০৫:৪৮ পি.এম
মোনাকো, ইউরোপের অন্যতম নিরাপদ দেশ হিসাবে পরিচিত, গত সোমবার (২৯ জুন) ইউক্রেনীয় ধনকুবের ভাদিম ইয়ারমোলাইভকে টার্গেট করে একটি পার্সেল বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এই হামলার ফলে ভাদিম ইয়ারমোলাইভ, তার নারী সঙ্গী এবং ১৩ বছর বয়সি ছেলে গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।
এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ একটি ইউক্রেনীয় নারীকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
মোনাকোর প্রসিকিউটরের কার্যালয় গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জানিয়েছে, ৩০ বছর বয়সি ওই ইউক্রেনীয় নারীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এটি ধরা হচ্ছে যে, তিনি বর্তমানে মোনাকো বা ফ্রান্সের বাইরে অন্য একটি দেশে অবস্থান করছেন।
ফরাসি সংবাদপত্র লে ফিগারো জানিয়েছে যে, সন্দেহভাজন ওই নারী জার্মানিতে বসবাস করছেন।
অনুসন্ধানে পুলিশ একটি সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছে, যেখানে দেখা যায় হামলার পর কালো রঙের ফিশারম্যান হ্যাট পরা একজন ব্যক্তি ফ্রান্সের সীমান্তবর্তী শহর বুসোলেইলের দিকে পালাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: আজ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ, ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮
পরে মোনাকো পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ নথি উদ্ধৃত করে ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভি জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি আসলে একজন নারী, যিনি নিজেকে পুরুষ হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য ছদ্মবেশ গ্রহণ করেছিলেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র উদ্ধৃত করে জানা গেছে, হামলার আগে সন্দেহভাজন ব্যক্তি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ইয়ারমোলাইভ ও তার পরিবারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।
পরিবারের গাড়িটি আবাসিক ভবনের পার্কিংয়ে প্রবেশ করার পরে, তিনি ভবনের কাছে একটি পার্সেল বোমা রেখে যান।
এরপর কিছুটা দূরত্বে অবস্থান করে তিনি নিশ্চিত হন যে পরিবারের সদস্যরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেছেন।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবু ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারের ১৩ বছর বয়সী ছেলে প্রথমে ভবনে প্রবেশ করে।
এরপরই, ইয়ারমোলাইভের নারী সঙ্গী ভবনের ভেতরে ঢোকার সময়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি দূর থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মতো একটি যন্ত্র ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটান।
বিস্ফোরণের পরপরই তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
হামলার পর মোনাকোর বিচার বিভাগ হত্যাচেষ্টা এবং বিস্ফোরক ব্যবহারের অভিযোগে বিচারিক তদন্ত শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে কারাগারে ফিরলেন সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, পলক ও মামুন
তিনজন তদন্তকারী বিচারকের তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্ত চলছে।
প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে, যাতে তাকে আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
মোনাকোর পাবলিক প্রসিকিউটর স্টেফান থিবো তদন্তে দ্রুত অগ্রগতির জন্য মোনাকোর পুলিশ এবং আন্তর্জাতিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন।
এখন পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, এই ঘটনায় সন্ত্রাসবাদের কোন সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর দাপট কমে, ইসরাইলে ক্ষমতার চাবি ফিলিস্তিনিদের হাতে
তদন্তকারীরা সংগঠিত অপরাধচক্র অথবা বিদেশি কোন শক্তির সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন।
ইউক্রেনে ভাদিম ইয়ারমোলাইভের বিরুদ্ধে রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়ায় মদ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
অতএব, ইউক্রেন সরকার তার ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
বার্তা সংস্থা এএফপির একটি সূত্র দাবি করেছে, ইউক্রেনের ডনিপ্রো শহরে, যেখানে ইয়ারমোলাইভ তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন, সেখানে তার বহু শত্রু রয়েছে এবং তাকে হত্যার আগ্রহী মানুষের অভাব ছিল না।
আরও পড়ুন: মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় হানিফসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আজ রায়
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত ভাদিম ইয়ারমোলাইভের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হয়েছে।
তবে তার নারী সঙ্গীর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
বিস্ফোরণে তিনি তার দুটি পা হারিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
১৩ বছর বয়সী ছেলেও আহত হয়েছে, তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন