০৭:২৩ পি.এম
তিন বছর ধরে রদ্রিগো হার্নান্দেজ ক্যাসকান্তের (রদ্রি) জীবন কেটেছে রোলার কোস্টারের মতো। ২০২৩ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে জয়সূচক গোল করে তিনি এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছেন। ২০২৪ সালে স্পেনের হয়ে ইউরো জিতে এবং একই বছরে বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে ‘ব্যালন ডি’অর’ জয়ের মাধ্যমে তিনি ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছেন।
এগুলোতে যেমন সামিল হয়েছেন, আবার তেমনই তাকে ভয়াবহ হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরির অংশও মোকাবেলা করতে হয়েছে। এই ইনজুরির কারণে তিনি বারবার নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করার লড়াই করলেন। রদ্রি এমন অনেক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন যা সাধারণত একজন ফুটবলার কমই দেখেন। তবে, এই গ্রীষ্মে তিনি পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরে পেয়েছেন তার চেনা ফর্ম।
ফিরে আসার পর আর পিছে ফিরে তাকাননি তিনি। অসাধারণ খেলে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনকে দ্বিতীয় শিরোপা এনে দিয়েছেন। তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ পুরস্কার গোল্ডেন বলও জিতেছেন।
আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর
প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার বিষয়টি তরুণ প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে, এমনটাও জানিয়েছেন স্পেনের মাঝমাঠের স্তম্ভ রদ্রি। ৩০ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন এবং ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, গের্ড মুলার ও জিনেদিন জিদানের মতো কিংবদন্তিদের সাথে জায়গা করে নেন।
তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্বকাপ ও ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ, নিজ কাবের হয়ে ইউরোপীয় কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং ব্যালন ডি’অর সবই জিতেছেন।
তার কৃতিত্ব এই কারণে আরো বেশি অসাধারণ, কারণ তিনি টুর্নামেন্টে খেলতে এসেছিলেন এমন এক সময়ে, যখন তিনি তার চিরচেনা বিধ্বংসী ফর্মটি খুঁজছিলেন। এটি ২০২৪ সালে তাকে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার (ব্যালন ডি’অর) এনে দিয়েছিল এবং ওই একই বছর তিনি স্পেনকে ইউরো জেতাতে সাহায্য করেছিলেন। তার ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিকে টানা রেকর্ড ৭৪টি ম্যাচে অপরাজিত থাকার গৌরবও তিনি এনে দিয়েছিলেন।
ফিফার টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গ্রহণের পর, রদ্রি বলেন, ‘মনে হচ্ছে যেন এটা একদম নিখুঁত একটি চিত্রনাট্য। আমি সত্যিই এমন কিছু আশা করিনি।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমি চাই তরুণ প্রজন্ম দেখুক, একজন খেলোয়াড় যে একসময় স্বর্গ স্পর্শ করার পর নরকে পতিত হয়েছিল, সেও আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।’
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
স্পেনের দলীয় প্রচেষ্টা
স্পেনের মাঝমাঠের স্তম্ভ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন রদ্রি। পুরো মাঠজুড়ে ছিল তার বিচরণ। তবে ‘লা রোজা’দের সব সময় দলগত পারফরম্যান্স ও একতাবদ্ধতাকে প্রাধান্য দেয়। ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় ভাগে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে তারা লড়াকু আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার শিরোপা নিজেদের করে নেন। ফাইনালের জয়লাভের পর সতীর্থদের প্রশংসা করতে তিনি ভোলেননি।
আর্জেন্টিনা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ছিল। বিশেষ করে গোল করার সুযোগ খুব একটা না দিলেও, তাদের ডিফেন্স ভাঙা ছিল স্পেনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। রদ্রি জানান, পুরো ম্যাচ বিবেচনায় ১-০ ব্যবধানের জয়ই সঠিক ও যৌক্তিক পরিণতি ছিল।
আরও পড়ুন: ঢাকা ক্রিকেটার্সকে উড়িয়ে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের হ্যাটট্রিক জয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন