০৩:৩৯ পি.এম
বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক করমুক্ত আয়সীমা বার্ষিক ৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন। এই প্রস্তাবের পাশাপাশি, তিনি এই বাজেটকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ভিশনের বাস্তব প্রতিফলন বলেও অভিহিত করেছেন।
রবিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা উল্লেখ করেন। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে পূর্বাচলের জনসমুদ্রে যখন বলেছিলেন— ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, তখন শুক্রবারের বাজেট সেই পরিকল্পনারই বহিঃপ্রকাশ। বিশেষভাবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জ্বালানি নিরাপত্তার উপর যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা প্রশংসনীয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, লন্ডনের মতো উন্নত দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে মডেলে রেখে বাংলাদেশেও স্বাস্থ্য খাতের বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আজ বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গাপূজা
উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমাদের শুধু ঘোষণা দূর থেকে করা চলবে না। প্রধানমন্ত্রীর কাজের গতির সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরও দ্রুত জনবল, ডাক্তার এবং যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করতে হবে। ৬০০টি উপজেলার একসাথে উন্নয়ন সম্ভব না হলেও, তা পর্যায়ক্রমে ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও কর প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব। তবে বর্তমানে মাসে ৫০ হাজার টাকার নিচে আয় করে জীবন চালানো কঠিন। তাই করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ টাকা করা উচিত। উপজেলা পর্যায়েও এখন অনেক সক্ষম করদাতা আছেন, যেখানে কর আহরণের ক্ষেত্রে এনফোর্সমেন্টের দিকে জোর দিতে হবে।
নিজের মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিদেশে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য পূরণে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। যদিও আমার মন্ত্রণালয়ের বাজেট কিছুটা কম হয়েছে, তবে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, কাজের প্রয়োজনে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হবে।
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়। কেবল সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য নয়, বরং বাস্তবতার ভিত্তিতে সব স্টেকহোল্ডারদের সাথে সংলাপের মাধ্যমে মানসম্মত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা দরকার।
আরও পড়ুন: মিসরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত, ৩৪ জন আহত
চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি নিজে চরাঞ্চলের মানুষ। সেখানে স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার অবস্থা খুবই করুণ। চরাঞ্চল নিয়ে একটি আলাদা ফাউন্ডেশন বা কর্তৃপক্ষ গঠন করা অত্যন্ত জরুরি। অর্থমন্ত্রীসহ সহকর্মীদের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের এলাকার উন্নয়নের জন্য যদি কোনো চাহিদাপত্র আসে, তাহলে মানবিক দৃষ্টিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন