প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের উত্তর রমজানপুর গ্রামে আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে পাকা স্থাপনা ও দেয়াল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যায় উত্তর রমজানপুর গ্রামের বাসিন্দা শিরাজ খলিফার মালিকানাধীন পাকা স্থাপনা এবং দেয়াল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলে প্রতিপক্ষ রিফাত পাইক, ছালাম পাইক, সাইদুল পাইক, জহুরাসহ কয়েকজন। এছাড়া এ ঘটনার হুকুমদাতা হিসেবে মামুন পাইক, ছালেক পাইক ও সাইদুল পাইকের নাম অভিযোগকারী পক্ষ উল্লেখ করেছেন। ভুক্তভোগী শিরাজ খলিফা দাবি করেন, তিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে বিরোধপূর্ণ জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। আটজন ওয়ারিশের মধ্যে সাতজনের কাছ থেকে পাঁচ শতাংশ জমি ক্রয়ের মাধ্যমে বৈধ মালিকানা অর্জন করেন। বাকি এক ওয়ারিশ অসুস্থ থাকায় তার অংশের জমি দলিল করা সম্ভব হয়নি। পরে ওই এক শতাংশ জমি রিফাত পাইক ক্রয় করেন, তবে সেই জমির মূল্য তিনিই পরিশোধ করেছেন বলে দাবি করেন। শিরাজ খলিফা আরও জানান, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করে বিরোধপূর্ণ জমিতে সব ধরনের নির্মাণ ও কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আদালতের ওই নির্দেশনা অমান্য করে প্রতিপক্ষ তার পাকা স্থাপনা ভেঙে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই বিষয়ে অভিযুক্ত রিফাত পাইকের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানা গেছে। আরটিভি প্রতিনিধির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থায় তিনি কীভাবে ওই জমির পাকা স্থাপনা ভাঙলেন এবং মামলা নিষ্পত্তির আগে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এখতিয়ার তার আছে কি না। তবে এসব প্রশ্নের কোনো জবাব তিনি দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এলাকার মানুষের দাবি, বিচারাধীন জমিকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের সংঘাত না ঘটে, সেটির জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন