ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

এশিয়া কাপে ফাইনালের স্বপ্ন দেখছেন জ্যোতি


এশিয়া কাপে ফাইনালের স্বপ্ন দেখছেন জ্যোতি

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল, যারা এশিয়া কাপে অংশগ্রহণ করছে। টুর্নামেন্টের শুরুতে অধিনায়কদের জন্য একটি ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি উপস্থিত ছিলেন।

জ্যোতি দেশের ভেতর থেকেই এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি আবারও সেই আশার কথা তুলে ধরেছেন এবং জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে উদ্‌যাপনের সুযোগ এনে দিতে চান।

সংবাদ সম্মেলনে জ্যোতি মন্তব্য করেছেন, “আমার মনে হয় আমরা এই টুর্নামেন্টের আগে নিজেদের বেশ ভালোভাবে প্রস্তুত করে এসেছি। আপনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভালো পারফরম্যান্সের কথা বললেন। সেখানে আমরা কিছু ম্যাচে খুব কাছাকাছি গিয়ে ম্যাচ হেরেছি। আমাদের অ্যাপ্রোচ হবে, এবার আমরা সেসব সুযোগ যেন হাতছাড়া না করি। আমরা এখানে ভালো ইনটেন্ট নিয়ে খেলার ব্যাপারে মুখিয়ে আছি।”

আরও পড়ুন: সরকারের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধিতে জনগণের রান্নাঘরে ভোগান্তি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

অধিনায়ক আরও যোগ করেছেন, “আমরা যতবারই এখানে এসেছি আমরা অনেক বেশি মানুষের সাপোর্ট পেয়েছি। যারা আমাদের বাঙালি ভাইবোনেরা আছেন, তারা সবসময় এসে সাপোর্ট করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে এসে অনেক সাপোর্ট পেয়েছিলাম। এবারও আশা করছি তারা যেন আসেন এবং চিয়ার করেন আমাদেরকে মাঠে। বাংলাদেশের মানুষ যেখানে থাকেন না কেন, তারা সবসময় চান নারী ক্রিকেট যেন প্রতি টুর্নামেন্টে বেটার অ্যাপ্রোচ নিয়ে যায়। আমরা এটাকে সামনে রেখে ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতিবার আমাদের সেমিতে গিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। এবার টার্গেট থাকবে যেন ফাইনাল খেলতে পারি এবং বাংলাদেশকে উদ্‌যাপন করার মত কিছু দিতে পারি।”

বাংলাদেশের এশিয়া কাপ অভিযান শুরু হবে আগামী ৩১ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গুলিবর্ষণ, মা গুলিবিদ্ধ ও ছেলের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩২ এম


রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গুলিবর্ষণ, মা গুলিবিদ্ধ ও ছেলের মৃত্যু

উখিয়ার ক্যাম্প-৮ ইস্টে সংঘর্ষ ও ব্যাপক গুলিবর্ষণের ফলে একই পরিবারের মা ও ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় ছেলে মারা যায়। এই ঘটনার ফলে ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (৮ এপিবিএন) অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, গোলাগুলির ঘটনায় এক শিশু ও তার মা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, "এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"

স্থানীয় রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি/৪০ ও বি/৪১ ব্লক এলাকায় গুলিবর্ষণ শুরু হয়। তাদের দাবি, এআরএ ও আরসার সদস্যরা একত্রিত হয়ে আরএসও সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে।

আশপাশের বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত আনুমানিক ১২০ রাউন্ডের বেশি গুলির শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, গুলির সংখ্যা ১২০ থেকে ২০০ রাউন্ডের মধ্যে হতে পারে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

গুলিবর্ষণের ঘটনায় ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি/৪১ ব্লকের বাসিন্দা নুর আলমের পুত্র ইউসুফ এবং তার মা তাহেরা বেগম গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত ইউসুফকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদের প্রথমে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।

জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের ব্যাপক গুলিবর্ষণের কারণে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তার কারণে অনেকে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এর ফলে ক্যাম্পের স্বাভাবিক চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ঘটনার পর ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গুলিবর্ষণের প্রকৃত কারণ, হতাহতের সংখ্যা এবং ঘটনায় কারা জড়িত—তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালে সহায়তায় ৩১ মিলিয়ন ডলার চাইলো রেড ক্রস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৪ এম


নেপালে সহায়তায় ৩১ মিলিয়ন ডলার চাইলো রেড ক্রস

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে ৩ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার তহবিল সংগ্রহের জন্য আবেদন করেছে রেড ক্রস।

শুক্রবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) এই জরুরি আবেদন জানায়। এর আগে, সংস্থাটি তাৎক্ষণিক জীবনরক্ষাকারী কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ ছাড় করেছে।

এই তহবিল আগামী দুই বছর ধরে ব্যবহার করা হবে, প্রথমে জরুরি দুর্যোগ মোকাবিলা এবং পরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানের জন্য।

আইএফআরসির মহাসচিব জগন চাপাগাঁই এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘দুর্যোগের ভয়াবহতার চিত্র ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। আমরা জানি, পুরো গ্রাম পানির স্রোতে ভেসে গেছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা ও দিনগুলোতে মানুষের প্রয়োজন আরও বাড়বে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেসব মানুষ ঘরবাড়ি ও জীবিকার উৎস হারিয়েছেন, তাদের ঘুরে দাঁড়ানো ও নতুন করে জীবন গড়তে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন হবে।’

গত বুধবার প্রবল বেগে নেমে আসা বরফশীতল পানি ও কাদার স্রোত অনেকটা সুনামির ঢেউয়ের মতো আঘাত হানে। এর ফলে কাদামাটির স্রোতে জনপদ তলিয়ে যায়, ঘরবাড়ি ভেসে যায় এবং সেতু ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও হাজারও মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

আইএফআরসি জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। দুর্গম এলাকাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও নেওয়া হচ্ছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, দুর্গত এলাকাগুলো প্রত্যন্ত হওয়ায় এবং সেখানকার যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্যোগের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা এবং সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো-দু’টিই কঠিন হয়ে পড়েছে।

রেড ক্রসের এই তহবিল নেপাল রেড ক্রসের স্থানীয় দলগুলোর কার্যক্রমে সহায়তা করবে। এর আওতায় আশ্রয়, নগদ সহায়তা, প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি, মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের ব্যবস্থা থাকবে।

আইএফআরসি জানিয়েছে, নেপাল রেড ক্রসের (এনআরসি) দলগুলো ইতোমধ্যে দুর্গতদের খাবার, পানি এবং ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করছে। এসব সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ত্রিপল, কম্বল, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, স্ট্রেচার ও মরদেহ বহনের ব্যাগ।

আইএফআরসি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সহায়তা নেটওয়ার্ক বা সংস্থা।

সূত্র: এএফপি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলা, তবুও তুরস্ক নীরব কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ এম


সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলা, তবুও তুরস্ক নীরব কেন?

সম্প্রতি সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে তুরস্ক একটি কূটনৈতিক ও কৌশলগত সংযম বজায় রাখছে, যা তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখানোর মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। আঙ্কারার উদ্দেশ্য হলো আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত এই নীরবতা বজায় রাখা। এর মাধ্যমে তারা নিশ্চিত করতে চায় যে, এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার নির্বাচনী প্রচারণায় সুবিধা নিতে না পারেন, যেখানে তিনি রাজনৈতিক সংকটে রয়েছেন।

উত্তর সিরিয়ার আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী, যা তুর্কি সীমান্ত থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যদিও এই ঘটনাকে উসকানিমূলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, আঙ্কারার নীতিনির্ধারকদের কাছে এটি অপ্রত্যাশিত ছিল না। হামলার পক্ষে তেল আবিব দাবি করেছে যে, আঙ্কারা ওই ঘাঁটিতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

তবে, তুর্কি কর্মকর্তারা এই দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে মনে করছেন। এক তুর্কি কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ইসরায়েল এর আগেও সিরিয়ার অন্যান্য ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এই নির্দিষ্ট ঘাঁটিতে হামলার বিশেষ কোনো গুরুত্ব নেই।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারি বক্তব্যের মাধ্যমে তুরস্ক ইতোমধ্যে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। আঙ্কারার মূল পর্যবেক্ষণ হলো, নেতানিয়াহু দেশের ভেতরে তীব্র রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন এবং উত্তেজনা বাড়িয়ে সেই সংকট থেকে বাঁচার পথ খুঁজছেন। ওই কর্মকর্তা নেতানিয়াহুর উসকানিমূলক আচরণকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেন, "তিনি যে এটি করার চেষ্টা করছেন, সে দিক থেকে তিনি নিশ্চিতভাবেই একজন উন্মাদ ব্যক্তি।"

আঙ্কারার প্রশাসনিক মহলে প্রবল আশাবাদী যে, আসন্ন নির্বাচনে সরকারের পতন ঘটবে এবং নেতানিয়াহুর বিদায়ের পর তুলনামূলকভাবে যুক্তিবাদী রাজনীতিবিদরা ইসরায়েলের নেতৃত্বে আসবেন। আঙ্কারার দায়িত্বশীল সূত্রগুলো ডেমোক্র্যাটস দলের চেয়ারম্যান ও সাবেক জেনারেল ইয়াইর গোলানের মতো রাজনীতিবিদদের কথা উল্লেখ করছে, যিনি নেতানিয়াহুর ধারাবাহিক সামরিক উত্তেজনার কঠোর বিরোধিতা করেছেন।

এছাড়া, সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে হামলার সময় দুই দেশের মধ্যকার হটলাইন ব্যবহার না করার ইসরায়েলি সিদ্ধান্তকে বিপজ্জনক বলে মনে করছেন তুর্কি বিশ্লেষকেরা। গত বছর বাকুতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তুর্কি ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে যে একটি পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল, এই হামলার মাধ্যমে তেল আবিব সেই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।

আঙ্কারা ও তেল আবিবের পরামর্শ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা এ বিষয়ে বিস্তর তথ্য প্রদান করেছেন। তাঁর মতে, পালমিরা শহরের কাছে অবস্থিত টি-ফোর বিমানঘাঁটির উত্তরের এলাকাকে ইসরায়েল ও তুরস্কের নিরাপত্তা অঞ্চলের সীমান্ত লাইন হিসেবে মেনে নিতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছিল। উল্লেখ্য, এই টি-ফোর ঘাঁটিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল, কারণ আঙ্কারা এটিকে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য একটি ড্রোন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। তবে, তুর্কি সামরিক বাহিনী সেখানে অবস্থান নেওয়ার আগেই ইসরায়েল ওই ঘাঁটিতে বোমা বর্ষণ করে, যার ফলে সংঘাত এড়াতে দুটি দেশ একটি সমঝোতা আলোচনা শুরু করে। মূল সমঝোতাটি গড়ে উঠেছিল মূলত ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের পরিস্থিতিতে সিরিয়ার আকাশসীমায় একটি নিরাপদ বিমান করিডোর বজায় রাখার ইসরায়েলি অনুরোধকে কেন্দ্র করে।

সেই আঞ্চলিক কর্মকর্তা আরও জানান, উত্তর সিরিয়ায় তুরস্কের রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনে ইসরায়েলের তীব্র আপত্তি থাকা সত্ত্বেও উভয় পক্ষের মধ্যকার আলোচনায় এ পর্যন্ত অগ্রগতি নিয়ে তারা তুলনামূলক সন্তুষ্ট ছিলেন। কিন্তু গত সপ্তাহের সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তুর্কি সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় তুরস্কের সাহায্যে চালিত বা তুর্কি সমর্থিত যেকোনো বিমানঘাঁটির অস্তিত্বকে ইসরায়েল শক্ত হাতে দমন করতে চায়। আঙ্কারার পাশাপাশি সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীন পর্যবেক্ষণ থেকেও এটি নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে তুর্কি সেনা বা সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অতএব, এই হামলাকে পূর্ববর্তী সমঝোতার সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে তুরস্কের শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা এখন আর ইসরায়েলের বর্তমান সরকারকে কোনো যুক্তিযুক্ত বা স্বাভাবিক রাজনৈতিক পক্ষ হিসেবে গণ্য করছেন না। তুর্কি কর্মকর্তাদের স্পষ্ট মত, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান যে অত্যন্ত ধীরস্থির ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখছেন, তা গোটা বিশ্ব আজ প্রত্যক্ষ করছে। ধারাবাহিক ইসরায়েলি উসকানি ও নেতানিয়াহুর তীব্র বক্তব্য সত্ত্বেও এরদোগান তাঁর গ্রীষ্মকালীন ছুটি সংক্ষিপ্ত করেননি। ছুটি কাটানোর সময় মারমারিসের স্থানীয় রাজনীতিবিদদের সঙ্গে হালকা মেজাজে আলাপকালে তাঁকেই দেখা গেছে। ছুটি শেষে মঙ্গলবার এক রাজনৈতিক বক্তব্যে সরাসরি ইসরায়েল বা নেতানিয়াহুর নাম উচ্চারণ না করে এরদোয়ান বলেন, তিনি রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠা “হত্যাকারী চক্রের” উসকানিতে সাড়া দিয়ে তাদের গুরুত্ব বাড়াতে চান না। তবে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান যে, মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে আঙ্কারার নিজস্ব একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে এবং কোনো পরিস্থিতিতেই তুরস্ক তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একা ছেড়ে দেবে না। একই সঙ্গে তিনি পুনরুল্লেখ করেন, তুর্কির কোনো গোপন উদ্দেশ্য নেই এবং তারা কেবল আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠাতেই কাজ করছে।

তুর্কি প্রশাসনের এই সতর্ক ও সংযমী অবস্থানের নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্কের অবনতিও বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে গত এক বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নেতানিয়াহুর মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে, যার মূলে রয়েছে ইরান, লেবানন ও গাজা সংক্রান্ত ইসরায়েলের একঘেয়ে ও চরমপন্থী দাবিগুলো। সরাসরি সংঘাতের পথ এড়িয়ে তুরস্ক পুরো বিষয়টি ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক কৌশলের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত থমাস বারাকের সঙ্গে আঙ্কারার তৈরি হওয়া অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ট্রাম্প ও এরদোগানের পারস্পরিক সদ্ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে চলতি সপ্তাহে সিরিয়া সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি ইস্যুতে ইসরায়েলের জোর আপত্তি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে তুরস্ক।

এর ধারাবাহিকতায় প্রথম সাফল্য হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর দীর্ঘ ৪৭ বছর পর সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক তালিকার বাইরে নিয়ে এসেছে। ইসরায়েলি নেতৃত্ব সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে একজন চরমপন্থী ও মিলিশিয়া নেতা হিসেবে প্রচার করলেও ওয়াশিংটন সেই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে আহমেদ আল-শারার সাবেক সংগঠন আল-নুসরা ফ্রন্ট তথা হায়াত তাহরির আল-শামকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সন্ত্রাসী তালিকার বিশেষ ক্যাটাগরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সিরিয়াকে একটি দুর্বল ও বিভিন্ন খণ্ডে বিভক্ত রাষ্ট্রে পরিণত করার ইসরায়েলি প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে এক ঐতিহাসিক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের প্রধান সেনাপতি মাজলুম আবদি তার সমস্ত বাহিনীকে দামেস্ক সরকারের অধীনে পূর্ণাঙ্গ একীভূতকরণ এবং তাদের স্বঘোষিত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল বিলুপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন, যা আঙ্কারার জন্য একটি বিশাল ভূ-রাজনৈতিক বিজয়।

সমগ্র বাস্তবতার নিরিখে তুরস্কের দূরদর্শী ভূমিকার কথা ব্যাখ্যা করে দ্বিতীয় এক তুর্কি কর্মকর্তা বলেন, "তুরস্ক সিরিয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি খেলা খেলছে।" ইসরায়েলি পদক্ষেপের সঙ্গে নিজেদের পার্থক্যের কথা তুলে ধরে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "ইসরায়েলিদের মতো হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে আমরা একটি সার্বভৌম, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ সিরিয়া গঠনে অগ্রাধিকার দিচ্ছি; যা গোটা অঞ্চলে প্রকৃত নিরাপত্তা ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।"

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতালিতে মশাবাহিত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে ৪৩২ আক্রান্ত, মৃত্যু ১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৭ এম


ইতালিতে মশাবাহিত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে ৪৩২ আক্রান্ত, মৃত্যু ১৭

ইতালিতে মশাবাহিত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরে দেশটিতে এ পর্যন্ত ৪৩২ জনের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইতালির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৪৩২টি নিশ্চিত সংক্রমণের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া নিউরোইনভেসিভ বা স্নায়ুতন্ত্রে আক্রান্ত হওয়ার ধরনগুলোর ক্ষেত্রে মৃত্যুহার ৭ দশমিক ২ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

এর আগে, ২০২৫ সালে ইতালিতে মোট ৪৩০ জন ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। অর্থাৎ, গত বছরের পুরো সময়ের তুলনায় চলতি বছর এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে।

ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস মূলত মানুষ, ঘোড়া ও পাখির শরীরে সংক্রমণ ঘটায়। মশার কামড়ের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। বিশেষ করে আক্রান্ত পাখি থেকে মশার মাধ্যমে অন্য প্রাণী ও মানুষের শরীরে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। প্রায় ১৯ শতাংশ আক্রান্তের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথাসহ ফ্লুর মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আর প্রায় ১ শতাংশ আক্রান্তের ক্ষেত্রে স্নায়ুতন্ত্রে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%