মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৪৮ পি.এম
সালমান শাহর আকস্মিক মৃত্যু ঢাকাই চলচ্চিত্রে শোকের ছায়া ফেলেছিল, পাশাপাশি তাঁর হাতে থাকা অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও সৃষ্টি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। প্রয়াত এই অভিনেতার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য বিনা পারিশ্রমিকে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন চিত্রনায়ক আমিন খান। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি সেই সময়ের স্মৃতি ও নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
সালমান শাহর মৃত্যুর দিনটি স্মরণ করে আমিন খান বলেন, সেদিন সকালে তিনি এফডিসিতে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রযোজক ও পরিচালকদের কান্না এবং আহাজারির দৃশ্য তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর ভাষায়, "তাদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল, ‘সবকিছুই শেষ হয়ে গেল।’"
সালমানের অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর কারণে সংশ্লিষ্ট প্রযোজক ও পরিচালকদের আর্থিক ক্ষতি না হওয়ার বিষয়টি তখন আমিন খানের মনে এসেছিল। তিনি জানান, গল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী সালমানের চরিত্র রেখে যদি সিনেমাগুলোর কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে তিনি বিনা পারিশ্রমিকে অভিনয় করতে প্রস্তুত ছিলেন।
আমিন খান বলেন, "আমার কাছে তখন মনে হয়েছিল, সালমানকে রেখে যদি গল্পের মোড় ঘুরিয়ে কোনোভাবে কাজগুলো করা সম্ভব হয়, তবে আমি বিনামূল্যে তা করে দিতে প্রস্তুত। অন্তত এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।"
সালমান শাহর সঙ্গে কোনো সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করার সুযোগ না থাকলেও, তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল বলে জানান আমিন খান। একসঙ্গে আড্ডা দেওয়ার এবং পথচলার স্মৃতিও তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছিল। তিনি বলেন, প্রয়াত বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা এবং চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই ওই প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
আমিন খানের ভাষ্য, "এমনটা করতে পারলে হয়তো আমার বন্ধুর আত্মাও শান্তি পেত এবং প্রযোজক-পরিচালকদের মনের কষ্টটাও কিছুটা লাঘব হতো।"
তবে সালমান শাহর অসমাপ্ত সব সিনেমায় কাজ করার সুযোগ পাননি আমিন খান। গল্পের কাঠামো পরিবর্তনের সুযোগ থাকায় শুধুমাত্র ‘স্বপ্নের নায়ক’ সিনেমাতেই তাঁর যুক্ত হওয়া সম্ভব হয়েছিল। অন্য সিনেমাগুলোর গল্পে সেই সুযোগ ছিল না বলে তিনি জানান।
সালমান শাহর স্মৃতিচারণ করে আমিন খান বলেন, "বন্ধু যেখানেই থাকুক, ভালো থাকুক—সবসময় এটাই আমার চাওয়া।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের সীমান্তের পাশে অবস্থিত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও শহরের একটি ব্যস্ত পাইকারি বাজারে বিমান হামলার ফলে অন্তত ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, আহত হয়েছেন আরও ৫৮ জন, যাদের মধ্যে ২২ জনের অবস্থা গুরুতর। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার, নিহত ও আহতের সংখ্যা ৪৯ ও ৫৮-তে পৌঁছানোর তথ্য নিশ্চিত করেছে আরাকান আর্মি ও স্থানীয় উদ্ধারকারী সূত্র।
আরাকান আর্মি (এএ) জানিয়েছে, মিয়ানমারের একটি যুদ্ধবিমান কিয়াউকতাও শহরের ব্যস্ত বাজারে পরপর দুটি বোমা ফেলে। হামলার সময় বাজারে ক্রেতা, বিক্রেতা ও পথচারীদের ভিড় ছিল। এই হামলায় ঘটনাস্থলেই অনেকের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন। স্থানীয় উদ্ধারকারী কর্মকর্তারাও হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।
রাখাইনের জ্যেষ্ঠ উদ্ধারকর্মী ওয়াই হুন অং বলেন, কিয়াউকতাওয়ের বাজারটি রাজ্যের অন্যতম প্রধান পাইকারি কেন্দ্র। এখানে রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ী, খুচরা বিক্রেতা ও সাধারণ ক্রেতারা কেনাকাটা করতে আসেন। হামলার সময় বাজারটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তিনি এই হামলাকে রাখাইনে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ বিমান হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে বাজার এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দেখা যায়। কয়েকটি ভবন ও যানবাহনে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। বিমান হামলায় বাজারসংলগ্ন একটি সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ছবি ও ভিডিওর সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পূর্বে বিভিন্ন হামলার ক্ষেত্রে সামরিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের বিমান হামলা নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত হয় এবং বেসামরিকদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়।
বর্তমানে কিয়াউকতাও শহরটি আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাখাইন রাজ্যে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসা এই সশস্ত্র গোষ্ঠী ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে। এরপর তারা রাখাইনের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নেয় এবং বর্তমানে ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনী স্থলপথে নিয়ন্ত্রণ হারানোর পাশাপাশি বিমান হামলার ওপরও বেশি নির্ভর করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কিয়াউকতাও, ম্রাউক-উ ও পন্নাগুনসহ আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এর আগে বেশ কয়েকটি বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে রাখাইনের ম্রাউক-উ এলাকায় একটি হাসপাতালে বিমান হামলায় অন্তত ৩৪ জন নিহত ও ৮০ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল এপি। চলমান সংঘাতের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞায় রাখাইনে বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহণও ব্যাহত হচ্ছে। এতে খাদ্যসংকট ও মানবিক পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিয়ানমারে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক বাহিনী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর গণতন্ত্রপন্থি ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা সেই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তে, কিয়াউকফিউ ও মানাউং—এই তিনটি টাউনশিপ মূলত মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিপরীতে রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। ফলে কিয়াউকতাওয়ের মতো আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনা বেড়ায় গভীর রাতে একটি নকল দুধ তৈরির কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ নকল দুধ এবং ক্ষতিকর উপকরণ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮ টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার পেঁচাকোলা ঘাট এলাকার উত্তম ঘোষ ও পলি ঘোষ দম্পতির বাড়িতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় পলি ঘোষকে (৩৫) নকল দুধ তৈরির অভিযোগে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরেন মায়িশা খান। এ সময় স্থানীয় থানা পুলিশ সহযোগিতা করেন।
আভিযানিক দলের তথ্যমতে, উত্তম ঘোষ ও তার স্ত্রী পলি ঘোষ দীর্ঘকাল ধরে নিজেদের বাড়িতে কেমিক্যাল এবং ক্ষতিকারক উপকরণ ব্যবহার করে ভেজাল ও নকল দুধ তৈরি করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসন সেখানে উপস্থিত হয়। পরে উত্তম ঘোষের ঘর থেকে বড় আকৃতির ডেগে বিপুল পরিমাণ কৃত্রিম নকল দুধ জব্দ করা হয়। একইসাথে নকল দুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত পাম ওয়েল, ব্লিচিং পাউডার, কেমিক্যাল জেল, খাবার সোডা, গরম ছানার পানি, এক ডেগ ক্রিম, ফ্যাট তোলা দুধ এবং ব্লেন্ডার মেশিন উদ্ধার করা হয়।
অভিযান চলাকালে মূল হোতা উত্তম ঘোষকে পাওয়া না গেলেও তার স্ত্রী পলি ঘোষকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পলি ঘোষ স্বীকার করেন যে, তিনি এবং তার স্বামী নিয়মিতভাবে এসব ক্ষতিকর উপকরণ মিশিয়ে নকল দুধ তৈরি ও বাজারজাত করে আসছিলেন। পরবর্তীতে সাক্ষীদের সাক্ষ্য, জব্দকৃত আলামত এবং স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পলি ঘোষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরেন মায়িশা খান জানান, জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে নকল দুধ তৈরি হচ্ছিল। অভিযুক্ত নারী তার অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তার ঘরে থাকা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ও বৃদ্ধ শ্বাশুড়ির মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে কারাদণ্ড না দিয়ে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তবে জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এবং নকল দুধ উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিগার সুলতানা জ্যোতির ওয়ানডে অধিনায়কত্ব নিয়ে চলমান জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেবেন জ্যোতি।
টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব থেকে জ্যোতির সরে দাঁড়ানোর পর তাঁর ওয়ানডে অধিনায়কত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে, বিসিবি অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিল মাঝপথে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তের কারণে। এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে ওয়ানডে অধিনায়ক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন ছড়ায়।
সোমবার বিসিবি কার্যালয়ে নারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এবং নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু। বৈঠকের পর রফিকুল জ্যোতির নেতৃত্ব নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানান।
তিনি বলেন, "বৈঠকেই জ্যোতিকে জানানো হয়েছে, তিনি অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বে থাকছেন এবং অধিনায়ক হিসেবেই অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবেন।" ২০২১ সাল থেকে ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন জ্যোতি।
অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের তিনটি ওয়ানডে খেলার কথা রয়েছে। ওই সিরিজে জ্যোতির নেতৃত্বেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
এদিকে, সিনিয়র কোচ সারওয়ার ইমরানের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়েও কথা বলেছেন রফিকুল। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ পদক জিততে না পারার পর অধিনায়কত্ব ও কোচিং পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিসিবির সমালোচনা করে মন্তব্য করেছিলেন ইমরান।
রফিকুল জানান, ইমরানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়নি। তবে তাঁর মন্তব্যকে বোর্ড অনভিপ্রেত এবং আচরণবিধির সীমা অতিক্রম করার মতো বলে মনে করছে।
রফিকুলের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরান বিসিবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় তাঁর এ ধরনের মন্তব্য করা উচিত হয়নি। তিনি বলেন, "ইমরান একজন সিনিয়র কোচ এবং বোর্ড তাঁর কাছ থেকে এমন মন্তব্য আশা করেনি।" ইতোমধ্যে তিনি গণমাধ্যমে বলেছেন, কোচটি ভুল করেছেন এবং সেটি গুরুতর ভুল।
অতএব, একদিকে অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে জ্যোতির ওয়ানডে অধিনায়কত্ব নিশ্চিত হলো, অন্যদিকে এশিয়ান গেমসের পর কোচিং ও অধিনায়কত্ব ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনাতেও বিসিবির অবস্থান স্পষ্ট করল বোর্ড।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযানে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আদাবর থানার পুলিশ এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানের সময় আসামিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে আদাবর থানাধীন নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজার সংলগ্ন মেলার মাঠের পেছনে খালপাড় এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন রাজিব হাওলাদার (৩০), সাগর ওরফে ছোট বিগার (২৪), শাকিব (২৩) ও রাশেদ (২৪)। তাদের মধ্যে রাজিব ও সাগরের পায়ে গুলি লেগেছে। আহত দুজনকে চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদাবর থানার ২৭ সেপ্টেম্বরের একটি মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছিল। ওই মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৮, ১৪৯, ৪৪৭, ৩৮৫, ৪২৭, ৫০৬ ও ১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, মঙ্গলবার রাত ২টা ৫ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, মামলার কয়েকজন আসামি নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজারের পেছনে খালপাড় এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালালে ৭-৮ জনকে দেখতে পায় পুলিশ।
পুলিশের দাবি, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলে কয়েকজন ধারালো চাপাতি নিয়ে পুলিশের দিকে এগিয়ে এসে হামলার চেষ্টা করে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে সঙ্গে থাকা কনস্টেবল মোশরেকুল ইসলামের শটগান দিয়ে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এতে দুজন আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়, বাকিরা পালিয়ে যায়। অভিযানকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে স্টিলের ধারালো চাপাতি, সামুরাই ও কিরিস উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সাগর ওরফে ছোট বিগারের বিরুদ্ধে আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় মোট আটটি মামলা রয়েছে। রাজিব হাওলাদার মোহাম্মদপুরের আলোচিত বাবু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি বলেও পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তার শাকিব ও রাশেদের বিরুদ্ধেও পাঁচটি করে মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মামলায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর ওই এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ