০৩:০৬ পি.এম
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামীকাল জাতীয় সংসদে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য উপস্থাপন করবেন। আগামী বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি’ হিসেবে গড়ে তোলা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর এটি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট।
আরও পড়ুন: সিপিবি অফিসে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি সাইফুল হকের
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, এবারের বাজেট ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ : ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যের উপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা হয়েছে।
মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়নের তুলনায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বাধিক বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আসন্ন বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে। আরও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের বিষয়েও ঘোষণা আসতে পারে।
এছাড়া ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বেশ কয়েকটি নতুন কর্মসূচি যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোতে বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি বিদেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: টুপটুপ রিসোর্টের কার্নিশ থেকে ১০ দিন পর আরও একটি লাশ উদ্ধার
যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখতে এবং সৃজনশীল অর্থনৈতিক কার্যক্রমে উৎসাহ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ৩০০ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব থাকতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা হিসেবে ধরা হয়েছে। সরকারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সম্ভাব্য বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে সংগ্রহ করা হবে। বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকার দিকে যেতে পারে, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
এবারের বাজেটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার উদ্যোগ। লাইসেন্স, অনুমোদন ও কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনার পাশাপাশি ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসাসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: সৌদি বিমানবন্দরে বিধিনিষেধের প্রভাব, ১৪৬ ফ্লাইটে ভোগান্তিতে ২২ হাজারের বেশি যাত্রী
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে অনলাইনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল, সরাসরি ব্যাংক হিসাবে কর ফেরত এবং কর-সংক্রান্ত বিরোধগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
তাদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগে গতি আনা ছাড়া উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন বাসস’কে বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় বিজিবির অভিযানে উদ্ধার হলো বিদেশি পিস্তল ও ২ ম্যাগাজিন
এদিকে বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব সংগ্রহ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো চ্যালেঞ্জ থাকলেও নীতিনির্ধারকেরা আশা করছেন, চলমান সংস্কার কার্যক্রম অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

