ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাদকের টাকা না পেয়ে কোরআনে আগুন দেওয়ার অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার জুয়েল


মাদকের টাকা না পেয়ে কোরআনে আগুন দেওয়ার অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার জুয়েল

পাবনার ঈশ্বরদীতে ঘটনা ঘটে মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে স্ত্রীর উপর মারধর এবং কোরআন শরীফ পোড়ানোর অভিযোগে এক ব্যক্তির পিটুনি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলার সাড়াগোপালপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জুয়েল রানা (৪০), তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, জুয়েল রানা স্ত্রীসহ ঈশ্বরদীর সাড়াগোপালপুর শেফালী পট্রি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক সেবনের টাকার জন্য মাঝে মাঝে স্ত্রীকে মারধর করতেন। ঘটনার দিনও তিনি মাদকের টাকার জন্য স্ত্রীকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে তিনি পবিত্র কোরআন শরীফে আগুন ধরিয়ে দেন।

আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত

এ সময় বিষয়টি স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে তাকে আটক করে উত্তম মধ্যম দেন। পরে তাকে খুঁটির সঙ্গে বেধে গলায় জুতার মাল পরিয়ে, মুখে চুনকালি মাখিয়ে তার শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই ব্যক্তিকে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, ওই ব্যক্তি মাদকাসক্ত। মাদক সেবনের জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু স্ত্রীর কাছ থেকে তিনি টাকা পাচ্ছেন না, বরং স্ত্রীর কাছে কুরআন শরীফের ভেতর টাকা লুকিয়ে রাখেন। এ সময় ওই ব্যক্তি তার স্ত্রীকে মারধর করতে থাকেন।

এক পর্যায়ে খুঁজতে খুঁজতে কোরআন শরীফের ভেতর ওই ব্যক্তি টাকা খুঁজে পান। পরে স্ত্রীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আবারও মারধর শুরু করেন এবং কোরআন শরীফের পাতা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেন। এই সময় তার স্ত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে তাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এই ঘটনার পর আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, র‌্যালি ও সমাবেশ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৬ কৌশলে পোশাক খাতকে রূপান্তরের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১১ পি.এম


৬ কৌশলে পোশাক খাতকে রূপান্তরের আহ্বান

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দুর্বল বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থা, সীমিত বাজার বৈচিত্র্য, প্রযুক্তিগত পিছিয়ে থাকা এবং এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে বলে মন্তব্য করেছেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মাসরুর রিয়াজ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স অ্যালায়েন্স (বায়লা) আয়োজিত ‘বায়লা ফিউচার সামিট-২০২৬’-এর এক সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, চার দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প। কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে রপ্তানিমুখী অর্থনীতিতে উত্তরণের পেছনে এই খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি আসে পোশাক খাত থেকে।

এটি দেশের বৃহত্তম উৎপাদন খাত, সবচেয়ে বড় আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের উৎস এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান মাধ্যম।

তবে বৈশ্বিক বাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সাফল্যের ওপর নির্ভর করে থাকলে হবে না। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি গ্রহণ, বাজার সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়াতে না পারলে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।

ড. রিয়াজ পোশাক খাতকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে নিতে ছয়টি কৌশলের কথা তুলে ধরেন।

এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য সুবিধা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, লজিস্টিকস অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ, টেকসই উন্নয়ন ও সার্কুলার অর্থনীতির প্রসার, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী মানবসম্পদ গড়ে তোলা।

তার মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বর্তমানে দেশের লজিস্টিকস ও বন্দর খাতে। বিশ্বব্যাংকের লজিস্টিকস পারফরম্যান্স সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম। প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম ও ভারত এ ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে। তিনি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস ও পরিবহনে ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগে, যেখানে অনেক প্রতিযোগী দেশে একই কাজ দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়।

বর্তমান সক্ষমতা দিয়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। তাই বে টার্মিনালসহ নতুন বন্দর অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পণ্য ও বাজার বৈচিত্র্যের অভাবকেও বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন এই অর্থনীতিবিদ। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি যায়। ফলে এসব অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বাংলাদেশের রপ্তানি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তিনি জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, চীনসহ নতুন বাজারে প্রবেশ বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পণ্য ও ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাক উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

ড. রিয়াজ বলেন, বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ পোশাক এখন ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক হলেও বাংলাদেশের রপ্তানিতে এর অংশ মাত্র ২৮ শতাংশ। বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ খাতে সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

এলডিসি উত্তরণের পর শুল্ক সুবিধা কমে যাওয়ার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না নিলে বাংলাদেশের বর্তমান রপ্তানির ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তার মতে, প্রযুক্তি, দক্ষতা, বাজার বৈচিত্র্য ও লজিস্টিকস খাতে দ্রুত সংস্কার কার্যকর করা গেলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আগামী দশকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে সক্ষম হবে। তবে সেই যাত্রার প্রধান শর্ত হলো বিশ্বমানের বন্দর ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘মুরোদ থাকলে নির্বাচনে দাঁড়ান’ আন্দোলনকারীদের কটাক্ষ কঙ্গনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৩ পি.এম


‘মুরোদ থাকলে নির্বাচনে দাঁড়ান’ আন্দোলনকারীদের কটাক্ষ কঙ্গনার

ভারতে নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগে সিজেপি-র ‘চলো সংসদ’ পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পার্লামেন্ট প্রাঙ্গণে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপি সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাওয়াত।

বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে উঠতে পারে এমন আশঙ্কায় ভেতরে থাকা সংসদ সদস্যরা আতঙ্কে ছিলেন উল্লেখ করে তিনি পরিবেশ শান্ত রাখা ও সুরক্ষার জন্য দিল্লি পুলিশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা বলেন, সকল সংসদ সদস্য পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরেই ছিলেন। যখন বাইরে হাজার হাজার আন্দোলনকারী জড়ো হয়েছিল, তখন আমরা সবাই ভীষণ আতঙ্কে ছিলাম—ভাবছিলাম এই উগ্র জনতা হয়তো আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে বসবে। আমি দিল্লি পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই যে তারা একটি শক্ত ঢালের মতো কাজ করেছে এবং কাউকে কোনো ক্ষতি হতে দেয়নি।

পুলিশের পদক্ষেপের প্রশংসা করার পাশাপাশি আন্দোলনকারী ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনা করেন এই তারকা সংসদ সদস্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত কোনো সরকারকে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা উচিত নয়।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি প্রসঙ্গে কঙ্গনা বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকারের অধিকার রয়েছে কীভাবে তারা সরকার চালাবে তা ঠিক করার। আপনার যদি এতই নীতিগত অবস্থান থাকে, তবে নিজের নির্বাচনে দাঁড়ানো উচিত। কাকে বরখাস্ত করা হবে আর কাকে রাখা হবে—সে বিষয়ে সরকারকে আপনি কখনোই জোরজবরদস্তি করতে পারেন না।

কঙ্গনা আরও অভিযোগ করেন যে, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংসদের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন এবং একইসঙ্গে বাইরে আন্দোলনকে ইন্ধন দিচ্ছেন। তার মতে, সংসদ হচ্ছে আলোচনা ও বিতর্কের জায়গা, হট্টগোল বা বিক্ষোভ দেখানোর জায়গা নয়।

উল্লেখ্য, পরীক্ষা বাতিলের দাবি ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত সিজেপির ‘চলো সংসদ’ মার্চকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। দিল্লি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে ১১৮ জন পুলিশ সদস্য এবং ৬০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, শিল্পী দিলজিৎ দোসাঞ্জ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন। এই মুহূর্তে চলমান বর্ষাকালীন অধিবেশনে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সিজেপির আন্দোলনই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্রমবর্ধমান ভ্রাতৃত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব নিয়ে বাংলাদেশ-তুরস্কের আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৬ পি.এম


ক্রমবর্ধমান ভ্রাতৃত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব নিয়ে বাংলাদেশ-তুরস্কের আলোচনা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আজ ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বেরিস একিনসির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

এ সময় তারা উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও আঙ্কারার মধ্যে ক্রমবর্ধমান ভ্রাতৃত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব পর্যালোচনা করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে বিকশিত অংশীদারিত্ব নিয়ে উভয় পক্ষ আন্তরিকভাবে মতবিনিময় করেন।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফিলিপাইনের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক ঢাকা-আঙ্কারা দ্বিপক্ষীয় ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন এবং দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারে অব্যাহত সম্পৃক্ততার বহিঃপ্রকাশ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ড. খলিলুর রহমান ও হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্ব নিয়ে আন্তরিকভাবে মতবিনিময় করেন।

এআরএফ বৈঠকে যোগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ বিকেলে নিউইয়র্ক থেকে ম্যানিলায় পৌঁছান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিমান ২০৩১ সালের মধ্যে এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কিনবে: মিল্লাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৭ পি.এম


বিমান ২০৩১ সালের মধ্যে এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কিনবে: মিল্লাত

সরকারের মিশ্র-বহর (মিক্সড-ফ্লিট) কৌশলের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ইউরোপের শীর্ষ উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জায়ান্ট ‘এয়ারবাস’ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনবে।

আজ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মিল্লাত বাসস’কে বলেন, ‘আমরা ৩১ আগস্টের মধ্যে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করব।’

তিনি জানান, ২০৩১ সাল থেকে এসব উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দাম এবং অন্যান্য শর্তাবলীসহ কেনাকাটার বিস্তারিত তথ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রকাশ করা হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের জাতীয় ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রেখেই সরকার এই চুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন খাতের অন্যতম আলোচিত উড়োজাহাজ সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর কিছুদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘বোয়িং’ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিমান।

বোয়িংয়ের চুক্তির আওতায় আনুমানিক ৩.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এই প্রেক্ষাপটে এয়ারবাস সম্প্রতি বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কার্যক্রম জোরদার করে। তারা বিমানের কারিগরি-অর্থনৈতিক কমিটির কাছে চারটি ‘এ৩৫০-৯০০’ ওয়াইড বডি এবং ছয়টি ‘এ৩২১নিও’ ন্যারো বডি উড়োজাহাজ বিক্রির একটি প্রস্তাব জমা দেয়।

এই প্রস্তাবের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে এয়ারবাসের ভাইস প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড ডেলাহায়ে সম্প্রতি ঢাকায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত এবং বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

মিল্লাত জানান, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর সরকার এখন ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক পরিবেশ বজায় রাখা এই কেনাকাটার পেছনে অন্যতম বিবেচ্য একটি বিষয়। একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিমানকে মিশ্র-বহরের এয়ারলাইন্সে রূপান্তরিত করার একটি সমন্বিত সরকারি নীতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বিশ্বের দুই বৃহৎ বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং ও এয়ারবাসের উড়োজাহাজ একই বহরে পরিচালনা করবে বিমান। এটি বিমানের বহর ব্যবস্থাপনায় একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ সিদ্ধান্ত এমন সময় এলো, যখন সরকার ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ পর্যালোচনা করছে। এর লক্ষ্য জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটিকে আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক যাত্রী ও কার্গো বিমান চলাচলের কেন্দ্রে পরিণত করা।

বিমানের ভবিষ্যৎ বহরে জায়গা পেতে এয়ারবাস ও বোয়িং বেশ কয়েক বছর ধরেই তীব্র প্রতিযোগিতা করে আসছিল। এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আগ্রহও দেখা গেছে।

২০২৩ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বাংলাদেশ সফরের সময় এয়ারবাস নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালায়। সে সময় কার্গো উড়োজাহাজসহ ১০টি এয়ারবাস কেনার সম্ভাব্য বিষয়টি ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ চুক্তিসহ সামগ্রিক বাণিজ্য আলোচনার প্রেক্ষাপটে বোয়িং ১৪টি উড়োজাহাজের চুক্তিটি চূড়ান্ত করে।

তবে এয়ারবাসও পিছিয়ে না থেকে ওয়াইড বডি ও ন্যারো বডির সংমিশ্রণে নতুন অফার দেয়। ‘এ৩৫০-৯০০’ উড়োজাহাজ দিয়ে মূলত দূরপাল্লার রুট পরিচালনা করা হবে। অন্যদিকে বিমানের নেটওয়ার্ক চাহিদা অনুযায়ী ‘এ৩২১নিও’ আঞ্চলিক, গালফ ও এশিয়ার মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহার করা যাবে।

সরকারের এই মিশ্র-বহর নীতির বিষয়টি স্পষ্ট করে গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের উভয় প্রস্তুতকারকের উড়োজাহাজই প্রয়োজন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বোয়িং ও এয়ারবাস দুটোই প্রয়োজন। আমরা দুটো কোম্পানির থেকেই কিনব।’

বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত এয়ারবাসের প্রতি বাংলাদেশের আগ্রহের পরিপন্থী বা কোনো বাহ্যিক চাপের ফল- এমন ধারণা নাকচ করে শামা ওবায়েদ বলেন, দেশের যা প্রয়োজন, সরকার তা-ই কিনবে এবং একইসঙ্গে বিচক্ষণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাও বজায় রাখবে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী (পূর্ববর্তী সরকারগুলো থেকে) একটি নাজুক অর্থনীতি পেয়েছেন। অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করাতে একদিকে আমাদের সাশ্রয়ী হতে হবে, অন্যদিকে দেশের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোও কিনতে হবে। আমাদের বোয়িং ও এয়ারবাস দুটোই প্রয়োজন। আমরা দুটো থেকেই কিনব।’

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশকে অগ্রাধিকার দেয় না।

বিনিয়োগের প্রশ্নে সব সময় বাংলাদেশের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়।

সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী মিল্লাতের সাথে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের এক বৈঠকেও এয়ারবাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে।

ওই বৈঠকে সরকার জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচিতে এয়ারবাস যুক্ত করার অভিপ্রায় তুলে ধরে।

অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এটিএম নজরুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, মিশ্র-বহর কৌশল প্রয়োগ করলে কার্যক্রমে আরও বেশি সক্ষমতা ও নমনীয়তা আসবে, রুটের উপযোগী উড়োজাহাজ ব্যবহার করা যাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যিক দক্ষতা বাড়বে।

তিনি বলেন, নতুন উড়োজাহাজগুলো যদি পুরনো উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপনের জন্য কেনা হয় তবে এই বাড়তি কেনাকাটা বাণিজ্যিকভাবে যুক্তিসঙ্গত হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি রুট পরিকল্পনা ও লাভজনকতার বিষয়টি মাথায় রেখে বহর সম্প্রসারণ করা হচ্ছে কি-না তা সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা উচিত।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মিশ্র বহর থাকলে যাত্রী চাহিদা, রুটের কার্যকারিতা ও ব্যয় কাঠামো বিবেচনায় একটি এয়ারলাইন্স সবচেয়ে উপযোগী উড়োজাহাজ ব্যবহার করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন মডেলের উড়োজাহাজ ব্যবহার করলে রুট পরিচালনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে এবং পরিচালন ব্যয়ও কমে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%