ষরণও। তাই, আগে থেকেই সচেতন হতে হবে।’
ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিনি জানিয়েছেন, দুই থেকে তিনদিন পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হবে। ‘ডেঙ্গু মশার লার্ভা যে প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যাবে, সেখানকার সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করা হবে,’ বলেন তিনি।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালামও মন্তব্য করেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জরিপে এসেছে ডেঙ্গুর জন্য দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬৩টি ওয়ার্ড ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া ২৮টি ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পবিত্র হজ পালন শেষ করে সৌদি আরব থেকে ফিরতি ফ্লাইটে মোট ৩২ হাজার ৮৩২ জন হাজি বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত, এই হাজিরা দেশে ফিরে আসেন। পাশাপাশি, হজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ও হাজি সৌদি আরবে মৃত্যুবরণ করেছেন।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালে আইটি হেল্পডেস্কের প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
বুলেটিন অনুযায়ী, দেশে ফেরা ৩২ হাজার ৮৩২ জন হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৩২৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৯ হাজার ৫০৪ জন রয়েছেন।
এই হাজিদের দেশে ফেরাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২৮টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৩১টি এবং ফ্লাইনাস ১৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
সৌদি আরবের মৃত্যুবরণ করা বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ১৬ জন নারী রয়েছেন। এদের মধ্যে মক্কায় ৩৫, মদিনায় ১২ এবং জেদ্দায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।
হজ বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে মোট ৩৬০ জন হাজি চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। বর্তমানে ২৩ জন হাজি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালন করেন। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে। অন্যদিকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে ৩০ মে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে গবাদি পশুর শরীরে আবারও মাংসখেকো পরজীবী ‘স্ক্রুওয়ার্ম’-এর দ্বিতীয় একটি সংক্রমণের ঘটনা মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) নিশ্চিত করেছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে প্রথম যে স্থানে এই পরজীবীটি পাওয়া গিয়েছিল, তার থেকে ৫.৬ মাইল (৯ কিলোমিটার) দূরে নতুন এই সংক্রমণটি শনাক্ত হলো।
ফলে মার্কিন গবাদি পশুপালকদের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
ইউএসডিএ জানায়, টেক্সাসের জাভালা কাউন্টির একটি খামারে এক মাস বয়সী একটি বাছুরের শরীরে এই ক্ষতিকর পরজীবীটি পাওয়া গেছে। অ্যানিমেল অ্যান্ড প্ল্যান্ট হেলথ ইন্সপেকশন সার্ভিস (এপিএইচআইএস) বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক নমুনা পরীক্ষা করার পর এই দ্বিতীয় উপদ্রবটি নিশ্চিত করেছে। তবে আশেপাশের এলাকার অন্যান্য খামার থেকে সংগৃহীত নমুনার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।
স্ক্রুওয়ার্ম মূলত এক ধরণের পরজীবী মাছি। এটি গরু বা অন্য যেকোনো উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর খোলা ক্ষত বা নরম চামড়ায় ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে লার্ভা বের হওয়ার পর, এরা পশুর জ্যান্ত মাংস ও টিস্যু কুড়ে কুড়ে খায় এবং রক্ত চুষে জীবনধারণ করে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হলে আক্রান্ত পশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
এর আগে ১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে এই পরজীবীর প্রাদুর্ভাব বিপুল বন্যপ্রাণী ও গবাদি পশুর ক্ষতি করেছিল। টেক্সাস হচ্ছে আমেরিকার বৃহত্তম গবাদি পশু উৎপাদনকারী রাজ্য। ফলে, এবারও এই পরজীবীর বিস্তার ঘটলে পশুদের মৃত্যুসহ চিকিৎসা ও অতিরিক্ত শ্রমজনিত কারণে খামারিদের বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। মেক্সিকো থেকে এই পোকাটি উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, যা নিয়ে গত এক বছর ধরেই টেক্সাসের খামারিরা আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।
ঝুঁকি এড়াতে মার্কিন প্রশাসন গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মেক্সিকো থেকে জীবিত গবাদি পশু আমদানি বন্ধ রেখেছে। এছাড়া, এই ক্ষতিকর পোকার বিস্তার রোধ করার জন্য লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয় করা হচ্ছে।
যার মধ্যে রয়েছে ল্যাবরেটরিতে বন্ধ্যা মাছি উৎপাদন করে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া, পোকা ধরার জন্য ফাঁদ পাতার কর্মসূচি বৃদ্ধি করা এবং খামারগুলোতে গবাদি পশুর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরো জোরদার করা।
সূত্র : রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহাখালী আমতলীতে এক যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডে ধাক্কা লেগে বাসটির সহকারী নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই যাত্রী।
আজ শনিবার (৬ জুন) সকালে ৬টার দিকে বনানী থানাধীন মহাখালী আমতলী থেকে ঠিক ১০০ গজ দূরে এই ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মো. রফিকুল ইসলাম (৩৫) ভাটি বাংলা পরিবহনের বাসের হেলপার ছিলেন। এছাড়া, আহত দুই যাত্রীর মধ্যে একজনের নাম মো. রনি (২৫) এবং অপরজনের নাম মো. ফিরোজ (৪০)।
তেজগাঁও ফায়ার স্টেশনের কর্মী মোস্তফা কামাল জানান, নেত্রকোনা থেকে যাত্রা শুরু করা ভাটি বাংলা পরিবহন ঢাকা মেট্রো-ব-১৫৯৪৪১ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাখালী আমতলী এলাকায় আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টিয়ে যায়।
এই দুর্ঘটনায়, হেল্পার এবং দুই যাত্রীসহ মোট ৩ জন আহত হয়।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পরে তিনজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন মো. রফিকুল ইসলামকে সকাল পৌনে ৮টার দিকে।
তেজগাঁও ফায়ার স্টেশনের কর্মী মোস্তফা কামাল আরও জানান, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ে যায় এবং পরে খবর পেয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন, মৃতদেহটি হাসপাতাল মর্গে রেখে দেওয়া হয়েছে এবং আহত দুইজনের চিকিৎসা চলছে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ