ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

রাশিয়ায় ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২


রাশিয়ায় ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২

বেলগোরোদ শহরে, যা রাশিয়ার সীমান্তের নিকটবর্তী, ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে দুই জনের মৃত্যু এবং ১৬ জনের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় এই হামলা সংঘটিত হয়, যা অঞ্চলটির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর আলেকজান্ডার শুভায়েভ টেলিগ্রামে একটি বার্তায় নিশ্চিত করেছেন।

 

গভর্নর শুভায়েভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রটি বেলগোরোদের একটি বাণিজ্যিক স্থাপনার উপর আঘাত হানে। হামলার পরপরই শহরের সাতটি গুদামে ভয়াবহ আগুন লেগে যায়। বর্তমানে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নেভাতে গিয়ে প্রাণ গেল ৪ জনের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপাল-চীনে নিহত বেড়ে ৭৯৭, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৫ এম


নেপাল-চীনে নিহত বেড়ে ৭৯৭, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

ও চীনে হিমবাহ ধসে নিহতের সংখ্যা ৭৯৭ এ পৌঁছেছে। উভয় দেশে নিখোঁজ রয়েছেন ৩০৪৮ জন।

 

নিখোঁজদের উদ্ধারের জন্য অভিযানকে আরো জোরদার করা হয়েছে। রবিবারও দুই দেশের উদ্ধারকারী দল দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে অভিযান চালিয়েছে। তবে খারাপ আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টি, নদীর পানি বেড়ে যাওয়া এবং বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

বুধবার হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসে পড়ার পর বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত পাহাড়ি উপত্যকা ও নদীর ওপর দিয়ে নেমে আসে।

 

এতে নেপাল ও চীনের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। রেড ক্রসের হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। চীন জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে এই দুর্যোগের সম্পর্ক রয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৭৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৫০২ জন। অন্যদিকে, চীনের গিরং কাউন্টিতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন আরো ৫৪৬ জন। তিব্বতে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে চীন।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই শনিবার নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন।

 

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, ওয়াং ই এই ঘটনাকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে ভয়াবহ সীমান্তপারের দুর্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, উদ্ধার অভিযান নজিরবিহীনভাবে কঠিন ও জটিল হয়ে পড়েছে। দুর্যোগকবলিত এলাকায় নতুন করে বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। নেপালের স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ত্রিশূলী নদীর পানি বেড়ে গেছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের উঁচু এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার থেকে খারাপ আবহাওয়া ও বন্যার আশঙ্কার কারণে কয়েক দফা উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখতে হয়েছে।

দুর্যোগের পর নেপাল-চীন সীমান্তে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। হ্রদটির পানি উপচে নেপালের লেন্দে খোলা ও ত্রিশূলী নদীতে পড়তে শুরু করলে নতুন করে বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিসিটিভি জানিয়েছে, ভাটির এলাকার জন্য হুমকি হয়ে ওঠা হ্রদটির বেশিরভাগ পানি শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে বের হয়ে গেছে। তবে শনিবার রাতে ড্রোনে হ্রদের প্রায় ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার ভাটিতে একটি ভূমিধসের সন্ধান পাওয়া যায়। ভূমিধসের কারণে সেখানে নতুন একটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় আবারও পানি জমতে শুরু করেছে। নেপালে এখন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর মধ্যে আপার ত্রিশূলী প্রকল্পও রয়েছে। কর্তৃপক্ষ শুক্রবার জানিয়েছিল, প্রকল্পটির একটি সুড়ঙ্গে প্রায় ৩৫০ জন আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

তাদের উদ্ধারের জন্য রবিবার দুর্গম এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে যায় নেপালের সেনাবাহিনী। উদ্ধারকারীরা একটি সুড়ঙ্গের প্রবেশপথে পৌঁছেছেন। সেখানে জমে থাকা কাদা, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ নিরাপদ করা গেলে সেখানে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। এরপর ক্যামেরা নিয়ে উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবেশ করবে। নেপালে প্রায় ১০ হাজার সেনা উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের সঙ্গে চীন ও ভারতের বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দলও কাজ করছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধরম রাজ উপ্রেতি বলেন, উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ সুড়ঙ্গের সামনে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে আছে। সেখানে পথ তৈরি করতে বিস্ফোরক ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

দুর্যোগের পর কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন পরিবারের সদস্যরা। তারা হাসপাতাল, মর্গ ও ত্রাণকেন্দ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এর মধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়া শত শত মরদেহ গণকবর দিতে শুরু করেছে নেপালের কর্তৃপক্ষ। মরদেহগুলো পচে যেতে শুরু করায় দ্রুত দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগকবলিত এলাকা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে চিতওয়ান জেলার দেবঘাটের একটি জঙ্গলে শত শত কবর খোঁড়া হয়েছে। বন্যার পানিতে ভেসে আসা মরদেহগুলো সেখানে দাফন করা হচ্ছে। চিতওয়ানের জেলা কর্মকর্তা গণেশ আরিয়াল বলেন, মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। এ কারণে মরদেহ দাফন করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো উপায় ছিল না। কর্তৃপক্ষ শনিবার শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এমন ৯৬টি মরদেহ দাফন করেছে। রবিবার আরো ১০০টির বেশি মরদেহ দাফনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

একই সময়ে উদ্ধারকারী দল নদী ও ধ্বংসাবশেষের মধ্য থেকে আরো মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবারগুলো যাতে পরে মরদেহ শনাক্ত করতে পারে, সে জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কোন মরদেহ কোথায় দাফন করা হয়েছে, সেই তথ্যও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। নেপালের পুলিশ কর্মকর্তা অনিল থাপা বলেন, এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা মরদেহের অর্ধেকের বেশি শনাক্ত করার মতো অবস্থায় নেই। তিনি বলেন, অনেক মরদেহের মুখ চেনার উপায় নেই। কোথাও শুধু হাত বা পা পাওয়া গেছে। আবার কোথাও শরীরের শুধু কিছু অংশ পাওয়া গেছে। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানিয়েছেন, কিছু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে সুড়ঙ্গ থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা, মরদেহ সংরক্ষণের জন্য হিমায়িত ব্যবস্থা এবং পচে যাওয়া মরদেহ শনাক্ত করতে ফরেনসিক পরীক্ষা।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে হিমবাহ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার সঙ্গে এই দুর্যোগের সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বত মালভূমিতে হিমবাহ ও বরফনির্ভর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধরনেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। চীনা বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে সিসিটিভি জানিয়েছে, নেপালের দিক থেকে আসা কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত গিরং সীমান্ত এলাকায় পৌঁছাতে মাত্র ছয় থেকে সাত মিনিট সময় নিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দুর্যোগের ভয়াবহতা দেখা গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা গ্রাস করছে। এ সময় মানুষ প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ স্থানে ছুটে যাচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দেশটি ২ হাজার ১০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে। ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য অন্তত ২২ কোটি ইউয়ান বা প্রায় ৩ কোটি ২৭ লাখ ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। চীন দুর্গম এলাকায় কাজ করা উদ্ধারকারীদের কাছে আকাশপথে সরঞ্জাম ও ত্রাণসামগ্রী পাঠাচ্ছে। নিখোঁজ মানুষদের খুঁজতে দেশটির সেনাবাহিনী জীবন শনাক্ত করার বিশেষ যন্ত্রও ব্যবহার করছে। নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে আবহাওয়ার অবনতি, নদীর পানি বৃদ্ধি এবং নতুন ভূমিধসের আশঙ্কায় উদ্ধারকারীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফোনে কথা বলতে বলতে শিশুর ওপর দিয়ে গাড়ি চালালেন নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ এম


ফোনে কথা বলতে বলতে শিশুর ওপর দিয়ে গাড়ি চালালেন নারী

ভারতের মুম্বাইয়ে এক নারী ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালানোর কারণে আট বছরের একটি শিশুকে চাপা দিয়েছেন। শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে মুম্বাইয়ের বান্দ্রার জন ব্যাপটিস্ট রোডে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেঘা রাওয়াল (৪৫) নামের ওই নারী অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিনি বান্দ্রার বাসিন্দা এবং অভিযোগ রয়েছে যে, গাড়ি চালানোর সময় তিনি ফোনে কথা বলছিলেন।

গাড়ির ধাক্কায় আট বছর বয়সী শিশুটি গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে স্থানীয় হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ১০৫, ২৮১ ও ১২৫ ধারা এবং মোটরযান আইনের ১৮৪ ধারায় অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাইপ্রাস উপকূলে ফেরিডুবি: নিহত ৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ এম


সাইপ্রাস উপকূলে ফেরিডুবি: নিহত ৮

উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলে একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। ফেরিটিতে মোট ২৫৯ জন যাত্রী এবং আটজন ক্রু উপস্থিত ছিলেন। দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারের জন্য তুরস্কের সহযোগিতায় ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।

উত্তর সাইপ্রাসের স্বঘোষিত তুর্কি প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী উনাল উস্তেল জানিয়েছেন, ফেরিটি উপকূলীয় শহর কিরেনিয়া থেকে যাত্রা করার পর এটি পানিতে ডুবতে শুরু করে। পরে ফেরিটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার কারণ তদন্তের জন্য ফেরিটির ক্যাপ্টেন এবং সাতজন ক্রুকে আটক করা হয়েছে।

ফেরিটি স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জনপ্রিয় পর্যটন শহর কিরেনিয়া থেকে তুরস্কের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ফেরির যাত্রা কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল।

উনাল উস্তেল তুরস্কের গণমাধ্যম টিআরটিকে জানিয়েছেন, ফেরিটি দুটি বড় ঢেউয়ের আঘাতের শিকার হয়। প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করার সময় দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। এরপর ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে সেটি উল্টে যায়।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে হেলিকপ্টার এবং কোস্টগার্ডের নৌযান পাঠানো হয়। তীরে উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়। উত্তর সাইপ্রাসের পরিবহনমন্ত্রী এরহান আরিকলি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রায় ১০০ জন যাত্রীকে তীরে নিয়ে আসা হয়েছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান তুর্কি সাইপ্রিয়টদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা মুস্তাফা কোচ নিজের নৌকা নিয়ে প্রায় ৬৫ জনকে উদ্ধার করেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, "সমুদ্র শান্ত না হওয়া পর্যন্ত ফেরিটির যাত্রা করা উচিত ছিল না।" তাঁর মতে, সেদিন সমুদ্র বেশ উত্তাল ছিল।

কোচ আরও জানান, ফেরিটি শনিবার কিরেনিয়ায় এসেছিল এবং এর সামনের অংশে কিছুটা ক্ষতি ছিল।

৪০ মিটার দীর্ঘ ও ১০ মিটার প্রশস্ত উচ্চগতির ফিলো জেট নামের ফেরিটি তুরস্কের পতাকায় চলাচল করত বলে মেরিন ট্রাফিকের তথ্য থেকে জানা গেছে। রবিবার সন্ধ্যায় দেশটির পরিবহনমন্ত্রী এরহান আরিকলি জানান, ফেরিটি সম্পূর্ণরূপে ডুবে গেছে।

ফেরিটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফিলো দেনিজজিলিক এক বিবৃতিতে দুর্ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। যাত্রীদের স্বজনদের তথ্য দেওয়ার জন্য একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। তবে ফেরিতে থাকা যাত্রীদের জাতীয়তা এবং আহতদের অবস্থা এখনও স্পষ্ট নয়।

স্থানীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ছবিতে পানিতে উল্টে থাকা ফেরির ওপর লাইফ জ্যাকেট পরা মানুষদের দেখা গেছে। উদ্ধারকারী নৌযানগুলোও ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

দুর্ঘটনার কারণ এবং কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উনাল উস্তেল জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং সামান্যতম অবহেলাও খুঁজে বের করা হবে। তিনি বলেন, "দায়ী ব্যক্তি যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"

উত্তর সাইপ্রাসের স্বঘোষিত তুর্কি প্রজাতন্ত্রকে শুধুমাত্র তুরস্ক স্বীকৃতি দেয়। সাইপ্রাস দ্বীপটি ১৯৭৪ সাল থেকে বিভক্ত এবং দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উত্তর সাইপ্রাসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সূত্র:

বিবিসি 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালে আকস্মিক বন্যা: পাহাড়ের বনে সারি সারি গণকবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ এম


নেপালে আকস্মিক বন্যা: পাহাড়ের বনে সারি সারি গণকবর

নেপালের চিতওয়ান জেলার দেবঘাট বন এখন আর একটি নিরিবিলি সবুজ এলাকা নয়। আকস্মিক বন্যা ও হড়পা বানের পর এই বনটি পরিচয়হীন মরদেহের অস্থায়ী কবরস্থানে পরিণত হয়েছে। স্বজনেরা যখন নিখোঁজ প্রিয়জনের খোঁজে ছুটছেন, তখন কর্তৃপক্ষ একের পর এক মরদেহ দাফন করতে বাধ্য হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বুধবার নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর চিতওয়ানের দেবঘাট বনে এসব মরদেহ দাফন করা হচ্ছে। দুর্যোগকবলিত রসুয়া অঞ্চলের উপত্যকাগুলো থেকে বনাঞ্চলটির দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার।

কয়েক দিন আগে দেবঘাটের বনপথ ছিল সকালের হাঁটার জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান। বর্তমানে সেখানে অস্থায়ী গণকবর তৈরি করা হয়েছে। পানিতে ভেসে আসা এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া যেসব মরদেহ এতটাই পচে গেছে যে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না, সেগুলোই সেখানে দাফন করা হচ্ছে।

চিতওয়ানের ভারতপুরের চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার গণেশ আর্যাল রয়টার্সকে জানিয়েছেন, "মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না।"

শনিবার দেবঘাটের বনাঞ্চলে ৯৬টি পরিচয়হীন মরদেহ দাফন করা হয়েছে। রবিবার আরও শতাধিক মরদেহ দাফনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে উদ্ধারকারী দল নদী ও ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও মরদেহ উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

মরদেহের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছেন প্রায় ১০০ জন উদ্ধারকর্মী, পুলিশ সদস্য ও অন্যান্য কর্মকর্তা। তারা মরদেহের তথ্য নথিভুক্ত করছেন, ছবি তুলছেন, স্বজনদের শনাক্তকরণে সহায়তা করছেন এবং দাফনের জন্য মরদেহ প্রস্তুত করছেন।

প্রতিটি মরদেহ কোথায় দাফন করা হয়েছে, সেটিও বিস্তারিতভাবে নথিভুক্ত করছে কর্তৃপক্ষ। কবরের ওপর ও মাটির নিচে শনাক্তকরণ চিহ্ন রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি কবরের সুনির্দিষ্ট অবস্থানের তথ্যও সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

পরবর্তীতে কোনো মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হলে যাতে সেটি খুঁজে বের করা যায়, সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পরিচয়হীন মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে নেপালি কর্তৃপক্ষ। পরিবারের দাবি, সরকারি নথি কিংবা জেনেটিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হলে এসব দেহাবশেষ উত্তোলন করা সম্ভব হবে।

এ কাজে নেপালের সঙ্গে ভারত ও চীনের দলও কাজ করছে। ভারত ইতিমধ্যে একটি ফরেনসিক দল পাঠিয়েছে, যারা নেপালের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণে কাজ করবে। চীনের একটি দলের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে নেপাল।

এদিকে চিতওয়ানের ভারতপুর হাসপাতালেও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের একটি অস্থায়ী মর্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহ রাখা হচ্ছে। মর্গটির ধারণক্ষমতা প্রায় ৫০টি মরদেহ হলেও সেখানে প্রায় ১২৫টি মরদেহ পড়ে ছিল। অনেক মরদেহই কয়েক দিন বন্যার পানিতে থাকার কারণে পচে গেছে।

মরদেহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা পরিদর্শক অনিল থাপা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, "উদ্ধার করা মরদেহের অর্ধেকের বেশি শনাক্ত করার মতো অবস্থায় নেই। অনেক মরদেহের মুখও চেনার উপায় নেই।"

মর্গের বাইরে থেকেই পচা মরদেহের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। মরদেহ সামলাতে থাকা পুলিশ ও হাসপাতালের কর্মীদের অনেকেই শুধু সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করছিলেন।

হাসপাতাল থেকে কয়েকশ মিটার দূরের চিতওয়ান এক্সপো সেন্টারেও স্বজনদের ভিড় বাড়ছে। নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সেখানে আসছেন। উদ্ধার হওয়া মরদেহের ছবি দেখে পরিচয় শনাক্তের সুযোগ পাওয়ার আশায় একটি হলের বাইরে দুই শতাধিক মানুষ অপেক্ষা করছিলেন।

অনেকের সঙ্গে ছিল ব্যাগ ও লাগেজ। এতে বোঝা যায়, নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে তারা দূরবর্তী এলাকা থেকে সেখানে এসেছেন। কয়েকটি পরিবার জানিয়েছে, তারা আগের দিনই সেখানে পৌঁছালেও এখনো হলের ভেতরে ঢোকার সুযোগ পায়নি।

এদিকে মরদেহ শনাক্তের অপেক্ষায় থাকা আরেকটি পুরোনো একতলা ভবনও অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভবনের বাইরে নেপাল রেড ক্রসের একটি সহায়তা ডেস্ক এবং পুলিশের নিবন্ধনকেন্দ্র বসানো হয়েছে।

মরদেহ পচে যাওয়ার গতি কমাতে সেখানে ড্রাই আইস, এয়ার কন্ডিশনার ও একটি শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত কুলিং ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। ভবনের ভেতরে বাঙ্ক বেডের ওপর সারি করে রাখা হয়েছে মরদেহের ব্যাগ।

এর মধ্যেই উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একটি গাড়িতে করে একসঙ্গে ১৩টি মরদেহ ওই অস্থায়ী মর্গে আনা হয়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে সেখানে ছয়টি অ্যাম্বুলেন্সও অবস্থান করছিল। বাইরে অপেক্ষা করছিল আরও একটি গাড়ি।

মরদেহ আসার সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের অপেক্ষাও দীর্ঘ হচ্ছে। তাদের একটাই অপেক্ষা, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে তাদের নিখোঁজ প্রিয়জন আছেন কি না।

মরদেহ সামলাতে থাকা কর্মীদের ওপরও পড়ছে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রভাব। পরিদর্শক অনিল থাপা বলেন, "সেখানে কাজ করতে এসে তার খাবারের কথাই মনে হয় না। এমনকি পানি পান করতেও ইচ্ছা করে না।"

গত বুধবার হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী উপত্যকাগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। দুর্যোগের পর শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র:

রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%