কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
০৩:২৫ পি.এম
আলফাডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মুন্সি বিল্লাল হোসাইন বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শুধু মুসলিম উম্মাহর জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সৌহার্দ্য ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তাঁর জীবনাদর্শ আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবনের জন্য অনুসরণীয় পথনির্দেশ। মহানবীর আদর্শকে ধারণ করতে পারলেই সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ দূর করা সম্ভব।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে আলফাডাঙ্গা আসাদুজ্জামান বালিকা বিদ্যালয়ের হলরুমে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক মিরাজ উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মুন্সি বিল্লাল হোসাইন আরও বলেন, আমাদের সন্তানদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই হবে না, তাদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় আদর্শের শিক্ষায়ও গড়ে তুলতে হবে। আগামী প্রজন্মকে সৎ, যোগ্য ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মোনাজাত পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক হযরত মাওলানা বরকত আলী।
পরে ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এর আগে একই দিন সকালে আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন মুন্সি বিল্লাল হোসাইন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ, মানবতার শিক্ষা, ন্যায়, শান্তি ও সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পরে ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন যে, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, "আসুন, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ এবং কেউ যাতে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য একটি রোডম্যাপ তৈরিতে একসাথে কাজ করি। আসুন, আমরা একসাথে এগিয়ে যাই এবং জাতি গঠনে মনোনিবেশ করি।"
আজ বুধবার, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এই কথা বলেন।
ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহাম্মদ (সা.) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের সভাপতি লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব.) এম. নুরউদ্দিন খান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান দূতাবাসের ফার্স্ট কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোর্জাদ্দিনী, ঢাকা ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশকে স্বাবলম্বী করে তুলতে এবং দৈনন্দিন জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাদের শক্তিশালী করতে আয়োজকদের "অসামান্য অবদান" রাখার জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, "আপনারা এসব মানুষকে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে এবং মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকতে সাহায্য করছেন। আমি আশা করি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো, বিশেষ করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আপনাদের পাশে দাঁড়াবে। এ বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সাথে কথা বলব।"
ইনস্টিটিউটের সভাপতি লেফট্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নুরউদ্দিন খান শান্তি, সহনশীলতা ও সমতার বিষয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা অনুধাবন ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, হামদ ও নাত-এ-রাসূল (সা.), কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং প্রবন্ধ প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন বিভাগ ও বয়সভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপে অংশ নেওয়া দেশের নানা প্রান্তের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম প্রাপ্ত হওয়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। অধিবেশনটি ৫, ৭ বা ১০ দিনের সংক্ষিপ্ত অধিবেশন হতে পারে, তবে প্রয়োজন হলে এর মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আজ বুধবার সংসদ ভবনে গণমাধ্যমের সাথে এক সাক্ষাৎকারে সংসদীয় কমিটি, বিরোধী দলের ভূমিকা, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনা করার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ জানান, তৃতীয় অধিবেশনে প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিল উল্লেখযোগ্য।
সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইন সম্পর্কে তিনি বলেন, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তাঁরা জীবিত থাকা অবস্থায় ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখবেন। এর মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদের ধারাবাহিকতায় জনগণ নির্বাচনী ইশতেহার দেখে ভোট দিয়েছেন এবং তাঁদের ওপর আস্থা রেখেছেন। সেই আস্থার ভিত্তিতে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের একটি কমা, দাঁড়ি কিংবা সেমিকোলনের পরিবর্তনও সংবিধান সংস্কারের অংশ। জুলাই সনদে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সব রাজনৈতিক দল সম্মিলিতভাবে যে অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছে, তার প্রতিটি বিষয় যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
চিফ হুইপ জানান, সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে বিএনপি থেকে ৭ জন এবং জামায়াত থেকে ৫ জন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য ছোট দল থেকেও একজন করে সদস্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বিরোধী দল তাদের সদস্যদের নাম দিলে তাঁদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবিধান সংশোধন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। উদাহরণ হিসেবে তিনি ভারতের সংবিধান গত ৭৬ বছরে ১০৬ বার সংশোধনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দল জনগণের সমস্যা ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরবে এবং আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করবে।
চিফ হুইপ বলেন, আমরা চাই, বিরোধী দল সংসদে জনগণের কথা বলবে, সরকারের ভুল ধরিয়ে দেবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধানের পথ বের করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, তৃতীয় অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, কোনো সরকারের পক্ষে মাত্র ছয় মাসে দীর্ঘদিনের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘গভর্নমেন্টের বয়স ছয় মাস। আমি দারুণভাবে চেষ্টা করলাম, আমি কি ছয় মাসে একটা বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করতে পারব? তিনি বলেন, সবকিছু অনুকূলে থাকলেও একটা বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করতে দুই বছর লাগে মিনিমাম।’
তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ বড় অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে সময় প্রয়োজন। তাই জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করতে হবে।
বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে করা বিভিন্ন চুক্তি দেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দায় সৃষ্টি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, দায়মুক্তির ব্যবস্থা রেখে এমন আইন করা হয়েছিল, যার ফলে এসব চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ সীমিত। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের কারণে জনগণের অর্থের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় পার্বত্য জেলা রাসুয়ায় ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার ফলে অন্তত সাতজনের মৃত্যু ঘটেছে। বুধবার ভোরে এই বন্যায় নদীর তীরবর্তী একাধিক গ্রাম এবং বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভেসে গেছে।
নেপালি সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করেছে নেপালি সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং নেপাল পুলিশ। এই উদ্ধার কার্যক্রমে ১৪টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে।
নেপাল-চীন সীমান্তের নিকটবর্তী তিমুরে মোতায়েন সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর নয় সদস্য নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। বন্যার ফলে বাজার এলাকা এবং নিরাপত্তা পোস্টও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি কর্তৃপক্ষের পক্ষে। তবে নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনানুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে ভূমিধসের কারণে নদীর পানি সাময়িকভাবে আটকে গিয়ে পরে তা প্রবল স্রোতে নেমে আসতে পারে।
এদিকে, লাসায় নিযুক্ত নেপালের কনসাল জেনারেল জানিয়েছেন, সীমান্তে মোতায়েন নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে চীনা কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
কর্তৃপক্ষ ত্রিশূলী নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের নদীর তীর থেকে দূরে সরে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। বন্যার প্রভাব নদীর নিম্নাঞ্চলে ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, পল্লবী-রূপনগরের বেগুনটিলা, চলন্তিকা ও আরামবাগের মতো বস্তি এলাকায় বসবাসকারী অসহায় পরিবারের নারীদের হাতে সবার আগে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আজ বুধবার সকালে রাজধানীর পল্লবীতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল পল্লবী থানা আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমিনুল হক জানান, "১০ লাখ পরিবারের কাছে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব, ইনশাআল্লাহ।" তিনি আরও বলেন, "এ বছর প্রায় ৪০ লাখের বেশি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।" তিনি সতর্ক করে বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো স্বচ্ছল ব্যক্তি অগ্রাধিকার না পান। অসচ্ছল, কষ্টে থাকা এবং যাদের সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের আগে কার্ড বিতরণ করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় দ্রুত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হবে। বেগুনটিলা, চলন্তিকা ও আরামবাগের বস্তি এলাকার অসহায় মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বর্তমানে সত্যিকার অর্থেই আমরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটে রয়েছি।" তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে কুইক রেন্টালের নামে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন তিনি।
আমিনুল হক বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল বৃক্ষরোপণ। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, "শুধু সরকারের পক্ষে এত গাছ লাগানো সম্ভব নয়; পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেশের প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে হবে।"
শিশুদের গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমিনুল হক বলেন, স্কুল, কলেজ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে গাছ লাগানোর কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই গাছের উপকারিতা ও পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন হবে।
এ সময় ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগের কথাও জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, "বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ফুটপাত দখল হয়ে আছে।" সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পল্লবী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান বাবু এবং সদস্যসচিব রবিউল করিম বাবু সঞ্চালনা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজ, মাহাবুবুল আলম মন্টু। এছাড়া রূপনগর থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাদিউল ইসলাম রাজীব, পল্লবী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক রিপন হোসেন, মোশারফ হোসেন, ফরিদ আহমেদ চঞ্চল, আব্দুস সালাম, থানা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইমরান, আসাদ, মামুনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ