ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘মুখ বুজে সব সহ্য করলেই লক্ষ্মী মেয়ে, আমি তা হতে পারিনি’: ইশা সাহা


‘মুখ বুজে সব সহ্য করলেই লক্ষ্মী মেয়ে, আমি তা হতে পারিনি’: ইশা সাহা

চুপচাপ থাকা, সবার কথা মেনে চলা এবং নিজের মতামত প্রকাশ না করা—সমাজে এমন মেয়েদের অনেক সময় ‘লক্ষ্মী মেয়ে’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। অন্যদিকে, যদি কেউ নিজের মত প্রকাশ করে কিংবা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, তখন সেই মেয়েটিকে ‘অলক্ষ্মী’ তকমা দেওয়া হয়। সমাজে প্রচলিত এই ধারণা নিয়ে টালিউড অভিনেত্রী ইশা সাহা নিজের চিন্তাভাবনা প্রকাশ করেছেন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে লক্ষ্মীপূজা, শৈশবের স্মৃতি এবং সমাজে নারীর অবস্থান সম্পর্কে তার উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছেন ইশা।

ছোটবেলা থেকেই ‘লক্ষ্মী মেয়ে’ শব্দটির সঙ্গে পরিচিত ছিলেন এই অভিনেত্রী। সবার কথা শুনে চলা এবং বাধ্য মেয়ের মতো আচরণ করার মধ্যেই তিনি ভালো মেয়ের পরিচয় খুঁজতেন। দুর্গাপূজার পর লক্ষ্মীপূজা কেন হয়, সে বিষয়ে একসময় মাকেও প্রশ্ন করেছিলেন। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্মীদেবীর ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্ব সম্পর্কে তার ধারণা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: মা হারালেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা পপি

ইশা জানান, তাদের বাড়িতে ব্যবসা থাকায় লক্ষ্মী ও গণেশের একসঙ্গে পূজা করা হতো। কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় নিজ হাতে বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানো এবং আলপনা দেওয়ার স্মৃতি আজও তার কাছে বিশেষ। নিজের উপার্জন শুরু করার পর অর্থনৈতিক জীবনে লক্ষ্মীপূজার তাৎপর্য তিনি আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন।

তবে লক্ষ্মী মেয়ে হওয়ার প্রচলিত ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী। তার মতে, সমাজে শান্ত ও চুপচাপ থাকা মেয়েদের ভালো হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু কেউ যদি স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করে, তাহলে তাকে ‘অলক্ষ্মী’ বলা হতে পারে। অথচ নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা কাউকে খারাপ মানুষ বানায় না।

ইশার মতে, যতক্ষণ একটি মেয়ে অন্যের পছন্দ অনুযায়ী চলে এবং নীরবে সবকিছু সহ্য করে, ততক্ষণ তাকে ভালো বলা হয়। কিন্তু নিজের মত প্রকাশ করলে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যেতে পারে। এই মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

অভিনেত্রীর কাছে লক্ষ্মী হওয়ার অর্থ শুধুমাত্র অর্থ-সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার দৃষ্টিতে, যারা ঘর ও বাইরের দায়িত্ব সমানভাবে সামলান এবং নিজের ভালো থাকার পাশাপাশি আশপাশের মানুষকেও ভালো রাখেন, তারাই প্রকৃত অর্থে লক্ষ্মী। সবার ঘরে লক্ষ্মীর আশীর্বাদ থাকুক, দারিদ্র্য দূর হোক এবং মানুষের জীবনে নতুন আলো আসুক—এমন প্রত্যাশাও জানিয়েছেন ইশা।

আরও পড়ুন: নেপালের নাট্যোৎসবে মঞ্চস্থ হবে বাংলাদেশের ‘এ ফাদার’স স্কাই’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডাব খাওয়া কমাতে হবে: চসিক মেয়র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডাব খাওয়া কমাতে হবে: চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মন্তব্য করেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য ডাব খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। বর্তমানে ডাব খাওয়ার প্রবণতা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, চিকিৎসাকেন্দ্রের সামনে ডাবের খোসা ও উচ্ছিষ্টের স্তূপ দেখা যাচ্ছে। সেখানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে। এডিস মশা ডাবের মিষ্টি অংশ খেতে বেশি পছন্দ করে, কারণ সেখানে সুস্বাদু আস্তর ও মিষ্টি পানি বিদ্যমান।

তিনি আরও বলেন, অনেক চিকিৎসক রোগীদের ডাব বা মাল্টা খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে এভাবে ডাব ও মাল্টা খেয়ে কৃত্রিমভাবে তাদের দাম বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। সাধারণ স্যালাইন খেলেই যেখানে কাজ চলে, সেখানে ডাব খাওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

রোববার নগরীর একটি হোটেলে চিকিৎসকদের এক কর্মশালায় এনসিপি নেতাকর্মীদের মশারি টাঙিয়ে প্রতিবাদের জবাবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র উল্লেখ করেন, ডেঙ্গু হঠাৎ করে ছড়িয়ে পড়া কোনো রোগ নয়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তুলনায় চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার অনেক কম। প্রেস ক্লাবের সামনে মশারি টাঙিয়ে বা চেহারা দেখিয়ে সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যেতে পারে, কিন্তু তাতে সমস্যার প্রকৃত সমাধান হয় না। সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে এবং ভুল তথ্য বা গুজব ছড়ানো উচিত নয়। মিথ্যা তথ্য দিয়ে কার্যকর কিছু করা সম্ভব নয়।

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে মেয়র জানান, চলতি বছর চট্টগ্রামে মোট ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নগরে ১০ জন এবং জেলায় ১৩ জন মারা গেছেন। সীতাকুণ্ডে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে, যা তার এলাকার বাইরে। সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণে এমনটি ঘটছে। অথচ যারা মশারি টাঙিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তারা এই সঠিক তথ্যটুকুও জানেন না। সীতাকুণ্ডে বেশি মৃত্যু হওয়ার পরও চসিকের পক্ষ থেকে সেখানে ওষুধ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ভুল তথ্যের কারণে অনেকে দায়মুক্তি পেয়ে যাচ্ছেন।

চসিক মেয়র আরও জানান, চলতি বছর চট্টগ্রাম নগরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৫১৭ জন। অন্যদিকে ঢাকার দুই সিটিতে চলতি বছর ২৮ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। অথচ চসিক এলাকায় মারা গেছেন মাত্র ১০ জন। নগরীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) স্বীকৃত ‘বিটিআই’ লার্ভিসাইড ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এবছর আক্রান্তের হার অনেকটাই কমেছে।

মেয়র বলেন, থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে গত সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কিছুটা বেড়েছিল। তাছাড়া নগরে প্রধান হাসপাতালগুলো অবস্থিত হওয়ায় জেলার রোগীদের চাপও চসিকের ওপর পড়ছে। সীতাকুণ্ডে আক্রান্ত হলেও মানুষ মনে করছে তা নগরেই হচ্ছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, দিনের বেলায় এডিস মশা বেশি কামড়ায় এবং যারা দিনে বেশি ঘুমান, বিশেষ করে ফজরের নামাজের পর, তারা ডেঙ্গুতে বেশি আক্রান্ত হন।

‘ডিভিশনাল ট্রেনিং অন ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব ডেঙ্গু’ শীর্ষক ওই কর্মশালায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মনির-উজ-জামান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জাকারিয়া আল-আজিজ এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে হাশমিরা হায়দার চৌধুরী নামের এক নারীর উদ্যোগে মশারি টাঙিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি ও গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ‘মশা বড় নাকি মেয়র বড়?’—এমন স্লোগান ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করা হয়। ওই কর্মসূচিতে চট্টগ্রামের এনসিপি নেত্রী সাদিয়া আফরিন উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তৃতীয় দফায় নামঞ্জুর হলো এমপি গাজী নজরুলের জামিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


তৃতীয় দফায় নামঞ্জুর হলো এমপি গাজী নজরুলের জামিন

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন আদালত তৃতীয় দফার মতো নামঞ্জুর করেছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আল বিরুনী মীরের আদালত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান এদিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে।

এর আগে, গত ৭ অক্টোবর গাজী নজরুলের জামিনের জন্য আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। তখন তিনি পর্যবেক্ষণ করেন, আসামি বয়স্ক এবং ভিকটিম অতি অল্পবয়সী মেয়ে। আসামির হেফাজতে থাকা অবস্থায় ভিকটিম আত্মহত্যা করেছে। হাজতবাস যথেষ্ট নয়। জামিন পেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। এই কারণে আসামির জামিন নামঞ্জুর করা হলো।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই মামলায় নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন চাওয়া হয়েছিল। সেদিন আদালত মাকছুদাকে জামিন দিলেও নজরুলের আবেদন নামঞ্জুর করে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।

মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পরদিন আদালত নজরুলের চার দিনের এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে মামলাটির তদন্ত গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নজরুলের আরও এক দফা রিমান্ড মঞ্জুর হয়। দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিকে মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি জামানত নেওয়ার সুপারিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি জামানত নেওয়ার সুপারিশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে সুপারিশ করা হয়েছে যে, গ্রামীণ সড়ক ও রাস্তাঘাট নির্মাণকাজের গুণগত মান, স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি হিসেবে জামানত নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে দেশের আর্সেনিকপ্রবণ এলাকায় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং উপজেলা পর্যায়ে অনলাইনভিত্তিক হাজিরা নিশ্চিত করার সুপারিশও করা হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে।

রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের ওপর একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। এছাড়া, সরকারের গত ১৮০ দিনে মন্ত্রণালয়ের নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।

বৈঠকে আর্সেনিকযুক্ত এলাকা চিহ্নিত করে নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে, গ্রামীণ সড়ক নির্মাণকাজের মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি হিসেবে জামানত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। নির্মাণকাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে তদারকি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান তদারকি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি। বৈঠকে কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতিমুক্ত আচরণ ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া, উপজেলা পর্যায়ে অনলাইনভিত্তিক হাজিরা নিশ্চিত করার সুপারিশও করা হয়। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করেছে কমিটি।

বৈঠকের শুরুতে কমিটির সদস্যদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

কমিটির সভাপতি স্বাগত বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আন্দোলনে আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, আলহাজ জসীম উদ্দীন আহমেদ, শেখ ফরিদ আহমেদ, সেলিনা সুলতানা, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং মো. রফিকুল ইসলাম খান অংশ নেন। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিবদ্বয়, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব, বিভিন্ন সংস্থা ও অধিদপ্তরের প্রধান এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পারমাণবিক হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না ভারত: অনমল শের সিং বেদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


পারমাণবিক হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না ভারত: অনমল শের সিং বেদি

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম কমিটির বৈঠকে পাকিস্তানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ভারত কড়া জবাব দিয়েছে। দেশটির কূটনীতিক অনমল শের সিং বেদি বলেছেন, সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় পারমাণবিক হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না নয়াদিল্লি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভারতের বিরুদ্ধে যেকোনো সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। খবর এনডিটিভি

ভারতের পক্ষ থেকে ‘রাইট অব রিপ্লাই’ বা জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে দেশটির ফার্স্ট সেক্রেটারি অনমল শের সিং বেদি। পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের বক্তব্যের জবাবে তিনি পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা, সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার এবং সন্ত্রাসবাদে রাষ্ট্রের দায় নিয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন।

বেদি উল্লেখ করেন, ভারত সংঘাত চায় না। তবে বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত না করা হলে শান্তি কেবল এক সংকট থেকে আরেক সংকটের মধ্যবর্তী বিরতিতে পরিণত হবে।

ভারতের এই কূটনীতিকের বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দেশটির কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হুমকিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তার মতে, শান্তি ও সংযমের কথা বলার পাশাপাশি সংকট সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের দায়ও স্বীকার করতে হবে।

জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক মানুষের নিহত হওয়ার ঘটনার উল্লেখ করে বেদি বলেন, ওই হামলার জবাবে গত বছরের মে মাসে ভারতের সামরিক পদক্ষেপ ছিল আত্মরক্ষার অংশ।

তিনি বলেন, পেহেলগামে ২৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার পর ভারত আত্মরক্ষার্থে পদক্ষেপ নেয়। এসব পদক্ষেপ ছিল সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক, পরিমিত এবং সংঘাতের বিস্তার এড়ানোর উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সামরিক পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলা করা, বৃহত্তর যুদ্ধ শুরু করা নয়। বেদি বলেন, সন্ত্রাসী হামলার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। পারমাণবিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখিয়ে সেই অধিকার সীমিত করার প্রচেষ্টাও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

সন্ত্রাসবাদ, কাশ্মীর ও নিরাপত্তা নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পেহেলগামের হামলার পর দুই দেশের বিরোধ আরো তীব্র হয়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবাদ দমন এবং পারমাণবিক অস্ত্রের কারণে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের সম্পৃক্ততায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন বেদি।

তিনি বলেন, চুক্তিটি পারস্পরিক আস্থা ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কোনো রাষ্ট্র সেই আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তি দুর্বল করে একই সঙ্গে চুক্তি থেকে পাওয়া সুবিধাগুলো অক্ষুণ্ন রাখার দাবি করতে পারে না।

এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে চুক্তি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি দুই দেশের পারস্পরিক দায়িত্ব ও জবাবদিহির বিষয়টি সামনে আনেন তিনি।

পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার প্রসঙ্গে পাকিস্তানি বিজ্ঞানী এ কিউ খানের নেটওয়ার্কের ইতিহাস উল্লেখ করেন ভারতীয় এই কূটনীতিক। ওই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন দেশের পারমাণবিক কর্মসূচিতে প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারমাণবিক প্রযুক্তির বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ ছিল এই নেটওয়ার্ক।

বেদি এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫৪০ নম্বর প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। ২০০৪ সালে গৃহীত এই প্রস্তাবে গণবিধ্বংসী অস্ত্র এবং এ-সংক্রান্ত উপকরণ যাতে অরাষ্ট্রীয় পক্ষের হাতে না পড়ে, সে জন্য রাষ্ট্রগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সব রাষ্ট্র ও দায়িত্বশীল সরবরাহকারীর উচিত সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। এটি শুধু ভারতের নিরাপত্তার জন্য নয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেও জরুরি।

পারমাণবিক সহযোগিতা এবং উন্নত সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।

পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি দিয়ে প্রচলিত যুদ্ধের সীমার নিচে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের পরিণতি এড়ানোর কৌশলের সমালোচনা করেন বেদি। তার মতে, এ ধরনের কৌশল সংঘাত কমানোর পরিবর্তে পরিস্থিতিকে আরো বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।

তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রকে রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়মিত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। পারমাণবিক শক্তির উপস্থিতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অন্যান্য উসকানিমূলক কার্যক্রমের পরিণতি সীমিত রাখার চেষ্টা সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ায়।

বেদির অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে প্রথমে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ঘটে, পরে দায় অস্বীকার করা হয়। এরপর পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হলে সংযমের আহ্বান জানানো হয়।

তিনি বলেন, অরাষ্ট্রীয় পক্ষের আড়ালে কোনো রাষ্ট্র বলপ্রয়োগ করলে সেই রাষ্ট্রের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

এ সময় ভারতের অবস্থানের তিনটি মূলনীতি তুলে ধরেন বেদি। প্রথমত, ভারতের বিরুদ্ধে যেকোনো সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, পারমাণবিক হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না ভারত। তৃতীয়ত, যারা সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয় এবং যারা হামলার পরিকল্পনা করে, তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করবে না নয়াদিল্লি।

জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বেদি অঞ্চলটিকে দেশটির অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ভারতের ভাষ্য অনুযায়ী, অবৈধ দখলে থাকা ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বেদি বলেন, ভারত সব সময় শান্তির পক্ষে থেকেছে এবং সবার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সন্ত্রাসবাদ ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের দায় নির্ধারণ করা জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%